Achira News Logo
Achira News
G
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 03:57 PM
সিপিআই (এম) প্রার্থী ন্যায়বিচারের দাবি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন

সিপিআই (এম) প্রার্থী ন্যায়বিচারের দাবি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন

আমরা বিচারের দাবিতে গতকাল পর্যন্ত যেরকম রাস্তায় ছিলাম আগামীকাল থেকেও আবার সেরকম ভাবেই রাস্তাতেই থাকবো। কারণ বিচার এখনও মেলেনি। নির্বাচনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা জানালেন পানিহাটির সিপিআই(এম) প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত।আরও দেখুনভোটার গাইডব্রেকিং নিউজডিজিটাল সংবাদপত্র সাবস্ক্রিপশনতিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে যে অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় চলছিল তারই একটা নতুন অধ্যায় চালু হলো বিজেপির এখানে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার ফলে। তিলোত্তমার ঘটনাগুলো পর থেকে বিচারের দাবিতে আমাদের লড়াই ছিল। সিবিআই-র কাছে যে ৫০ টা প্রশ্ন করা হয়েছিল যার সদুত্তর প্রধানমন্ত্রীও পর্যন্ত এসে দিতে পারেননি। এই কথাতেই আমরা আজও রয়েছি। আমরা বিচারের দাবিতে গতকাল পর্যন্ত যেরকম রাস্তায় ছিলাম আগামীকাল থেকেও আবার সেরকম ভাবেই রাস্তাতেই থাকবো। কারণ বিচার এখনও মেলেনি।"কলতান নিজের পরাজয় নিয়ে বলেন, "মানুষের রায়ে অবশ্যই আমরা মাথা পেতে নেব এবং বামপন্থীরা বিধানসভায় প্রবেশ করতে পারছে। বিধানসভার বাইরে ও ভিতরে যে লড়াই ছিল দুটোকে আরও এক জায়গায় জড়ো করে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য এই লড়াই আমরা চালাবো।"তৃণমূলের হেরে যাওয়া প্রসঙ্গে কলতান বলেন, "মানুষ যারাই দিয়েছে তা অবশ্যই সকলকে মেনে নিতে হবে। কিন্তু আমরা দেখতে চাই প্রধানমন্ত্রী বলে গিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় যদি ওরা আসেন, তবে অভয়ার বিচার নিয়োগ দুর্নীতি গরু, কয়লা, বালি পাচারের ফাইল খুলবে। আমরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব ফাইল খোলে কিনা। আর ফাইল যদি না খোলে, যদি সব দোষীরা শাস্তি না পায় তাহলে আমরা আবার রাস্তায় নামবো।"
11 shares
😐
G
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 03:52 PM
রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে সিপিআই (এম) সমর্থকের বাড়িতে ভাঙচুর

রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে সিপিআই (এম) সমর্থকের বাড়িতে ভাঙচুর

নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর এক সিপিআই(এম) সমর্থকের বাড়ি চড়াও হয়ে মারধোর, বাড়ি ভাঙচুর করল নব্য বিজেপি কর্মীরা। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে গড়িয়া স্টেশনের কাছে শান্তিনগর শিবতলা এলাকায়। অভিযোগ, আক্রমণকারীরা দুপুর পর্যন্ত তৃণমূল ছিল। রাজ্যে বিজেপি জয়ী হওয়ার হাওয়া বুঝে তারা তৃণমূলের ঝান্ডা ছেড়ে বিজেপির ঝান্ডা ধরে। সিপিআই(এম) সমর্থক সঞ্জু মজুমদারের বাড়িতে চড়াও হয়ে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী মাম্পি মজুমদারকে মারধর করে। তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। রাজপুর সোনারপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই ঘটনায় হতবাক স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাঁদের কথায়, হামলাকারীরা তৃণমূল করতো। হাওয়া বুঝে পাল্টি খেয়ে সিপিআই(এম) সমর্থকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।এদিকে এই হামলার ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআই(এম) প্রার্থী মোনালিসা সিনহা, অপূর্ব মন্ডল, রঞ্জু চক্রবর্তীসহ স্থানীয় নেতৃত্বরা। তাঁরা ওই পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
98 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 03:45 PM
নির্বাচনের ফলাফলের পর বীরভূমে হিংসা, একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত

নির্বাচনের ফলাফলের পর বীরভূমে হিংসা, একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত

রক্তপাতহীন হল না এবারের ভোটপর্বও। ভোটের ফল প্রকাশের পর অশান্ত হল বীরভূম। স্রেফ বদল হল আক্রান্ত ও আক্রমণকারীদের অবস্থানের। বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষের প্রাণ গেল এক তৃণমূল কর্মীর। অভিযোগের তীর বিজেপি’র দিকে। নানুরের সন্তোষপুরে এদিন দুপুর থেকে শুরু হয় বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ। অভিযোগ, রাস্তায় ফেলে কোদাল দিয়ে তৃণমূল কর্মী আবির শেখকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও দুজন। তাদের মধ্যে এজন বিজেপি কর্মী। রক্তাক্ত অবস্থায় আহত দুজনকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ব্যপক উত্তেজনা এলাকায়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীমোতায়েন করা হয়েছে। চলছে টহল। জখম তৃণমূল কর্মী আলি হোসেনের মা মুশকুরা বিবি জানিয়েছেন, ‘‘আমার ছেলে ও তাঁর বন্ধু আবিরকে কুপিয়ে দিয়েছে রাস্তায় ফেলে। আবির মারা গিয়েছে। বিজেপির লোক মেরেছে।’’রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই রাজ্যের দিকে দিকে শুরু হয়েছে ভোট পরবর্তী হিংসা। বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় মারধর, অশান্তি, অগ্নিসংযোগের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। সামনে এসেছে একাধিক তৃণমূল কার্যালয় দখলের। সাথে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক ঘটনাও ঘটেছে। যেমন কঙ্কালীতলা মন্দিরে ‘বিধর্মীদের প্রবেশ নিষেধ’ সংবলিত একটি পোস্টার টাঙিয়ে বিজেপি কর্মীরা সেবাইতদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘হিন্দু ছাড়া কোনো ধর্মের মানুষ যেন মন্দিরে প্রবেশ না করে।’ এর মাঝেই আবার সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে দেখা গেছে পথে নেমে বিরোধী দলের কার্যালয়, বিরোধী কর্মীদের বাড়িতে হামলার বিরুদ্ধে ‘সক্রিয়’ হতে। বলেছেন, ‘‘যে হামলাগুলি হয়েছে তার সাথে বিজেপির কোনো যোগ নেই। নতুন হওয়া কিছু বিজেপি এটা করছে। পুলিশকে বলেছে যারা এমন করছে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’’ কিন্তু সিউড়ি নয়া বিধায়কের এই উদ্যোগে অশান্তির আঁচ দমানো যায় নি। নানুরের সন্তোষপুরের ঘটনা তার প্রমান। এদিন গ্রামে দুপুর থেকে শুরু হয় বিজেপি তৃণমূল সংঘর্ষ। হাতে দা, কাটারি, কোদাল নিয়ে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ চলতে থাকে। দুপক্ষের মধ্যে বোমাবাজিও হয়। অভিযোগ বিজেপি এরা বিজয় মিছিল করে ফেরার পথে রাস্তায় ফেলে দুই তৃণমূল কর্মীকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় আবির শেখ নামে এক তৃণমূল কর্মীর। আর গুরুতর জখম হন আলি হোসেন নামে আরেক তৃণমূল কর্মী। সংঘর্ষে গুরুত্বর জখম হন সুদেব মাঝি নামে এক বিজেপি কর্মী। বিজেপি কর্মী সুদেব মাঝি জানিয়েছেন, ‘‘আমরা বিজয় মিছিল করে ফিরছিলাম। সেই সময় তৃণমূলের লোকজন হাতে কাটারি নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে, বোমা মারে। আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কোপ মেরেছে, গ্রামে আরও অনেকে আহত হয়েছে।’’
79 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 03:42 PM
দলের পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দলের পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘আমাদের লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ছিল।’ বিধানসভা নির্বাচনে হারার পর সাংবাদিক সম্মেলন করে সাফাই দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। উল্লেখ্য নিজের রাজনৈতিক জীবনে মমতা ব্যানার্জি কখনই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেননি। মঙ্গলবার কালিঘাটে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘ইন্ডিয়া মঞ্চের অনেক নেতা আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। তারা বলেছে তারা আমাদের সাথে আছে। ইন্ডিয়া মঞ্চকে শক্তিশালী করবো। রাজ্য জুড়ে বিজেপি আমাদের ওপর অত্যাচার করছে। পুলিশ নিষ্কৃয়। আমরা ক্ষমতায় আসার পর সিপিআই(এম)’এর কোন দপ্তরে হামলা করিনি। কোন দপ্তর দখল করিনি।’উল্লেখ্য ২০১১ সালের এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর লাগাতার বামপন্থীদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। দখল করা হয়েছে একের পর এক দপ্তর দখল করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বামপন্থীদের। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে নির্লজ্জ ভাবে মিথ্যা কথা বলে গেলেন মমতা ব্যানার্জি।উল্লেখ্য মমতা ব্যানার্জি এবং তার দল নির্বাচনে হেরেছে। কিন্তু তিনি এখনও পদত্যাগ করেননি। এদিন মমতাকে তার ইস্তফা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা হারিনি, জোড় করে হারানো হয়েছে। ২০০ আসনে আমরা এগিয়ে ছিলাম। মেশিনের সমস্যা ছিল। জোড় করে হারানো হয়েছে। আমি কেন গিয়ে পদত্যাগ করবো?’একদিকে ইস্তফা না দেওয়ার কথা বলছেন তিনি আবার একই সাথে বলছেন, ‘এখন আমি মুক্ত পাখি, মানুষের হয়ে কাজ করবো।’সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘মিডিয়া সাভোটেজ করেছে। গতকাল প্রথম রাউন্ডের পর থেকে দেখাতে শুরু করেছে যে বিজেপি জিতছে। তার প্রভাব পড়েছে গণনা কেন্দ্রে এজেন্টদের ওপর।’মমতা বলেন, ‘সিআরপিএফ আমাকে গণনা কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। আমাকে শারিরীক ভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। বিজেপি গণনা কেন্দ্রের দখল নিয়ে নিয়েছিল। আমরা ফিরে আসবো। এদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আমাদের অনেক কর্মীকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বিজেপিতে যোগদান করার জন্য।’তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গঠন করবে। তারা আক্রান্ত এলাকা গুলোয় যাবে।
92 shares
😐
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 03:41 PM
ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনে শারীরিক হেনস্থা ও সি. আর. পি. এফ-এর হস্তক্ষেপের কারণে পরাজয়ের অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনে শারীরিক হেনস্থা ও সি. আর. পি. এফ-এর হস্তক্ষেপের কারণে পরাজয়ের অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

"আমরা হারিনি, আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে"। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর মঙ্গলবার প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি এমনই অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেন নির্বাচন কমিশনের দক্ষিণ কলকাতার ডিইও।ডিইও বিবৃতিতে বলেন, আজ সাংবাদিক সম্মেলন করে ভবানীপুরের বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী যে অভিযোগ জানিয়েছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী সমস্ত নিয়ম এবং বিধি মেনেই শান্তিপূর্ণ, অবাধ এবং স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা করা হয়েছে।সোমবার, ৪ মে, ফল গণনার দিন ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনা কেন্দ্র সাখওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে বিস্তর বিবাদ হয়। তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জি গণনা কেন্দ্রে যান। পরে তিনি অভিযোগ করেন যে তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। সেই সময়েই গণনা কেন্দ্রে যান বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। কিছুক্ষণ গণনা বন্ধও থাকে।তৃণমূল নেত্রী সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এদিন অভিযোগ করেন, সিআরপিএফ আমাকে গণনা কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। আমাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহও করেছে জওয়ানরা। বিজেপি গণনা কেন্দ্রের দখল নিয়ে নিয়েছিল।এই বিষয়ে ডিইও ওই বিবৃতিতে বলেন," সিসিটিভি বন্ধ ছিল না। ধাক্কা মারার যে অভিযোগ তৃণমূল প্রার্থী করেছেন তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলেছিলেন বলেই গণনা প্রক্রিয়াটি কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। তবে পরে নির্দেশিকা অনুসারে তাঁকে জানিয়ে ফের গণনা শুরু করা হয়।"
18 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 03:39 PM
নির্বাচনের ফলাফলের পর বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা ডুয়ার্সে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে

নির্বাচনের ফলাফলের পর বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা ডুয়ার্সে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হলো চরম অরাজকতা। মঙ্গলবার নির্বাচনী ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই বানারহাট ও লাগোয়া এলাকায় দাপাদাপি শুরু করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, স্রেফ গায়ের জোরে বানারহাট ২ নম্বর ও চামুর্চি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় দখল করে সেখানে দলীয় পতাকা লাগিয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এমনকি চামুর্চি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয় ভাঙচুর করে তাতে অগ্নিসংযোগ করারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বিজয়োল্লাসের নামে এলাকায় উস্কানিমূলক আচরণ শুরু করে বিজেপি কর্মীরা। চামুর্চি এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে উন্মত্ত জনতা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাট-আউট এবং গুরুত্বপূর্ণ দলীয় ও সরকারি নথিপত্র রাস্তায় বের করে এনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, এলাকা দখলের আস্ফালন দেখাতে ওই নীল-সাদা রঙের কার্যালয়টিকে রাতারাতি গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেয় বিজেপি সমর্থকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই ছবি শুধু চামুর্চিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধূপগুড়ি বিধানসভা এলাকার পরিস্থিতিও যথেষ্ট উত্তপ্ত। খবর পাওয়া গেছে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও জবরদখল, তৃণমূল কার্যালয় দখল করে বিজেপির পতাকা উত্তোলন। এই নজিরবিহীন তাণ্ডব প্রসঙ্গে বিজেপির বানারহাট মন্ডল কনভেনার সুরেশ থাপা পালটা অভিযোগের সুরে জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতে বিজেপির সদস্য থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল তাঁদের কোণঠাসা করে রাখত। তাঁদের অভিযোগ, কোনো বোর্ড মিটিংয়ে তাঁদের ডাকা হতো না। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক স্তরের ক্ষোভের দোহাই দিয়ে এই ধরণের প্রকাশ্য গুন্ডামি ও অগ্নিসংযোগ আসলে এলাকায় আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা।বাম নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছে, এক স্বৈরাচারের জায়গা নিতে চাইছে আরেক স্বৈরাচার। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তি ফেরাতে অবিলম্বে পুলিশি হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
5 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 03:35 PM
জমি সংক্রান্ত অধিকারের দাবিতে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলায় কৃষকদের ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল

জমি সংক্রান্ত অধিকারের দাবিতে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলায় কৃষকদের ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল

১৫ হাজার কৃষকের বিশাল প্রতিবাদী মিছিল হলো মহারাষ্ট্রের দাহানুতে। এই বিশাল মিছিলের জন্য পুরো দাহানু শহর লাল রঙে ছেয়ে যায়।এসডিও-র কার্যালয় পর্যন্ত এই মিছিল হয়।সারা ভারত কৃষক সভার নেতৃত্বে এই কৃষকেরা পালঘর জেলার দাহানু এবং তালাসারি, এই দু‘টি মহকুমা থেকে এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে বহু নারী ও যুবকও ছিলেন। সিআইটিইউ, মহিলা সমিতি, ডিওয়াইএফআই, এসএফআই কর্মীরাও এই মিছিলে অংশ নেন। মিছিলে নেতৃত্ব দেন সিপিআই(এম) পলিট ব্যুরো সদস্য অশোক ধাওলে ও মরিয়ম ধাওলে, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিধায়ক বিনোদ নিকোলে সহ নেতৃবৃন্দ।চলতি বছর পালঘর, নাসিক এবং আকোলে কৃষকদের লং মার্চের ফলস্বরূপ, কালেক্টর এবং পরবর্তীতে রাজ্য সরকার লিখিতভাবে জানাতে বাধ্য হয় যে, বন অধিকার আইন, পুরোনো জমিদারদের জমি, বাড়ির জন্য জমি ইত্যাদি সহ সমস্ত ভূমি-সংক্রান্ত দাবি নতুন করে পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং এই জমির অধিকার কৃষকদের নামে ন্যস্ত করা হবে। সেই অনুযায়ী, থানে-পালঘর জেলায় কৃষক সভার পক্ষ থেকে হাজার হাজার নতুন ভূমি-সংক্রান্ত দাবি পূরণের জন্য একটি ব্যাপক প্রচার অভিযান চালানো হয়। এদিনের মিছিল থেকে সেই সমস্ত দাবি এসডিও-র কাছে জমা দেওয়া হয়। এসডিও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সব দাবি ফের খতিয়ে দেখা এবং তাড়াতাড়ি সম্ভব জমির অধিকার প্রদান করতে সম্মত হয়েছেন।নেতৃবৃন্দ জল, সেচ, বিদ্যুৎ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, রাস্তাঘাট ইত্যাদি বিষয়ে জনগণের আরও বেশ কিছু স্থানীয় সমস্যা উত্থাপন করেন। এসডিও সেগুলির বিষয়ে মেটানোর সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন।
69 shares
😐
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 02:10 PM
বড় জাহাজ এবং জাহাজে হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্যের উদ্বেগ বাড়িয়েছে

বড় জাহাজ এবং জাহাজে হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্যের উদ্বেগ বাড়িয়েছে

সাম্প্রতিক সময়ে বড় বড় ক্রুজ় ও জাহাজগুলিতে হান্টাভাইরাস (Hantavirus ) সংক্রমণের কথা বারবার খবরের শিরোনামে আসছে। যা নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বেশ উদ্বিগ্ন। এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে এই ভাইরাসের সংক্রমের কারণে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ভাইরাস খুবই বিরল এবং মারাত্মক। COVID-19-এর থেকেও ভয়ঙ্কর হতে পারে এই ভাইরাস।Hantavirus হলো এমন এক ধরনের ভাইরাস, যা প্রধানত ইঁদুর বা রোডেন্ট জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। ইঁদুরের প্রস্রাব, লালা এসব থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। তবে এই ভাইরাস, COVID-19 বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো এটি সহজেই মানুষের মধ্যে ছড়ায় না। সাধারণত রোডেন্ট জাতীয় প্রাণীরা কোনও খাবারে লালা বা প্রস্রাব-মল ত্যাগ করলে সেই খাবার মানুষ খেলে তা থেকে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।এর প্রাথমিক লক্ষণ অনেকটা ফ্লুর মতো। ফলে অনেকেই প্রাথমিক পর্যায়ে তা ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ জ্বর বলে মনে করেন। এ ছাড়াও পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, অল্পেতেই ক্লান্তি, বমি এই লক্ষণগুলি দেখা যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট ও ফুসফুসের সমস্যাও হতে পারে, যাকে বলা হয় Hantavirus Pulmonary Syndrome (HPS)। চিকিৎসকরেরা জানিয়েছেন, মূলত ইঁদুর থেকে ছড়াচ্ছে এই ভাইরাস। কিছু দিনের মধ্যেই ভয়ঙ্কর আকার নিতে পারে এবং মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় বড় জাহাজের কার্গোতে দীর্ঘদিনের জন্য খাবার মজুত থাকে। সেখানে ইঁদুর বা রোডেন্ট জাতীয় প্রাণীরা বাসা বাঁধে এবং ভাইরাস ছড়ায়। ক্রুজ়ের অনেক যাত্রী ও কর্মী একসঙ্গে থাকেন এবং ওই খাবার খাওয়ার ফলে তাঁদের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা।বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই রোগ বিরল হলেও অত্যন্ত মারাত্মক। কোভিড ১৯-এর থেকেও HPS-এর মৃত্যুহার বেশি এবং আরও চিন্তার ব্যপার হলো এর নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসে এই ভাইরাসের সংক্রমণ হলে অক্সিজেন সাপোর্টই একমাত্র ভরসা, এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসকরা। সারা বিশ্বে ভ্রমণের বিষয়েও বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।জাহাজগুলিতে পেস্ট কন্ট্রোল ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে বলা হয়েছে। পরিষ্কার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং স্টোরেজ খাবারকে সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা উচিত এবং কেউ ভ্রমণের পর যদি ফ্লুর মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
44 shares
😢
A
AajKaal News
May 5, 2026, 02:05 PM
জি বাংলার'কানে দেখা আলো'- তে মোড় আসে

