সরস্বতীর পুজোর পর থেকেই আচমকা উধাও হয়ে গিয়েছিল শীত। জানুয়ারির শেষভাগ পর্যন্ত তিলোত্তমায় শীতের প্রকৃত আমেজ সেভাবে টের পাওয়া যায়নি। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, চলতি বছরে শীতের অধ্যায় বুঝি আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু সেই ধারণায় জল ঢালল মঙ্গলবারের সকাল। আচমকা বদলে গেল আবহাওয়া। ফের শীতের আমেজ ফিরল শহরে। মঙ্গলবার ভোর থেকেই কলকাতার আকাশে ঘন কুয়াশার দাপট। তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে। ফেব্রুয়ারির শুরুতেই এমন আবহাওয়ায় নতুন করে শীতের আমেজ অনুভব করছেন শহরবাসী। কুয়াশার চাদরে ঢেকে গিয়েছে রাস্তা, উড়ালপুল ও শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকা। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে রেল চলাচলেও। একাধিক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের থেকে দেরিতে চলছে বলে জানা গিয়েছে। শুধু কলকাতা নয়, মঙ্গলবার সকাল থেকে কুয়াশা কার্যত দাপট দেখাচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই। হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার পথঘাট কুয়াশায় মুড়ে রয়েছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ফের শীতের অনুভূতি দেখা দিয়েছে। হাওয়া অফিস সূত্রের খবর, আপাতত তাপমাত্রায় কিছুটা ওঠানামা থাকবে। এ দিন কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। আগামী কয়েক দিন উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলিতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। তবে বেলা গড়ালেই শীতের আমেজ অনেকটাই কমে যাবে। দিনের বেলায় ফের গরম অনুভূত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। দার্জিলিংয়ের পার্বত্য এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা চার থেকে ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে। উত্তরবঙ্গের উঁচু দিকের জেলাগুলিতে পারদ থাকতে পারে ১০ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। দেশের অন্য অংশেও আবহাওয়ার নাটকীয় রূপ বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখন্ডে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। একই সঙ্গে পূর্ব রাজস্থান, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লির জন্য জারি হয়েছে চরম ঘন কুয়াশার সতর্কতা। ফেব্রুয়ারির শুরুতেই ফের শীতের প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি পেলেও, আবহাওয়াবিদদের মতে এই ঠান্ডা স্থায়ী হবে না। কয়েক দিনের মধ্যেই ফের তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতায় হঠাৎ শীতের ঢেউ আছড়ে পড়েছে।
Dainik Statesman•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Dainik Statesman
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.