বিশ্বরূপ বিশ্বাস, চোপড়াএক অতিথি শিক্ষকের অবসরের জেরে বন্ধ হয়ে গেল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কালিগছ আদিবাসী জুনিয়র হাই স্কুল। ৩১ জানুয়ারি স্কুলের দরজায় তালা ঝোলানো হয়। পরিকাঠামো থাকলেও শিক্ষক না থাকায় বন্ধ হয়ে গেল আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। স্কুলের পড়ুয়াদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২২-এ এই স্কুলের এক স্থায়ী শিক্ষক বদলি হন। এরপরে ২০২৫-এ আরও একজন স্থায়ী শিক্ষক বদলি হয়ে যান। স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্কুলটি চালিয়ে আসছিলেন একমাত্র অতিথি শিক্ষক প্রদীপকুমার ঘোষ।শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে একাই স্কুল পরিচালনা করতেন তিনি। পরে অবশ্য পড়ুয়া সংখ্যা কমে ৩৩ জনে এসে পৌঁছায়। তবে ৩১ জানুয়ারি তাঁর অবসর গ্রহণের পরে স্কুলে আর কোনও শিক্ষকই রইল না। তাই বিকাশ ভবন থেকে নির্দেশ আসে, স্কুলে থাকা ৩৩ জন ছাত্রছাত্রীকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে অন্যত্র ভর্তি করাতে হবে। নির্দেশ মেনে ওই অতিথি শিক্ষক পড়ুয়াদের টিসি প্রদান করেন। সমস্ত দায়িত্ব শেষ করে ৩১ জানুয়ারি স্কুলে এসে তালা লাগিয়ে বেরিয়ে যান তিনি।জুনিয়র হাইস্কুলের পাশেই থাকা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিবলাল সিংহ বলেন, 'প্রথম থেকেই দেখেছি, ওই জুনিয়র হাই স্কুলে যে শিক্ষকই আসেন, নানা অজুহাতে বদলি নিয়ে চলে যান। প্রদীপ একাই স্কুল চালাতেন। এমনও দিন গিয়েছে যে, আমরা গিয়ে ওখানে ক্লাস করিয়েছি। শেষ পর্যন্ত স্কুলটা বন্ধই হয়ে গেল। ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে খুব খারাপ লাগছে।'অবসরপ্রাপ্ত অতিথি শিক্ষক প্রদীপ ঘোষ বলেন, 'আমি একার হাতেই স্কুল সামলাতাম। অবসর নেওয়ার সময়ে নির্দেশ এল পড়ুয়াদের টিসি দিয়ে অন্যত্র ভর্তি করাতে হবে। আমি আমার দায়িত্ব পালন করে অবসর নিয়েছি। কিন্তু স্কুলটা বন্ধ হওয়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে। শিক্ষক নিয়োগ করলে স্কুল চালানো যেত। এখন স্কুলের সামনে দিয়ে গেলে মন খারাপ হয়ে যাবে।'গত বছর ওই স্কুল থেকে বদলি নেওয়া শিক্ষক রমিতকুমার দাস বলেন, '২০১৪-তে আমার শিক্ষকতা জীবনের প্রথম স্কুল কালিগছ আদিবাসী জুনিয়র হাই স্কুল। ২০২৫-এ আমি বদলি হই। আমার স্ত্রীর শারীরিক সমস্যা ছিল, তাই আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলাম, যাতে আমাকে বদলি করানো হয়। শুনলাম স্কুলটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সত্যি খুব খারাপ লাগছে।' শেফালি মুর্মু নামে এক অভিভাবক ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, 'তিন-চার কিলোমিটার পথ পেরিয়ে আমার ছেলে এখন মাঝিয়ালি হাই স্কুলে যায়। রাজ্যে মেলা-খেলা সব হয়। কিন্তু শিক্ষার এমন অবস্থা কেন? আমরা আদিবাসী বলেই কি অবহেলিত?' চোপড়ার অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক ফারুক মণ্ডল বলেন, 'শিক্ষকের অভাব তো ছিলই পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীও কমে যাচ্ছিল। আমি জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে বিষয়টি জানিয়েছি, যাতে আবার নতুন ভাবে বিদ্যালয়টি চালু করা যায়।'
একমাত্র অতিথি শিক্ষকের অবসর গ্রহণের কারণে উত্তর দিনাজপুরের স্কুল বন্ধ
EI Samay•
Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.