জি বাংলার'কানে দেখা আলো'- তে মোড় আসে

বিরাট চমক আসছে জি বাংলার ধারাবাহিক 'কনে দেখা আলো'য়। কিছুদিন আগেই গল্পে দেখানো হয়েছিল বনলতা সুদেবকে মিথ্যে আত্মহত্যার গুঞ্জন ছড়াতে শেখায়। যাতে লাজু গ্রামে ফেরে, আর তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। বনলতা চেয়েছিল এভাবেই লাজুকে দূরে সরিয়ে অনুভবের কাছাকাছি আসবে। বনলতার প্ল্যান অনুযায়ী সুদেবও তাই-ই করে। কিন্তু এরপর ধারাবাহিকে আসছে বিরাট মোড়। ফাঁস হবে বনলতার কারসাজি। দেখা যাবে, সুদেবের শ্রাদ্ধের দিন তাকে একজন গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। সুদেবকে দেখে চমকে ওঠে বাড়ির সবাই। এদিন উপস্থিত ছিল বনলতা ও অনুভবও। সুদেব কেন এই কাজ করল? সবাই মিলে তাকে দোষ দিলে সে ভয় পেয়ে বনলতার সব কীর্তি ফাঁস করে দেয়। বনলতা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে চাইলেও লাজু তাকে বাধা দেয়। লাজু জানিয়ে দেয় সুদেবের সঙ্গে সে আর সংসার করবেই না। সুদেবের মা তাকে বলে যে, সিঁথিতে সিঁদুর যেন পড়ে। কিন্তু লাজু সেটাও নাকচ করে দেয়। লাজু জানায়, যে তার সঙ্গে এমন মিথ্যাচার করে তাকে সে কিছুতেই ক্ষমা করবে না। লাজু জানায়, সে কলকাতায় গিয়ে ডাক্তারি পড়াশোনা আবার শুরু করবে। লাজুর পাশে বরাবরের মতোই থাকে অনুভব। এবার কী হবে? বনলতাকে কী শাস্তি দেওয়ার জন্য ডিভোর্স দেবে অনুভব? লাজুর সঙ্গে এবার কি মিল হবে তার? সুদেবেরই বা কী হবে? উত্তরের অপেক্ষায় দর্শক। টিআরপিতে 'কনে দেখা আলো' এখন এক থেকে দশের মধ্যে থাকে। এই ধারাবাহিকের জনপ্রিয়তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক। বনলতা, লাজু, সুদেব ও অনুভবের জীবনে নানা টানাপোড়েন দেখতে দারুণ পছন্দ করেন দর্শক। তাই এই মেগার প্রতিটা পর্ব নিয়েই চর্চা চলে নেটপাড়ায়।
4 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 02:02 PM
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর বেলঘাটায় টিএমসি কর্মীকে খুনের অভিযোগ

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর বেলঘাটায় টিএমসি কর্মীকে খুনের অভিযোগ

ভোট মিটতেই বেলেঘাটায় তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগ। সোমবার ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর রাতেই বাড়ির বাইরে থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক (৪২)। এই ঘটনায় সরাসরি কারও বিরুদ্ধে আঙুল না তুললেও পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই খুন করা হয়েছে বিশ্বজিৎকে।এ বারের বিধানসভা ভোটে বেলেঘাটায় তৃণমূল জিতেছে। সদ্যজয়ী তৃণমূূল প্রার্থীর অবশ্য বক্তব্য, ‘ভোট পরবর্তী হিংসা কারা করছে? যারা ভোটের আগে উস্কানি দিয়েছে, তারাই করছে। বাড়ির একমাত্র রোজগেরে ছিলেন বিশ্বজিৎ। ওঁকে ফোন করে ডাকল কে? একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন বিশ্বজিৎ। তাঁকে ফোন করে করে ডেকে বের করল কে? পরিবার পুলিশে বয়ান দিচ্ছে। ঘটনার পুরোদস্তুর তদন্ত হওয়া উচিত।’স্থানীয় সূূত্রে দাবি, বিশ্বজিৎ খুনে ইতিমধ্যেই বেলেঘাটা থানায় অস্বাভাবিক খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, বিশ্বজিৎ সক্রিয় ভাবে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ বারের ভোটে নারকেলডাঙা এলাকার একটি বুথের দায়িত্বেও ছিলেন। সোমবার রাতে নিজের বাড়িতেই ছিলেন বিশ্বজিৎ। অভিযোগ, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি একটি ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এর পর আর তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। পরে বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করে পরিবার। পরিবারের দাবি, বিশ্বজিতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হলো এবং কে বা কারা তাঁকে ফোন করে বাইরে ডেকে নিয়ে গেলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেই খবর পুলিশ সূত্রে।এই ঘটনায় বিজেপির হাত থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর দাবি, বেলেঘাটা জুড়ে পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালাচ্ছে বিজেপি। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় ছেলে ৪-৫টা। বাকিদের চেনা যাচ্ছে না। শুধু এসে গণ্ডগোল করে, হামলা করে দিয়ে চলে যাচ্ছে। বিজেপির হাই কমান্ড বলছে, যেন অশান্তি না হয়। এটা ক্যামোফ্লেজড। আসলে এটা পূর্বপরিকল্পিত। বিপুল পরিমাণ বহিরাগত ঢুকিয়ে দিয়ে এটা হচ্ছে।’ বিজেপি অবশ্য এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
28 shares
😢
A
AajKaal News
May 5, 2026, 01:57 PM
শিবপুর আসনে জয়ী বিজেপি তারকা প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ, টলিউডে যোগ দেওয়ার ডাক

শিবপুর আসনে জয়ী বিজেপি তারকা প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ, টলিউডে যোগ দেওয়ার ডাক

শিবপুরে রীতিমত ঝড় তুলে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে পদ্ম ফুটিয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। ১৬ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। ২০ রাউন্ড গণনার শেষে রুদ্রনীল ঘোষ ১৬,০৫৮ ভোটে জিতলেন। পিছনে ফেললেন তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায় সহ বাকিদের। শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে রীতিমত চমক দেখালেন বিজেপির তারকা প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষ। এরপর থেকেই টলিউডের 'হাওয়া বদল'-এর জন্য রুদ্রনীলের কাছে আর্জি জানাচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই। সমাজমাধ্যমে রুদ্রনীলের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, এবার যেন টলিউডের হাল ধরেন তিনি। রাজনীতির আড়ালে টলিপাড়ায় যে 'দাদাগিরি' চলে, সেই নিয়ে বহুবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন টলিউডের অনেকেই। বাংলায় এই পরিবর্তন আসায় আরও জোরালো হয়েছে এই আর্জি। তবে রুদ্রনীল ঘোষ এখনও পর্যন্ত টলিপাড়ার হাল ধরবেন কিনা তা নিয়ে কিছু জানাননি। যদিও এই একই আর্জি জানানো হয়েছে অন্যান্য জয়ী বিজেপি তারকা প্রার্থীদের কাছে। তালিকায় আছেন রূপা গাঙ্গুলি, পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী মুখার্জির নামও। এবার রুদ্রনীলকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হলেন পরিচালক জয়ব্রত দাস। রাজনীতিবিদ, অভিনেতার সপক্ষে পরিচালক লেখেন, 'রুদ্রনীল ঘোষকে নিয়ে এবার সিনেমার তৈরির জোয়ার আসতে চলেছে ! দেখবেন হঠাৎ করে, অসম্মভ দক্ষ এই অভিনেতাকে দীর্ঘ দিন ধরে কাজে না নেয়ার গিল্ট ট্রিপ সব্বাই কে দুম করে হিট করবে!' (পোস্টের সমস্ত বানান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।) জয়ব্রতর প্রথম ফিচার ফিল্ম 'অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস'-এ দেখা গিয়েছিল রুদ্রনীল ঘোষকে। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়েছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। কিন্তু ব্যাপক মার্জিনে তৃণমূলের কাছে পরাজিত হন। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির হয়ে শিবপুর কেন্দ্র থেকে লড়াই করছেন। তাঁর এবারের লড়াইয়ের স্লোগান 'জঞ্জালমুক্ত শিবপুর'। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের সময় তাঁকে বিজেপি থেকে টিকিট দেওয়া হয়নি। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দেন রুদ্রনীল ঘোষ। প্রথমে তিনি বামপন্থী ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ পরিষদের চেয়ারম্যান হন। এরপর তিনি পদ্ম শিবিরে যোগ দেন।
72 shares
😐
A
AajKaal News
May 5, 2026, 01:52 PM
পশ্চিমবঙ্গে হিংসাঃ তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরকে দোষারোপ করছে, উত্তেজনা বাড়ছে

পশ্চিমবঙ্গে হিংসাঃ তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরকে দোষারোপ করছে, উত্তেজনা বাড়ছে

আজকাল ওয়েবডেস্ক:সোমবার ভোটের ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই জায়গায় জায়গায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তাতে বিজেপি কর্মীদের নামও জড়িয়েছে। এরপরই হিংসায় আমল না দিয়ে হিংসামুক্ত বাংলা গড়ে তোলা ডাক দিয়েছে বিজেপি। খোদ নরেন্দ্র মোদি এই আহ্বান জানিয়েছেন। সতর্ক করে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিষয়টিকে অত্যন্ত্য গুরুত্ব দিয়ে নজরে রাখছে পদ্ম শিবিরের রাজ্য নেতৃত্ব। তবে, এই হিংসায় বিজেপি নেতা, কর্মীরা জড়িত বলে মানতে রাজি নয় গেরুয়া নেতৃত্ব। উল্টে তাঁদের দাবি, তৃণমূলের লোকেরাই সহানুভূতি আদায়ে এই ধরণের হামলা, মারধর চালাচ্ছে। দখল করা ভাঙচুর করা তৃণমূলের সংস্কৃতি: সুব্রত মৈত্র দখল করা ভাঙচুর করা তৃণমূলের সংস্কৃতি: সুব্রত মৈত্র রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র তথা আইনজীবী দেবজিৎ সরকার বলেছেন, "আমরা কোনও তৃণমূল পার্টি অফিস দখল করিনি। এটা তৃণমূলের লোকেরাই করছে সহানুভূতি কুড়োতে। এরা বিজেপির পতাকা নিয়ে দুষ্কর্ম করছে। দলের রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন এ ধরণের কাজ দল অনুমোদন করে না। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। পরিস্কার বলছি, আমরা এ ধরণের কাজ বরদাস্ত করব না। দলের তরফে প্রশাসনকে বলা হয়েছে কড়া হাতে পদক্ষেপ করতে। এমনকি বিজেপির লোক থাকলেও পদক্ষেপ করতে হবে।" খবর, বেশ কয়েকজন তৃণমূল পৌর প্রতিনিধি, এমনকি বিধায়কও ঘোষণা করছেন তারা নাকি বিজেপি হয়ে গিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে দেবজিৎ বলেন, "যাঁরা মানুষের উপর অত্যাচার করেছেন তাঁদের বিজেপিতে ঠাঁই দেওয়া হবে না।" রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এদিন বলেছেন, "পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি বিজেপির পতাকা নিয়ে কোনও হিংসা করা চলবে না। কোনও হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। কোনও তৃণমূলের পার্টি অফিসে যদি ভাঙচুর চলে, মুখ্যমন্ত্রী বা তার পরিবারের সদস্যদের যদি কদর্য ভাষায় আক্রমণ করা হয় তাহলে আমি তাঁদের দল থেকে বরখাস্ত করব। সেই ক্ষমতা আমার দল আমাকে দিয়েছে।"
74 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 01:28 PM
তরুণ প্রার্থীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশের বাম দল

তরুণ প্রার্থীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশের বাম দল

তরুণদের হাত ধরেই রাজনৈতিক খরা কাটবে—এই আশাতেই গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে বারবার যুব প্রজন্মের উপর ভরসা রেখেছে বামেরা। দলের প্রথম সারির প্রায় সব তরুণ মুখকেই প্রার্থী করা হয়েছিল। কিন্তু ফলাফলে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন মিলল না। এবারের নির্বাচনে তথাকথিত তরুণ প্রার্থীদের কেউই বিধানসভায় পৌঁছতে পারেননি। বরং তাঁদের অনেকেই ন্যূনতম ভোট পেতেও ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত এক-ষষ্ঠাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৬.৬৬ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। প্রার্থী হওয়ার সময় যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (বিধানসভা নির্বাচনে ১০ হাজার টাকা) জমা রাখতে হয়, তা আর ফেরত পাওয়া যায় না। তবে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার ছবির মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে এসেছেন ডোমকলের মুস্তাফিজুর রানা। তিনি প্রায় ১ লক্ষ ৭ হাজার ভোট পেয়ে মোট ভোটের প্রায় ৪১ শতাংশ অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য, তিনি দলের অন্যান্য তরুণ মুখদের মতো আগে ততটা পরিচিত ছিলেন না। জলঙ্গিতে সিপিএম প্রার্থী ইয়ানুস আলি সরকার প্রায় ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। খড়গ্রামে বামপ্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি সাহা প্রায় ৪১ হাজার ভোট পেয়েছেন। রানিনগরে জামাল হোসেন এবং করণদিঘিতে হাজি শাহাবুদ্দিন অল্প ব্যবধানে নিজেদের জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। শাহাবুদ্দিনের মোট প্রাপ্ত ভোট ৪০ হাজারের কম। হেরেছেন ৫০ হাজারের বেশি ভোটে। অন্যদিকে, পরিচিত মুখদের মধ্যে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রায় ১৭.৮১ শতাংশ ভোট পেয়ে কষ্টেসৃষ্টে জামানত বাঁচিয়েছেন। উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তুলনামূলক ভালো লড়াই দিয়েছেন। দমদম উত্তরে দীপ্সিতা ধরও ১৭.২১ শতাংশ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেছেন। তবে পানিহাটিতে কলতান, বরানগরে সায়নদীপ মিত্র এবং রাজারহাট নিউটাউনে সপ্তর্ষি দেব—এই তরুণ প্রার্থীরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তাঁদের ভোট শতাংশ যথাক্রমে ১৩.৭৩, ১১ এবং ১২.৭৭ হওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, রাজ্যের অধিকাংশ আসনেই বাম প্রার্থীদের একই পরিণতি হয়েছে।
68 shares
😢
A
AajKaal News
May 5, 2026, 01:24 PM
বাংলার নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলার নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর

আজকাল ওয়েবডেস্ক:তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি যদি নিজে থেকে পদত্যাগ না করেন, তবে তাঁকে বরখাস্ত করাই একমাত্র পথ- আজ এমনই কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এক সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বলেন, "মমতা ব্যানার্জি পদত্যাগ না করলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হোক। বাংলার মানুষ অনেক দিন ওঁর শাসন সহ্য করেছেন।" টানা তিন বার ক্ষমতায় থাকার পর ৪ এপ্রিল বিজেপির কাছে হেরেছে মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল-কংগ্রেস। কিন্তু মঙ্গলবার তিনি ইস্তফা দিতে সরাসরি অস্বীকার করায় রাজ্যে এক নজিরবিহীন জটিলতা তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে মমতা মেজাজি সুরে বলেন, "আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। ইস্তফাও দেব না।" বাংলায় বিজেপির কাছে শোচনীয় পরাজয়ের ২৪ ঘন্টা পরও মমতা ব্যানার্জি নিজের অবস্থানে অনড় রইলেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন যে, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থীরা নির্বাচনে হারেননি, বরং গেরুয়া শিবির জোর করে ইভিএম দখল করে ভোটে জিতেছে। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মেয়াদ ৬ মে শেষ হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমো কি মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে টিকে থাকতে পারবেন? প্রবীণ আইনজীবী শেখর নাফাদে বলেছেন, তাঁর এই প্রতিরোধ বা অনড় মনোভাব কোনওই পার্থক্য তৈরি করবে না। রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন এবং সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, কারণ পাঁচ বছরের সাংবিধানিক ম্যান্ডেট বা নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে। 'ইন্ডিয়া টুডে'-র সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, পদত্যাগ না করার বিষয়ে তৃণমূল নেত্রীর এই সিদ্ধান্ত কীভাবে ভারতের সংবিধানের পরিপন্থী। ফোনে 'ইন্ডিয়া টুডে'-কে নাফাদে বলেন, "নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যদি না কোনও উপযুক্ত আদালত নির্দিষ্ট কোনও যুক্তির ভিত্তিতে এই নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করে, তবে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফলের প্রতি প্রত্যেকেই মেনে চলতে বাধ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর ওপর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।" ওই আইনজীবী আরও জানান, যদি তিনি এই নিয়ম মেনে না চলেন, তবে সরকারের বরখাস্ত করা ছাড়া রাজ্যপালের হাতে আর কোনও বিকল্প থাকবে না। বলেন, "আর সেই পদক্ষেপটি হবে সংবিধানিক নিয়মের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।" শেখর নাফাদে অবশ্য এ-ও জানান যে, মমতা ব্যানার্জি সামনে যে কোনও উপযুক্ত মঞ্চে নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। আরেক আইনজীবী পিডিটি আচার্য অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, "বর্তমানে এমন কোনও বিধান নেই যা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বহাল থাকার অনুমতি দেয়। এমনকি তিনি যদি পদত্যাগ নাও করেন, তাতেও কিছু যায় আসে না। পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত রাজ্যপাল হয়তো তাঁকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে পারতেন। কিন্তু সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনও সরকার আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, মমতা ব্যানার্জি যদি এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ জানান, তবে তা করতে হবে একটি 'নির্বাচনী পিটিশন' বা মামলার মাধ্যমে, যার শুনানি হবে অনেক পরে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রসঙ্গে আচার্য বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তিনি হয়তো নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন; কিন্তু, "সেটি হবে সম্পূর্ণ আলাদা একটি পিটিশন। এমনকি যদি সেই পদক্ষেপ করারও হয়, তবুও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে বহাল থাকতে পারবেন না।"
78 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 01:23 PM
ভোট গণনার অভিযোগ'ভিত্তিহীন "বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নির্বাচন অফিস

ভোট গণনার অভিযোগ'ভিত্তিহীন "বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নির্বাচন অফিস

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা ঘিরে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করল দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর। সরকারি রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গোটা গণনা প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই ‘স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নিয়মমাফিক’ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৫৯ নম্বর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আজ সাংবাদিক বৈঠকে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’। দপ্তরের দাবি, গণনার সময় সমস্ত নির্ধারিত নিয়ম, আইন এবং বিধি কঠোরভাবে মেনে চলা হয়েছে এবং কোথাও কোনও ধরনের গাফিলতি হয়নি। গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিসিটিভি কখনও বন্ধ করা হয়নি এবং গোটা প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে নজরদারির আওতায় ছিল। তৃণমূল প্রার্থী ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটিকেও ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রিপোর্টে স্বীকার করা হয়েছে, এক সময় গণনা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থামানো হয়েছিল। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, প্রার্থীর পক্ষ থেকেই গণনা বন্ধ রাখার দাবি ওঠে। পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী তাঁকে অবহিত করে পুনরায় গণনা শুরু করা হয়। এই রিপোর্ট সামনে আসার পর ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনের স্পষ্ট খণ্ডন—এই দুইয়ের মাঝে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
26 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 01:11 PM
শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যা ভবনের জন্য জাফরান রঙের দাবি বিজেপি কর্মীদের

শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যা ভবনের জন্য জাফরান রঙের দাবি বিজেপি কর্মীদের

