টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে চলেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। সূর্যকুমার যাদব, জসপ্রীত বুমরাহদের ঘিরে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের উন্মাদনা তুঙ্গে। তবে এই বিশ্বকাপে শুধু ভারতের ১৫ জন ক্রিকেটারই নন, মাঠে নামছেন আরও ৪০ জন ‘ভারতীয়’—যাঁরা খেলবেন ভিনদেশের জার্সিতে। একসময় যাঁদের স্বপ্ন ছিল ভারতের হয়ে খেলার, সেই স্বপ্ন অপূর্ণ থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে পৌঁছনোর দ্বিতীয় সুযোগ পেয়েছেন তাঁরা।এ বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলছে ২০টি দেশ। তার মধ্যে ৯টি দেশের দলে রয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা। সংখ্যার বিচারে সবার উপরে ক্যানাডা, ১১ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটার খেলবেন তাদের হয়ে। এরপর রয়েছে আমেরিকা (৯ জন), ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (৭ জন করে)। এমনকি নিউ জ়িল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো প্রতিষ্ঠিত দলেও ভারতীয় শিকড়ের ক্রিকেটার রয়েছেন।আমেরিকা দলের অধিনায়ক ৩২ বছরের মোনাঙ্ক প্যাটেল একসময় গুজরাট অনূর্ধ্ব–১৯ দলে খেলেছেন। ভারতের হয়ে সুযোগ না পেয়ে পরিবারের সঙ্গে পাড়ি দেন আমেরিকায়। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেকের ক্রিকেটজীবন শুরু হয়েছিল ভারতে। আমেরিকার হয়ে ভারতে খেলাটা আলাদা অনুভূতি, কিন্তু এই সুযোগটাই যেন আমার ভাগ্যে লেখা ছিল।’ ২০১৯ সাল থেকে মার্কিন ক্রিকেটের উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।আমেরিকার আর এক ভরসা সৌরভ নেত্রভালকর। পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এই বাঁহাতি পেসার গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির উইকেট নিয়েছিলেন। চাকরির পাশাপাশি ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া তাঁর কাছে দু’টি স্বপ্নপূরণের সমান।এ বারের বিশ্বকাপে প্রথম বার খেলছে ইতালি। ফুটবলের জন্য পরিচিত দেশটির জার্সিতে নামবেন পাঞ্জাবে জন্মানো জশপ্রীত সিং। ছোট বয়সে ইতালিতে চলে যাওয়া এই ক্রিকেটার বলছেন, ‘বিশ্বকাপে খেলা প্রত্যেক ক্রিকেটারের স্বপ্ন। ভারতের মাটিতে সেই স্বপ্নপূরণ হওয়াটা আরও বিশেষ করে তোলে।’ ইডেন গার্ডেন্সে ইতালির ম্যাচ তাঁর কাছে আজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে।সেইরকমই আরিয়ান দত্ত। নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দলের অফ স্পিনার। আরিয়ানের জন্ম ভারতে, তাঁর বাবা-মা কাজের সূত্রে অনেক আগেই ভারত ছেড়ে নেদারল্যান্ডসে পাড়ি দেন। সেখানেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা আরিয়ানের। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে আলাপ হলেও, ভারতের মতো প্রতিযোগিতায় ঠাসা কাঠামোয় সুযোগ পাওয়া যে কতটা কঠিন, তা পরিবার কাছ থেকেই দেখেছে।বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারতের মাটিতে খেলাটা আরিয়ানের কাছে আলাদা আবেগের। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের বিশ্বকাপের পর ভারতে ফেরার সুযোগ পাইনি। তাই এবার খেলতে নামাটা আরও বিশেষ। পরিবার গ্যালারিতে থাকবে—সময় পেলে তাঁদের সঙ্গে দেখা করাটাও আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।’শুধু খেলোয়াড় নন, সাপোর্ট স্টাফেও রয়েছেন বহু ভারতীয়। প্রাক্তন মুম্বই ক্রিকেটার সুলক্ষণ কুলকর্নি বর্তমানে ওমান দলের ডেপুটি হেড কোচ। তাঁর মতে, ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিযোগিতার গভীরতাই বহু প্রতিভাকে বিদেশের সুযোগ খুঁজতে বাধ্য করছে। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে যত প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছেন, তাঁদের ভিড়ে জায়গা করে নেওয়াটা সবার কাছে সহজ নয়।এই ক্রিকেটারদের অনেকেই পুরো সময় ক্রিকেট খেলেন না। কেউ চাকরি করেন, আবার কেউ ব্যবসা করেন। তবু স্বপ্ন ছাড়েননি। নীল জার্সি না হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁদের উপস্থিতি প্রমাণ করছে—ভারতীয় ক্রিকেট প্রতিভার সীমা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।ক্যানাডাদিলপ্রীত বাজওয়া (অধিনায়ক), অজয়বীর হুন্ডাল, কানওয়ারলাল তাথগুর, নবনীত ধালিওয়াল, অংশ পটেল, হর্ষ ঠাকের, জসকরণদীপ ভুট্টার, শ্রেয়স মোভা, রবীন্দ্রপাল সিং, শিবম শর্মা, যুবরাজ সামরাআমেরিকামোনাঙ্ক প্যাটেল (অধিনায়ক), সৌরভ নেত্রভালকর, জেস্সি সিং, সাইতেজা মুক্কামালা, সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি, মিলিন্দ কুমার, নসতুশ কেঞ্জিগে, হরমিত সিংহ, শুভম রঞ্জনেসংযুক্ত আরব আমিরশাহীহর্ষিত কৌশিক, ময়াঙ্ক কুমার, আলিশান শারাফু, আর্যংশ শর্মা, সিমরনজিৎ সিং, শোয়েব খান, ধ্রুব পরাশরওমানযতীন্দর সিংহ (অধিনায়ক), বিনায়ক শুক্ল, ওয়াসিম আলি, জয় ওদেদরা, আশিস ওদেদরা, জিতেন রামানন্দি, করণ সোনাভালেজশপ্রীত সিং (ইতালি)আরিয়ান দত্ত (নেদারল্যান্ডস)ইশ সোধি, রাচীন রবীন্দ্র (নিউ জ়িল্যান্ড)কেশব মহারাজ (দক্ষিণ আফ্রিকা)গুড়াকেশ মোতি (ওয়েস্ট ইন্ডিজ়)
ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে কারণ দ্বিতীয় সুযোগটি উন্মোচিত হয়েছে
EI Samay•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.