আজকাল ওয়েবডেস্ক:স্বামীর মাসিক আয় দেড় লক্ষ টাকার বেশি। কিন্তু, স্ত্রীকে খোরপোশ বাবদ স্বামী প্রতি মাসে দেন মাত্র আট হাজার টাকা করে। লাখ টাকার বেশি আয় সত্ত্বেও মাত্র আট হাজার টাকারখোরপোশের খরচ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে রাজস্থান হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন স্ত্রী। সেই মামলাতেই উচ্চ-আদালত জানিয়েছে, স্বামীর আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ স্ত্রীকে দিতেই হবে - এমন বাঁধাধরা সূত্রের ভিত্তিতে খোরপোশ দাবি করা যায় না। বিচারপতি ফারজান্দ আলী বলেন, "স্বামী বেশি আয় করলেই স্ত্রীকে তার অর্ধেক বা একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দিতেই হবে, আইন এমনটা বলে না। এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি খোরপোশের মামলাকে কার্যত আয় বা সম্পত্তি ভাগাভাগির দাবিতে পরিণত করবে, যা অগ্রহণযোগ্য।" আবেদনকারীমহিলা উচ্চ শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার বিষয়টিও বিবেচনা করেন বিচারপতি। তাঁর মতে, বর্তমানে বেকার থাকার দাবিই প্রমাণ করে না যে- স্ত্রী নিজের ভরণপোষণ করতে অক্ষম। বিচারপতি ফারজান্দ আলী বলেছেন, "প্রতিষ্ঠিত আইনি অবস্থান হল, উপার্জনের ক্ষমতা থাকলেই একজন স্ত্রী খোরপোশ থেকে বঞ্চিত হন না, তবে খোরপোশের পরিমাণ নির্ধারণের সময় আদালত উপার্জনের সম্ভাবনা, যোগ্যতা এবং পূর্ববর্তী চাকরির বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। পারিবারিক আদালত এই কারণে খোরপোশ অস্বীকার করেনি। বরং, যথাযথ বিবেচনার পর পরিমাণটি নির্ধারণ করেছে, যা অবৈধ বা অযৌক্তিক বলা যায় না।" আবেদনকারী এবং বিবাদী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, যা মাত্র ৫৭ দিন স্থায়ী হয়েছিল। এই সময়ে স্ত্রী, স্বামী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার অভিযোগ আনেন। তারপরই মামলা করে খোরপোশের জন্য আবেদন করেন। এই খোরপোশের আবেদনটি পারিবারিক আদালত নিষ্পত্তি করে এবং স্ত্রীকে মাসিক ৮০০০ টাকা খোরপোশ মঞ্জুর করে। এই আদেশটিকে উচ্চ-আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল এই যুক্তিতে যে, খোরপোশের পরিমাণ অত্যন্ত অপর্যাপ্ত এবং আবেদনকারীর প্রয়োজনের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ। আবেদনে তুলে ধরা হয় যে, বিবাদী একজন সরকারি কর্মচারী যিনি মাসে ১.৫ লক্ষ টাকার বেশি আয় করেন এবং তাঁর সম্পত্তিও রয়েছে। আরও যুক্তি দেওয়া হয় যে, শুধুমাত্র শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে পারিবারিক আদালত খোরপোশের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারে না, কারণ উপার্জনের ক্ষমতা বেশি থাকলেই একজন আইনসম্মতভাবে বিবাহিত স্ত্রী বেশি খোরপোশ চাইতে পারেন না বিষয়টি সমসময় তেমন নয়। বেকার স্ত্রী'রা খোরপোষ চাইতে পারেন। কিন্তু, উচ্চ শিক্ষিত, কাজে দক্ষ মহিলাদের জন্য এই আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়াও, আদালত শুনানির সময়ে বিবেচনায় নিয়েছিল যে, বিয়েটা মাত্র ৫৭ দিন স্থায়ী হয়েছিল। বিচারপতি বলেন, “পক্ষগুলোর মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কটি প্রায় ৫৭ দিনের অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিদ্যমান ছিল। যদিও বিবাহের সময়কাল নিজে থেকেই ফৌজদারি কার্যবিধির ১২৫ ধারা অনুযায়ী প্রাপ্যতার নির্ধারক নয়, তবুও এটা নির্ভরতার প্রকৃতি, জীবনযাত্রার সামঞ্জস্য এবং পক্ষগুলো প্রকৃতপক্ষে কতটা সাধারণ জীবনযাত্রার মান ভাগ করে নিয়েছিল, তা মূল্যায়নের জন্য একটি প্রাসঙ্গিক বিষয়।” আদালত আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতাও বিবেচনা করে। বলেন যে, বর্তমান বেকারত্ব নিজে থেকেই আবেদনকারীর নিজের ভরণপোষণ করতে অক্ষমতা প্রমাণ করে না। আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, শুধুমাত্র সক্ষমতাই স্ত্রীকে ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত করে না, তবে ভরণপোষণের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য আদালত তার উপার্জনের সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিতে পারে। আদালত আরও জানায় যে, বিবাদীর নিয়মিত ভরণপোষণের অর্থ জমা দেওয়ার আচরণকেও হালকাভাবে উপেক্ষা করা যায় না, কারণ এটি তার সদিচ্ছা, ভদ্রতা এবং আদালতের আদেশের প্রতি একটি দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে। রাজস্থান হাইকোর্টের বিচারপতি বলেছেন, “আদালত পক্ষগুলোর আচরণ সম্পর্কে উদাসীন নয়, কারণ ন্যায়বিচার ও শুভবুদ্ধি বিচার প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই অনুযায়ী, আবেদনটি খারিজ করা হল।”
খোরপোষ বাড়ানোর আবেদন খারিজ করল রাজস্থান হাইকোর্ট
AajKaal News•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: AajKaal News
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.