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজয় উল্লাসে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা দাবি তুলেছেন, উত্তরকন্যার বর্তমান নীল-সাদা রং বদলে গেরুয়া রঙে রাঙানো হোক। মঙ্গলবার উত্তরকন্যার সামনে জড়ো হয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন বিজেপির কর্মীরা। স্লোগানের মাঝে তাঁদের বক্তব্য, এতদিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের দিক থেকে বঞ্চিত ছিল। নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রশাসনিক ভবন থেকেই উন্নয়নের নতুন পথ খুলবে। তাঁদের দাবি, উত্তরবঙ্গের ৫৪টি বিধানসভার উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন উত্তরকন্যা থেকেই পরিচালিত হবে। পাশাপাশি, ভবনটির ব্যবহার আরও সক্রিয় করার কথাও বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, উত্তরকন্যা যেহেতু সরকারি অর্থে তৈরি, তাই সেটির যথাযথ ব্যবহার করা হবে। তবে কীভাবে প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হবে, তা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে ফুলবাড়ির যুব বিজেপি সভাপতি বিশ্বম্ভর সাহার অভিযোগ, এতদিন সাধারণ মানুষের জন্য উত্তরকন্যার দরজা কার্যত বন্ধই থাকত। খালি মুখ্যমন্ত্রী আসলে এটা খোলা হত। একটা সরকারি কাজ হতো না। খালি গরুপাচারের টাকা এখান থেকে ভাগ হয়ে কালীঘাটে যেত। নতুন সরকারের আমলে সেই পরিস্থিতি বদলাবে এবং এখান থেকেই মানুষের কাজকর্ম এগোবে বলে তাঁদের দাবি। উত্তরকন্যার ভবিষ্যৎ ব্যবহার ও রঙ পরিবর্তনের দাবি ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
34 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 01:09 PM
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দিন সহিংসতায় দুই তৃণমূল কর্মী নিহত, দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দিন সহিংসতায় দুই তৃণমূল কর্মী নিহত, দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর

ভোট মিটতেই আবার হিংসার ঘটনা রাজ্যে। কোথাও গলা কেটে খুন করা হলো তৃণমূল কর্মীকে। কোথাও আবার বিজয় উৎসব সেরে ফেরার পথে খুন হয়ে গেলেন বিজেপি কর্মী।মঙ্গলবার বীরভূমের নানুরের সন্তোষপুরে তৃণমূলের বুথ সভাপতি আবির শেখকে গলা কেটে খুন করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। রক্তাক্ত অবস্থায় আরও এক তৃণমূল কর্মীকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে। এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই উত্তপ্ত নানুর। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশের বড় বাহিনীও পৌঁছেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হননি।নানুরের তৃণমূল বিধায়ক বিধানচন্দ্র মাজি বলেন, ‘বিজেপির লোকেরা চারিদিকে তাণ্ডব চালাচ্ছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই বুথ সভাপতির গলা কেটে দিয়েছে। আরও একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। তার অবস্থাও শোচনীয়। তৃণমূল কর্মীদের ঘরবাড়ি, পার্টি অফিসেও ভাঙচুর চলছে।’ শান্তিনিকেতনে স্টেট ব্যাঙ্কের সামনে তৃণমূলের মুখপাত্র জামশেদ আলি খানকেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। সেটির সত্যতা এই সময় অনলাইন যাচাই করেনি। তবে ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, গলায় গেরুয়া উত্তরীয় পরে কয়েক জন ঘিরে ধরে মারধর করছেন জামশেদকে। যদিও, তৃণমূলের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।ভোটের ফল প্রকাশের পর বিজয় উৎসব সেরে বাড়ি ফেরার পথে হাওড়ার এক বিজেপিকর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। তারা তৃণমূলের মদতপুষ্ট বলে অভিযোগ। সোমবার রাতে উদয়নারায়ণপুরের দক্ষিণ মানশ্রী গ্রামের ঘটনা। মৃতের নাম যাদব বর। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে উদয়নারায়ণপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়া শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।উদয়নারায়ণপুরের বিজেপি নেতা প্রভাকর পণ্ডিত বলেন, ‘যাদব বর আমাদের দলের সক্রিয় কর্মী। সোমবার রাতে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে আনন্দ করে বাড়ি ফেরার পথে যাদবকে একা পেয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে ওর মৃত্যু হয়।’ যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভোটের পর দিকে দিকে তাঁদের দলের কর্মীরাই মার খাচ্ছেন। তাই বিজেপির অভিযোগ ভিত্তিহীন।
84 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 01:06 PM
মাথেরদিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে রহস্যময় ব্যাগ পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিক্ষোভ

মাথেরদিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে রহস্যময় ব্যাগ পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিক্ষোভ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার মঠেরদিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার থেকে একটি ব্যাগে নগদ টাকা, সোনার গয়না ও জমির দলিল উদ্ধার হয়েছে। খবর পেয়ে বিজেপি কর্মীরা হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, তৃণমূল নেতার টাকা-গয়না হাসপাতালে লুকিয়ে রেখেছিলেন এক চিকিৎসক। বিজেপির এ-ও অভিযোগ, বিদায়ী বিধায়ক শওকত মোল্লা-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা হোসেন গাজির বেআইনি ভাবে সম্পত্তি হাসপাতালে লুকিয়ে রেখেছিলেন। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক শাহরুখ খান দাবি করেন, অস্থায়ী কর্মী সামসের মীর ব্যাগটি বিশ্বাস রেখে গিয়েছিলেন। মীরের সঙ্গে তাঁর হাসপাতালে কাজ করার সূত্রে আলাপ। তপুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
17 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 12:55 PM
দলের পরাজয়ের পর তৃণমূল ছেড়েছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

দলের পরাজয়ের পর তৃণমূল ছেড়েছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হার স্পষ্ট হতেই পরের দিনই নিজের দায়িত্বের দপ্তর ছাড়লেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে বিধানসভায় এসে দ্রুত নিজের অফিস খালি করার নির্দেশ দেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর যাবতীয় মালপত্র দু’টি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে আচমকা বিধানসভায় হাজির হয়েছিলেন বিদায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে বিধানসভা চত্বরে জল্পনা ছড়ায়। দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তাঁকে বিদায় জানাতে ভিড় করেন। অনেকেই তাঁর সঙ্গে ১৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেন। নিজের প্রস্থান প্রসঙ্গে বিমান বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকলে একদিন না একদিন দায়িত্ব ছাড়তেই হয়—এটাই স্বাভাবিক।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিধায়ক হিসেবে তিনি ভবিষ্যতেও বিধানসভায় আসবেন এবং সকলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় থাকবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিবর্তনের সময় প্রথমবার বিধায়ক হয়ে স্পিকার পদে বসেন তিনি। এরপর ২০১৬ ও ২০২১ সালেও একই দায়িত্বে ছিলেন। এবারের নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে জয়ী হলেও দলের পরাজয়ের ফলে তাঁর স্পিকার পদে থাকা আর সম্ভব নয়—এটাই কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
60 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 12:50 PM
দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে নথি ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দার্জিলিং সাংসদের, পাহাড়ে ক্ষমতা ধরে রাখল বিজেপি

দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে নথি ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দার্জিলিং সাংসদের, পাহাড়ে ক্ষমতা ধরে রাখল বিজেপি

পাহাড়ে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রেখেছে বিজেপি। তবে এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেও কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং মিরিক পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নথি নষ্ট করে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। এই আশঙ্কায় রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে জরুরি চিঠি লিখেছেন তিনি। সোমবার পাঠানো এই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কেয়ারটেকার বা তদারকি প্রশাসকরা দুর্নীতির তথ্য আড়াল করতে নথিপত্র সরিয়ে ফেলতে পারেন। তাই দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন করেছেন সাংসদ। সাংসদ তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, গতকাল থেকে তিনি বিভিন্ন নাগরিক ও সংগঠনের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পেয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই তিন পুরসভায় গত কয়েক বছরে যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, তার প্রমাণ মুছে ফেলতে তৎপর হয়েছে বর্তমান তদারকি কর্তৃপক্ষ। রাজু বিস্তার অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে এই তিনটি পুরসভায় কোনও নির্বাচন হয়নি। তৃণমূল সরকার বেআইনিভাবে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের তদারকি চেয়ারপার্সন বা প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে রেখেছে। এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারি তহবিল ও সম্পত্তির অপব্যবহার এবং মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মুখ্যসচিবের কাছে সাংসদের আবেদন, অবিলম্বে যেন কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং মিরিক পুরসভার সমস্ত এগজিকিউটিভ অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে প্রতিটি নথি সুরক্ষিত রাখা হয়। কোনোভাবেই যেন কোনও ফাইল বা নথিপত্র পুরসভা কার্যালয়ের বাইরে নিয়ে যেতে দেওয়া না হয়। সাংসদ রাজু বিস্তা জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে বিজেপি একটি দুর্নীতিমুক্ত সরকার নিশ্চিত করবে। যারা জনগণের অর্থ লুটের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। চিঠির অনুলিপি দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের জেলাশাসকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে যাতে স্থানীয় স্তরে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’ পাহাড়ের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জোটের বিপুল জয়ের পর এই পুরসভাগুলোর প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ এবং বকেয়া নির্বাচন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজু বিস্তার এই চিঠি সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।
20 shares
😢
A
AajKaal News
May 5, 2026, 12:49 PM
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের রায়ঃ নাশকতা ও উপলব্ধির একটি জটিল বিষয়

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের রায়ঃ নাশকতা ও উপলব্ধির একটি জটিল বিষয়

আজকাল ওয়েবডেস্ক:বাংলায় বিজেপি ও তৃণমূলের আসন জয়ের পরিসংখ্যান একটি চূড়ান্ত জনাদেশের ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু গভীরভাবে দেখলে, পশ্চিমবঙ্গের রায় আরও অনেক জটিল এক বিষয় তুলে ধরেছে। যেখানে হিসেবনিকেশ আর উপলব্ধির মধ্যে আকাশপাতাল তফাৎ। এটিকে কোনও রাজনৈতিক দল বা মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে ভোট না বলে, বলা যায় যে আসল রহস্য লুকিয়ে সংখ্যার মধ্যেই। ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূল ৪০.৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ২ কোটি ৯২ লক্ষ ২৪ হাজার ৮০৪ এবং তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ২ কোটি ৬০ লক্ষ ১৩ হাজার ৩০৭। ভোটের পার্থক্য ৩২ লক্ষের। বিজেপির প্রাপ্ত আসন ২০৭ এবং তৃণমূলের ৮০। পার্থক্য ১২৭টি আসনের। আসন পরিবর্তনের মাত্রা ভোটের ব্যবধানের মাত্রাকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। ৫ শতাংশ ব্যবধান খুবই কম, যা এমন রাজনৈতিক ফলাফল এনে দেয়। তাহলে স্বাভাবিক প্রশ্ন হল– আড়ালে কী এমন ঘটল? দখল করা ভাঙচুর করা তৃণমূলের সংস্কৃতি: সুব্রত মৈত্র গোষ্ঠীকোন্দলেই হামলা, মারধর! বিস্ফোরক বিজেপি বাংলার এই ভোটে মমতার বিরুদ্ধে ভোট না হয়ে, বরং কারা আসলে ভোট দিতে পারল আর কারা পারল না— এই বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে বলে মনে হয়। রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এই নির্বাচনের উপর একটি বড় প্রভাব ফেলেছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ২৮ লক্ষ ভোটার বিবেচনাধীন ছিলেন এবং তাঁদের ভোটাধিকারের জন্য পুনরায় আবেদন করতে হয়েছিল। এমন একটি রাজ্যে যেখানে নির্বাচনী ব্যবধান প্রায়শই খুবই সামান্য থাকে, সেখানে এটি কোনও গতানুগতিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছিল না। এটি নাড়িয়ে দিয়েছিল প্রশাসনকে। চূড়ান্ত ভোটের ব্যবধান ৩২ লক্ষের সঙ্গে তুলনা করলে, বাদ পড়া ভোটারদের এই সংখ্যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাদ পড়া ভোটারদের একটি অংশও যদি কোনও নির্দিষ্ট দিকে ঝুঁকে থাকত, তাহলেও এলাকাভিত্তিক ফলাফলের ওপর তার পরবর্তী প্রভাব ভিন্ন বা ব্যাপক হতে পারত। ২০২১ সালের সঙ্গে তুলনা করলে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন একটা সময় তৃণমূল বিজেপির চেয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটে এগিয়ে ছিল, এবং ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ১০ শতাংশ, যার ফলে তারা ১৪০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে ছিল। ভোট ও আসনের মধ্যকার সম্পর্কটি একটি চেনা ছক অনুসরণ করছিল। ২০২৬ সালে, সেই সম্পর্কটি ব্যাহত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ভোটের ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে, কিন্তু আসনের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেশি রয়ে গিয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল শুধু ভোটারদের পছন্দই নয়, ভোটারদের উপস্থিতিকেও প্রতিফলিত করে। সেই অর্থে, বাংলার ফলাফল নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
3 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 12:38 PM
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের ফলাফলের পর ভুয়ো খবরের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিল কলকাতা পুলিশ।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের ফলাফলের পর ভুয়ো খবরের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিল কলকাতা পুলিশ।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বিভিন্ন স্থানে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশ বিশেষভাবে সমাজমাধ্যমের উপর নজরদারি বাড়িয়েছে। ভুয়ো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, ফল ঘোষণার পর অনেক বিভ্রান্তিকর পোস্ট ঘুরছে, যেখানে অন্য জায়গার ছবি বা ভিডিও কলকাতার বলে প্রচার করা হচ্ছে। পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ধরনের মিথ্যা প্রচারের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং যারা ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এমন কাজ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে কলকাতার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে আবেদন করা হয়েছে, কোনও খবর যাচাই না করে তা বিশ্বাস বা শেয়ার না করতে। দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, সোমবার রাজ্যের ২৯৩টি আসনের গণনা সম্পন্ন হয়েছে। তার মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়লাভ করেছে এবং তৃণমূল পেয়েছে ৮০টি আসন। একটি আসনের ফলাফল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। এই ফলাফলের ভিত্তিতে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে। তবে ফল ঘোষণার পর থেকেই শহর ও শহরতলির বিভিন্ন এলাকায় হিংসার অভিযোগ উঠছে। বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর বা দখলের অভিযোগ এসেছে। কলকাতার কিছু এলাকাতেও মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনা সামনে এসেছে। শহরের শান্তি বজায় রাখতে এবং গুজব রুখতে পুলিশ এই সতর্কবার্তা জারি করেছে।
31 shares
😢
A
AajKaal News
May 5, 2026, 12:37 PM
নির্বাচনের ফলাফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ির চারপাশে নিরাপত্তা বলয় শিথিল করা হয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ির চারপাশে নিরাপত্তা বলয় শিথিল করা হয়েছে।

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির পৈতৃক বাড়ি এখানেই। যেখানে থেকেই মমতার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। মুখ্যমন্ত্রী হলেও, এই বাড়ি ছেড়ে যাননি। এমনকী বাড়িতেও বিশেষ বদল হয়নি। তবে ছিল আঁটসাঁট নিরাপত্তা। সেই নিরাপত্তার বলয় এবার সরল। ছুড়ে ফেলে দেওয়া হোক মমতাকে: হিমন্ত হেরেও ইস্তফায় 'না' মমতার! এরপর কী হবে? ৪ মে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। ৫ মে সকালে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতা ব্যানার্জির বাড়ির সামনে থেকে সরে গেল গার্ডরেল। বলা ভাল, নিরাপত্তা বলয়ও ঢিলে হল‌। গার্ডরেল উঠে যাওয়ায়, ওই রাস্তায় এখন অবাধ যাতায়াত। ওই রাস্তায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে আর কোনও বাধা নেই আজ থেকে। যদিও মমতার বাড়ির গলির মুখে পুলিশি নিরাপত্তা বজায় রয়েছে। ২০১১ সালে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি মমতা ব্যানার্জি দখল করলেও, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে কোনও গার্ডরেল ছিল না। ২০১৬ সালের পর সেই এলাকায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়। তৃণমূল সুপ্রিমোর বাড়ির সামনেই গার্ডরেল বসানো হয়। ওই এলাকায় অবাধ যাতায়াতেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। এলাকার বাসিন্দারা পুলিশের কাছে কারণ জানিয়ে গার্ডরেল পেরোনোর অনুমতি পেতেন। বাইরের কেউ ঢুকতে চাইলে, পুলিশকে সুস্পষ্ট কারণ জানিয়ে ঢুকতে পারতেন। ভবানীপুরের 'ঘরের মেয়ে' মমতা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হেরে গিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। যদিও মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা সাফ জানিয়েছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। প্রত্যাবর্তন নয়, পরিবর্তন এল বাংলায়। মঙ্গলবারেও উদযাপন এখনও জারি। জেলায় জেলায় গেরুয়া আবির খেলা যেমন চলছে, খাস কালীঘাটেও তার অন্যথা হল না। কালীঘাটেও তুমুল উদযাপনে মেতে উঠেছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী, সমর্থকরা। দুই শতাধিক আসনে জয়ী হওয়ার পর এবার কালীঘাটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির অফিসের পাশেই বিজেপির স্থায়ী অফিস গড়ে উঠল। সেখানেই রীতিমতো উৎসবের আমেজ। গান বাজিয়ে চলছে নাচানাচি। পাশাপাশি স্লোগানেও মেতে উঠেছে এলাকা। কালীঘাটে অভিষেকের অফিসের পাশে বিজেপির অফিসের পাশে গেরুয়া আবির খেলা চলছে। জয়ের উৎসবের উদযাপন চোখে পড়ার মতো। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিজেপির কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
88 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 12:25 PM
শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশের বিরোধিতা করা মামলাকারীদের তিরস্কার সুপ্রিম কোর্টের

শবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশের বিরোধিতা করা মামলাকারীদের তিরস্কার সুপ্রিম কোর্টের

যে মামলার প্রেক্ষিতে ৮ বছর আগে কেরালার শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সি মহিলাদের প্রবেশে ছাড়পত্র দিয়ে রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, সেই মামলার মূল মামলাকারীই এ বার বিচারপতিদের প্রশ্নবাণে বিদ্ধ। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন শীর্ষ আদালতের ৯ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ মামলাকারীকে ভর্ৎসনা করে বলল, খ্যাতি-প্রচার পেতেই কি সেই সময়ে জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছিল?শবরীমালা মন্দিরে সব বয়সি মহিলাদের প্রবেশে অনুমতি চেয়ে মূল মামলাটি করেছিল আইনজীবীদের একটি সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান ইয়ং লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন’। ২০১৮ সালে সেই মামলায় রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পরে তা নিয়ে আপত্তি তুলে বহু পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা পড়ে সুপ্রিম কোর্ট। এখন সেই সব আবেদন নিয়েই শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চে। বিভিন্ন পক্ষ তাদের অবস্থান শীর্ষ আদালতের সামনে তুলে ধরছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারও শবরীমালা মন্দিরে ঋতুযোগ্য নারীদের প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছে।এই রায় পুনর্বিবেচনার মামলায় মামলাকারী আইনজীবীদের সংগঠনের উদ্দেশে মঙ্গলবার বিচারপতি বিভি নাগারত্ন বলেন, ‘আপনারা কারা? শবরীমালা মন্দিরের বিষয়টি নিয়ে আপনারা এত কেন চিন্তিত? দয়া করে আমাদের বলুন।’ সংগঠনের আইনজীবী বলেন, ‘আমি ঈশ্বরে বিশ্বাসী।’ পাল্টা প্রধান বিচারপতি কান্ত প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি দেশের প্রধান পুরোহিত?’ বিচারপতি নাগারত্নও প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা এত বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত কেন? নিজেদের কাজে মন দিন।’আইনজীবীদের সংগঠনের তরফে কেন শবরীমালা মন্দিরের মামলা করা হয়েছিল, তা-ও জানতে চান বিচারপতিরা। বিচারপতি নাগারত্নই মামলাকারীর কাছে জানতে চান, ‘আমরা শুধু জানতে চাই, আপনারা ঠিক কী কারণে ওই জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন? আপনারা কী চেয়েছিলেন? এই মামলা করে কী ভালো হলো?’জবাবে মামলাকারী সংগঠনের আইনজীবী বলেন, ‘প্রথমে আমি একজন মহিলা। তার পর আমি একজন হিন্দু। তার পর বাকি সব। আমার নারীত্বকে আক্রমণ করা হয়েছে। আর আপনারা ভগবান আয়াপ্পার নামে কথা বলছেন? যে ভগবান আয়াপ্পা তরুণীদের পছন্দ করেন না?’ পাল্টা বিচারপতি নাগারত্ন বলেন, ‘ইয়ং লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের কি আর কোনও কাজ নেই? তারা কি এই দেশের বার অ্যাসোসিয়েশনের জন্য কাজ করতে পারে না? আইনি ব্যবস্থাকে সাহায্য করার জন্য কাজ করতে পারে না?’ আইনজীবী জবাব দেন, ‘কত তো জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়!’ তার প্রেক্ষিতে বিচারপতি নাগারত্নও বলেন, ‘বারের জন্য কাজ করুন, তরুণ আইনজীবীদের জন্য কাজ করুন, তাঁদের কল্যাণের জন্য কিছু করুন; দেশের গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা যে সব তরুণ লড়াই করছেন, যাঁদের শহরে এসে মামলা লড়ার সামর্থ্য বা সুযোগটুকু পর্যন্ত নেই, অথচ তাঁরা অত্যন্ত মেধাবী, সুপ্রিম কোর্টে এসে এই ধরনের কাজ করার চেয়ে, বরং সেই সব মেধাবী তরুণের জন্য কাজ করুন!’
70 shares
😐
A
AajKaal News
May 5, 2026, 12:16 PM
ভোট কারচুপির অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজয়ের দাবি

