নিশিগঞ্জ ও জামালদহ:বুধবার গভীর রাতে উত্তরবঙ্গের আকাশ চিরে নেমে এল প্রকৃতির রুদ্ররূপ। আচমকা শুরু হওয়া শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় কার্যত বিপর্যস্ত কোচবিহার (Cooch Behar Hailstorm)জেলার একাধিক ব্লক। কোচবিহার ১, মাথাভাঙ্গা ১ ও ২, শীতলকুচি এবং মেখলিগঞ্জ বিধানসভার জামালদহ ও উছলপুকুরী অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রকৃতির তাণ্ডবে তছনছ গ্রামের পর গ্রাম বুধবার রাত বাড়তেই হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। ঝড়ের দাপটের সঙ্গে শুরু হয় তীব্র শিলাবৃষ্টি। নিশিগঞ্জ ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কোদালধোয়া, শীতলকুচির পূর্ব কুর্শামারি, জোড়পাটকি এবং চান্দামারির বৈরাতি ও শোলমারি এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি ও ফসল নষ্ট (Crop Damage) হয়ে যায়। শিলাবৃষ্টির তীব্রতায় অসংখ্য বাড়ির টিনের ছাউনি ঝাঁঝরা হয়ে গিয়েছে। বহু মানুষ রাতারাতি গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। চাষিদের চরম বিপর্যয়: তামাক ও তরমুজে ব্যাপক ক্ষতি এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন জেলার অন্নদাতারা। তামাক, ভুট্টা ও আলুর খেত কার্যত মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে। বিশেষ করে মানসাই নদীর চরাঞ্চলে তরমুজ চাষিদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। চরাঞ্চলে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে তরমুজ চাষ করেছিলেন স্থানীয় কৃষকেরা। এক রাতের বৃষ্টিতে সেই ফসল নষ্ট হওয়ায় এখন তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের মুখে। চরাঞ্চল হওয়ায় সরকারি বিমা বা ক্ষতিপূরণ মিলবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। মাঠে বিধায়ক পরেশ অধিকারী (Paresh Chandra Adhikary), দ্রুত ত্রাণের আশ্বাস বৃহস্পতিবার সকালেই মেখলিগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনে যান বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারী। জামালদহ ও উচলপুকুরী অঞ্চলের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। বিধায়ক জানান, “বিপর্যয়ের এই মুহূর্তে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছি। কোচবিহারের জেলাশাসকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।” ইতিমধ্যেই কৃষি দপ্তরের পক্ষ থেকে ব্লকভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে সরকারি সাহায্য দ্রুত না পৌঁছোলে চরম আর্থিক সংকটে পড়বেন কোচবিহারের কয়েক হাজার কৃষক পরিবার।
কোচবিহার জেলায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের ফলে ক্ষয়ক্ষতি
Uttarbanga Sambad•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Uttarbanga Sambad
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.