আজকাল ওয়েবডেস্ক:ভোট ঘোষণা হতেই আচমকা ভিনরাজ্যে বদলি করে দেওয়া হচ্ছে রাজ্যের একের পর এক শীর্ষ আমলাদের। এতেই বিতর্ক তুঙ্গে উটেছে। কমিশনের সক্রিয়তাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে তোপ দেগেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আমলাদের এই রদবদলকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর পক্ষে বিপজ্জনক ইঙ্গিত বলে সরব তিনি। আমলা রদবদল নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে মমতা ব্যানার্জির অভিযোগকে সমর্থন করছেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কী বলেছেন ওমর আবদুল্লা?'এই ধরনের ব্যাপক রদবদল বা বদলি কেবল অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতেই ঘটে - বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে; তবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। অবশ্য, পশ্চিমবঙ্গ আবারও সেই সত্যটি প্রমাণ করবে যা আমি সর্বদা বিশ্বাস করে এসেছি - রাজনৈতিক দলগুলোর হয়ে নির্বাচনে জয় এনে দেন কর্মকর্তারা নন, বরং সেই দলগুলোর নেতারাই। নির্বাচন কমিশন ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে যতই কারসাজির চেষ্টা করুক না কেন, তাতে ফলাফলের কোনও পরিবর্তন হবে না। ভোট গণনার দিন মমতা দিদি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করবেন।' কেজরিওয়ালের বক্তব্য:'বিজেপি অসৎ উপায়ে নির্বাচনে জেতার জন্য নির্বাচন কমিশনকে তাদের অস্ত্র বানিয়েছে। আজ পশ্চিমবঙ্গে যা ঘটছে, দিল্লির নির্বাচনেও ঠিক তাই হয়েছিল। ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে ফেলা হয়েছিল, পুলিশ প্রশাসন বিজেপির গুণ্ডামিকে প্রশ্রয় দিয়েছিল এবং পুরো প্রশাসন বিজেপিকে জেতানোর কাজেই ব্যস্ত ছিল। গণতন্ত্রকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। আজ মমতা দিদিও গণতন্ত্রকে বাঁচানোর জন্য লড়ছেন। এই সংগ্রামে আমরা তাঁর সঙ্গে আছি।' কী অভিযোগ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর?গত রবিবার নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনে একাধিক রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্য ও স্বরাষ্ট্র সচিবকে সরানোর পর অপসারণ করে হয় রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে। সরিয়ে দেওয়া হয় একাধিক জেলার পুলিশ সুপার ও কমিশনারকেও। বৃহস্পতিবারও রাজ্য কর্মরত ছ'জন আমলাকে ভিন রাজ্যে বদলি করেছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে শুরুতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া চিঠি দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার আবারও কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন মমতা ব্যানার্জি। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, 'এটি কোনও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং এটা সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ।' কমিশনের পদক্ষেপকে তিনি 'বাংলার প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা' বলেও দাবি করেছেন। কমিশনের কার্যকলাপের মধ্যে স্ববিরোধিতা রয়েছে, যা তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বলে মনে করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। উদাহরণ তুলে তিনি লেখেন, 'তারা (কমিশন) দাবি করে যে, অপসারিত আধিকারিকদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়; অথচ মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই একই আধিকারিকদের নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিলিগুড়ি এবং বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করার সময় তাঁদের স্থলাভিষিক্ত কাউকে আগে থেকে নিযুক্ত না করায়, এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নগরকেন্দ্র কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছিল। এই চরম প্রশাসনিক ত্রুটিটি প্রকাশ্যে আসার পরেই কেবল তড়িঘড়ি করে সংশোধনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এটি কোনও সুশাসন বা প্রশাসনিক দক্ষতা নয়; বরং এটি বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং চরম অযোগ্যতারই প্রতিফলন—যাকে জোর করে 'কর্তৃত্ব' হিসেবে চালানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।' মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, 'বাংলা কখনওই ভয়ভীতির কাছে নতি স্বীকার করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। বাংলা লড়াই করবে, বাংলা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং বাংলার মাটিতে বিভেদকামী ও ধ্বংসাত্মক কোনও এজেন্ডা চাপিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে বাংলা চূড়ান্তভাবে পরাস্ত করবে।'
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বদলি নিয়ে বিতর্ক
AajKaal News•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: AajKaal News
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.