ভোট কারচুপির অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজয়ের দাবি

আজকাল ওয়েবডেস্ক:সোমবার বেলা গড়িয়ে তখন বিকেল, তৃণমূল সাম্রাজ্যের পতন তখন অবশ্যম্ভাবী। এই পরিস্থিতিতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল ভোট গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যান মমতা, ছিলেন সন্ধে পর্যন্ত। তার মাঝেই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। দাবি করেন, ভোট ‘লুট’ করা হয়েছে এবং তাঁকে ‘জোর করে’ হারানো হয়েছে। মঙ্গলবার বেলাতেও একই অভিযোগে অনড় তিনি। গণনাকে কেন্দ্র করে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জির অভিযোগ 'ভিত্তিহীন' ও 'মিথ্যা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার ডিইও। এক বিবৃতিতে ডিইও জানিয়েছেন, 'আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে ১৫৯-ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর উত্থাপিত সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। ভারতের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত এবং সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও প্রবিধান অনুযায়ী আবশ্যক সমস্ত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অত্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে।' ছুড়ে ফেলে দেওয়া হোক মমতাকে: হিমন্ত হেরেও ইস্তফায় 'না' মমতার! এরপর কী হবে? গণনার কেন্দ্রের মধ্যে তাঁকে মারধর করাও হয়েছে বলেও সাখাওয়াতে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেছিলেন মমতা। মঙ্গলবার তিনি বলেন, "মমতার আরও অভিযোগ জানান, ‘‌কাউন্টিং থেকে আমাকে মারতে মারতে বের করা হয়েছে। যেভাবে আমার উপর অত্যাচার হয়েছে, একজন মহিলা হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আমি ধারণা করতে পারি। প্রথমে আমার গাড়ি থামানো হয়, পরে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।" শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, "‌পেটে লাথি, পিঠে ধাক্কা মারা হয়েছে। হিস্ট্রি উইল রিপিট। উই উইল বাউন্স ব্যাক।" সেই প্রসঙ্গে ডিইও-র বিবৃতিতে উল্লেখ, 'সিসিটিভি ক্যামেরা কখনওই বন্ধ করা হয়নি; তাছাড়া তৃণমূল প্রার্থী এবং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং নিছকই মনগড়া।' মমতা ব্যানার্জির গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ দিন ডিইও বলেন, "গণনা প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল, কারণ তিনি নিজেই তা থামিয়ে দেওয়ার জন্য জোর দিয়েছিলেন; তবে পরবর্তীতে নির্দেশিকা অনুযায়ী তাঁকে অবহিত করে গণনা পুনরায় শুরু করা হয়।"
15 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 12:00 PM
বাংলায় আরএসএস-বিজেপি বাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে, বিজয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে কারচুপি করছে

বাংলায় আরএসএস-বিজেপি বাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে, বিজয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে কারচুপি করছে

অবশেষে বাংলার মানুষের বুকে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে থাকা চরম দুর্নীতিগ্রস্ত, তোলাবাজি, স্বৈরাচারী সরকারের অবসান হলো। সেই জায়গায় এল ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক, বিদ্বেষ-বিভাজনের এবং গণতন্ত্রহরণকারী শক্তি আরএসএস-বিজেপি। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ’র নেতৃত্বে গোটা কেন্দ্রীয় শাসক বাহিনী ক্ষমতা দখলের জন্য সব রকম আঁটঘাট বেঁধে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। একদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি-সিবিআই-কে নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল অন্যদিকে শাসক দলের স্বার্থে নগ্নভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বানের জলের মতো টাকা ঢালা হয়েছিল ভোট প্রচারে এবং ভোট সংগ্রহের নানা কৌশলে। সরাসরি সাম্প্রদায়িক প্রচার অগ্রাধিকার দিয়ে হিন্দুদের একজোট করার চেষ্টা হয়েছিল মুসলিমদের বিরুদ্ধে। চরম ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে ধর্মীয় বিভাজনকে বিপজ্জনক সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবার চেষ্টা হয়েছিল।একাজে তারা নিঃসন্দেহে অনেকটাই সফল। মানুষ জীবন-জীবিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলিকে পাশে সরিয়ে রেখে বিদ্বেষ-বিভাজনের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে আস্থা রেখেছেন হয়তো এইভাবে যে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া জঙ্গলের থেকে আপাতত স্বস্তি দেবে বিজেপি। শেষ পর্যন্ত তাদের এই সিদ্ধান্ত তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত আগুনে ঝাঁপ দেবার শামিল হলো কিনা উত্তর মিলবে ভবিষ্যতে।তবে সরকার বদলের এই তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচনে ঘটে গেছে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাও। বিধানসভা এবার বামশূন্য থাকছে না। শুধু তাই নয় ভোট প্রাপ্তির নিরিখেও বামেদের ভোটের হার অনেকটাই বেড়েছে। অর্থাৎ ঘুরে দাঁড়ানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে এই নির্বাচন থেকে। গত এক দশক ধরে তৃণমূল বিজেপি’র দ্বিদলীয় তত্ত্বের চাপিয়ে দেওয়া আবহে বিকল্প বাম শক্তির উত্থান সম্ভাবনাকে নির্মূল করে দেবার মরিয়া প্রয়াস চালানো হয়েছে। এই নির্বাচনে সেই বাইনারিও কার্যত ভেঙে পড়েছে।আগামীদিনে আরএসএস-বিজেপি’র সরকারের প্রতিটি জনস্বার্থ বিরোধী নীতিও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে থাকবে সিপিআই(এম ) তথা বামপন্থী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, বাক্‌-স্বাধীনতার উপর যখনই আঘাত আসবে ঢাল হয়ে দাঁড়াবে বামশক্তি। গণতান্ত্রিক শাসন, গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হলেই প্রতিবাদ আন্দোলনে রাস্তায় নামবে বামেরা। সর্বোপরি দলিত, আদিবাসী, মহিলাদের স্বার্থ রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা নেবে। কৃষকের ফসলের দাম, কর্মহীনদের কাজ, ন্যায্য মজুরির লড়াই শুরু হবে নতুন করে। মোদী-শাহ এবং অন্য নে‍‌তারা যত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা পালিত না হলে কাঠগড়ায় তোলা হবে। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহ সামগ্রিক পণ্য মূলবৃদ্ধি ঠেকা‍‌নোর দায় যদি নতুন সরকার না নেয় সোচ্চার হবে বামপন্থীরা। ধর্মান্ধতা বিদ্বেষ-বিভাজনের আড়ালে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রকৃত সঙ্কট চাপা দেবার ষড়যন্ত্রকেও উন্মোচিত করবে বামেরা।এতদিন বামেদের লড়াই ছিল একদিকে আদর্শহীন দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের বিরুদ্ধে, অন্যদিকে মনুবাদী হিন্দুত্বের আদর্শে পরিচালিত সাম্প্রদায়িক, কর্পোরেট আঁতাতের লুটতরাজের বিরুদ্ধে। এবার বামেদের আসল লড়াই শুরু চরম দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ত শক্তির বিরুদ্ধে।
9 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:53 AM
ভারতীয় বিধানসভা নির্বাচনঃ ডানপন্থী শক্তিগুলির সাফল্যে মিশ্র ফলাফল

ভারতীয় বিধানসভা নির্বাচনঃ ডানপন্থী শক্তিগুলির সাফল্যে মিশ্র ফলাফল

কেমন হলো চার রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলাফল? নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট হয়ে যায়, একদিকে দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িক শক্তির আগ্রাসন আরও ভয়ঙ্করভাবে যেমন থাবা বসাচ্ছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক স্তরে শাসকবিরোধী মনোভাবও নানা ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তামিলনাডুতে ডিএমকে’র পরাজয়ে আরেক আঞ্চলিক দল টিভিকে’র উত্থানই সেকথা প্রমাণ করে। তবে ব্যতিক্রম সেখানে কেরালা। ওই রাজ্যে ১০ বছর পর পালাবদল হলেও এলডিএফ’র জায়গায় ক্ষমতায় এসেছে সেই ইউডিএফ। সাম্প্রদায়িক বিজেপি যদিও দাঁত ফোটাতে পারেনি ওই দু’রাজ্যে। আসামে বিজেপি তার ক্ষমতা ধরে রাখলো উগ্র হিন্দুত্বের প্রচার চালিয়েই। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ফল অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের ফল। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটে কুর্সিতে বসতে চলেছে বিজেপি। তবে জয় যতটা না কৃতিত্ব বিজেপি’র, তার থেকেও তৃণমূল কংগ্রেসের অপশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধেই জনাদেশ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।আরেক একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে, এবারের বিধানসভা ভোট হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা এবং তামিলনাডুর ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর। ওই তিন রাজ্যেই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যায় এসআইআর’র ফলে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৭ লক্ষ বৈধ ভোটার ভোট দিতে পারেননি এবারের নিবার্চনে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেন্সি’র খাড়া ঝুলে থাকায়। সুপ্রিম কোর্টের রায় সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন সেই বৈধ ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারেনি। পুরো বিষয়টি বিচারপতিদের উপর ন্যস্ত হওয়ায় স্বল্প সময়ে সেই ভোটারদের ‘লজিক্যাল ডিসক্রেন্সি’র গেঁরো থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতি অবশ্য কেরালা কিংবা তামিলনাডুর ক্ষেত্রে হয়নি।কেরালায় ইউডিএফ ১৪০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ৮৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। এলডিএফ পেয়েছে ৩৫টি আসন। গত ভোটে একটি আসন না পেলেও এবার তিনটে আসন জিততে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। তবে কেরালার ক্ষেত্রে এলডিএফ সরকারের পরাজয়কে সরলীকৃতভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। টানা দশ বছরের শাসনে এলডিএফ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গণবণ্টন ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা পেনশন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্য কেরালা যেখানে সরকারের প্রচেষ্টায় সম্পর্ণভাবে দারিদ্র দূরীকরণ সম্ভব হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেরালার মডেল আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসিত হয়। এরই পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক আর্থিক বঞ্চনা, জিএসটি ক্ষতিপূরণে অনিয়ম, ঋণগ্রহণে বাধা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনুদান কমিয়ে দেওয়া—রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করে। অবশ্য এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় স্তরে কিছু প্রশাসনিক অসন্তোষ, বিরোধীদের অপপ্রচার এবং বিশেষ করে কেরালার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের স্বাভাবিক মানসিকতা। ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন ঘটেছে।তামিলনাডুতে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের ধাক্কা এবং অভিনেতা বিজয়ের দু’বছর আগে তৈরি করা দল টিভিকে’র উত্থান আঞ্চলিক রাজনীতির পরিবর্তনশীল চরিত্রকেই সামনে এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে ডিএমকে এবং এডিএমকে’র মতো দুই প্রধান শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান জনমানসে বিকল্পের অনুসন্ধানকে প্রকাশ করে। চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই রাজনৈতিক শক্তি মূলত যুবসমাজের একাংশকে আকৃষ্ট করেছে, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে সরকার গড়ার মতো শক্তি অর্জন করতে পারেনি টিভিকে। একক গরিষ্ঠতা পেলেও তাদের অন্য কোনও শক্তির উপর নির্ভর করতে হবে সরকার গঠন করতে হলে। এবারের ভোটে ২৩৪ আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৭, ডিএমকে ৭৪ এবং এডিএমকে ৫২টি আসন পেয়েছে।আসামে বিজেপি’র পুনরায় জয়লাভ পুরোপুরি ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি, নাগরিকত্ব প্রশ্ন এবং আঞ্চলিক আবেগকে ব্যবহার করার ফল। রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ থাকলেও বিদ্বেষ আর ধর্মীয় উসকানি দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হলেন হিমন্তবিশ্ব। আসামে বিজেপি ১০২টি এবং কংগ্রেস ২১টি আসন পেয়েছে। গতবারের থেকেও শক্তি বাড়িয়েছে বিজেপি। একইভাবে পুদুচেরিতে এনআর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বজায় রেখে ক্ষমতা ধরে রাখল বিজেপি।পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বেকারত্ব, গ্রামীণ অর্থনীতির স্থবিরতা এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারের অভিযোগে জনঅসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বিপুল অর্থব্যয়, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং লাগাতার প্রচারযুদ্ধ চালায়। নির্বাচন কমিশন সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়। বিজেপি ২০০-র বেশি আসন পাওয়ার নেপথ্যে তৃণমূল সরকার বিরোধী তীব্র অসন্তোষই কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবুও লক্ষণীয়, এই তীব্র মেরুকরণের মাঝেও বামপন্থী শক্তির ভোট ও সংগঠনে কিছু পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।এই সমস্ত ফলাফল একত্রে বিচার করলে স্পষ্ট হয় যে দেশে একদিকে ডানপন্থী শক্তির প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী শক্তিগুলির মধ্যে ঐক্যের অভাব এবং বিকল্প রাজনৈতিক বয়ানের দুর্বলতা তাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের পক্ষে অশনি সঙ্কেত।
18 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 11:51 AM
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টি. ভি. কে-র শোচনীয় জয়

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টি. ভি. কে-র শোচনীয় জয়

এ যেন ক্রিকেট ম্যাচের ক্লাইম্যাক্স। মাত্র এক রান যেমন বদলে দিতে পারে ম্যাচের রেজ়াল্ট। তেমনি মাত্র এক ভোটে বদলে গেল রাজ্যের এক মন্ত্রীর ভবিষ্যৎ। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে একের পর এক অভাবনীয় ঘটনা। ঐতিহাসিক নজির গড়ে প্রথম বার নির্বাচনে নেমেই সবচেয়ে বেশি আসনে জিতল থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেত্তরি কাজ়হাগাম’। একইসঙ্গে মাত্র এক ভোটে ডিএমকে মন্ত্রী কে আর পেরিয়াকারুপ্পানের গদি উল্টে তিরুপ্পাত্তুর বিধানসভা কেন্দ্র জিতে নিলেন TVK-র প্রার্থী শ্রীনিবাস সেতুপতি। নির্বাচনী রাজনীতির ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে কি না মনে করতে পারছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।তিরুপ্পাত্তুর কেন্দ্রের এই ফলাফল ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কারণ এত কম ব্যবধানে হার বিরল ঘটনা। এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মুখ ছিলেন পেরিয়াকারুপ্পন। বহু বছর ধরে তিরুপ্পাত্তুর কেন্দ্র থেকেই নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন তামিলাড়ুর সমবায় মন্ত্রী। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ছিল খুবই বেশি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তাঁকে টক্কর দেন Tamilaga Vettri Kazhagam-এর প্রার্থী, যিনি শেষ পর্যন্ত এক ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান এতটাই কম যে, পুনর্গণনার দাবি তোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।ভোটগণনার সময় নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষের আগের রাউন্ড পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন পেরিয়াকারুপ্পন। কিন্তু শেষ রাউন্ডে ভোটের হিসাব বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পিছিয়ে পড়েন। চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, গণনা শেষে TVK-র সেতুপতি ৮৩,৩৭৫ ভোট পেয়ে DMK নেতাকে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।এই ঘটনার সবচেয়ে চর্চিত দিক হলো একজন প্রবাসী ভোটারের ভূমিকা। তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা জেলার বাসিন্দা মনিকন্দন শিবানান্থম। কর্মসূত্রে থাকেন ওমানের মাসকটে। সুদূর ওমান থেকে তিনি এ বার নিজের রাজ্যে ভোট দিতে ফিরেছিলেন। সোমবার ফল বেরোনোর পর উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন তাঁর ভোটেই জিতেছেন TVK প্রার্থী শ্রীনিবাস সেতুপতি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একটি ভোট এই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সত্যিই মনিকন্দন ওমান থেকে ফিরে সেতুপতিকে ভোট না দিলে ফল হয়তো অন্যরকম হতো। সব মিলিয়ে, তিরুপ্পত্তুর কেন্দ্রের এই ফলাফল প্রমাণ করে দিয়েছে— গণতন্ত্রে কোনও ভোটই ছোট নয়। প্রতিটি ভোটের মূল্য আছে, এবং সেই একটিমাত্র ভোটই কখনও কখনও ইতিহাস তৈরি করতে পারে।
35 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:50 AM
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এজেন্ট?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এজেন্ট?

