আজকাল ওয়েবডেস্ক:ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬ হয়তো গড় মধ্যবিত্ত বেতনভোগী করদাতাদের তাৎক্ষণিক খুশি করতে পারেনি। আয়কর স্ল্যাবে বড় কোনও পরিবর্তন বা সরাসরি করছাড়ের ঘোষণা না থাকলেও, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের নবম বাজেট বক্তৃতার সূক্ষ্ম দিকগুলি বিশ্লেষণ করলে মধ্যবিত্ত ও ছোট বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু ইতিবাচক সুযোগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই সরকার ধীরে ধীরে স্বস্তি দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। আয়কর: পুরনো কাঠামোই বহালচলতি বছরে বেতনভোগী মধ্যবিত্তের জন্য নতুন কোনও আয়কর ছাড় ঘোষণা করা হয়নি। বাজেটে আগের কর কাঠামোই বজায় রাখা হয়েছে, যার ফলে বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত থাকছে। এর সঙ্গে ৭৫,০০০ টাকা স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন যোগ হওয়ায় মোট করমুক্ত আয়ের সীমা দাঁড়াচ্ছে ১২.৭৫ লক্ষ টাকা। কর স্ল্যাবেও কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি, যা সরকারের স্থিতিশীল নীতির ইঙ্গিত দেয়। কর যুক্তিকরণবাজেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল কর প্রদানের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং অতিরিক্ত বোঝা কমানো। মধ্যবিত্তের জন্য স্বস্তির খবর হল বিদেশে টাকা পাঠানো ও বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ট্যাক্স কালেক্টেড অ্যাট সোর্স হ্রাস। বিদেশি ট্যুর প্যাকেজ কেনার ক্ষেত্রে এই হার ৫ শতাংশ ও ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য লিবারালাইজড রেমিট্যান্স স্কিমের আওতায় পাঠানো টাকার উপর টিসিএস ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। কর রিটার্ন দাখিলে সময় বাড়লবাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা হবে। সাধারণ ব্যক্তিগত করদাতারা আগের মতোই ৩১ জুলাই পর্যন্ত ITR-1 ও ITR-2 জমা দিতে পারবেন। তবে নন-অডিট ব্যবসা ও ট্রাস্টগুলির জন্য সময় বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়েছে। এতে করদাতাদের উপর চাপ কিছুটা কমবে। ছোট বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষাছোট ও সংখ্যালঘু বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে শেয়ার বাইব্যাককে ডিভিডেন্ড না ধরে ক্যাপিটাল গেইন হিসেবে কর ধার্য করা হবে। এর ফলে খুচরো বিনিয়োগকারীদের কর বোঝা তুলনামূলকভাবে কমবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে করছাড় ও সস্তা পণ্যমোটর অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল থেকে প্রাপ্ত সুদের উপর আর আয়কর লাগবে না এবং এর উপর টিডিএসও কাটা হবে না। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও স্বস্তির খবর রয়েছে—প্রায় ১৭টি ক্যানসারের ওষুধের উপর শুল্ক মকুব করা হয়েছে। পাশাপাশি, আরও সাতটি বিরল রোগের ওষুধ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। টিভি, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, চামড়াজাত পণ্য ও জুতোর উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশও সস্তা হতে পারে। কর্মসংস্থানে জোরমধ্যবিত্তের জন্য পরোক্ষভাবে সবচেয়ে বড় স্বস্তি আসতে পারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে। সরকার ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার বাড়িয়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি করেছে। রেল, পর্যটন, লজিস্টিক্স ও প্রযুক্তি খাতে বাড়তি বরাদ্দ নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬-এ মধ্যবিত্তের জন্য সরাসরি করছাড় না থাকলেও ধাপে ধাপে স্বস্তি ও ভবিষ্যৎ বৃদ্ধির পথ তৈরি করার চেষ্টা স্পষ্ট।
কেন্দ্রীয় বাজেট 2026: মধ্যবিত্ত করদাতাদের জন্য পর্যায়ক্রমে স্বস্তি ও নীতিগত ধারাবাহিকতা
AajKaal News•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: AajKaal News
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.