এই সময়:দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা ভোট। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব বোঝাতে তাই মঙ্গলবার দিল্লিতে বাংলার দলীয় সাংসদের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। এ দিন একই লক্ষ্য নিয়ে এ রাজ্যের বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গেও বৈঠক করেন বাংলার বিশেষ পর্যবেক্ষক তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। দিল্লির বৈঠকটি হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বাসভবনে। আর বিপ্লব বৈঠক করেছেন বিধানসভায় বিরোধীদের ঘরে। দুটি বৈঠকেই জোর দেওয়া হয়েছে নিবিড় প্রচারের উপর।ত্রিপুরাতে গেরুয়া শিবির যদি শূন্য থেকে ক্ষমতায় আসতে পারে তা হলে বাংলাতেও ৭৭ থেকে ১৭৭ হতে পারে, বিজেপির পরিষদীয় দলকে এ ভাবেই ভোকাল টনিক দিয়েছেন বিপ্লব। প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকে বিজেপির বিধায়করা জনসংযোগ কতটা করছেন, তা বুঝতে কিছু বিষয় তিনি জানতে চেয়েছিলেন। ওই বৈঠকে হাজির ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। বিজেপি বিধায়করা ‘প্রবাস কর্মসূচি’, ‘উঠোন বৈঠক’ কিংবা ‘ভোজন বৈঠক’ কতগুলি করেছেন তা জানতে চাওয়া হয়। বিজেপির জনসংযোগ কর্মসূচিতে ‘উঠোন বৈঠক’ মানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘরোয়া প্রচার, ‘ভোজন বৈঠক’ হলো নির্দিষ্ট কারও বাড়িতে গিয়ে সেখানে খাওয়াদাওয়া করে প্রচার। পরিষদীয় দলের বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কদের অনেকে যে যথেষ্ট সংখ্যায় ‘উঠোন বৈঠক’ কিংবা ‘ভোজন বৈঠক’ করে উঠতে পারেননি তা তাঁদের কথাতেই স্পষ্ট হয়েছে বলে গেরুয়া শিবির সূত্রের খবর।একই সঙ্গে ত্রিপুরায় কী ভাবে সিপিএমের সঙ্গে তাঁরা লড়াই করেছিলেন, সেই গল্প শুনিয়ে বঙ্গ বিজেপির বিধায়কদের চাঙ্গা করতে চেয়েছেন বিপ্লব। বৈঠকের পরে শুভেন্দু বলেন, ‘অমিত শাহ, বিএল সন্তোষ সব বিধায়ককে নির্বাচনমুখী করার জন্য কিছু কাজ দিয়ে গিয়েছেন। সেই কাজগুলি উনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। বিধায়করা সেই কাজগুলো করবেন। ত্রিপুরায় শূন্য থেকে বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছেন উনি। বিপ্লব দেব যেখানে যান সেখানে সোনা ফলে, এখানেও সোনা ফলবে।’ বিপ্লবের বক্তব্য, ‘আমার কুণ্ডলীতে হার লেখা নেই। এখানে এসেছি যখন সরকার গড়েই যাব, একশো শতাংশ নিশ্চিত থাকতে পারেন।’বিপ্লবের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘বিপ্লবের কুণ্ডলীতে লেখা রয়েছে ত্রিপুরায় বিজেপি ওঁকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে মানিক সাহাকে মুখ্যমন্ত্রী করেছে। বাংলায় বিজেপির কতটা খারাপ অবস্থা যে সেই ঘাড়ধাক্কা খাওয়া বিপ্লব ওদের মাথায় বসেছে। ওর ছোঁয়াতে বাংলায় বিজেপি ৩০ এর নীচে নেমে যাবে।’ ত্রিপুরায় বাম–বধের কাহিনী শুনিয়ে বিপ্লব বঙ্গ বিজেপিকে চাঙ্গা করতে চাওয়ায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘ত্রিপুরায় গোটা তৃণমূলকে বিজেপিতে নিয়েছিলেন বিপ্লব। এখানেও সেই রোডম্যাপে বিপ্লব চলতে চাইছেন। কিন্তু দুই ফুল নয়, মানুষ বুঝতে পেরেছে বামেরা বিকল্প।’সূত্রের খবর, বাংলার বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকে নীতিন নবীন জানতে চান, সাংসদরা নিজের এলাকার প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে নিয়ম করে যান কি না। তিনি সাংসদদের নির্দেশ দেন, তাঁর লোকসভা এলাকার যে বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে সাংগঠনিক শক্তি তুলনায় কম, সেখানে আরও বেশি করে সময় দেওয়ার জন্য। পার্টির জেলা সভাপতিদের সঙ্গে সাংসদদের দিনে কতবার কথা হয়, সেটাও এ দিন কিছুটা হালকা চালে নবীন জানতে চেয়েছেন বলে এক সাংসদ ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, এ দিনের বৈঠকে সাংসদের আরও বেশি সংখ্যায় স্ট্রিট কর্নার করার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আপনারা নিজেরা ভোটে লড়লে যেরকম পরিশ্রম করতেন, আগামী তিনমাস সে রকম পরিশ্রম করুন। ২০২৬ বিধানসভা ভোটে বিজেপি বাংলায় কেমন রেজাল্ট করবে, তা অনেকটা নির্ভর করছে আপনাদের জনসংযোগ কেমন তার উপর।’
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিজেপি নেতাদের কৌশল
EI Samay•
Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.