নতুন বছরের শুরুতেই ফের আতঙ্কের পরিবেশ আইটি ও ই-কমার্স দুনিয়ায়। বছর বদলালেও কর্মী ছাঁটাইয়ের ধারা যে থামছে না, তারই আরও এক নজির তৈরি করতে চলেছে বিশ্বের বৃহত্তম ই-কমার্স সংস্থা অ্যামাজন। সংস্থা সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহেই ফের এক দফা কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটতে চলেছে তারা। এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে কর্মী মহলে।অ্যামাজনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংস্থার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কর্মী সংখ্যা কমানো হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস) খুচরো বিক্রেতা বিভাগ, প্রাইম ভিডিও এবং মানবসম্পদ সংক্রান্ত শাখা যা ‘পিপল এক্সপেরিয়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ নামে পরিচিত। এই সব ইউনিটে কর্মরত বহু কর্মীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ২০২২ সালে প্রায় ২৭ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল অ্যামাজন। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালেও এক ধাক্কায় প্রায় ৩০ হাজার কর্মীকে বসিয়ে দেয় সংস্থাটি। টানা দু’বছর বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাইয়ের পরও যে পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি, ফের ছাঁটাইয়ের খবরে তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা অতিমারির সময় অনলাইন পরিষেবার চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করেছিল অ্যামাজন। ই-কমার্স, ক্লাউড সার্ভিস এবং ডিজিটাল বিনোদনের ক্ষেত্রে তখন অভূতপূর্ব ব্যবসায়িক লাভ দেখা গিয়েছিল। কিন্তু অতিমারির পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সেই অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ এখন সংস্থার কাছে ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খরচ কমানো এবং লাভ বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই কর্মী সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে সংস্থার তরফ থেকে ইঙ্গিত মিলেছে। অ্যামাজনই একমাত্র সংস্থা নয়। গত কয়েক বছরে ফ্লিপকার্ট-সহ একাধিক বড় ই-কমার্স ও প্রযুক্তি সংস্থা কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে। এমনকি ভারতের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বিভিন্ন সময়ে কর্মী সংখ্যা কমিয়েছে। এর ফলে গোটা আইটি সেক্টরেই চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।একদিকে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা, এই দুইয়ের চাপেই কর্মসংস্থানের বাজার ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন বছরের শুরুতেই ফের অ্যামাজনের ছাঁটাইয়ের খবরে সেই আশঙ্কাই আরও গভীর হল।
অনলাইন পরিষেবার চাহিদা পরিবর্তনের মধ্যে আমাজন আরও এক দফা ছাঁটাইয়ের ঘোষণা করেছে
Dainik Statesman•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Dainik Statesman
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.