দেড় বছর তুরস্কের (Turkey) একটি ঘরে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। বাড়ি থেকেও বেরোননি। যোগাযোগ করেননি কারও সঙ্গেই। কিন্তু কুর্যিয়ারের সূত্রেই দাউদ ইব্রাহিমের (Dawood Ibrahim) ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীসেলিম দোলার (Salim Dola) হদিশ পেয়ে যান ভারতীয় গোয়েন্দারা। তার পরে গ্রেপ্তারি ছিল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক এজেন্সিগুলির যৌথ অভিযানে ইস্তানবুল থেকে সেলিমকে গ্রেপ্তার করেছেন গোয়েন্দারা। ২০২৪ সালেই তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি করেছিল ইন্টারপোল। চলছিল তল্লাশি। কিন্তু কিছুতেই তাঁর নাগাল মিলছিল না। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গোটা ব্যাপারটা ছিল খড়ের গাদায় সূঁচ খোঁজার মতো।সেলিম মুম্বইয়ের বাইকুল্লার বাসিন্দা। ছোটবেলায় যে গলিতে দাউদ বড় হয়েছেন, সেই এলাকায় যাতায়াত ছিল সেলিমেরও। প্রথম দিকে গুটখার ব্যবসা করতেন। ধীরে ধীরে মাদক পাচারে হাত পাকান। ২০১৮ সালে মুম্বইয়ে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিল-সহ গ্রেপ্তার হন সেলিম। পরে জামিনে ছাড়া পেয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে পালিয়ে যান। সেখান থেকে তুরস্কে গিয়ে আত্মগোপন করেন তিনি।তদন্তকারীরা জানিয়েছে, প্রায় দেড় বছর একটি ঘরেই ছিলেন সেলিম। কারও সঙ্গে যোগাযোগ পর্যন্ত করতেন না। কিন্তু একদিন ওই বাড়িতেই কয়েকটি জিনিস অর্ডার করেছিলেন। কুরিয়ার সংস্থা তাঁকে পার্সেল পৌঁছে দেয়। আর সেই সূত্র ধরেই তাঁর গোপন আস্তানার হদিশ পেয়ে যান তদন্তকারীরা। তুরস্ক পুলিশ এবং ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। তার পরে যৌথ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় সেলিম দোলাকে।গত মঙ্গলবার তুরস্ক থেকেভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে সেলিমকে। তাঁর কাছ থেকে দু’টি ভারতীয় এবং একটি বুলগেরিয়ান পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, তুরস্কে তিনি নিজেকে বুলগেরিয়ান নাগরিক বলে পরিচয় দিতেন। নিজের নাম রেখেছিলেন ‘হামজা’। তাঁর ওই পাসপোর্টটি জাল নাকি বৈধ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার সেলিমকে মুম্বইয়ের একটি স্থানীয় আদালতে পেশ করা হয়েছিল। ৮ মে পর্যন্ত তাঁকে NCB হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ২০২৩-এর জুনে দক্ষিণ মুম্বই থেকে বিপুল পরিমাণ মেফেড্রোন মাদকের প্রধান পাচারকারী হিসেবেও সেলিমের নাম উঠে এসেছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে।
18 মাসের অভিযানের পর আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী সেলিম ডোলাকে গ্রেফতার করল ভারতীয় কর্তৃপক্ষ
EI Samay•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.