Achira News Logo
Achira News

করোনারি আর্টারি ডিজিজ কোভিড-19 কে অতিক্রম করে বিশ্বের এক নম্বর ঘাতক হয়ে উঠেছেঃ গ্লোবাল বর্ডন অফ ডিজিজ রিপোর্ট

Bartaman Patrika
করোনারি আর্টারি ডিজিজ কোভিড-19 কে অতিক্রম করে বিশ্বের এক নম্বর ঘাতক হয়ে উঠেছেঃ গ্লোবাল বর্ডন অফ ডিজিজ রিপোর্ট
Full News
Share:

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: করোনা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের এক নম্বর ঘাতক কে? উত্তর একটাই। করোনারি আর্টারির ডিজিজ বা হার্টের ধমনির অসুখ। যে লাইফস্টাইল ডিজিজে হার্টের প্রধান রক্তবাহী নালীগুলিতে প্লাক জমে জমে সরু হয়ে একসময় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।সদ্য প্রকাশ পেয়েছে বিশ্বের অসুখবিসুখের পরিসংখ্যান সংক্রান্ত সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রিপোর্ট গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজেজ (জিবিডি)। সেখানে জানিয়েছে, ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের এক নম্বর ঘাতকের নাম ছিল করোনা বা কোভিড ১৯। প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছে করোনায়। কিন্তু ২০২৩ সালে তাকে স্থানচ্যুত করে জায়গার দখল নিয়েছে ইসকিমিক হার্ট ডিজিজ বা করোনারি আর্টারি ডিজিজ। ঘাতক রোগের তালিকা পরপর দুই থেকে পাঁচ নম্বর পর্যন্ত স্থান দখল করেছে যেসব অসুখ-বিসুখ বা সমস্যা, সেগুলি হল স্ট্রোক, সিওপিডি, শ্বাসনালির নীচের অংশের সংক্রমণ বা লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশনস এবং সদ্যোজাতদের সমস্যা। এদিকে উল্কার বেগে তাদের স্থানগুলি দখল করতে ছুটছে আরও চারটি সমস্যা। সেগুলি হল ডায়াবেটিস, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সমস্যা, হিংসা-সংঘর্ষ-সন্ত্রাসবাদে মৃত্যু এবং তাপপ্রবাহ বা হিট ওয়েভে মৃত্যুমিছিল!বিশিষ্ট হার্ট সার্জন ডাঃ সত্যজিৎ বসু বলেন, ‘গত কিছুদিনের মধ্যে ২৮, ৩৫ এবং ৪০—এই তিন অল্পবয়সি রোগীর বাইপাস সার্জারি করলাম। যতদিন যাচ্ছে, কমছে হার্টের ধমনির অসুখের কবলে পড়বার বয়স। মৃত্যুও বাড়ছে।’ বিশিষ্ট কার্ডিয়োলজিস্ট ডাঃ সরোজ মণ্ডল বলেন, ‘ক্যানসার আর হার্টের ধমনির অসুখের মধ্যে যেন মানুষ মারবার প্রতিযোগিতা চলছে। এখনই সাবধান হন। কায়িক পরিশ্রম, হাঁটাহাঁটি, ব্যায়ামে ফিরুন। মুখরোচক খাদ্যাভ্যাস পালটান।’এমন আশ্চর্য আশ্চর্য আরও বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে এই রিপোর্টে। যেমন—করোনাকালে মানুষের নিম্নগামী আয়ু আবার করোনার পূর্ববর্তী অবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে। জিবিডি রিপোর্টে ২০১৩ থেকে ২০২৩-এর পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকার মানুষের আয়ুর গ্রাফ প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, করোনা পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি আয়ু এখন উচ্চআয়ের দেশগুলিতে। আশিরও উপর! সেখানে প্রায় ৭৮ বছর অবধি বাঁচছেন ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব এশিয়া ও ওশিয়নিয়ার মানুষ। সর্বনিম্ন আয়ু সাব সাহারান আফ্রিকা অংশের।বিশ্বের বিভিন্ন অংশে মানুষের অকালমৃত্যু এবং ভগ্নস্বাস্থ্যেরই বা কারণ কী? এমন ১০ কারণও জানানো হয়েছে রিপোর্টে। সেগুলি হল হার্টের ধমনির অসুখ, সদ্যোজাতদের সমস্যা, স্ট্রোক, শ্বাসনালির নীচের অংশের অসুখ, সুগার, পথ দুর্ঘটনা, সিওপিডি, পতন বা ফল বা পড়ে যাওয়া, কোমরের ব্যথা এবং ডায়ারিয়াজনিত অসুখ। ২০১৩-২৩—এই ১০ বছরে বিশ্ববাসীর অকালমৃত্যু ও ভগ্নস্বাস্থ্যের জন্য দায়ী পাঁচ ঝুঁকিকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলি হল, উচ্চ রক্তচাপ, দূষণকণার উৎপাত, ধূমপান, হাই ব্লাড সুগার এবং উচ্চমাত্রার বিএমআই। এছাড়াও দুটি সিরিয়াস সমস্যা ঝড়ের গতিতে মানুষের স্বাস্থ্য নষ্ট করছে। মৃত্যুও ত্বরান্বিত করছে। সে-দুটি বিষয় হল, অবসাদ ও উৎকণ্ঠা। দুটিরই গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী।

Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Bartaman Patrika

Want to join the conversation?

Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.

করোনারি আর্টারি ডিজিজ কোভিড-19 কে অতিক্রম করে বিশ্বের এক নম্বর ঘাতক হয়ে উঠেছেঃ গ্লোবাল বর্ডন অফ ডিজিজ রিপোর্ট | Achira News