আজকাল ওয়েবডেস্ক:তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি যদি নিজে থেকে পদত্যাগ না করেন, তবে তাঁকে বরখাস্ত করাই একমাত্র পথ- আজ এমনই কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এক সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বলেন, "মমতা ব্যানার্জি পদত্যাগ না করলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হোক। বাংলার মানুষ অনেক দিন ওঁর শাসন সহ্য করেছেন।" টানা তিন বার ক্ষমতায় থাকার পর ৪ এপ্রিল বিজেপির কাছে হেরেছে মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল-কংগ্রেস। কিন্তু মঙ্গলবার তিনি ইস্তফা দিতে সরাসরি অস্বীকার করায় রাজ্যে এক নজিরবিহীন জটিলতা তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে মমতা মেজাজি সুরে বলেন, "আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। ইস্তফাও দেব না।" বাংলায় বিজেপির কাছে শোচনীয় পরাজয়ের ২৪ ঘন্টা পরও মমতা ব্যানার্জি নিজের অবস্থানে অনড় রইলেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন যে, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থীরা নির্বাচনে হারেননি, বরং গেরুয়া শিবির জোর করে ইভিএম দখল করে ভোটে জিতেছে। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মেয়াদ ৬ মে শেষ হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমো কি মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে টিকে থাকতে পারবেন? প্রবীণ আইনজীবী শেখর নাফাদে বলেছেন, তাঁর এই প্রতিরোধ বা অনড় মনোভাব কোনওই পার্থক্য তৈরি করবে না। রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন এবং সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, কারণ পাঁচ বছরের সাংবিধানিক ম্যান্ডেট বা নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে। 'ইন্ডিয়া টুডে'-র সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, পদত্যাগ না করার বিষয়ে তৃণমূল নেত্রীর এই সিদ্ধান্ত কীভাবে ভারতের সংবিধানের পরিপন্থী। ফোনে 'ইন্ডিয়া টুডে'-কে নাফাদে বলেন, "নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যদি না কোনও উপযুক্ত আদালত নির্দিষ্ট কোনও যুক্তির ভিত্তিতে এই নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করে, তবে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফলের প্রতি প্রত্যেকেই মেনে চলতে বাধ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর ওপর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।" ওই আইনজীবী আরও জানান, যদি তিনি এই নিয়ম মেনে না চলেন, তবে সরকারের বরখাস্ত করা ছাড়া রাজ্যপালের হাতে আর কোনও বিকল্প থাকবে না। বলেন, "আর সেই পদক্ষেপটি হবে সংবিধানিক নিয়মের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।" শেখর নাফাদে অবশ্য এ-ও জানান যে, মমতা ব্যানার্জি সামনে যে কোনও উপযুক্ত মঞ্চে নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। আরেক আইনজীবী পিডিটি আচার্য অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, "বর্তমানে এমন কোনও বিধান নেই যা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বহাল থাকার অনুমতি দেয়। এমনকি তিনি যদি পদত্যাগ নাও করেন, তাতেও কিছু যায় আসে না। পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত রাজ্যপাল হয়তো তাঁকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে পারতেন। কিন্তু সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনও সরকার আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, মমতা ব্যানার্জি যদি এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ জানান, তবে তা করতে হবে একটি 'নির্বাচনী পিটিশন' বা মামলার মাধ্যমে, যার শুনানি হবে অনেক পরে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রসঙ্গে আচার্য বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তিনি হয়তো নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন; কিন্তু, "সেটি হবে সম্পূর্ণ আলাদা একটি পিটিশন। এমনকি যদি সেই পদক্ষেপ করারও হয়, তবুও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে বহাল থাকতে পারবেন না।"
বাংলার নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর
AajKaal News•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: AajKaal News
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.