তিনিই ডেকে এনেছিলেন এরাজ্যে বিজেপিকে। সেই সাম্প্রদায়িক বিজেপি, আরএসএস-এর হাতে বাংলাকে তুলে দিয়ে বিদায় নিলেন রাজ্যের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।তাঁর নামের পাশে কোনও শিল্প গড়ার প্রচেষ্টাকারীর সার্টিফিকেট থাকবে না। তাঁকে কোনও বক্রেশ্বর, হলদিয়ার জন্য মনে রাখবে না আগামী। মমতা ব্যানার্জিকে রাজ্যে বিজেপি-র এজেন্ট হিসাবেই বিবেচনা করবে ইতিহাস।ইতিহাসের কী আশ্চর্য পরিহাস। কালীঘাট রোডের সেই রাস্তা, মরনাপন্ন আদি গঙ্গার উপরের ছোট ব্রিজ একই রকম আছে। মমতা ব্যানার্জির বাড়ির গলি যেখানে এসে মিশেছে কালীঘাট রোডে, তার ঠিক উলটো দিকে গুপ্তা স্টোরস। সেই পবিড়ি, সিগারেটের দোকানও কিছুটা একই রকম ছিল। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে এক প্রৌঢ় মনে করিয়ে দিলেন প্রায় ২৬ বছর আগের এক বিকালের কথা। বললেন,‘‘সেদিন অটলবিহারী এসেছিলেন ওর(মমতা ব্যানার্জি) বাড়িতে। কত লোক। গলি, রাস্তা গিজগিজ করছে। পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। সেদিন অটলবিহারী ওদের বাড়িতে মালপোয়া খেয়েছিলেন।’’ওই প্রৌঢ়র বাড়ি পাশের গলিতে, মন্দিরের দিকে। সেদিন তিনিও প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়েছিলেন, সোমবার যেখানে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু পার্থক্য কোথায়? এখন মমতা ব্যানার্জির বাড়ির গলির মুখ ঘিরে গার্ডরেল। সোমবারও তা ছিল। গার্ডরেলের আশেপাশে কলকাতা পুলিশের কর্মীরা ছিলেন যথারীতি দায়িত্বে, পাহারায়। কিন্তু রাস্তার পাশে তৃণমূলের কোনও কর্মী ছিলেন না। গার্ডরেলের ওপারে আর পাশের পটুয়া পাড়ার গলিতে এদিক ওদিক তৃণমূলের দলের কর্মীদের ছোটখাটো জটলা ছিল। শুধু উত্তাল ছিল অনেকগুলি বাইক, গাড়ি। তাতে চড়ে অটলবিহারী বাজপেয়ীর দলের কর্মীরা ‘জয় শ্রীরাম’ বলে চিৎকার করতে করতে যাতায়াত করছিল গোপালনগর মোড় থেকে হাজরা মোড়ের দিকে। তারা আবার ফিরছিল। যে পুলিশকে মমতা ব্যানার্জি ২০১২-র বইমেলায় বলেছিলেন ‘আপনাদের চাবকানো উচিত’, তাঁরই সহকর্মীরা ঠোঁটে মৃদু হাসি ঝুলিয়ে উৎফুল্ল বিজেপি কর্মীদের যাওয়া আসা দেখছিলেন।হরিশ চ্যাটার্জি রোডের মুখে ঠায় দাঁড়ানো গাছটায় টাঙানো তৃণমূলের ফেস্টুনেই শুধু মমতা ব্যানার্জির মুখে হাসি। না, পুরোপুরি ঠিক হলো না। মমতা ব্যানার্জির বাড়ির পাশের সেই পটুয়া পাড়ার গলিতে একটু এগলেই ‘ভবানীপুর সরস্বতী স্পোর্টিং ক্লাব।’ সেই ক্লাবের পক্ষ থেকে রাস্তায় চার-পাঁচটি লম্বা গোছের প্ল্যাকার্ড ঝোলানো হয়েছিল। সেগুলি সোমবার সন্ধ্যাতেও ছিল। সেই প্ল্যাকার্ডে মমতা ব্যানার্জির হাসি হাসি মুখের ছবির নিচে লেখা ছিল ‘৪র্থ বারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য আগাম অভিনন্দন।’ ক্লাবঘরের টিভিতে চোখ রেখে দশ-বারো জন যুবক বসে ছিল ‘মিরাকল’-এর আশায়। ‘৪র্থ বারের মুখ্যমন্ত্রী’র সম্ভাবনা তখন তলিয়ে যাচ্ছিল সাখোয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভিতর। মমতা ছুটে গেছিলেন। হয়তো শেষ রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর হয়তো তখনও ভরসা ছিল যে, যেভাবে নিজের উপস্থিতিতে ভবানীপুর থানা থেকে দলের কর্মীকে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার কিছুদিনের মধ্যে, এদিনও নিশ্চিত পরাজয় থেকে নিজেকে নিজেই কেড়ে আনবেন।কিন্তু মমতা হেরে গেলেন। ব্যর্থ মমতা হারের নিশ্চিত গতি দেখে রাত সাড়ে ৭টা নাগাদ ফিরে এলেন সেই বাড়িতে, যেখানে নাকি তাঁর মাথার দিকে শিব রয়েছেন। তিনি কত বড় হিন্দু তা প্রমাণ করতে এই দাবি তিনি করেছিলেন ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শবাহী সংবিধানকে সাক্ষী মেনে চলা বিদানসভায়।কিন্তু ‘শিব’-এর অধিকার যাদের তাঁর থেকে অনেক বেশি, তাঁদের কাছেই তাঁকে রেকর্ড হার মানতে হলো। তিনিই পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি পরপর দু’বার বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হলেন। প্রথমবার নন্দীগ্রামে, ২০২১-এ। দ্বিতীয়বার সোমবার, ভবানীপুরে। তিনিই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি উপনির্বাচন ছাড়া জিততে পারেননি। নন্দীগ্রামে হেরেছিলেন ১৯৩৬ ভোটে। ভবানীপুরে, নিজের পাড়ায় তাঁকে ১৫,১০৫ ভোটে হারিয়ে দিলেন সেই শুভেন্দু অধিকারী।কোন্‌ শুভেন্দু অধিকারী? যাঁর সঙ্গে মিলে নন্দীগ্রামে তিনি শুরু করেছিলেন সাম্প্রদায়িক খেলা। ‘সিপিএম বেছে বেছে মুসলমানদের জমি কেড়ে নিচ্ছে’, এই প্রচার শুরু ২০০৭-এর নন্দীগ্রামে। এই প্রচারের স্রষ্টা মমতা-শুভেন্দু। নন্দীগ্রামেই মাওবাদীদের সঙ্গে তৃণমূল-বিজেপি’র সরাসরি জোট। নন্দীগ্রামেই সিপিআই(এম)-কে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উৎখাতের ‘রাস্তা কাটা’ মডেল শুরু। গত দেড় দশকে বামপন্থীদের মেরে, গ্রাম ছাড়া করে, মিথ্যা কেস দিয়ে, গ্রেপ্তার করিয়ে দুর্বল করেছে মমতা ব্যানার্জির দলবল। বামপন্থীদের দুর্বল করে বিজেপি’র রাস্তা চওড়া করেছেন মমতা ব্যানার্জি।সেই সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতেই রাজ্যকে তুলে দিয়ে বিদায় নিলেন তিনি। মমতা এখন বৃদ্ধা, শরীর খারাপ। তাঁর যাবতীয় শক্তি করায়ত্ত করে বসেছে তাঁরই ভাইপো। সেই ভাইপো এদিন বিকালেই হেস্টিংস ভবনে ঢুকতে গিয়ে তাড়া খেয়েছেন বিজেপি কর্মীদের। অশ্রাব্য গালিগালাজ পেরিয়ে যদিও বা ‘যুবরাজ’ কিছুটা ঢুকেছিলেন, কিন্তু কমিশনের আধিকারিকরা পত্রপাঠ তাঁকে প্রায় তাড়িয়ে দিয়েছেন গণনা কেন্দ্র থেকে। কারন তার সেখানে যাওয়া বেআইনি। অভিষেক সোজা তাঁর বহুমূল্যবান গাড়ি থামিয়েছেন কালীঘাট মন্দিরের গেটের উলটো দিকে বিরাট অফিসের সামনে। নেমে সোজা সেই অফিসে সেধিয়েছেন, আর বেরোননি।মমতা ব্যানার্জি এদিন নিষ্ফল আক্রোশে দাবি করেছেন যে, ১০০টি গণনা কেন্দ্র বিজেপি লুট করেছে। অথচ ১৯৯৭-এর ১৬ ডিসেম্বর এই তিনিই সাংবাদিকদের বলেছিলেন,‘‘তৃণমূল কংগ্রেসের আসল লক্ষ্য যাবতীয় সিপিআই(এম) বিরোধী শক্তিকে এক জায়গায় জড়ো করা। বাংলা বাঁচাও ফ্রন্ট খোলা হচ্ছে সেই কারনেই। সিপিআই(এম) বিরোধী সব রাজনৈতিক গোষ্ঠীকেই আমরা এই ফ্রন্টে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’’ আর সাম্প্রদায়িকতা? সেদিন সদ্য জাল ড. ডিগ্রি ঝেড়ে ফেলা মমতা ব্যানার্জি সেদিন বিজ্ঞর মতো জানিয়েছিলেন,‘‘ধর্মনিরপেক্ষতা নন-ইস্যু। বিজেপি অচ্ছুৎ নয়। এত লোক ওদের ভোট দিচ্ছে।’’আজও বিজেপি অনেক ভোট পেয়েছে। ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জি স্রেফ উড়ে গেছেন। আর? বাংলার রাজনীতিতে দিনের পর দিন বিজেপির পথে হেঁটে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’কে ‘নন-ইস্যু’ বানিয়ে দিয়ে গেলেন তিনিই।তাঁর সবচেয়ে বড় অপরাধ, যার জন্য বাংলাকে ভুগতে হবে— দায়ী থাকবেন তিনি, মমতা ব্যানার্জি এবং তাঁর নীতিহীন একদল নেতা, কর্মী।
48 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:50 AM
পাঁচ রাজ্যে বিজেপির জয় উদযাপন মোদীর

পাঁচ রাজ্যে বিজেপির জয় উদযাপন মোদীর

- পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে সোমবার যথারীতি নয়াদিল্লিতে দলের সদর দপ্তরে এসে বিজয়োল্লাসে মাতলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপি নেতা, কর্মীরা। সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ, দলের সভাপতি নীতীন নবীন সহ অন্যরা। পশ্চিমবঙ্গে জয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস ছিল মোদী সহ অন্যদের। প্রধানমন্ত্রী সাদা পাঞ্জাবী এবং ধাক্কা পাড়ের কোরা ধুতি পরে ‘বাঙালি’ সেজে আসেন। দুই-একটা কথা তাঁর বহুচর্চিত বাংলাতেও বলেন। ভাষণে বাংলায় বিজেপি’র জয়কে ঐতিহাসিক, অভূতপূর্ব বলে বর্ণনা করেন। বাংলার মানুষ ভয়, তুষ্টিকরণ এবং হিংসাকে মূল থেকে উপড়ে ফেলেছেন বলে ভাষণে জানান। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র জয়ে শামাপ্রসাদের আত্মা শান্তি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন। কিন্তু এদিন তাঁর বক্তব্যের মূল মতাদর্শগত আক্রমণের লক্ষ্য ছিল কমিউনিস্টরাই।মোদী তাঁর ভাষণে কেরালায় সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন এলডিএফ’র পরাজয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘‘ভারতের রাজনীতিতে আজ আরও একটি পরিবর্তন হয়েছে। আজ দেশে একটিও রাজ্য নেই, যেখানে কমিউনিস্ট পার্টির সরকার আছে। একটাও নেই।’’ মোদী বলেন, ‘‘এটা শুধু একটা ক্ষমতার বদল নয়, ভাবনার বদল। এটা দেখায় বিকশিত হতে থাকা ভারত কোন দিশায় আগে চলতে চায়।’’ এখানেই না থেমে মোদী মাওবাদীদের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন এক্ষেত্রে এবং তার সঙ্গে কংগ্রেসকে জুড়েছেন। মোদী বলেছেন, মাওবাদীরা জঙ্গল থেকে শেষ হয়ে কংগ্রেসে শিকড় গাঁড়ছে। কংগ্রেসের মধ্যে আরবান নকশালদের গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।মোদী এদিন তাঁর ভাষণের অনেকটাই পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বলেছেন। কিন্তু তার মধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাদের মনোভাব। মোদী বলেছেন, আজ থেকে বাংলার ভবিষ্যতের এমন যাত্রা শুরু হলো উন্নয়ন এবং নতুন আশা পায়ে পা মিলিয়ে চলে। আমি আজ প্রতিটি বাংলাবাসীকে ভরসা দিচ্ছি তাদের উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপি দিনরাত এক করে দেবে। বাংলায় এখন মহিলাদের সম্মান মিলবে। যুবরা রোজগার পাবে। পরিযায়ী হতে হবে না এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে এদিন বাংলার সাংস্কৃতিক পরিসরেও জুড়তে চেয়েছেন। এই জয়ে নাকি বঙ্কিমচন্দ্রকে, যোগীরাজ অরবিন্দকেও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাঙলার মানুষ। এরপরে রবীন্দ্রনাথকেও টেনে এনেছেন মোদী। পঁচিশে বৈশাখ আসন্ন বলে উল্লেখ করে চিত্ত জেতা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শিরের কথা টেনে বলেছেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ভয়মুক্ত বাতাবরণ তৈরি করে দেখাবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি। তিনি স্লোগান দিয়ে বলেন, বদলা নয়, বদল হবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে নিয়েও বক্তৃতায় মোদী বেশ কিছুক্ষণ বলেছেন। পরিচিত ঢঙেই এক্ষেত্রে নিজেদের মন মত ইতিহাস গড়ে নিয়ে বলেছেন, ড. মুখার্জি পশ্চিমবাংলাকে ভারতের অংশ বানানোর জন্য বড় লড়াই করেছিলেন। তিনি যে সশক্ত এবং সমৃদ্ধ বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যে স্বপ্ন অনেক দশক ধরে পূরণ করার অপেক্ষা করছিলেন, আজ বাংলার জনগণ বিজেপি’র কার্যকর্তাদের সেই কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আজ থেকে একটি নতুন অধ্যায় জুড়ে গেছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হয়ে গেল। বিকাশের ভরসায় যুক্ত হয়ে গেল। মোদী এদিন দাবি করেছেন, বিরোধী দলগুলি মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে দেননি বলেই নাকি মহিলারা তাদের হারিয়ে দিয়েছেন। কেরালা, তামিলনাডু, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, তৃণমূল সেই জন্যেই হেরেছে। এরপরে সামনে বছর একই কারণে সমাজবাদী পার্টিও হারবে।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এদিন বলেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের পৃষ্ঠপোষকদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। শাহ পশ্চিমবঙ্গবাসীকে প্রণাম জানিয়ে লিখেছেন, এই বিপুল জনাদেশ ভয়, তোষণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষকদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের জোরালো জবাব। প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি ভরসার জয় বলেও এক্সে লিখেছেন শাহ। এদিন মোদী আসার আগেই বিজয় সমাবেশে পৌঁছান অমিত শাহ। সেখানেও ভাষণে তিনি এই কথা বলেন।
98 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 11:45 AM
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খ্যাতি বৃদ্ধি এবং অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর অবিস্মরণীয় প্রথম সাক্ষাৎ

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খ্যাতি বৃদ্ধি এবং অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর অবিস্মরণীয় প্রথম সাক্ষাৎ

২০০৬ সালে প্রথম অভিনয় দুনিয়ায় পা রাখেন তিনি। এর পরে একাধিক পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় অভিনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ২০১৮ সালে ‘স্ত্রী’ ছবিতে অভিনয় করার পর থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচিতি পেতে শুরু করেন তিনি। বছর দুয়েক পরে ২০২০ সালে অনুষ্কা শর্মা প্রযোজিত ওটিটি সিরিজ় ‘পাতাললোক’-এ ‘হাতোড়া ত্যাগী’র ভূমিকা তাঁকে সবচেয়ে বেশি করে জনপ্রিয়তা দিয়েছিল। এর পরে বাঙালি এই অভিনেতা ‘সেকশন ৮৪’-এ কাজ করেছিলেন অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে। সেই ছবিতেই কাজ করতে গিয়ে অমিতাভের সঙ্গে তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ। যেখানে অমিতাভ নাকি অভিষেকের উপর হঠাৎ করেই খানিক রেগে গিয়েছিলেন।অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে দেখা করবেন বলে কথা। রীতিমতো হাত, পা কাঁপছিল অভিষেকের। তবু মনের জোরেই দেখা করতে যান অভিনেতা। প্রথম সাক্ষাতে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে গিয়েছিলেন অভিষেক। তাতেই নাকি রেগে যান বিগবি।অভিষেকের কথায়, ‘অমিতাভ বচ্চনকে সামনে থেকে দেখেছি, খুব স্বাভাবিক ভাবেই পায়ে হাত দিয়েছিলাম। তবে দেখলাম উনি খুব বিরক্ত হলেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কেন এমনটা করছো?’ আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। বড়দের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা তো আমাদের সংস্কৃতি। সেটা ভেবেই করেছি। কিন্তু পা ছুঁয়ে প্রণাম করলে আর কেউ সহ-অভিনেতা থাকেন না। এর ফলে কাজ করার আগেই যেন ঈশ্বরের আসনে বসানো হয়।’অমিতাভের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অভিষেক বুঝতে পেরেছেন, অভিনেতার জীবনে ছোট, বড়-র কোনও ভেদাভেদ নেই। একইসঙ্গে অমিতাভের সঙ্গে অভিনয় করা তাঁর জীবনের সেরা প্রাপ্তি বলেও মনে করেন অভিষেক। তাঁর কথায়, অমিতাভের মতো এমন পেশাদার মানুষ খুব কম দেখেছেন তিনি।
87 shares
😐
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:42 AM
প্রযুক্তি ও মানব অগ্রগতিঃ একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র

প্রযুক্তি ও মানব অগ্রগতিঃ একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র

