শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: উদ্দেশ্য কি স্রেফ ভোটার হয়রানি? নাকি স্রেফ চূড়ান্ত তালিকা থেকে ‘বৈধ’ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার নয়া কৌশল! কারণ, এসআইআরের শুনানিতে নথি হিসাবে পাসপোর্টের কপি জমা দিলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না। দেখাতে হবে বাবা-মায়ের নথিও। এই যুক্তিতে এবার কয়েক লক্ষ আনম্যাপড ভোটারকে ফের শুনানির নোটিস পাঠাল নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, দ্বিতীয় শুনানিতে ডাক পাওয়া ওই ভোটাররা যদি বাবা-মায়ের নথি না দেখাতে পারেন, সেক্ষেত্রে তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে। এসআইআর বিজ্ঞপ্তি জারির সময় কমিশন স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, যাঁরা আনম্যাপড ভোটার, অর্থাৎ ২০০২ সালের তালিকায় যাঁদের নিজের ও কোনও আত্মীয়ের নাম নেই, তাঁদের শুনানির সম্মুখীন হতে হবে। কমিশন এও জানিয়েছিল, এই আনম্যাপড ভোটারদের নথি দিয়ে প্রমাণ করতে হবে, তিনি ভারতীয়। সেক্ষেত্রে মোট ১৩টি নথি নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম ছিল পাসপোর্ট। কিন্তু সূত্রের খবর, শুনানিতে পাসপোর্টের কপি জমা দেওয়া কয়েক লক্ষ ভোটারকে ফের শুনানিতে ডেকেছে কমিশন। যুক্তি, তাঁরা বাবা-মায়ের কোনো নথি দেখাতে পারেননি। এবার তাঁদের কাছে সেই নথি চাওয়া হচ্ছে। যেসব আনম্যাপড ভোটারের জন্ম ১৯৮৭ সালের এপ্রিলের পর থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে, তাঁদের বাবা অথবা মায়ের কোনো নথি পেশ করা আবশ্যিক। এছাড়াও যেসব ভোটারের জন্মতারিখ ২০০৪ সালের পর, তাঁদের বাবা এবং মা দু’জনের নথিই দিতে হবে। অন্যথায় তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে না। যাদবপুর বিধানসভার জয়া সেন, গৌরী সাহা কিংবা মুর্শিদাবাদের ভোটার জিয়াউল শেখ! এই যুক্তিতেই দ্বিতীয়বার নোটিস পেয়েছেন। তাঁদের সকলেরই প্রশ্ন, কমিশনের কথা মতো পাসপোর্টের কপি জমা দেওয়ার পরও তা গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। এখন বাবা-মায়ের নথি চাওয়া হচ্ছে। তাহলে কি পাসপোর্ট ভারতীয় হওয়ার প্রমাণ নয়? যদিও ইআরওরা জানাচ্ছেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁদের করার কিছু নেই। কমিশনের দেওয়া সিস্টেমে যেমনটা রয়েছে, সেভাবেই কাজ হচ্ছে। অন্যথায় নথি আপলোড করা যাচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, শুধুই কি হয়রানি? না কি নেপথ্যে অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে? কারণ পাসপোর্টকে বৈধ নথি হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে কমিশনই তালিকা স্থির করেছে। তাহলে এখন কেন আনম্যাপড ভোটারদের থেকে বাবা-মায়ের নথি চাওয়া হচ্ছে? তাহলে কি বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিতেই এই কৌশল?
অনির্বাচিত ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশনের নতুন প্রয়োজনীয়তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে
Bartaman Patrika•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Bartaman Patrika
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.