ডায়াবেটিস আজ কেবল একটি স্বাস্থ্যগত অবস্থা নয়। এটি একটি বিশ্বব্যাপী মহামারী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, বিশ্বব্যাপী ৮৩ কোটিরও বেশি মানুষ বর্তমানে ডায়াবেটিস নিয়ে জীবনযাপন করছে। ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সচেতন খাদ্যাভ্যাসের উপরও অনেক কিছু নির্ভক করে। আর ঠিক সেখানেই পেয়ারা পাতার চায়ের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিকারের প্রয়োজন। জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী করতে হবে। পেয়ারা পাতা ফ্ল্যাভোনয়েড, ট্যানিন এবং পলিস্যাকারাইড সমৃদ্ধ। এই যৌগগুলি তাদের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহ-বিরোধী এবং ডায়াবেটিস-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। মলিকিউলস জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, পেয়ারা পাতা থেকে নিষ্কাশিত পলিস্যাকারাইড ডায়াবেটিস রোগীদের মোট কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে। সেই একই গবেষণায় এই পাতার কারণে উন্নত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইম কার্যকলাপ এবং লিভার, কিডনি এবং অগ্ন্যাশয়ের জটিলতা হ্রাস লক্ষ্য করা গিয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যতালিকায় পেয়ারা পাতা কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করবেন? ফলটি যদিও সাধারণত কাঁচা এবং তাজা খাওয়া হয়, পাতাগুলি চা তৈরি করে আপনার দৈনন্দিন রুটিনের অংশ হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। পেয়ারা পাতার চা তৈরির রেসিপি ছ’সাতটি তাজা পেয়ারা পাতা ভালো করে পরিষ্কার করুন। একটি সসপ্যানে ১.৫ কাপ জলে এগুলো দিয়ে দিন। তারপর প্রায় ১০ মিনিট ফুটিয়ে নিন। সেইচা ছেঁকে একটি কাপে ঢেলে চুমুক দিন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এক কাপ পেয়ারা পাতার চা নিরাপদে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে, বিশেষ করে খাবারের পরে। তবে যে কোনও ভেষজ প্রতিকারের মতো, এটিও পরিমিত পরিমাণে পান করা গুরুত্বপূর্ণ।কারণ অতিরিক্ত সেবনের ফলে হালকা হজমের সমস্যা হতে পারে। আপনার রুটিনে পেয়ারা পাতার চা যোগ করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা ভাল। বিশেষ করে যদি আপনি কোনও ধরনের ওষুধ খেয়ে থাকেন। ডায়াবেটিস রোগীদের জীবনযাত্রার জন্য পেয়ারা পাতার চা একটি দুর্দান্ত প্রাকৃতিক সংযোজন। এটি তৈরি করা সহজ, উপকারী যৌগগুলিতে সমৃদ্ধ এবং রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। পেয়ারা পাতায় ট্যানিন, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং কার্বোহাইড্রেট থাকে যা পাচনতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং অন্ত্রে উপস্থিত ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করে। ডায়রিয়ার সময় এই পাতার কাথ পান করলে বুকজ্বালা, ঘন ঘন মলত্যাগ এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই ঘরোয়া প্রতিকারটি খুবই কার্যকর এবং নিরাপদ বলে মনে করা হয়। এ ছাড়া, পেয়ারা পাতা বিপাক ক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যার কারণে শরীর আরও বেশি ক্যালোরি পোড়াতে শুরু করে।পেয়ারা পাতা কার্বোহাইড্রেটকে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে না এবং ফ্যাট জমা রোধ করতে পারে। সকালে খালি পেটে পেয়ারা পাতা খাওয়া হলে, এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ক্ষুধাও ভারসাম্যপূর্ণ রাখে। পেয়ারা পাতায় প্রাকৃতিক অ্যান্টিহাইপারগ্লাইসেমিক এজেন্ট থাকে, যা শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। এটি শরীরে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। পাতা ফুটিয়ে পানি পান করলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। এই পদ্ধতিটি কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই কাজ করে।
ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার জন্য পেয়ারা পাতার চায়ের শক্তিকে কাজে লাগানো
AajKaal News•
Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: AajKaal News
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.