শ্যামগোপাল রায়বিপদের উৎস বার বার আঙুল তুলে দেখিয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কলকাতায় ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্তের অন্যতম কারণ হলো, নির্মীয়মাণ আবাসন ও বহুতল ফ্ল্যাটবাড়ি। নির্মাণস্থলে জমে থাকা জল এবং খোলা ড্রাম ও পরিত্যক্ত পাত্রে জমা জলে এডিস ইজিপ্টাই প্রজাতির মশার বংশবিস্তার হচ্ছে দ্রুত। একই ছবি অনেক বহুতল আবাসনেও। ছাদে বৃষ্টির জল জমে থাকা, জলের খোলা ট্যাঙ্ক, এসি ও ফ্রিজের ট্রে-তে জমা জল-এ সবের পরিণামে ফি বছর বাড়ে ডেঙ্গি-আক্রান্তের সংখ্যা।সেই সমস্যা ঠেকাতে এ বার ডেঙ্গির পিক সিজন বলে যে সময়টাকে (জুলাই থেকে অক্টোবর) ধরে নেওয়া হয়, সেটা শুরু হওয়ার আগেই নতুন গাইডলাইন তৈরি করেছে পুর দপ্তর। যা মানতে হবে নির্মীয়মাণ আবাসনের প্রোমোটার এবং ফ্ল্যাটের মালিকদের। তাঁরা নিয়ম মানছেন কি না, সে দিকে নজর রাখতে হবে পুরসভাগুলোকে। পুর দপ্তর সূত্রের খবর, ওই গাইডলাইনে বলা হয়েছে, আবাসনে নিকাশির সুষ্ঠু ব্যবস্থা রাখতে হবে। ছাদের কোথাও জল জমতে দেওয়া যাবে না। জলের ট্যাঙ্ক সব সময়ে ঢেকে রাখা এবং ফুলদানি-টব-এসি মেশিন-ফ্রিজের ট্রে-জলের ড্রাম সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করা বাধ্যতামূলক।লিফ্ট, বেসমেন্ট ও আবাসন চত্বরের কোনও পরিত্যক্ত পাত্রে জল জমে থাকছে কি না, তার উপর নিয়মিত নজরদারির নির্দেশ রয়েছে। নির্মাণস্থলের ক্ষেত্রেও পুরসভার গাইডলাইনে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, লিফ্ট বেসমেন্টে জল জমতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে সেখানে লার্ভিসাইডের মতো কীটনাশক কিংবা কেরোসিন ছড়ানোর কথা বলা হয়েছে। জলের ড্রাম ও পাত্র ঢেকে রাখা, নালা বা গর্তে জল জমতে না-দেওয়া এবং ত্রিপল বা পলিথিনের ছাউনিতে জল জমছে কি না, সেটা নিয়মিত দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের অফিসারদের কয়েক জনের বক্তব্য, 'নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের সচেতনতা না-বাড়লে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।'বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ক্ষেত্রে বহুতলের আবাসিকদের সংগঠনগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আবাসনের বাসিন্দাদের নিয়ে নিয়মিত সচেতনতা বৈঠক, ভিতরে ঢুকে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা এবং জল জমার জায়গা চিহ্নিত করাই ডেঙ্গি প্রতিরোধের সব চেয়ে কার্যকর উপায়। কলকাতা পুরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাস বলছেন, 'ডেঙ্গির বাহক এডিস মশা মূলত পরিষ্কার, স্থির জলে জন্মায়। সে রকম অবস্থা সহজেই তৈরি হয় বহুতল আবাসন ও নির্মীয়মাণ বাড়িতে। ছাদের কোণে জমে থাকা সামান্য বৃষ্টির জল, জলের খোলা ট্যাঙ্ক, এসি বা ফ্রিজের ট্রে- এ সব জায়গাই এডিস মশার জন্য আদর্শ প্রজনন ক্ষেত্র। মাত্র ৭-১০ দিনের মধ্যেই লার্ভা থেকে পূর্ণাঙ্গ মশা তৈরি হয়।'সে ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত একবার জল ফেলে পরিষ্কার না-করলে ডেঙ্গির ঝুঁকি বেশি। তার জন্যই ডেঙ্গি প্রতিরোধে কেবলই পুরসভার অভিযান যথেষ্ট নয় বলে বিশেষজ্ঞদের মত। তাঁদের বক্তব্য, আবাসিকদের সংগঠন, নির্মাণ সংস্থা এদের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। কলকাতা পুরসভার মুখ্য পতঙ্গবিদের মতে, জল জমতে না-দেওয়াই এডিস নিয়ন্ত্রণের একমাত্র কার্যকর উপায়।
কলকাতার ডেঙ্গু মহামারী নির্মাণ সাইট এবং বহুতল ফ্ল্যাটগুলির সঙ্গে যুক্ত
EI Samay•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.