নোটবন্দি, লকডাউনের মতোই অপরিকল্পিত ভাবে SIR হচ্ছে। বাংলার ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দিতে নতুন নতুন নিয়ম তৈরি করছে কমিশন। মঙ্গলবার দিল্লির চাণক্যপুরীর বঙ্গভবন থেকে উদাহরণ তুলে ধরে আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, মাইক্রো অবজার্ভারদের ব্যবহার করে ইচ্ছে মতো নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে কমিশনের সিস্টেমেরও ‘ত্রুটি’ তুলে ধরেন তিনি এবং দাবি করেন এর অকাট্য প্রমাণও তাঁর কাছে রয়েছে।এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে অভিষেক স্পষ্ট ভাবে আবারও জানান, বাংলার সরকার বা তৃণমূল কংগ্রেস SIR-এর বিপক্ষে নয়। কিন্ত যে ভাবে বর্তমানে কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে তা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন,'আমরা SIR-এর বিরুদ্ধে নই। আমরা এই অপরিকল্পতি ভাবে SIR-এর বিরুদ্ধে। এটা যদি করার ছিল তা হলে ২০২৪-এর জুন থেকে কাজ শুরু করলেন না কেন? তখন তো আর কোনও নির্বাচন ছিল না! সময় নিয়ে অ্যাপ তৈরি করে এটা করাই যেত। কিন্তু নোটিফিকেশন এল ২৫-এর সেপ্টেম্বরে। ফর্ম দেওয়া হলো আরও পরে।’এখানেই শেষ নয় অভিষেকের মতে, বাংলায় টার্গেট করে নাম বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘বাংলায় যে রুল রয়েছে, তা অন্য ১১টা জায়গায় যেখানে SIR চলছে, সেখানে নেই। বাংলার জন্য স্পেশাল শতাধিক মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হয়েছে। SIR নোটিফিকেশনে স্পষ্ট লেখা ছিল, ERO-ই ফাইনাল অথরিটি। তা হলে মাইক্রো অবজার্ভার কোথা থেকে এল! এরা নাকি ERO-দের কাজ দেখবে। এখন ERO-দের বসিয়ে মাইক্রো অবজার্ভাররা ব্যাকএন্ডে লগ ইন করছেন। নিজেদের ইচ্ছে মতো কাজ করছেন। কেস ডিসমিস করে দিচ্ছেন।’এর পরেই কমিশনের সিস্টেমের একটি ক্রুটি ধরে অভিষেক ব্যাখ্যা করেছেন কী ভাবে ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা যদি খুঁজে দেখেন তা হলে দেখবেন মাইক্রো অবজার্ভার অবজারভেশন আর রোল অবজার্ভার অবজারভেশন-এর জন্য আলাদা কলাম রয়েছে পোর্টালে। এ বার যদি এদের অবজার্ভেশন আলাদা হয়, মানে ERO-এর অবজার্ভেশনের সঙ্গে যদি এক না হয়, তা হলে ERO-এর কাছে একটা আলাদা পেজ খুলে যাচ্ছে। সেখানে আবার আসছে দুটো অপশন। একটা—আমি মাইক্রো অবজার্ভারের সঙ্গে সহমত এবং দ্বিতীয়— মাইক্রো অবজার্ভারের সঙ্গে সহমত নই। এ বার কেউ যদি মাইক্রো অবজার্ভারের সঙ্গে সহমত নই-অপশনের চেকবক্সে ক্লিক করেন তা হলে কেস ক্লোজ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু যদি কেউ ভুল করে দ্বিতীয় বক্সে ক্লিক করে ফেলেন, তা হলে ওই ভোটারের নাম আপনাআপনি ডিলিট হয়ে যাচ্ছে। আমার কাছে এর প্রমাণ আছে।’মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করারও অভিযোগ করেছেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর অভিযোগ,‘আদালত স্পষ্ট করে বলেছিল, আনম্যাপড এবং লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির লিস্ট পৃথক ভাবে প্রকাশ করতে হবে। কিন্ত কমিশন এখন তার নামই বদলে ফেলে ডিসক্রিপেন্সি ম্যাপ করে দিয়েছে। কিন্তু তা শুধুই ERO পোর্টালেই আপলোড হয়েছে। প্রকাশ্যে আসেনি।’ কমিশনের বিরুদ্ধে ক্রমশই সুর চড়াচ্ছেন তৃণমূলে
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের অপরিকল্পিত ভোটার তালিকা সংশোধনের সমালোচনা করেছে টিএমসি
EI Samay•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.