মহিলাদেরপ্রিমিয়ার লিগ খেলছেন স্মৃতি মন্ধানা। তাঁর নেতৃত্বে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সবেঙ্গালুরু ফাইনালে উঠে গিয়েছে। মন্ধানা নিজেও ভাল ফর্মে রয়েছেন। টি-টোয়েন্টিলিগের মাঝেই আরসিবিকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। তাতে উঠে এসেছে গত বছর একদিনের বিশ্বকাপের সময় তাঁর সমস্যার কথা। ইংল্যান্ডেরবিরুদ্ধে লিগের ম্যাচের পরের দিন বিমানে কোনও সতীর্থের সঙ্গে কথা বলেননি ভারতীয়দলের সহ-অধিনায়ক। বিশ্বকাপের প্রথম দু’টিম্যাচ জেতার পর টানা তিনটি ম্যাচ হেরেছিল ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের কাছে হারার পর হরমনপ্রীত কৌরদের সেমিফাইনালেওঠা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৮৮ রানের ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতেপারেননি মন্ধানা। তার পরের দিন বিমানে কারও সঙ্গে কথা বলেননি তিনি। টানা তিন ম্যাচহারার পর ভারতীয় শিবিরে কি কোনও অশান্তি হয়েছিল? মন্ধানার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বাকিদের? নাতেমন কিছুই হয়নি। মন্ধানা নিজেই হতাশায় ডুবে গিয়েছিলেন। আরসিবিকে দেওয়াসাক্ষাৎকারে মন্ধানা বলেছেন, ‘‘বিশ্বকাপের আগে খুব ভাল ফর্মেছিলাম। তা-ও প্রথম তিনটে ম্যাচ পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। এক দিনের ক্রিকেটেপ্রথম ১০ ওভারের মধ্যে আউট হতে চাই না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ হারার পরনিজের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। বোঝার চেষ্টা করেছিলাম, কী সমস্যা হচ্ছে। কোথায় ভুল করছি। নেটে কিন্তুভালই ব্যাট করছিলাম। হয় চাপে পড়ে যাচ্ছিলাম, নয়তোম্যাচে শট নির্বাচন ভুল হচ্ছিল। ঠিক সমস্যাটা বুঝতে পারছিলাম না। ভাল খেলতেপারছিলাম না। প্রথম তিন ম্যাচের খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। পরের ইংল্যান্ড ম্যাচটায়আমি ৮০-র বেশি রান করলাম। তবু দল হেরে গেল। ফর্ম ফিরে পেয়েও জেতাতে পারিনি। সেইহারের পর হতাশা আরও বেড়ে যায়।’’ কী মনে হয়েছিলইংল্যান্ড ম্যাচের পর? মন্ধানাবলেছেন, ‘‘শুধু মনে হচ্ছিল, আবারশট নির্বাচনে ভুল করলাম। পরের দিন বিমানে চুপচাপ বসেছিলাম। ভীষণ হতাশ লাগছিল। কথাবলতে ইচ্ছে করছিল না। বিমানে কারও সঙ্গে কোনও কথা বলিনি। এ রকম আর কখনও হয়নি আমার।মনের মধ্যে একটা উদ্বেগ কাজ করছিল। এতটা চাপও কখনও অনুভব করিনি। মনে হচ্ছিল ঘরেরমাঠে বিশ্বকাপেও সেমিফাইনালে উঠতে না পারলে, সেটাভারতের মহিলা ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতি হবে। আমরা ২০ বছর পিছিয়ে যাব। এমন অবস্থাহয়েছিল যে, নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগেররাতে একটুও ঘুমোতে পারিনি।’’ ইংল্যান্ড ম্যাচেফর্ম ফিরে পাওয়া মন্ধানা শতরান করেছিলেন নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তাঁর ৯৫ বলে১০৯ রানের ইনিংস ভারতকে তিন ম্যাচ পর জয়ে ফিরিয়েছিল। মন্ধানা বলেছেন, ‘‘নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচটা আমাদের জন্য খুবগুরুত্বপূর্ণ ছিল। জয়টা আমাদের প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে এনেছিল। ওই শতরানটার গুরুত্বআমার কাছে তাই আলাদা। তার আগে আমাদের অনেক কিছু বলা হচ্ছিল। যদিও দল হিসাবে আমরাপ্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখিনি। এক রাতেই মানুষকে বদলে যেতে দেখেছিলাম আমরা। দলেআমরা সব সময় পরস্পরের পাশে থাকি। ঘরের মাঠে সেমিফাইনালেও উঠতে না পারলে অত্যন্তলজ্জার হত আমাদের সকলের জন্য।’’ নিউ জ়িল্যান্ডেরবিরুদ্ধে পাওয়া ছন্দ এবং আত্মবিশ্বাস বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত ধরে রেখেছিলেনমন্ধানারা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ফাইনালে হারিয়ে প্রথম বার মহিলাদের এক দিনেরবিশ্বকাপও চ্যাম্পিয়ন হন তাঁরা।
একদিনের বিশ্বকাপ চলাকালীন ভারতীয় ক্যাম্পে অশান্তি নিয়ে মুখ খুললেন স্মৃতি মান্ধানা
Ananda Bazar•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Ananda Bazar
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.