আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদ জেলায় বড়ঞা বিধানসভা কেন্দ্রটি দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই বামেদের শরিক আরএসপির শক্ত খাটি হিসেবে জেলায় পরিচিত ছিল। মুর্শিদাবাদ জেলায় অধীর চৌধুরী যখন 'দোর্দন্ড প্রতাপশালী' নেতা ছিলেন সেই সময়ও তাঁর প্রাক্তন শ্যালক অরিত মজুমদার এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সুবিধা করে উঠতে পারেননি। মা কালীর শরণাপন্ন হলেন মুর্শিদাবাদের জেলা সভাপতি! রাজ্যের এই বিধানসভা ধরে রাখতে 'জামাই'-এর উপরেই ভরসা ১৯৬৭ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত এই আসনটি (মাঝে ১৯৭১ থেকে ১৯৭৭ পর্যন্ত আসনটি কংগ্রেসের দখলে ছিল) একটানা আরএসপি-র দখলে ছিল। সেই আসনই কংগ্রেসের মহিলা প্রার্থী প্রতিমা রজক ২০১১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেন। পরপর দু'বার প্রতিমা রজক ওই আসন থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে জিতেছিলেন । যদিও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়ঞা কেন্দ্রে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের প্রাক্তন সভাধিপতি শিলাদিত্য হালদারকে দাঁড় করিয়েছিল কংগ্রেস। গত বিধানসভা নির্বাচনে বড়ঞা আসনে শিলাদিত্য হালদারকে তৃতীয় স্থানে ঠেলে দিয়ে বিজেপি প্রার্থী অমিয় কুমার দাস দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছিলেন। তৃণমূল প্রার্থী জীবনকৃষ্ণ সাহা জিতলেও তাঁর জয়ের ব্যবধান ৩০০০-এরও কম ভোট ছিল। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে বর্তমানে জেল বন্দি রয়েছেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। সিবিআই এই মামলার তদন্ত শুরু করতেই জীবন কৃষ্ণ সাহা কীভাবে নিজের মোবাইল ফোন পুকুরে ফেলে দিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন তা সংবাদমাধ্যমের পর্দায় অনেকেই দেখেছেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় যেমন তৃণমূলের টিকিট পাননি তেমনই এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত জীবনকৃষ্ণ সাহাকে টিকিট দেয়নি রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। জীবনকৃষ্ণের পরিবর্তে সংরক্ষিত এই আসনে শাসক দল এবার প্রার্থী করেছে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া প্রাক্তন বিধায়ক প্রতিমা রজককে। একজন সাধারণ আইসিডিএস কর্মী প্রতিমা রজকের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এই নির্বাচনে বড় ভরসা হতে চলেছে। এর পাশাপাশি বিজেপি প্রার্থী নিয়ে বড়ঞা-র নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ থাকায় ,তার সুবিধাও পেতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপির তরফ থেকে এবছর তাদের দলের প্রার্থী সুখেন কুমার বাগদিকে বড়ঞা কেন্দ্রে প্রতিমা রজকের বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছিল। সেবারের নির্বাচনে প্রতিমা রজক ৪৭ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও বিজেপি প্রার্থী হিসেবে সুখেন কুমার বাগদি মাত্র সাড়ে ছয় শতাংশ ভোটও পাননি। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর থেকেই প্রতিমা রজক দলের ব্লক সভাপতি মাহে আলম সহ অন্যান্য নেতা কর্মীদেরকে নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে চষে বেড়ানো শুরু করেছেন। কংগ্রেসের বিধায়ক হিসেবে দশ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে যে আলাদা' অ্যাডভান্টেজ' দেবে তা মেনে নিয়েছেন প্রতিমাদেবী। তিনি বলেন,"আমাদের দলের বিদায়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ ছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রাজ্য জুড়ে যে উন্নয়নের কাজ করছেন তার সুফল বড়ঞার মানুষ পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই বড়ঞার রাস্তাঘাট, হাসপাতাল সব কিছুরই প্রভূত উন্নতি হয়েছে।" প্রতিমাদেবীর অভিযোগ,"কেন্দ্র সরকার প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনা, আবাস যোজনার মতো প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে রেখেছে। রাজ্য সরকারই নিজের কোষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে গ্রামীণ এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করছে। যার ফলে বড়ঞার মত প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাতেও এখন রাস্তাঘাট আগের থেকে অনেক ভালো হয়েছে।" তিনি বলেন,"আমি নিজে একজন আইসিডিএস কর্মী। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দীর্ঘ বহু বছর ধরে এই প্রকল্পে টাকা বাড়াচ্ছে না। তার ফলে দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সাম্মানিক বেতন বাড়ছে না। আশা এবং আইসিডিএস কর্মীদের যতটুকু বেতন বেড়েছে তা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির জন্যই। তিনিই রাজ্যের কোষাগার থেকে আমাদের জন্য বর্ধিত সম্মানিকের ব্যবস্থা করেছেন।" ইদের সকালে বড়ঞার ডাকবাংলো মোড়, পাঁচথুপি এলাকায় নির্বাচনী প্রচার সারতে সারতে প্রতিমাদেবী বলেন,"বড়ঞা এখন তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। আমরা নিশ্চিত এবারের নির্বাচনেও বড়ঞার মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেই তাঁদের রায় দেবেন। বড়ঞা বিধানসভার প্রত্যেকটি বুথে আমাদের কমিটি রয়েছে, যা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে আমাদের দলের একটা বড় শক্তি।" এবারের নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিজেপির প্রার্থীর সঙ্গে হলেও প্রতিমাদেবী আশাবাদী ২০১১ সালে তিনি যেভাবে বিজেপি প্রার্থীকে পেছনে ফেলেছিলেন, ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও একই ফলের পুনরাবৃত্তি হবে। তিনি বলেন,"কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে আমি যেমন জিতেছিলাম, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবেও জিতব।"
বরোদা বিধানসভা কেন্দ্রঃ বামপন্থী আরএসপি পার্টির একটি ঐতিহাসিক শক্তি
AajKaal News•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: AajKaal News
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.