২০২২ সাল। মাহসা আমিনির মৃত্যুর পরে বাধ্যতামূলক ভাবে হিজাব পরার আইনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল ইরান। একের পর এক মহিলা হিজাব ছুড়ে ফেলে, কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে আলি খামেনেই নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। ৫৫১টি প্রাণ বলি দিলেও দমন-পীড়নে সেই বিক্ষোভের আগুন ধামাচাপা দিয়েছিল ইরানের সরকার। সেই ছা্ই চাপা আগুন এখন ফের দাউদাউ করে জ্বলে উঠেছে সেই দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে। গত ১৩ দিন ধরে একটু একটু করে গোটা ইরান জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিবাদের আগুন। আর মাথার চুল কেটে হিজাব প্রতিবাদের মতোই এ বারের প্রতিবাদও পেয়েছে এক নতুন ভাষা।সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল একটি দৃশ্য— ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবিতে আগুন ধরিয়ে, সেই আগুনেই সিগারেট ধরাচ্ছেন ইরানি তরুণীরা। ইরান বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দৃশ্য শুধুমাত্র একটি ভিডিয়ো নয়। একে খামেনেই সরকারের উপরে দ্বিমুখী চপেটাঘাত বলা যেতে পারে।ইরানে খামেনেইয়ের অবমাননা করা গুরুতর অপরাধ। অন্যদিকে, মহিলাদের প্রকাশ্যে ধূমপানকেও সেখানে ‘অশালীন’ ও সমাজবিরোধী কাজ হিসেবে দেখা হয়। খামেনেইয়ের জ্বলন্ত ছবি দিয়ে সুখটানে, ইরানি মহিলারা একই সঙ্গে রাজনৈতিক স্বৈরতন্ত্র এবং কট্টর ধর্মীয় অনুশাসন— উভয়কেই একযোগে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন।মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং খাদ্যের আকাশছোঁয়া দামে ধুঁকছে ইরান। সেটাই বছর খানেক আগের চাপা পড়া বিক্ষোভকে ফের উস্কে দিয়েছে। রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে বদল চাইছেন সেই দেশের সাধারণ মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে ছড়িয়ে পড়া সিগারেট ধরানোর এই ভিডিয়োগুলিই বলে দিচ্ছে ডান্ডা দিয়ে যতই ক্ষোভ-বিক্ষোভ ঠান্ডা করার চেষ্টা হোক, তাতে বিশেষ কাজ হচ্ছে না।🇮🇷 Las mujeres de Irán vuelven tendencia fotografiarse prendiendo un cigarrillo con la foto en llamas del líder supremo, Ali Jamenei.pic.twitter.com/ufYLoNaphUখামেনেই প্রশাসন অবশ্য চুপ করে বসে নেই। গত বারের মতো এই বারও দমন-পীড়নের আশ্রয় নিয়েছে ইরান সরকার। ১৩ দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে ইতিমধ্যেই ৪২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন করা হয়েছে বিক্ষোভে সামিল দুই হাজারের বেশি মানুষকে।শুক্রবার খামেনেই নিজেই আন্দোলনকারীদের ‘বিদেশি চর’, ‘বর্বর দাঙ্গাবাজ’ এবং ‘ইজ়রায়েল-আমেরিকার এজেন্ট’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে পেলেট ছুড়ছে সেখানকার পুলিশ। কিছু মহিলার অভিযোগ, ইচ্ছে করে মহিলাদের চোখ লক্ষ্য করে পেলেট ছোড়া হচ্ছে।তবে এতে ভয় পাওয়ার বদলে তেহরান থেকে রাশত— ক্রমে রাজপথের দখলে নিচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাদের সাফ কথা, ‘ওরা আমাদের গাড়ি পোড়ায়, মা-বোনদের তুলে নিয়ে যায়। এ বার আমরাই ওদের ভ্যান পোড়াব। এই দেশ আমাদের।’ মাহসা আমিনির মৃত্যুতে যে স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়েছিল, তা এখন দাবানল হয়ে গ্রাস করতে চাইছে ইরানের বর্তমান শাসনকে।
ইরানের অর্থনৈতিক বিপর্যয় খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে বিক্ষোভের সূত্রপাত করেছে
EI Samay•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.