এই সময়:জোটের জন্য কংগ্রেসের দিকে আর তাকিয়ে না–থেকেই ২০২৬–এর বিধানসভা ভোটে লড়াই করার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। আবার একই সঙ্গে নিচু তলায়, বুথস্তরে কংগ্রেসকর্মীদের পাশে টানার জন্য তিনি দলের নেতা–কর্মীদের বার্তাও দিয়েছেন। মঙ্গলবার সেলিম বলেন, ‘আমরা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেখব বলে ঠিক করেছিলাম। কয়েক দিন আগে আমরা জানতে পারলাম, কংগ্রেসের তরফে তৃণমূলের কাছে কিছু ‘ফিলার’ পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি আসনে সমঝোতার জন্য। কংগ্রেসের যদি অবস্থান (তৃণমূল ও বিজেপি–বিরোধী) না–থাকে, তা হলে আসন সমঝোতা হবে না।’সেলিমের এই বক্তব্য নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার কোনও মন্তব্য করেননি। উল্টে, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বুথ স্তরে কংগ্রেসকর্মীদের পাশে টানার কথা বলায় বিধান ভবনের কয়েক জন মুখপাত্র এ দিন সেলিমের সমালোচনা করেছেন। যদিও অধীর চৌধুরী কোনও মন্তব্য করেননি। এ দিন অধীর দিল্লি গিয়েছেন। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড ২০২৬–এর নির্বাচন নিয়ে বিধান ভবনের কয়েক জন নেতার সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দিল্লিতে বৈঠক করতে পারেন। এআইসিসি–র প্রবীণ এক সদস্যের দাবি, ‘সম্ভবত কংগ্রেস হাইকম্যান্ড থেকে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে পশ্চিমবঙ্গে আসন সমঝোতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। একই সঙ্গে অধীর চৌধুরী–সহ কয়েক জন নেতাকে ডেকে এ ব্যাপারে তাঁদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।’আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সূত্রের খবর, তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেস আসন সমঝোতায় আগ্রহী, এমন আঁচ পেয়েই সেলিম বিকল্প পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এ দিন বলেন, ‘সিপিআই এমএল–লিবারেশন–এর সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। বিজেপি–তৃণমূলকে পরাস্ত করার জন্য আমরা একসঙ্গে লড়াব। আইএসএফের সঙ্গে কথা হয়েছে। বামেদের সঙ্গে থেকে লড়াই করার বিষয়ে তারা নীতিগত ভাবে সম্মত।’ আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকি এ দিন বলেন, ‘জোটের কথা বলতে আমরা আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে গিয়েছি। বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের কাছ থেকে আমরা সবুজ সঙ্কেত পাইনি।’তৃণমূল এই জোট–জটিলতাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। প্রধান বিরোধী দল বিজেপি–ও বিষয়টাকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে না। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার বলেন, ‘দার্জিলিং থেকে দিঘা, সর্বত্র তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির লড়াই হবে। সিপিএমের একটি আসনেও জেতার ক্ষমতা আছে বলে মনে করি না। ২৯০ আসনে বামেদের জমানত যাবে, এটা বলতে পারি। আইএসএফ আছে শুধু ভাঙড়ে।’
কংগ্রেস জোট ছাড়াই 2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইঙ্গিত সিপিএম-এর
EI Samay•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.