সাত্যকি রায়একবিংশ শতাব্দীর সূচনায় পৃথিবীর উৎপাদন প্রক্রিয়া গভীরভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। মানুষ তার চারপাশের প্রকৃতিকে ক্রমাগত নিজের প্রয়োজনে পরিবর্তিত করেছে। মানব সভ্যতার অগ্রগতির ইতিহাস এই কারণে প্রযুক্তি বিকাশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মানুষ শ্রমসনজাত মেধার মধ্যে দিয়ে নতুন প্রযুক্তি সৃষ্টি করেছে কায়িক শ্রমকে প্রতিস্থাপিত করার জন্যই। প্রযুক্তির প্রয়োগের মধ্যে দিয়ে মানুষ তার কর্মদক্ষতাকে ক্রমাগত বাড়িয়ে তুলেছে। যে সমস্ত জিনিসপত্র সে অতীতে ব্যবহার করত তা অল্প সময় উৎপাদন করার যোগ্যতা অর্জন করেছে। কখনো বা সম্পূর্ণ নতুন জিনিস সৃষ্টি করেছে যার ব্যবহার অতীতে মানুষের জানা ছিল না। আবার প্রযুক্তি পুঁজির চক্রের সময় কালকে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে অথবা সংযোগের অন্যান্য খরচগুলিকে ক্রমাগত কমিয়ে এনে। প্রযুক্তির ব্যবহার সাধারণভাবে মানুষের সরাসরি শ্রমকে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে পরিচালিত হলেও তা সর্বদা বেকারত্ব তৈরি করবে এরকম কোনও কথা নেই। প্রাক আধুনিক যুগে রোম শহরে রাস্তাঘাট ও নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে প্রযুক্তি ব্যবহারের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত করা। প্রযুক্তির ব্যবহার সে ক্ষেত্রে মূলত নাগরিকদের রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হতো। যে ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষকে কর্মচ্যুত করে রাজনৈতিক কারণেই এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত শাসকেরা। কিন্তু এর ফলে নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব বন্ধ হয়ে যেত তা নয়। কোনও এক জায়গায় সেই প্রযুক্তির বিকাশকে রাজনৈতিক কারণে রুখে দিলে তা অনিবার্যভাবেই পৃথিবীর অন্য কোনও ভূখণ্ডে প্রয়োজনীয় হিসাবে আবির্ভূত হতো। এবং ধীরে ধীরে সেই প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসারিত হওয়ার কারণে প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা অনিবার্য হয়ে উঠতো। অতএব কোনও একটি সময় স্বল্প মেয়াদি কারণে কোনও দেশে কোনও একটি প্রযুক্তির বিকাশকে বন্ধ রাখলেও দীর্ঘ সময়ের বিচারে কারও পক্ষেই নতুন প্রযুক্তি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।পুঁজিবাদী সমাজে প্রযুক্তি শুধুমাত্র সভ্যতার বিকাশের হাতিয়ার নয় তা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে তখনই যখনতা মুনাফা বৃদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত হবে। পুঁজিবাদে প্রযুক্তির বিকাশ কিছুটা স্বতঃস্ফূর্ত। ব্যক্তিপুঁজিপতি অন্য পুঁজিপতিকে প্রতিযোগিতায় পরাস্ত করতে নিরন্তর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে থাকে। একটি সফল প্রযুক্তির প্রয়োগ কোনও শিল্প ক্ষেত্রের গড় মুনাফার হারের চেয়ে বেশি মুনাফা হার পুঁজিপতিকে এনে দেয়। কিন্তু যখনই নিযুক্ত নতুন প্রযুক্তি ঐ শিল্প ক্ষেত্রের গড় প্রযুক্তিতে পরিণত হয় তখন তা আর বাড়তি মুনাফা এনে দেবে না। ফলে ওই পুঁজিপতিকে অন্যদের চেয়ে বেশি মুনাফা করতে হলে আবার নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হয়। এই নিরন্তর প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং প্রত্যেক পুঁজিপতি নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনে উৎসাহী হয়। এর মধ্যে দিয়ে উৎপাদনের সাধারণ দক্ষতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাধারণভাবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির হার যদি কর্মপ্রার্থী বৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি হয় তাহলে অর্থনীতিতে কাঠামোগত বেকারত্ব তৈরি হবে। পুঁজিবাদে সাধারণভাবে এই ঘটনাই ঘটে থাকে। তার কারণ হলো দক্ষতা বা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার সামঞ্জস্য তৈরি করার কোনও কাঠামোগত ব্যবস্থাপনা পুঁজিবাদে নেই। প্রযুক্তি ব্যবহারে অনিয়ন্ত্রিত বিনিয়োগ এ কারণেই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্মহীনতার বিপদ তৈরি করে। প্রযুক্তির ব্যবহারের সঙ্গে মুনাফার স্বার্থ সম্পর্কিত করে দেখতে পারার কারণেই মার্কস দেখাতে পেরেছিলেন শ্রমের মজুত বাহিনী পুঁজিবাদে কেন তৈরি হয় এবং তা মজুরি নিয়ন্ত্রণে কিভাবে পুঁজিপতিদের সাহায্য করে।মনে রাখা দরকার যে যন্ত্রের ব্যবহার অনিবার্যভাবে কর্মহীনতা তৈরি করবে এর কোনও মানে নেই। অনেক যন্ত্রই আবিষ্কৃত হয়েছে পৃথিবীতে যা মানুষের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করেছে কিন্তু অনিবার্যভাবেই কর্মহীনতা তৈরি করেনি। ক্যালকুলেটর বা পরবর্তীকালে বিভিন্ন বিশ্লেষণাত্মক সফটওয়্যার কর্মহীনতা তৈরি করেছে একথা বলা যায় না। দ্বিতীয় কথা হলো নতুন প্রযুক্তি যে ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে সেই প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু সহযোগী প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয় যা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। যেমন ধরুন কম্পিউটারের ব্যবহার হার্ডওয়ারের চাহিদা তৈরি করেছে যা উৎপাদন করতে মানুষের নিয়োগ প্রয়োজন। এর অর্থ হলো নতুন প্রযুক্তি একদিকে যেমন শ্রমের প্রতিস্থাপন করে অন্যদিকে নতুন ধরনের কাজের সুযোগও সৃষ্টি করে। এখন প্রশ্ন হলো মোটের উপর ফলাফল কি হবে তা নির্ভর করে নতুন শিল্পটি কতটা শ্রমনিবিড় তার উপর, এবং অর্থনীতিতে এই অংশের উৎপাদনের অংশীদারত্ব কত? প্রযুক্তির বিকাশের ইতিহাসে এরকম অজস্র উদাহরণ রয়েছে যেখানে দেখা যাবে প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে সামগ্রিক কর্মসঙ্কোচন ঘটিয়েছে আবার অন্যান্য পর্যায়ে যোগ ও বিয়োগ মিলিয়ে মোটের উপরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বাষ্পশক্তিনির্ভর প্রথম প্রযুক্তি বিপ্লবে বিপুল পরিমাণে পুরুষ কারিগররা ছাঁটাই হয় এবং উনবিংশ শতাব্দীতে যে লুডাইট মুভমেন্ট গড়ে উঠে তার পরিপ্রেক্ষিতে এটাই ছিল। গোটা ইউরোপ জুড়ে মেশিন ভাঙার দাঙ্গা চলতে থাকে এবং তাকে দমন করতে বহু শ্রমিককে ফাঁসিতে পর্যন্ত ঝোলানো হয়। মেশিনের ব্যবহারের প্রয়োজনীয় ব্যক্তিশ্রমের দক্ষতা কমাতে সাহায্য করে এবং মহিলা ও শিশু শ্রমিকের নিয়োগ বৃদ্ধি পায়। শিল্প বিপ্লবের সূচনায় ইংল্যান্ডে শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ভয়ঙ্কর অবনমনের বর্ণনা মার্কস ক্যাপিটালের প্রথম খণ্ডে আলোচনা করেন। এঙ্গেলসও ইংরেজ শ্রমিকদের জীবনযাত্রার নির্মম ইতিহাস তুলে ধরেন। সেই সময়ের বহু উপন্যাস শ্রমজীবীদের দুরবস্থা ও পরিবারের ভাঙনের সঙ্কটকে চিত্রায়িত করে। কিন্তু দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবের সময় আমরা অন্য একটা ছবি দেখতে পাই। এই শিল্প বিপ্লব মূলত বিদ্যুতের ব্যবহারের উপরে গড়ে ওঠে। বৈদ্যুতিন যন্ত্রের ব্যবহারও শ্রমকে প্রতিস্থাপিত করেছিল বেশ কিছু ক্ষেত্রে। কিন্তু উৎপাদনের আয়তন বৃদ্ধি পায় ফলে শিল্প ক্ষেত্রে সুপারভাইজার, ক্লার্ক,টাইপিস্ট এবং অন্যান্য সহযোগী পরিষেবা মূলক কাজের সুযোগ তৈরি হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসার শ্রমের সচলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অটোমোবাইল শিল্প এবং তার অনুসারী শিল্প এই সময় বিশেষভাবে বিকশিত হয় যা বিপুল কর্মসংস্থান তৈরি করে। অন্যদিকে বিদ্যুতের ব্যবহার গৃহস্থালি ক্ষেত্রে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে তোলে। রেফ্রিজারেটর,ইস্ত্রি, মেশিন, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদির ব্যবহার গৃহস্থালি কাজে প্রয়োজনীয় সময়কে কমিয়ে দেয়। এর ফলস্বরূপ বাইরের কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়। বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার কারখানায় শ্রমের পরিবেশকে অনেক অনুকূল করে তোলে। এসব কিছুর মধ্যে দিয়ে শ্রমজীবী মানুষ বুঝতে পারে যে প্রযুক্তির ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদি সময়ে তাদের জীবন মানের উন্নতি ঘটিয়েছে। অতএব লড়াইটা প্রযুক্তির বিরুদ্ধে নয় বরং প্রযুক্তির মাধ্যমে সৃষ্ট লাভের বণ্টনের ব্যাপারে লড়াই নিবিষ্ট করা দরকার। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জয়েল মকির দেখিয়েছেন যে প্রযুক্তির বিকাশের ইতিহাস আসলে সংঘর্ষের ইতিহাস। প্রযুক্তির কারণে যে মানুষের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সে তার অধিকার রক্ষার জন্য লড়াই করবে এটাই স্বাভাবিক। এবং সেই লড়াইয়ের নিরসন শেষ বিচারে ঘটে। মূলত প্রযুক্তির ব্যবহারে যারা লাভবান তাদের লাভের অংশ থেকে কিছুটা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সমস্যার সুরাহা করার মাধ্যমে। গ্যাসবাতির ব্যবহার বৈদ্যুতিন বাতির দ্বারা প্রতিস্থাপিত হলে গ্যাসবাতি জ্বালানোর কাজে নিযুক্ত মানুষ কাজ হারাবে এটাই স্বাভাবিক। তাদের জীবিকা রক্ষার দাবি তারা স্বাভাবিকভাবেই করবে। কিন্তু এই প্রশ্নটির মীমাংসা এভাবে করা অবাস্তব যে বৈদ্যুতিন বাতির ব্যবহার রুখে দিতে হবে বরং যেটা করা দরকার তা হলো ওই জীবিকা থেকে যারা উৎপাটিত হলো তাদের আয়ের বিকল্প ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা। এই বণ্টনের সংঘাতটা ঠিকমতো নিরসন না হলে প্রযুক্তির বিকাশ রুদ্ধ হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রাক আধুনিক যুগে চীন এবং পরবর্তী সময়ের ফ্রান্স এই অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে অতীতে গিয়েছে। পৃথিবীর একাধিক দেশের ইতিহাস এই সত্য তুলে ধরে যে সমাজ কত দক্ষতার সাথে প্রযুক্তির কারণে জয়ী ও পরাজিতদের মধ্যে প্রযুক্তির সাফল্যর বণ্টন ঘটাতে পেরেছে তার উপরে প্রযুক্তির জয়যাত্রা নির্ভর করেছে।আজকের পৃথিবীর নতুন প্রযুক্তি জ্ঞানকেন্দ্রিক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই প্রযুক্তি প্রবাহের নতুন জেনারেল পারপাস টেকনোলজি হিসাবে আবির্ভূত হচ্ছে।অতীতের প্রযুক্তি সৃষ্টিতেও জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। অতীতের প্রযুক্তি মূলত মানুষের কায়িক শ্রমকে প্রতিস্থাপিত করেছিল। আজকের প্রযুক্তি মানুষের মানসিক শ্রমের একটি অংশকে প্রতিস্থাপিত করছে। আজ থেকে দেড়শো বছরেরও বেশি আগে কাল মার্কস গবুন্ডরিসে এই আলোচনা করেছেন। এই উপস্থাপনা মার্কস করতে পেরেছিলেন এ কারণে নয় যে তিনি ভবিষ্যৎবাণী করতে চেয়েছিলেন— আসলে তিনি সভ্যতার উৎপাদিকা শক্তির বিকাশকে অনুধাবন করেছিলেন। মার্কস বলেছেন যে এমন একটা সময় আসবে যখন মানুষের শারীরিক পরিশ্রমের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে কমে যাবে। যন্ত্রের উপর নজরদারি করাটাই তার প্রধান কাজ হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয় জ্ঞান দ্বারা সৃষ্ট যন্ত্রপাতির উপরে শুধু পুঁজির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে তা নয় জ্ঞান-বিজ্ঞান নিজেই প্রধান উৎপাদিকা শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হবে। মানুষের মেধাই হবে প্রধান উৎপাদিকা শক্তি আর সেই মগজের উপরে পুঁজি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে। মার্কস এই আলোচনায় আরও বলেন যে উৎপাদনে শ্রমের নির্দিষ্ট অবদান এমত অবস্থায় অনেকটাই নির্ভর করবে তার নিজস্ব দক্ষতার উপরে নয় বরং সমাজের সাধারণ বুদ্ধিমত্তার (general intellect) উপরে। ফলে শ্রমিকের অবদান শ্রমঘণ্টা দিয়ে পরিমাপ করার পদ্ধতিটি ক্রমাগত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে— ধীরে ধীরে মূল্যের ধারণাটিও মানুষের সামাজিক অবদান পরিমাপের মাপকাঠি হিসাবে অকেজো হয়ে পড়বে। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে শ্রম ও পুঁজির পরিবর্তিত সম্পর্ক এর চাইতে প্রাঞ্জল অনুধাবন আর কি হতে পারে? নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার জ্ঞানকেন্দ্রিক এ কারণেই যে বস্তুর ব্যবহার মূল্যর পরিবর্তনে তার দৈহিক চেহারার পরিবর্তনের পরিবর্তে বৌদ্ধিক প্রক্রিয়ার অবদান অনেক বেশি। উদাহরণস্বরূপ মোবাইল ফোনের দাম বৃদ্ধি পায় নতুন ফিচার যুক্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে। সেক্ষেত্রে ফোনের যন্ত্রাংশের অথবা কাঁচামালের বিশাল পরিবর্তন ঘটে যায় তা নয়। পরিবর্তন ঘটে সফটওয়্যা রে যা আসলে একটি বৌদ্ধিক উপাদান যার প্রয়োগ ফোনের ব্যবহার মূল্য বাড়িয়ে তোলে। এই জ্ঞানকেন্দ্রিক উৎপাদনে নিযুক্ত শ্রমের অবদান পরিমাপ করতে গেলে কখনোই শ্রমঘণ্টা উপযুক্ত মাপকাঠি নয়। জ্ঞানকেন্দ্রিক শ্রম ক্রমাগত কাজের সময় ও কাজের বাইরের সময়ের প্রাচীরকে ভেঙে দিচ্ছে। কোনও ডিজাইনার বা সফটওয়্যা র ইঞ্জিনিয়ার বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিতে নিযুক্ত শ্রমিক সে যতক্ষণ অফিসে আছে ততক্ষণই শুধু তার মেধা কাজ করছে এরকম নয়। এই কাজে সে মনোনিবেশ করছে কাজের সময়ের বাইরেও। ভাবনা চিন্তার আধিপত্য শ্রমের প্রয়োগে যত বাড়বে কাজের ঘণ্টা দিয়ে শ্রমের অবদানকে পরিমাপ করা তত কঠিন হয়ে পড়বে। সবচাইতে বড় ব্যাপার হলো জ্ঞানকেন্দ্রিক বিকাশ আসলে উৎপাদনের বিপুল সামাজিকীকরণের উপর নির্ভরশীল। ইন্টারনেটের ব্যবহার করে যখন কেউ এই বিপুল তথ্য ভাণ্ডারকে কাজে লাগাচ্ছে অথবা চ্যাট জিপিটি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ব্যবহার করছে তখন আসলে আমরা প্রত্যেকে মানব সভ্যতার সম্মিলিত জ্ঞান ভাণ্ডারকে ব্যবহার করছি এবং তার উপরে উৎপাদনের নির্ভরশীলতা প্রতিদিন বেড়ে চলেছে। এই প্রবণতাটি জ্ঞানের স্বাভাবিক প্রবণতা যা অন্যান্য কোনও উৎপাদনের উপকরণ থেকে জ্ঞানকে আলাদা করে দেয়। অন্য সমস্ত উপকরণ অন্যের সঙ্গে বিনিময় করলে কমে যায়। অর্থাৎ কয়লা, লোহা বা প্লাস্টিক বা কাগজ যাই হোক না কেন তা ব্যবহার করার মধ্যে দিয়ে কমে আসে। জ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো। জ্ঞান যত অন্য অংশের মানুষের সঙ্গে বিনিময় বা আলোচনা করা যায় তত প্রত্যেকেরই জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। আজকের পৃথিবীতে সমস্ত প্রযুক্তি অনেক বেশি ফিডব্যাক নির্ভর, অনেক বেশি যৌথ দক্ষতা নির্ভর,অনেক বেশি কল্যাবরেটিভ। এইরকম একটি উৎপাদন ব্যবস্থা যা প্রতিদিন মানুষের সৃষ্ট তথ্য ভাণ্ডার ও জ্ঞানের বিনিময়ের উপর নির্ভরশীলতা কখনোই ব্যক্তিগত মালিকানার উপরে গড়ে ওঠা পুঁজিবাদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে পারে না। বিশ্বব্যাপী তথ্যের আদান-প্রদান যা মানুষ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে প্রতিনিয়ত করে চলেছে তাই আজকের প্রযুক্তির কাঁচামাল সৃষ্টি করছে। এই তথ্য তৈরি করছি আমরা বিনা পয়সায়। আর এই বিপুল তথ্যই মানুষের পছন্দের প্রকৃতি নির্ধারণে বৃহৎ বহুজাতিক সংস্থাগুলি ব্যবহার করছে। আজকের পৃথিবীতে প্রতিমুহূর্তে সৃষ্ট এই বিপুল তথ্য ভাণ্ডারের উপর মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যত পুঁজিবাদ। অতীতের সমস্ত কাঁচামাল ছিল পৃথিবীর নির্দিষ্ট ভূগোলে সীমিত। তেল, লোহা, কয়লা ইত্যাদির উপরে কর্তৃত্ব স্থাপন করতে গেলে কোনও দেশ বা অঞ্চলের উপরে আধিপত্য স্থাপন করাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু ভুবন প্রবাহিত তথ্যের উপরে কর্তৃত্ব স্থাপন করতে হলে পৃথিবীব্যাপী একচেটিয়া অধিকার স্থাপন করতে হয়। গুগল, আমাজন, আলিবাবা, ফেসবুক, টেনসেন্ট এরকম গুটিকয়েক সংস্থা পৃথিবীর তথ্য ও জ্ঞানভাণ্ডারের উপরে একাধিপত্য স্থাপনের চেষ্টা করে চলেছে।জ্ঞানকেন্দ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা এ কারণেই পুঁজিবাদী উৎপাদন সম্পর্কের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হতে চলেছে। একদিকে যেমন জ্ঞানকেন্দ্রিক উৎপাদন মানুষের সঙ্গে মানুষের চিন্তারমুক্ত আদান-প্রদানের উপরে নির্ভর করে। তাই ব্যক্তিমালিকানাধীন তথ্য ও জ্ঞানের ব্যবস্থা আসলে জ্ঞানকেন্দ্রিক উৎপাদনের অগ্রগতিকে সীমিত করে রাখবে। মার্কস একটি বিকল্প সমাজের চিন্তা করেছিলেন স্বর্গ নির্মাণের লক্ষ্যে নয়— এই চিন্তার উৎস হলো প্রচলিত ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান সংঘাত যা পুঁজিবাদ তার নিজস্ব কাঠামোর মধ্যে নিরসনে ব্যর্থ। দ্বিতীয়ত, একথা ঠিক বর্তমান প্রযুক্তির প্রবাহ সমাজে কি প্রভাব ফেলতে চলেছে এখনই হাত গুনে বলে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে একথা ঠিক যে কারখানা শিল্পে রোবটের ব্যবহার এবং সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষত পরিষেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ ব্যাপকভাবে সরাসরি শ্রমের চাহিদা কমিয়ে আনবে। কিন্তু এর জন্য ব্যাপক কর্মহীনতা তৈরি হওয়ার যে নানা ইঙ্গিত গবেষণায় উঠে আসছে তার জন্য দায়ী প্রযুক্তি নয় তার জন্য দায়ী পুঁজিবাদ। যে কাজটা আগে দশ ঘণ্টায় হতো তা যদি প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে তিন ঘণ্টায় হয় তাহলে কর্মরত শ্রমিক কম ঘণ্টা কাজ করতে পারে কিন্তু তাকে বেকার হতে হবে এর কোনও মানে নেই। অর্থাৎ ধরা যাক ২০২৬ সালে ভারতবর্ষের মানুষের যা যা প্রয়োজনীয়তা তা বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকরা দিনে আট ঘণ্টা করে সপ্তাহে ছয় দিন কাজ করে উৎপাদন করে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে ওই একই কাজ দিনে আট ঘণ্টা করে সপ্তাহে চার দিনে সম্পন্ন হতে পারে। কিন্তু পুঁজিবাদ এই রাস্তায় হাঁটে না এর কারণ প্রযুক্তির মালিকানা ব্যক্তি পুঁজির এবং সে শ্রমিকের থেকে যতটা সম্ভব উদ্বৃত্ত মূল্য সংগ্রহ করার জন্য সর্বদা সচেষ্ট। এ কারণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে পুঁজিবাদী সমাজে কাজের সময় কমে আসেনি বরং দ্বিমেরু সমাধান পুঁজিবাদ খুজেছে। যারা কাজ করবে তারা প্রযুক্তি ব্যবহারের আগে এবং পরে একই সময় অথবা বর্ধিত সময় কাজ করবে— আর বাকি একটা বড় অংশ সম্পূর্ণভাবে কাজ হারাবে। কিন্তু এই প্রযুক্তির উপরে যদি সামাজিক মালিকানা থাকে অথবা বিপুল তথ্য ভাণ্ডার যা প্রতিনিয়ত মানুষ তৈরি করছে তার উপরে সামাজিক কর্তৃত্ব থাকে তাহলে প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবন-জীবিকার মানের উন্নয়ন ঘটাবে শুধু তাই নয় মানুষের নিজস্ব ব্যবহারের ‘মুক্তসময়’(free time) তত বৃদ্ধি পাবে। মার্কস বলেছিলেন যে আগামী দিনে সম্পদ সৃষ্টির পরিমাপ মানুষ কত ঘণ্টা কাজ করছে তা দিয়ে মাপার দিন শেষ হয়ে আসছে বরং মানুষ কত ঘণ্টা মুক্ত সময় পাচ্ছে সেটাই সভ্যতার বিকাশের মাপকাঠি হবে।আজকের পৃথিবীর নতুন প্রযুক্তি সমাজবাদের বাস্তবতাকে অনেক কাছাকাছি নিয়ে আসছে। উৎপাদনের সামাজিকীকরণ বণ্টনের সামাজিকীকরণকেও অনিবার্য করে তুলছে। শুধু তাই নয় ইন্টারনেট ব্যবহারে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের চাহিদা ও সেই অনুযায়ী বণ্টনের সামঞ্জস্য রিয়েল টাইমে স্থাপন করা অনেক বেশি সহজ হয়ে গিয়েছে। বাজারের স্বতঃস্ফূর্ততার উপর নির্ভর না করে বিকেন্দ্রীকৃত পরিকল্পনার নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা সমাজে যথাযথ ভাবে রসদ বণ্টনের বাস্তবতা তৈরি করছে। মানুষ শুধুমাত্র সমবেতভাবে উৎপাদন করবে তাই নয়। কোন ধরনের উৎপাদন হবে, কিভাবে তা বণ্টিত হবে এবং কিভাবে অতিরিক্ত রসদ নতুন সম্পদ সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হবে এসব কিছু মানুষ ঠিক করবে সরাসরি আদান-প্রদানের মাধ্যমে। একাজে আজকের প্রযুক্তি বস্তুগত সম্ভাবনা তৈরি করছে। কিন্তু প্রযুক্তি সমাজ বদলায় না। তা নতুন সমাজের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে মাত্র। একে বদলানোর জন্য যা দরকার তা হলো সম্পত্তির মালিকানার আমূল পরিবর্তন যা রসদ,প্রযুক্তি, উৎপাদনও বণ্টনের উপরে সামাজিক মালিকানা স্থাপন করবে।
73 shares
😐
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 11:39 AM
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন।

