দিনহাটা:বলিউডের থ্রিলার ছবির গল্পকেও হার মানানো এক নৃশংস ঘটনার সাক্ষী রইল দিনহাটার কুর্শাহাট এলাকা। ১০ জানুয়ারি, শনিবার বিকেলে ভোনাথপুর এলাকায় এক অজ্ঞাতপরিচয় মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরের গলাকাটা (Vagabond Murder) দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশি তদন্তে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, তা এলাকাবাসীর পাশাপাশি পুলিশকেও হতবাক করেছে। ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সূত্র ধরে নয়ারহাট ফাঁড়ির পুলিশ ফিরদৌস আলম নামে এক নেশাগ্রস্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে। জেরার মুখে ফিরদৌস স্বীকার করে, অন্য কোনও উদ্দেশ্য নয়, কেবল নরমাংস খাওয়ার লোভেই সে ওই ভবঘুরেকে খুন করেছিল। ওই ভবঘুরেকে সে ‘সফট টার্গেট’ হিসেবেই বেছে নিয়েছিল বলে পুলিশের দাবি। এসডিপিও ধীমান মিত্র জানান, প্রাথমিকভাবে একজন ভবঘুরেকে খুনের কারণ নিয়ে পুলিশ ধন্দে ছিল। কিন্তু তদন্তে ফিরদৌসের নাম উঠে আসার পর তাকে জেরা করতেই বেরিয়ে আসে ভয়াবহ এই তথ্য। খুনের পর ফিরদৌস ওই ভবঘুরের দেহ একটি স্থানীয় কলপারে ধুয়েছিল মাংস খাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই। এসডিপিও-র মতে, এটি একটি বিরলতম ঘটনা। অভিযুক্তের মানসিক অসুস্থতার কোনও নথি পাওয়া না গেলেও, সে নেশায় আসক্ত ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আদালত তাকে চার দিনের পুলিশি হেপাজতে পাঠিয়েছে এবং খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিরঞ্জীব রায় এবং বিশ্বজিৎ লায়েক মনে করছেন, অতিরিক্ত নেশার কারণে ওই যুবক তার স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছিল। মস্তিষ্কের বিকারগ্রস্ততার কারণেই হয়তো সে উদ্দেশ্যহীনভাবে এমন বীভৎস কাণ্ড ঘটিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই কুর্শাহাটের ভোনাথপুর এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এমন নৃশংসতায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, এই ঘটনার পর থেকে তাঁরা বেশ উদ্বিগ্ন এবং অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নরখাদক হত্যাকান্ড দিনহাটার কুর্শত এলাকায় পাথর ছুঁড়েছেঃ ভ্যাগাবন্ডকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে
Uttarbanga Sambad•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Uttarbanga Sambad
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.