Achira News Logo
Achira News

পাকিস্তানের কথিত আই. সি. বি. এম উন্নয়ন মার্কিন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে

EI Samay
পাকিস্তানের কথিত আই. সি. বি. এম উন্নয়ন মার্কিন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে
Full News
Share:

আমেরিকার মিসাইল সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কিত আমেরিকা। বুধবারই এই নিয়ে মার্কিন সেনেটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমেরিকার স্পাই চিফ, তুলসী গ্যাবার্ড। তাদের দাবি, সরাসরি আমেরিকার বুকেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষমতা অর্জন করতে চলেছে পাকিস্তান। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা বিশ্বে তৈরি হয়েছে একটি বিশেষ প্রশ্ন: গোপনে এমন কোন মিসাইল তৈরি করল পাকিস্তান, যা নিয়ে চিন্তায় ঘুম উড়তে বসেছে পাকিস্তানের? সত্যি কি বহু দূরের দেশ আমেরিকায় আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে তাদের?তুলসী গ্যাবার্ডের পেশ করা রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান অত্যন্ত গোপনে একটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল বা ICBM তৈরি করছে। যা পুরোপুরি তৈরি হয়ে গেলে এটি আমেরিকায় আঘাত করতে পারবে।আমেরিকা থেকে পাকিস্তানের দূরত্ব প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার। সাধারণত কোনও ICBM-এর পল্লা হয় ৫,৫০০ কিলোমিটারের মতো। অর্থাৎ, এই মিসাইল প্রযুক্তি তৈরি হয়ে গেলে এই ক্ষেত্রে বাজিমাৎ করবে পাকিস্তান।ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বা IISS-এর স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানা গিয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে পাক পাঞ্জাব প্রদেশের অ্যাটক জেলার ‘কালা চিট্টা রেঞ্জ’-এর পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স কমপ্লেক্সে’ একটি বিশাল আকারের ‘সলিড রকেট-মোটর টেস্ট স্ট্যান্ড’ তৈরি করেছে পাকিস্তান।এই অতি-গোপনীয় সামরিক গবেষণা, ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে তৈরি করা অত্যাধুনিক রকেট মোটরই ভবিষ্যতে পাকিস্তানের ICBM-কে আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছে দেবে বলে আশঙ্কা ওয়াশিংটনের।বর্তমানে পাকিস্তানের হাতে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী মিসাইল হলো ‘শাহিন ৩’, যার পাল্লা ২,৭৫০ কিমি। এ ছাড়া তাদের হাতে রয়েছে ‘আবাবিল’, যার পাল্লা ২,২০০ কিমি। ‘MIRV’ প্রযুক্তির এই মিসাইল একসঙ্গে একাধিক নিশানায় আঘাত হানতে পারে। সেই পাকিস্তান কী করে ১০,০০০ কিমি পাল্লার মিসাইল তৈরি করছে?ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চিনের মদতেই পাকিস্তানের এই অত্যাধুনিক মিসাইল তৈরি করছে। তাদের এই ICBM তৈরির নেপথ্যে রয়েছে চিনা সংস্থা ‘বেজিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ অটোমেশন ফর মেশিন বিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রি’ (RIAMB)-র প্রযুক্তিগত সাহায্য। আর এই কারণেই জো বাইডেনের আমলে একাধিক চিনা ও পাকিস্তানি সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা।ঐতিহাসিক ভাবে পাকিস্তানের মিসাইল প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য ভারত। তাদের ‘শাহিন ৩’ মিসাইল আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে। কিন্তু ‘ফরেন অ্যাফেয়ার্স’ ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পাকিস্তানের এই নতুন ICBM তৈরির মূল লক্ষ্য ভারত নয়, আমেরিকা।এই মিসাইল দিয়ে তারা হয়তো আমেরিকায় হামলা করবে না। তবে আমেরিকাকে ভয় দেখানোর কাজে লাগাবে। ভবিষ্যতে ভারত-পাক যুদ্ধ বাধলে আমেরিকা যাতে ভারতের পক্ষ না নেয়, পাকিস্তানের পরমাণু ঘাঁটিতে ‘প্রিভেন্টিভ স্ট্রাইক’ না চালায়, মূলত সেই কারণেই আমেরিকাকে সরাসরি নিজেদের মিসাইলের আওতায় আনতে চাইছে ইসলামাবাদ।২০২৬ সালের মার্কিন থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টে চিন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের পাশাপাশি এ বার পাকিস্তানের নামও সবচেয়ে বড় পরমাণু হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক কিছুটা উন্নত হওয়ার আভাস মিললেও, এই রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট, ইসলামাবাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের মনে গভীর সন্দেহ ও আতঙ্ক রয়েছে।

Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay

Want to join the conversation?

Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.

পাকিস্তানের কথিত আই. সি. বি. এম উন্নয়ন মার্কিন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে | Achira News