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই আবহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ‘আমি ইস্তফা দেবো না। অমি হারিনি, রাজভবনে যাবো না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোট প্রক্রিয়ায় ‘নোংরা খেলা’ হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ভোটে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি একসঙ্গে অনিয়ম করেছে। জোর করে হারানো হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে ফলাফল।’ এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপির অত্যাচার আর সহ্য করব না। আগে যেমন রাস্তায় ছিলাম, তেমনই ফের রাস্তায় নামব।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, আগামী দিনে রাজ্যে আন্দোলনের পথেই হাঁটতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনের জন্য ১০ সদস্যের একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ‘এই কমিটিতে ৫ জন সাংসদও থাকবেন। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।’ এদিন তিনি বিরোধী জোটের নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘সোনিয়া, রাহুল, অখিলেশ, হেমন্ত সোরেন, তেজস্বীরা ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।’ জানা গিয়েছে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব আগামীকাল কলকাতায় এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন তাঁর লক্ষ্য পরিষ্কার। ‘আমি এখন স্বাধীন। অন্য বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে কী করব, তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছি,’— বলেন তিনি। এদিন সল্টলেকে বিজেপির পার্টি দপ্তরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফলের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা একপ্রকার স্পষ্ট।
42 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:35 AM
দলত্যাগ সঙ্কটের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করলেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী

দলত্যাগ সঙ্কটের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করলেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী

এক সপ্তাহ আগে আম আদমি পার্টি (আপ) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন পাঞ্জাবের ছয় রাজ্যসভা সাংসদ। এই দলত্যাগের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান।রাষ্ট্রপতি তাদের দলের প্রতি ন্যায়বিচার করবেন,এই আশা নিয়ে এদিন রাষ্ট্রপতি ভবনের অদূরে রেল ভবনের সামনে জড়ো হন আপ-এর বিধায়করা। দলীয় নেতৃত্বদের মতে,মান এবং রাষ্ট্রপতির মধ্যকার এই বৈঠকে মূলত পাঞ্জাবে আপ-এর ওই ছয় রাজ্যসভা সাংসদের দলত্যাগের বিষয়টি নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।রাষ্ট্রপতি মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে সমাজমাধ্যম'এক্স'-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান লেখেন,‘পাঞ্জাবের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য আমাদের এই লড়াই অব্যাহত রয়েছে। আজ,পাঞ্জাবের জ্বলন্ত সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করতে এবং মাননীয়া রাষ্ট্রপতির সামনে রাজ্যের জোরালো কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে আমরা সমস্ত আপ বিধায়কদের সাথে নিয়ে রওনা হয়েছি।’
6 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 11:34 AM
বাংলার নির্বাচনের ফলাফলের পর কলকাতার বাজারে সোনার দাম সামান্য কমেছে।

বাংলার নির্বাচনের ফলাফলের পর কলকাতার বাজারে সোনার দাম সামান্য কমেছে।

বাংলার ভোটের ফল প্রকাশের পরেরদিন কিছুটা কমলো সোনার দাম। ৫মে, যে তালিকা এসেছে, তাতে ৪মে-র তুলনায় কলকাতার বাজারে অল্প হলেও কমেছে সোনা ও রুপোর দাম। ৩০ এপ্রিল থেকে বিচার করলে, টানা দাম কমছে সোনা ও রুপোর।২৪ ক্যারেট পাকা সোনা: ১,৪৮,০৫০ টাকা/ ১০ গ্রাম২৪ ক্যারেট পাকা সোনা (খুচরো): ১,৪৮,৮০০ টাকা/ ১০ গ্রাম২২ ক্যারেট হলমার্ক গয়নার সোনা: ১,৪১,৪৫০ টাকা/ ১০ গ্রামএ দিন রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ২,৪২,৫০০ টাকা।এর সঙ্গে জিএসটি এবং গয়নার মেকিং চার্জ জুড়বে। ৪-মের তুলনায় বিচার করলে, ২৪ ক্যারাটে প্রতি ১০ গ্রামে দাম কমেছে ৫৫০ টাকা। ২২ ক্যারাটের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ গ্রামে দাম কমেছে ৫০০ টাকা। ৩০ সেপ্টেম্বরের তুলনায় বিচার করলে দাম কমেছে ২২০০ টাকার মতো।২৪ ক্যারেট পাকা সোনা: ১,৪৮,৬০০ টাকা/ ১০ গ্রাম২৪ ক্যারেট পাকা সোনা (খুচরো): ১,৪৯,৩৫০ টাকা/ ১০ গ্রাম২২ ক্যারেট হলমার্ক গয়নার সোনা: ১,৪১,৯৫০ টাকা/ ১০ গ্রামএ দিন রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ২,৪৩,৯৫০ টাকা।
43 shares
😐
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:34 AM
সোনা পাপ্পু মামলায় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করল ভারত

সোনা পাপ্পু মামলায় শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করল ভারত

শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করলো ইডি। সোনা পাপ্পু মামলায় তাকে বার বার তলব করেছে ইডি। কিন্তু কলকাতা পুলিশের এই কর্তা একবারও হাজিরা দেননি। তিনি দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন এই আশঙ্কা থেকে তার বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করলো কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা।তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতি সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র আইনেও মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমন বেশ কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু করে ইডি। ওই মামলায় বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদারকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। এই মামলার সূত্র ধরেই গত মাসে ফার্ন রোডে শান্তনুর বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। ভোর থেকে শুরু হয়েছিল অভিযান। শেষে রাত ২টো নাগাদ শান্তনুর বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। তারপরা শান্তনু এবং তার দুই ছেলেকে হাজিরা দিতে বলে ইডি। কিন্তু তারা হাজিরা দেননি।
81 shares
😐
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:33 AM
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘আমাদের লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ছিল।’ বিধানসভা নির্বাচনে হারার পর সাংবাদিক সম্মেলন করে সাফাই দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। উল্লেখ্য নিজের রাজনৈতিক জীবনে মমতা ব্যানার্জি কখনই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেননি। মঙ্গলবার কালিঘাটে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘ইন্ডিয়া মঞ্চের অনেক নেতা আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। তারা বলেছে তারা আমাদের সাথে আছে। ইন্ডিয়া মঞ্চকে শক্তিশালী করবো। রাজ্য জুড়ে বিজেপি আমাদের ওপর অত্যাচার করছে। পুলিশ নিষ্কৃয়। আমরা ক্ষমতায় আসার পর সিপিআই(এম)’এর কোন দপ্তরে হামলা করিনি। কোন দপ্তর দখল করিনি।’উল্লেখ্য ২০১১ সালের এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর লাগাতার বামপন্থীদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। দখল করা হয়েছে একের পর এক দপ্তর দখল করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বামপন্থীদের। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে নির্লজ্জ ভাবে মিথ্যা কথা বলে গেলেন মমতা ব্যানার্জি।উল্লেখ্য মমতা ব্যানার্জি এবং তার দল নির্বাচনে হেরেছে। কিন্তু তিনি এখনও পদত্যাগ করেননি। এদিন মমতাকে তার ইস্তফা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা হারিনি, জোড় করে হারানো হয়েছে। ২০০ আসনে আমরা এগিয়ে ছিলাম। মেশিনের সমস্যা ছিল। জোড় করে হারানো হয়েছে। আমি কেন গিয়ে পদত্যাগ করবো?’একদিকে ইস্তফা না দেওয়ার কথা বলছেন তিনি আবার একই সাথে বলছেন, ‘এখন আমি মুক্ত পাখি, মানুষের হয়ে কাজ করবো।’সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘মিডিয়া সাভোটেজ করেছে। গতকাল প্রথম রাউন্ডের পর থেকে দেখাতে শুরু করেছে যে বিজেপি জিতছে। তার প্রভাব পড়েছে গণনা কেন্দ্রে এজেন্টদের ওপর।’মমতা বলেন, ‘সিআরপিএফ আমাকে গণনা কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। আমাকে শারিরীক ভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। বিজেপি গণনা কেন্দ্রের দখল নিয়ে নিয়েছিল। আমরা ফিরে আসবো। এদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আমাদের অনেক কর্মীকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বিজেপিতে যোগদান করার জন্য।’তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গঠন করবে। তারা আক্রান্ত এলাকা গুলোয় যাবে।
41 shares
😐
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:31 AM
বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অমিত শাহ

বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অমিত শাহ

বিজেপির পরিষদীয় নেতা নির্বাচন বৈঠক থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তাদের সংসদীয় বৈঠকের পক্ষ থেকে অমিত শাহকে পরিষদীয় নেতা নির্বাচন বৈঠকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাথে থাকবেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি। আগামীকাল সেই বৈঠক ডাকা হতে পারে বলে সূত্রে মারফত খবর। সেই বৈঠকে থাকবেন অমিত শাহ।২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে প্রথম বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারি। ভবানীপুরে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে।বিজেপি সূত্রে খবর শুভেন্দু অধিকারিকেই পরিষদীয় নেতা হিসাবে নির্বাচন করা হবে। তারপর শুভেন্দু সহ কয়েকজন নেতা রাজভবনে গিয়ে আবেদন জানাবেন সরকার গঠনের।উল্লেখ্য দশ বছর আগে ২০১৬ সালে মুরুলীধর স্ট্রিটের বিজেপি সদর দপ্তর থেকে নারদা স্টিং অপারেশনের ভিডিও দেখানো হয়। সেখানে তোয়ালে মুড়ে শুভেন্দু অধিকারিকে টাকা নিতেও দেখা যায়। সেই সময় শুভেন্দুর বিরুদ্ধে চোর স্লোগানও দেয় বিজেপি। কিন্তু ২০২১ সালে অমিত শাহের হাত ধরেই বিজেপিতে যোগদান করেন শুভেন্দু অধিকারি।এবারের নির্বাচনী প্রচার এসে মোদী-শাহ বার বার বলেছে তৃণমূলের দুর্নীতির বিচার হবে। তাহলে এখানেই প্রশ্ন থাকছে টাকার বিনিময় পূর্ব মেদিনীপুরে চাকরি বিক্রি করা বা নারদায় টাকা নিতে দেখা যাওয়া শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কি বিচার হবে?
58 shares
😐
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 11:31 AM
পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসার বিরুদ্ধে বিজেপির হুঁশিয়ারি

পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসার বিরুদ্ধে বিজেপির হুঁশিয়ারি

রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না—এমনই কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের কোনও কর্মী বা সমর্থক এই ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে। রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বে এখন রয়েছেন মুখ্যসচিব। তাঁকেও এ বিষয়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মঙ্গলবার বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব বিধাননগরের দপ্তরে বৈঠকও করেছেন। হিংসা রুখতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দলের তরফে কী পদক্ষেপ করা উচিত, তা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সোমবার রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ভোটগণনা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এই ফলাফলের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে। ফলাফল ঘোষণার পরদিন সকালে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ জানান এবং বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেইসব ভোটারদের প্রতি, যাঁরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে ভোট দিয়েছেন। তবে ভোট-পরবর্তী হিংসার বিষয়ে সতর্ক থাকার আর্জিও জানিয়েছেন দলের কর্মীদের কাছে। তিনি বলেন, ‘বিজেপির পতাকা নিয়ে অনেক জায়গায় ভাঙচুর করা হচ্ছে বলে শুনেছি। এর বিরোধিতা করছি। কেউ এমন করলে আমরা তাঁকে দল থেকে বার করে দিতে বাধ্য হব।’ তবে জয় উদযাপনের মধ্যেও সংযম বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জয়ের আনন্দে যেন কেউ কোনওরকম ভাঙচুর বা হিংসাত্মক কার্যকলাপে না জড়িয়ে পড়ে। তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সকলের ভাবাবেগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছেও তিনি আবেদন জানিয়েছেন যাতে প্রশাসন সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনকেও বলতে চাই, কোথাও এমন কোনও হিংসার ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নিন। কারণ, এই জন্যই বাংলার মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আমাদের অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের যে স্বপ্ন ছিল, তা পূরণ হয়েছে। এখন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দলের কর্মীদের বলতে চাই, শান্তিতে থাকুন। খুশি থাকুন। দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, পালন করুন। কিন্তু জয়ের আনন্দে কাউকে আঘাত করবেন না। কারও ভাবাবেগে আঘাত দেবেন না।’ তাঁর মতে, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের আশায় বিজেপিকে সমর্থন করেছেন, তাই সেই আস্থার মর্যাদা রাখা দলের দায়িত্ব। মঙ্গলবার বিধাননগরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এক বৈঠকেও ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে হিংসা প্রতিরোধ এবং শান্তি বজায় রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়, যাতে অতীতের মতো কোনও অশান্ত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সব স্তরেই হিংসার বিরুদ্ধে বার্তা পাঠানো হয়েছে। রাজনীতির রং না দেখে হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আর্জি প্রশাসনের কাছে রেখেছেন শমীক। সকল রাজ্যবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি।
99 shares
😢
A
AajKaal News
May 5, 2026, 11:26 AM
কন্যা অভয়াকে ন্যায়বিচারের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের জয়

কন্যা অভয়াকে ন্যায়বিচারের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের জয়

আজকাল ওয়েবডেস্ক:আরজি কর হাসপাতালে ও মেডিক্যাল কেলেজে জুনিয়র চিকিৎসক 'অভয়া'র মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদে মুখ হয়েছিল বাংলা। কিন্তু, মেলেনি সুবিচার। পরে মেয়ের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ বিজেপি প্রার্থী হন তিনি।নির্বাচনী লড়াইয়ে পানিহাটিতে জয় পেয়েছেন 'অভয়ার মা' রত্না দেবনাথ। ২৮,৮৩৬ ভোটে তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে হারিয়েছেন রত্না। ৪ মে, রত্না দেবনাথের জীবনে এক বড় মোড়। জয়ী রত্না সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "বাংলার মেয়েরা তাঁদের জবাব দিয়ে দিয়েছেন।" নিজের এই জয়ের কৃতিত্ব তিনি বাংলার মহিলাদেরই দিয়েছেন। ছুড়ে ফেলে দেওয়া হোক মমতাকে: হিমন্ত হেরেও ইস্তফায় 'না' মমতার! এরপর কী হবে? পানিহাটি দীর্ঘকাল ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের এক শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে পদ্ম ফুল ফুটতেই গেরুয়া আবির উড়ল। রত্না দেবীর মনে তখন মেয়ের সুবিচার পাওয়ার আশা। "সে হাসিমুখে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল"নিজের জীবন বদলে দেওয়া সেই ভয়াবহ দিনটির কথা স্মরণ করে রত্না দেবনাথ বলেন, তাঁর মেয়ে "হাতে টিফিন নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল", কিন্তু বাড়ি ফিরেছিল ওর নিথর দেহ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "আমি বা ও - কেউই জানতাম না যে এটাই আমাদের শেষ কথোপকথন হতে চলেছে। আমার মেয়ে ছিল ফুলের মতো। তাঁর মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও মূল্যবোধ ছিল। আরজি কর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীই ওর জীবন কেড়ে নিয়েছে।" রত্না দেবনাথের দাবি, তাঁর নিজের জীবনের চেয়ে মেয়ের জীবন ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 'অভয়ার মা' বলেন, "ও নিজের হাসপাতালেই চলতে থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল, ওর সেই লড়াই ছিল অনেক বেশি কঠিন।" রাজনীতির আঙিনায় রত্না দেবনাথের প্রবেশমমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁর মেয়ে 'অভয়া'-কে রক্ষা করতে পারেনি। এমন অভিযোগ রত্না দেবনাথ বারবারই করে এসেছেন। তিনি জানান, নিজের মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যেতে এবং পানিহাটিকে 'ঘোষ পরিবার' ও তাদের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্ত রত্না দেবনাথ বলেন, "২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আমার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী (মমতা ব্যানার্জি) আমার জীবনটা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছেন। আমি এখনও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছি; আমার মেয়ে এবং বাংলার সমস্ত মেয়েদের জন্য ন্যায়বিচার আদায়ের লড়াইয়ে নামতে আমি রাজনীতির পথ বেছে নিয়েছি।" 'অভয়ার মা' দাবি করেন, মেয়েকে হারানোর পর থেকে শোক ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তিনি আর নিজের চুলে চিরুনি ছোঁয়াননি। বারবারই তিনি এই প্রশ্ন তুলেছিলেন, "আমার প্রধান শত্রু মমতা ব্যানার্জি, কারণ তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আর আমার মেয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনেই কাজ করত। মমতা ব্যানার্জি কেন আমার মেয়েকে বাঁচালেন না?" ন্যায়বিচারের আহ্বাননারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প চালু করেন। এই প্রকল্পের আওতায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এই প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা জমা করা হয়। তবে রত্না দেবনাথ মনে করেন, বাংলার মহিলাদের আর কেবল এই ১,৫০০ টাকার গণ্ডিতে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, "আমি একজন প্রতিবাদী মা মাত্র, এবং আমি ভবিষ্যতেও তেমনই থাকব। বাংলার নারীদের কেবল ১,৫০০ টাকার বিনিময়ে বেঁধে রাখা যায় না।" একদিকে রত্না নিজের জয়ের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দিয়েছেন, অন্যদিকে তিনি মমতার নাম উচ্চারণ করতেও অস্বীকার করেছেন। সাফ বলেছেন, "আমি ওই মহিলার কথা ভাবতেও চাই না।" সবশেষে, রত্না দেবনাথ তাঁর প্রয়াত মেয়ের কথা স্মরণ করেন এবং তাঁকে 'ঈশ্বরের দেওয়া এক অমূল্য হীরে' বলে বর্ণনা করেন। 'অভয়ার মা' বলেন, "এটা কেবল আমার একার ক্ষতি নয়, এটা সমগ্র সমাজের ক্ষতি। সমাজ একজন অত্যন্ত দক্ষ চিকিৎসককে হারিয়েছে। আর বাংলার মানুষ এখন ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনার সংকল্প গ্রহণ করেছে।"
58 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 11:22 AM
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট নিউ টাউন আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট নিউ টাউন আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট। রাজারহাট নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের শেষে মাত্র ৩১৬ ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী পীযূষ কানোডিয়া। এই নাটকীয় জয়ের ফলে রাজ্যে বিজেপির মোট আসন সংখ্যা পৌঁছে গেল ২০৭-এ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৮ দফা গণনা শেষে পীযূষ কানোডিয়া পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬ হাজার ৫৬৪টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক তাপস চ্যাটার্জি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬ হাজার ২৪৮টি ভোট। ফলে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান দাঁড়ায় মাত্র ৩১৬ ভোটে। সূত্রের খবর, গণনার এক পর্যায়ে বিজেপি প্রার্থী প্রায় ২,৮০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। সেই সময় তাপস চ্যাটার্জি পুনর্গণনার দাবি জানান। প্রথম দফার পুনর্গণনার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায় এবং তৃণমূল প্রার্থী ৩২৩ ভোটে এগিয়ে যান। এমনকি এক সময় তাঁকেই জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে বিজেপির তরফে ফের পুনর্গণনার দাবি তোলা হলে চিত্র পাল্টে যায় এবং শেষ পর্যন্ত আসনটি হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। ৪ মে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, রাজ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি দুটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া সিপিআই(এম) এবং অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট একটি করে আসন দখল করেছে। এই ফলাফল রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১১ সাল থেকে টানা তিন দফা শাসনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ ভেঙে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। এই বিপুল জয়ের পেছনে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। তা নিয়েই তৈরি হয়েছিল তীব্র বিতর্ক। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল সব পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষাতেও যেখানে কড়া লড়াইয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেখানে বিজেপির এই বিপুল জয় অনেককেই বিস্মিত করেছে।
17 shares
😐
A
AajKaal News
May 5, 2026, 11:14 AM
টলিউড তারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বাংলার নির্বাচনের ফলাফলের মধ্যে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার অনুরোধ করেছেন

