স্বপনকুমার চক্রবর্তী, হবিবপুর:২০২৬-’২৭ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির বৌদ্ধ তীর্থস্থল নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু সেই তালিকায় স্থান পায়নি পশ্চিমবঙ্গের মালদা (Malda) জেলার হবিবপুর (Habibpur) ব্লকে জগজীবনপুরে আবিষ্কৃত নবম শতাব্দীর বৌদ্ধ মহাবিহার। ‘বৌদ্ধ সার্কিট’ উন্নয়নে বাংলাকে পরিকল্পনামাফিক বঞ্চিত করা হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। পালটা বিজেপির কটাক্ষ, তৃণমূল সরকার জগজীবনপুরকে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে জনপ্রিয় করে তুলতে বিন্দুমাত্র উদ্যোগ নেয়নি। শাসকদলের হবিবপুর ব্লক সভাপতি স্বপন সরকার বলেন, ‘জগজীবনপুরের বৌদ্ধ মহাবিহার আমাদের গর্ব। এই আবিষ্কার পাল যুগের ইতিহাস বদলে দিয়েছে। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যকে বাজেটে উপেক্ষা করা হয়েছে। বিজেপির বাংলা বিরোধী মনোভাব এর দৃষ্টান্ত।’ রাজ্য সরকার এই মহাবিহারকে যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তাঁর দাবি। অভিযোগ অস্বীকার করে হবিবপুরের বিজেপি (BJP) বিধায়ক জুয়েল মুর্মু বলেন, ‘কেন্দ্র বাংলাকে বঞ্চিত করছে, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। প্রচুর নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু থেকে শুরু করে দুর্গাপুর শিল্পতালুকের উন্নয়ন সহ একাধিক প্রকল্পে কেন্দ্র এগিয়ে এসেছে। অথচ পরিকল্পনা থাকলেও আয়ুষ্মান ভারত সহ অনেক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্য সরকার বাস্তবায়ন করেনি।’ তাঁর সংযোজন, ‘রাজ্যের পর্যটন বিভাগ থাকা সত্ত্বেও জগজীবনপুরে আজ পর্যন্ত একটি অতিথি নিবাস বা সংগ্রহশালা গড়ে ওঠেনি। তাই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ এবারের বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন উত্তর-পূর্ব ভারতকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেন। অরুণাচলপ্রদেশ, সিকিম, অসম, মণিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরাকে নিয়ে একটি নতুন বৌদ্ধ সার্কিট উন্নয়ন প্রকল্প চালুর বিষয়ে জানানো হয়। ওই প্রকল্পের আওতায় প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্য সংরক্ষণ, মঠ ও বিহার সংস্কার, তথ্য ও ব্যাখ্যাকেন্দ্র নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের জন্য আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের। এই ঘোষণার পর প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে জগজীবনপুরের বৌদ্ধ মহাবিহার কেন বাজেটে স্থান পেল না? তৃণমূলের দাবি, ১৯৮৭ সালে আবিষ্কৃত ওই মহাবিহার থেকে পাওয়া তাম্রলিপি প্রমাণ করে যে, দেবপাল পাল বংশের শেষ রাজা ছিলেন না। তার পরেও মহেন্দ্র পাল নামে পাল বংশের এক শাসকের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা যায়। দেশ-বিদেশের বহু ইতিহাসবিদ ও পর্যটক ওই মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষ দেখতে আসেন।
বাজেট বাদ দেওয়াঃ কেন্দ্রীয় বাজেটে 9ম শতাব্দীর বৌদ্ধ স্থান উপেক্ষা করা হয়েছে
Uttarbanga Sambad•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Uttarbanga Sambad
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.