পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট। রাজারহাট নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের শেষে মাত্র ৩১৬ ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী পীযূষ কানোডিয়া। এই নাটকীয় জয়ের ফলে রাজ্যে বিজেপির মোট আসন সংখ্যা পৌঁছে গেল ২০৭-এ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৮ দফা গণনা শেষে পীযূষ কানোডিয়া পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬ হাজার ৫৬৪টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক তাপস চ্যাটার্জি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬ হাজার ২৪৮টি ভোট। ফলে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান দাঁড়ায় মাত্র ৩১৬ ভোটে। সূত্রের খবর, গণনার এক পর্যায়ে বিজেপি প্রার্থী প্রায় ২,৮০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। সেই সময় তাপস চ্যাটার্জি পুনর্গণনার দাবি জানান। প্রথম দফার পুনর্গণনার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায় এবং তৃণমূল প্রার্থী ৩২৩ ভোটে এগিয়ে যান। এমনকি এক সময় তাঁকেই জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে বিজেপির তরফে ফের পুনর্গণনার দাবি তোলা হলে চিত্র পাল্টে যায় এবং শেষ পর্যন্ত আসনটি হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। ৪ মে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, রাজ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি দুটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া সিপিআই(এম) এবং অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট একটি করে আসন দখল করেছে। এই ফলাফল রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১১ সাল থেকে টানা তিন দফা শাসনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ ভেঙে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। এই বিপুল জয়ের পেছনে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। তা নিয়েই তৈরি হয়েছিল তীব্র বিতর্ক। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল সব পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষাতেও যেখানে কড়া লড়াইয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেখানে বিজেপির এই বিপুল জয় অনেককেই বিস্মিত করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট নিউ টাউন আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি।
Dainik Statesman•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Dainik Statesman
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.