টলিউড তারকা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বাংলার নির্বাচনের ফলাফলের মধ্যে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার অনুরোধ করেছেন

৪ মে আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাজ্যের মসনদে কে বসবে, কোন দলের শাসন কায়েম হবে বাংলায় সেটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছে। বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর তারপর যেখানে টলিউডের শিল্পীরা নবনির্বাচিত সরকারকে শুভেচ্ছা জানাতে ব্যস্ত, সেখানে ইঙ্গিতবহ বার্তা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের। কী লিখলেন? রাজ্যে ভোট গণনা শেষ হতেই এদিন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমে লেখেন, 'আমি দীর্ঘ বহু বছর ধরে অত্যন্ত সম্মানের সাথে অভিনয় করে আসছি এবং আগামীদিনেও ঠিক একইভাবে কাজ করে যেতে চাই। আপনাদের সকলের কাছে আমার একটাই বিনীত অনুরোধ— দয়া করে আমার গায়ে কোনো রাজনৈতিক রঙ লাগাবেন না।' টলিউডের 'জ্যেষ্ঠ পুত্র' এদিন আরও লেখেন, 'আমি কাউকে ফোন করিনি; বরং আমার ছোট ভাই ফোন করেছিল আমাকে। বড় দাদা হিসেবে কাউকে আশীর্বাদ করা আমার কর্তব্য, আর আমি কেবল সেই টুকুই পালন করেছি। এর সাথে রাজনীতির কোনো যোগসূত্র নেই।' (পোস্টদাতার বানান সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হল) কেন এমন লিখেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়? শিবপুরে বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এবারের বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ। বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন তিনি। তারপরই সেই সুখবর নিজেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে দেন রুদ্রনীল। কথা হয় দুজনের। এরপরই সেই কথা প্রকাশ্যে আসতে, অনেকেই মনে করতে থাকেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বুঝি এবার রাজনীতিতে নাম লেখাবেন। পদ্মশিবিরে যোগ দেবেন তিনি। সেই ভাবনাকে নস্যাৎ করতে এই পোস্ট 'ইন্ডাস্ট্রি'র। এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, নির্বাচনের আগে জল্পনা শুরু হয়, প্রসেনজিৎ-পুত্র তৃষাণজিৎ গেরুয়া শিবিরে যোগ দিচ্ছেন কিনা সেটা নিয়ে। সেই সময় কয়েকদিন থেকেই নেটপাড়া থেকে অনুরাগীমহল সরগরম ছিল এ জল্পনায়। গুঞ্জনের সূত্রপাত ফেসবুকের একটি পোস্ট। তৃষাণজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজ থেকেই করা হয়েছিল তা। পোস্টে দেখা গিয়েছিল, বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে রাম নাম করেছেন তিনি! এরপরেই শুরু হয় ফিসফাস। প্রসঙ্গত, গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বালিগঞ্জের বাসভবন ‘উৎসব’-এ গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। জল্পনা রটতেই এই ব্যাপারেই মুখ খুলেছিলেন খোদ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তৃষাণজিতের সমাজমাধ্যমে আবার কে দেখভাল করবে? ও নিজেই করে। তবে ফেসবুকের যে প্রোফাইল থেকে ওই পোস্টটি করা হয়েছে, সেটি তৃষাণজিতের নয়! ওটা ওর নামের একটা ফেক প্রোফাইল! আর আজকাল দিব্যি বোঝা যায় কোন ছবি জাল ছবি। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে এই ছবিটি তৈরি' করা হয়েছে। আর সত্যি কথা বলতে কী, আমার হাসি-ই পাচ্ছে এসব বলতে।অদ্ভুত লাগছে ২০ বছরের একটি ছেলের ছবি নিয়েও ফেক পোস্ট করা হচ্ছে...আর শুধু তাই নয়, এই ব্যাপারটার সঙ্গে আমাকেও জুড়ে দেওয়া হল! ওই ফেক প্রোফাইল থেকে কী করে জানেন তো? ধরুন, আমি কোনও পোস্ট করলাম অথবা কোনও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বর সঙ্গে ছবি দিলাম...এরপর সেই ছবিটাকেই ধরে ওর পাশে এদিক ওদিক মিশুককে বসিয়ে একটা ছবি তৈরি করে পোস্ট করে দিল!” 'বুম্বাদা'র ছেলে এই বছর প্রথম ভোট দিলেন।
58 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 11:06 AM
মমতার পদত্যাগ প্রত্যাখ্যানের পর ক্ষমতায় আসছে টিএমসি সরকার

মমতার পদত্যাগ প্রত্যাখ্যানের পর ক্ষমতায় আসছে টিএমসি সরকার

বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। নিয়ম মতো নতুন সরকার শপথ নেবে। রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হার স্বীকার করতেও রাজি নন তিনি। স্পষ্ট বলে দিলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি।’ একই সঙ্গে তিনি এখন ‘ফ্রি বার্ড’ বলেও মুক্ত কন্ঠে ঘোষণা করে দিলেন মমতা।গতকাল অর্থাৎ সোমবার গণনা শেষের পরেই এ দিনের সাংবাদিক সম্মেলনের ঘোষণা করেছিলেন মমতা। সেই মতো বিকেল ৪টেয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হন তিনি।বিস্তারিত আসছে...
100 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 10:50 AM
নবান্নায় সরকারি কর্মীদের দ্বারা বিজেপির নির্বাচনী বিজয় উদযাপন

নবান্নায় সরকারি কর্মীদের দ্বারা বিজেপির নির্বাচনী বিজয় উদযাপন

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক ভবন নবান্নের পরিবেশেও পরিবর্তনের বার্তা স্পষ্ট। মঙ্গলবার সরকারি কর্মীদের মুখে শোনা গেল ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় এসেছে। এর পরদিনই নবান্নের অন্দরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি উচ্ছ্বাস, কর্মীদের মধ্যে গেরুয়া আবির খেলার দৃশ্যও দেখা যায়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বহু কর্মী এই উদযাপনে অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য, এতদিন তাঁরা ভয়ের মধ্যে কাজ করতেন, কিন্তু নতুন সরকার আসায় সেই চাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে অনুভব করছেন। পাশাপাশি, নতুন প্রশাসনের কাছে তাঁদের বিভিন্ন প্রত্যাশার কথাও উঠে আসে। বিশেষ করে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র দাবি নিয়েও কর্মীদের মধ্যে আলোচনা শোনা যায়। এর আগেও, নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর কিছু সমর্থক নবান্নের বাইরে জড়ো হয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলেন এবং গেরুয়া পতাকা ওড়ান। সেই আবহই এবার প্রশাসনিক ভবনের ভিতরেও প্রতিফলিত হয়েছে। এই নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা আশির ঘরে আটকে গিয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির সাফল্য লক্ষণীয়। এমনকি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিগুলিও এবার তাদের হাতছাড়া হয়েছে। এই ফলাফলের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বড় পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
93 shares
😐
A
AajKaal News
May 5, 2026, 10:49 AM
পশ্চিমবঙ্গে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ

পশ্চিমবঙ্গে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌‘‌আমি ভোটে হারিনি। পদত্যাগ করব না।’‌ কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠকে জোর গলায় একথা বললেন মমতা। বিধানসভা ভোটে হারের পর মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। কালীঘাটে। ছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম, ডেরেক ও‘‌ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ ব্যানার্জিরা। ভবানীপুরে এবার হেরে গিয়েছেন ঘরের মেয়ে। জিতেছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। তারপর থেকেই জল্পনা এবার কী পদক্ষেপ নেবেন মমতা। তিনি লোকসভা ভোটে লড়বেন?‌ নাকি বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধিতা আরও বাড়াবেন। সেদিকেই ছিল নজর। সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই মমতা জানান, ‘‌একশো আসন জোর করে লুঠ করা হয়েছে। এসআইআর করে ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। এরকম কোনও ভোটে দেখিনি। আমি ভোটে হারিনি। কেন পদত্যাগ করব। আমরা হারিনি, তাই রাজভবন কেন যাব?‌’‌ মমতার অভিযোগ, ‘সব পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। ভোটের আগে আধিকারিকদের বদল করা হয়েছে। ভোটের দিন দুয়েক আগেই আমাদের একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’‌ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জানিয়ে দেন মমতা। বলেন, ‘‌ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী করাই হবে লক্ষ্য। এখন আমি মুক্ত পাখি। মানুষের সেবায় কাজ করব। রাস্তায় ছিলাম। রাস্তায় থাকব।’‌ মমতা আরও অভিযোগ করেন, ‘‌উত্তর থেকে দক্ষিণে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকাতেই ছিল না। ছিল বিজেপি গুন্ডাদের দাপট। তৃণমূল কর্মীদের উপর ক্রমাগত অত্যাচার করা হয়েছে।’‌ হারের জন্য নির্বাচন কমিশনকেও দায়ী করেছেন মমতা। মমতা জানান, ‘‌বিরোধী ঐক্য শক্তিশালী করতে বুধবার অখিলেশ আসছে। একে একে সবাই আসবে। সোনিয়াজি, রাহুলের সঙ্গে কথা হয়েছে।’‌ মমতার আরও প্রশ্ন, ‘‌এটা সিআরপিএফ না বিজেপির গুন্ডা বাহিনী। আমরা সিপিএমের কোনও পার্টি অফিস দখল করিনি। তিনদিন করে বিজেপির কেন্দ্রীয় বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। এবারের ভোটের সন্ত্রাস সমস্তকিছুকে ছাপিয়ে গেছে।’‌ মমতার আরও অভিযোগ জানান, ‘‌কাউন্টিং থেকে আমাকে মারতে মারতে বের করা হয়েছে। যেভাবে আমার উপর অত্যাচার হয়েছে, একজন মহিলা হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আমি ধারণা করতে পারি। প্রথমে আমার গাড়ি থামানো হয়, পরে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।’‌ শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘‌পেটে লাথি, পিঠে ধাক্কা মারা হয়েছে। হিস্ট্রি উইল রিপিট। উই উইল বাউন্স ব্যাক।’‌ মমতা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানান, ‘‌আমরা অ্যাকশন নেব, সেটা এখনই জানাচ্ছি না। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তৈরি হবে।, যে কমিটিতে পাঁচ জন সাংসদ ছাড়াও আরও পাঁচ জন থাকবেন।’‌পাশাপাশি মা–মাটি মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মমতা। সঙ্গে জুড়েছেন, ‘‌চেয়ারকে কেয়ার করি না। চাই লেস ইম্পর্ট্যান্ট মানুষ হিসেবে থাকতে। আমাদের লড়াই বিজেপির সঙ্গে নয় ছিল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে দল।’‌
59 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 10:45 AM
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আগে বঙ্গোপসাগরে নোটাম জারি করল ভারত

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আগে বঙ্গোপসাগরে নোটাম জারি করল ভারত

বঙ্গোপসাগরের এক বিশাল এলাকা জুড়ে আকাশ পথে সতর্কতা বা ‘নোটাম’ (NOTAM) জারি করেছে ভারত। আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত বলবৎ থাকবে এই সতর্কতা। বঙ্গোপসাগরের প্রায় ৩,৫৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাকে ‘বিপজ্জনক অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আগাম প্রস্তুতি। এই ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভবত ‘অগ্নি-৪’ (Agni-IV), যা প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৪,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এই মিসাইল ১,০০০ কেজি ওজনের পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে এবং ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।অনেকের মতে, ২০২৫ সালের মে মাসের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তির সময়েই এই পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি মূলত ভারতের সামরিক শক্তি ও প্রস্তুতির একটি বড় বার্তা। গত কয়েক মাসে ভারত ধারাবাহিক ভাবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পরীক্ষা বাড়িয়েছে। তবে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে এ প্রসঙ্গে ‘নোটাম’ জারি করার কোনও কারণ জানানো হয়নি।অগ্নি সিরিজ়ের পাশাপাশি কে-৪ এবং হাইপারসনিক LRAShM ভারতের সামরিক শক্তিকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। এর পাশাপাশি ব্রহ্মস ক্রুজ় মিসাইল তৈরির কাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। ২০২৭ সালের শেষের দিকে উন্নত ব্রহ্মস ভারতীয় সেনা বাহিনীতে যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।‘নোটাম’ জারি করার অর্থ, নির্দিষ্ট ওই সময়ে কোনও বেসামরিক বিমান নির্দিষ্ট আকাশ সীমায় প্রবেশ করতে পারবে না। বিশেষ কোনও সামরিক অভিযান বা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সময়ে নিরাপত্তার খাতিরেই এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সময়েও এই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এর ফলে সামরিক বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন চলাচলের পথে কোনও বাধা থাকে না। আকাশ পথে বড় কোনও দুর্ঘটনা এড়াতে এবং সামরিক কার্যক্রমের গোপনীয়তা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
48 shares
😐
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 10:32 AM
টিভি শো ব্যর্থতাঃ শতদ্রু প্রশাসনিক চাপকে দায়ী করে সত্য-প্রকাশ সংবাদ সম্মেলনের পরিকল্পনা করেছে

টিভি শো ব্যর্থতাঃ শতদ্রু প্রশাসনিক চাপকে দায়ী করে সত্য-প্রকাশ সংবাদ সম্মেলনের পরিকল্পনা করেছে

এদিন শতদ্রু দাবি করেছেন, প্রশাসনিক চাপেই তাঁকে একাধিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানের ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর কথায়, তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছিল। এমনকি ৩৮ দিন জেলে কাটানোর কথাও উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, এতদিন পরিবারকে রক্ষা করতেই চুপ ছিলেন। অরূপ বিশ্বাসের পরাজয়ের প্রসঙ্গ টেনে শতদ্রু লিখেছেন, ‘এবার আর চুপ নয়, সত্য সামনে আনবই।’ খুব শীঘ্রই সাংবাদিক সম্মেলন করে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের কথাও জানিয়েছেন শতদ্রু।
14 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 10:27 AM
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপিকে সমর্থন পশ্চিমবঙ্গের অটো রিকশা চালকদের

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপিকে সমর্থন পশ্চিমবঙ্গের অটো রিকশা চালকদের

রাজ্যে ১৫ বছর পর ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক আবহের প্রভাব পড়েছে পরিবহন ক্ষেত্রেও। মঙ্গলবার সকালে দেখা গেল, শহরের বিভিন্ন প্রান্ত— বেহালা, ঠাকুরপুকুর, তারাতলা, রাসবিহারী, কসবা, রুবি থেকে শুরু করে উল্টোডাঙা, বাগবাজার ও বারাকপুর— প্রায় সর্বত্রই অটোর মাথায় উড়ছে গেরুয়া পতাকা। অনেক অটোচালকই নতুনভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে রাস্তায় নেমেছেন। বালিগঞ্জের একটি অটোস্ট্যান্ডে দেখা যায়, চালকেরা বিজেপির পতাকা বাঁধছেন, গেরুয়া আবির খেলছেন এবং ডিজের তালে নাচছেন। স্থানীয় এক অটোচালকের কথায়, ‘নতুন করে বিজেপি ইউনিয়ন গড়ার ডাক এসেছে, তাই আমরা একসঙ্গে যোগ দিচ্ছি।’ যদিও অনেকেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই এই পরিবর্তন। তাঁদের অভিযোগ, আগে নির্দিষ্ট রুটে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অটো নামানো হত এবং পারমিট পেতে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করতে হত। পাশাপাশি পুলিশের জরিমানাও বেড়েছিল, যা চালকদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছিল। এক অটোচালকের কথায়, ‘একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের ফলই আজ সামনে এসেছে।’ অন্যদিকে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবেও অটোভাড়া বেড়েছে, যার ফলে সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দায় চাপানো নিয়েও পরিস্থিতি জটিল হয়েছিল। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রত্যাশায় অটোচালকদের একাংশ আশাবাদী। তাঁদের মতে, এবার হয়ত নীতি ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
77 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 10:24 AM
উদয়নারায়ণপুরে বিজেপি কর্মীকে হত্যা

উদয়নারায়ণপুরে বিজেপি কর্মীকে হত্যা

উদয়নারায়ণপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর করে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম যাদব বর (৪৫)। সোমবার রাতে উদয়নারায়ণপুরের দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ মানশ্রী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং শুরু হয়েছে তদন্ত। ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে বলে খবর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে এলাকায় কয়েকজন যুবক মিলে পিকনিক করছিলেন। সেই সময় যাদব বরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এরপরে বাড়ি ফিরে কিছুক্ষণ পর তিনি কাছেই স্নান করতে যান। অভিযোগ, সেই সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর উপর হামলা চালায়। লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, যাদব বর তাদের সমর্থক ছিলেন এবং রাজনৈতিক কারণে তাঁকে খুন করা হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের কর্মীরাই বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তাই এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।
93 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 10:21 AM
নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকে গার্ড রেল সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকে গার্ড রেল সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে সরানো হলো গার্ডরেল। মঙ্গলবার থেকে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের এই অংশেও বিনা বাধায় চলাচল করতে পারবে গাড়ি, যাতায়াত করতে পারবেন সাধারণ মানুষ। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের রাস্তায় এই গার্ডরেল বসানো ছিল। সোমবার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মমতার হার এবং রাজ্যের সিংহভাগ আসনে বিজেপির জয়জয়কারের পরের দিনই সকাল সকাল সরলো গার্ডরেল।সোমবার যে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের রাস্তায় অবাধ যাতায়াতে বাধা ছিল, এ দিন থেকে আর কোনও বাধা নেই সেখানে। যে গলি ধরেমমতার বাড়িতে যেতে হয়, কয়েক বছর ধরেই নিরাপত্তার প্রয়োজনে সেখানে গার্ডরেল বসানো ছিল। সেই গার্ডরেলের নীচে পোক্ত চাকা লাগানো। সঙ্গে একটি ধাতব ট্র্যাক বা চ্যানেলও পাতা হয়েছিল রাস্তায়। প্রয়োজন মতো গার্ডরেল টেনে সরিয়ে দেওয়া হতো। প্রয়োজন মতো তা দিয়ে রাস্তা আটকে দিতেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা।তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল ভোটে হেরে যাওয়ার পরে এ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বদল এল তৃণমূল সুপ্রিমোর নিরাপত্তা বলয়ে। এ দিন থেকেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলির মুখের সেই গার্ডরেল সরে গেল। ফলে এ বার থেকে যে কোনও গাড়ি চলাচল করতে পারবে এই রাস্তায়।
7 shares
😢