Achira News Logo
Achira News

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের রায়ঃ নাশকতা ও উপলব্ধির একটি জটিল বিষয়

AajKaal News
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের রায়ঃ নাশকতা ও উপলব্ধির একটি জটিল বিষয়
Full News
Share:

আজকাল ওয়েবডেস্ক:বাংলায় বিজেপি ও তৃণমূলের আসন জয়ের পরিসংখ্যান একটি চূড়ান্ত জনাদেশের ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু গভীরভাবে দেখলে, পশ্চিমবঙ্গের রায় আরও অনেক জটিল এক বিষয় তুলে ধরেছে। যেখানে হিসেবনিকেশ আর উপলব্ধির মধ্যে আকাশপাতাল তফাৎ। এটিকে কোনও রাজনৈতিক দল বা মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে ভোট না বলে, বলা যায় যে আসল রহস্য লুকিয়ে সংখ্যার মধ্যেই। ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূল ৪০.৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ২ কোটি ৯২ লক্ষ ২৪ হাজার ৮০৪ এবং তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ২ কোটি ৬০ লক্ষ ১৩ হাজার ৩০৭। ভোটের পার্থক্য ৩২ লক্ষের। বিজেপির প্রাপ্ত আসন ২০৭ এবং তৃণমূলের ৮০। পার্থক্য ১২৭টি আসনের। আসন পরিবর্তনের মাত্রা ভোটের ব্যবধানের মাত্রাকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। ৫ শতাংশ ব্যবধান খুবই কম, যা এমন রাজনৈতিক ফলাফল এনে দেয়। তাহলে স্বাভাবিক প্রশ্ন হল– আড়ালে কী এমন ঘটল? দখল করা ভাঙচুর করা তৃণমূলের সংস্কৃতি: সুব্রত মৈত্র গোষ্ঠীকোন্দলেই হামলা, মারধর! বিস্ফোরক বিজেপি বাংলার এই ভোটে মমতার বিরুদ্ধে ভোট না হয়ে, বরং কারা আসলে ভোট দিতে পারল আর কারা পারল না— এই বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে বলে মনে হয়। রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এই নির্বাচনের উপর একটি বড় প্রভাব ফেলেছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ২৮ লক্ষ ভোটার বিবেচনাধীন ছিলেন এবং তাঁদের ভোটাধিকারের জন্য পুনরায় আবেদন করতে হয়েছিল। এমন একটি রাজ্যে যেখানে নির্বাচনী ব্যবধান প্রায়শই খুবই সামান্য থাকে, সেখানে এটি কোনও গতানুগতিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছিল না। এটি নাড়িয়ে দিয়েছিল প্রশাসনকে। চূড়ান্ত ভোটের ব্যবধান ৩২ লক্ষের সঙ্গে তুলনা করলে, বাদ পড়া ভোটারদের এই সংখ্যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাদ পড়া ভোটারদের একটি অংশও যদি কোনও নির্দিষ্ট দিকে ঝুঁকে থাকত, তাহলেও এলাকাভিত্তিক ফলাফলের ওপর তার পরবর্তী প্রভাব ভিন্ন বা ব্যাপক হতে পারত। ২০২১ সালের সঙ্গে তুলনা করলে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন একটা সময় তৃণমূল বিজেপির চেয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটে এগিয়ে ছিল, এবং ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ১০ শতাংশ, যার ফলে তারা ১৪০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে ছিল। ভোট ও আসনের মধ্যকার সম্পর্কটি একটি চেনা ছক অনুসরণ করছিল। ২০২৬ সালে, সেই সম্পর্কটি ব্যাহত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ভোটের ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে, কিন্তু আসনের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেশি রয়ে গিয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল শুধু ভোটারদের পছন্দই নয়, ভোটারদের উপস্থিতিকেও প্রতিফলিত করে। সেই অর্থে, বাংলার ফলাফল নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: AajKaal News

Want to join the conversation?

Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের রায়ঃ নাশকতা ও উপলব্ধির একটি জটিল বিষয় | Achira News