সুশান্ত বণিকপরিবারের প্রথমে ছিল সাবানের ব্যবসা। এর পরে তাঁরা হার্ডওয়্যার ও আসবাবের ব্যবসা শুরু করে। পারিবারিক ‘ইমেজ’-ও ‘সফেদ’। তাতেই কি না ‘দাগ’ পড়ল! আসানসোলের জামুড়িয়ায় বনসল পরিবার সমৃদ্ধশালী হিসেবেই পরিচিত। মঙ্গলবার সেই বনসলদের বাড়িতেই ED হানা। প্রথমে খবরটা চাউর হতেই হকচকিয়ে গিয়েছিলেন অনেকেই। তার পরে ধীরে ধীরে শুরু হয় ফিসফাস। অভিযোগ, গত তিন চার বছর ধরেই সাবানের সঙ্গে সঙ্গে কয়লা ব্যবসাতেও হাত পাকাতে শুরু করেছিলেন বনসল পুত্র অমিত। সঙ্গে পেয়েছিলেন বাবা, জেঠু এবং জেঠতুতো ভাইকেও। আর সেই জন্যই ED-র নজরে এসেছে এই পরিবার। যে টুকু জানা গিয়েছে সবটাই যদিও অভিযোগ।মঙ্গলবার সকাল ৬টা নাগাদ ইডি–র ১৬ জন আধিকারিক তিনটি গাড়িতে পৌঁছয় পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের চার নম্বর ওয়ার্ডের জামুড়িয়া হাটতলা এলাকার সাবান ফ্যাক্টরির গলিতে। সেখানেই রয়েছে বনসলদের বাড়ি। ED সূত্রে খবর, বনসলের বাড়ি থেকে নগদ সমেত প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলি জামুড়িয়ার স্টেট ব্যাঙ্কে জমা করে ফের তল্লাশির কাজ শুরু করে ED। একইসঙ্গে রানিগঞ্জে বনসলের যে দোকান ও গুদাম রয়েছে, সেখানেও চলে অভিযান।যদিও বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারী সংস্থার তরফে কোনও অনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি।জামুড়িয়ার বনসল পরিবারের ব্যবসায়িক ভিত তৈরি হয়েছিল পূর্ব পুরুষের হাত ধরেই। যৌথ পরিবারের পূর্ববর্তী প্রজন্ম রাজেশ বনসল এবং রমেশ বনসল শুরু করেছিলেন সাবানের ব্যবসা। এর পরে তারা হার্ডওয়্যার ও আসবাবের ব্যবসা শুরু করে। অভিযোগ, বনসল পরিবারের অমিত হাত পাকান কয়লা ব্যবসায়। আর এই বাণিজ্য বিস্তারে তিনি পাশে পেয়েছিলেন গোটা পরিবারকে।ED সূত্রের খবর, কয়লা কারবারে যে টাকার লেনদেন হয়েছে, তার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়েছে অমিতের জেঠু রমেশ বনসলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। যদিও তাঁরা নিজেদের কাছে কখনও ‘অবৈধ কয়লা’ মজুত রাখেননি বলে দাবি। ED-র একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, রানিগঞ্জ জামুড়িয়া-সহ আশপাশের এলাকায় যে ছোটো ইস্পাত কারখানা ও ইস্পাত কারখানায় ব্যবহৃত তাপ নিরোধক ইট তৈরির চুল্লি রয়েছে, সেখানে কয়লা সরবরাহ করতেন অমিত। এই কারখানাগুলিতে অবৈধ ভাবে কয়লা সরবরাহের একছত্র অধিপতি হয়ে উঠেছিলেন তিনি, অভিযোগ এমনটাই। শুধু তাই নয়, অমিত ছাড়া অন্য কারও কাছে কয়লা কিনতে পারতেন না মালিকরা, এই অভিযোগও রয়েছে।এই কয়লা কোথা থেকে জোগাড় করতেন অমিত? ED-র একটি সূত্রের দাবি, আসানসোল রানিগঞ্জ, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং বীরভূমের কয়লা মাফিয়াদের তৈরি করা সিন্ডিকেট থেকে কয়লা নেন অমিত। তাঁর ‘সিগনেচার স্টাইল’ ছিল নিজের হেফাজতে কয়লা মজুত না রাখা। যতটুকু সরবরাহ করা প্রয়োজন, সেই মতো কয়লা কিনতেন তিনি। সিন্ডিকেটের থেকে যে দামে তিনি কয়লা কিনতেন, তার থেকে বেশি দামে বিক্রি করতেন। ব্যবসার সহজ ফর্মুলা ব্যবহার করেই তিনি ‘সফল’ হয়ে উঠেছিলেন।ED সূত্রে খবর, অবৈধ কয়লার কেনা-বেচার জন্য যে টাকার লেনদেন হতো, সে জন্য ব্যবহার করা হতো রমেশ বনসলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। অতীতে এই পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই। অবৈধ কয়লার ব্যাবসায় আগে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে কুলটির ডুবুরডিহি চেকপোস্ট এলাকায় একটি কয়লা মাফিয়ার সিন্ডিকেটে অভিযান চালানোর সময়ে রমেশ বনসলের অ্যাকাউন্টে অবৈধ কয়লার লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছিল। সেই সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।অভিযান চলার পরে বনসল পরিবারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও দেওয়া হয়নি।
কয়লা ব্যবসার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আসানসোলে বনসল পরিবারের বাড়িতে ইডি-র তল্লাশি
EI Samay•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.