২০২৬-২৭ কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের খরচের চাপ কিছুটা কমানোর লক্ষ্যে আমদানি শুল্ক কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তনের ঘোষণা করেছেন। যদিও আয়কর স্ল্যাবে কোনও বদল আনা হয়নি, বিভিন্ন পণ্যের উপর শুল্ক হ্রাস বা বৃদ্ধি সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বাজারদরে। উল্লেখযোগ্য হল, এই বাজেট এমন এক সময়ে পেশ করা হয়েছে, যখন ভারত মার্কিন শুল্কের চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। সরকারি ঘোষণায় স্পষ্ট, এই বাজেটে একদিকে চিকিৎসা, ইলেকট্রনিক্স ও বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে স্বস্তি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিলাসপণ্য, তামাকজাত দ্রব্য ও কিছু বিনিয়োগ ক্ষেত্রে খরচ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চিকিৎসা খাতে বড় ঘোষণা হিসেবে ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৭টি ওষুধ এবং বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ৭টি ওষুধকে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ওষুধের উপর শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স খাতে ক্যামেরা মডিউল, ডিসপ্লে প্যানেলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে শুল্ক কমানো হয়েছে। এর ফলে দেশীয়ভাবে তৈরি স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও কিছু ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। মাইক্রোওয়েভ ওভেনের কিছু যন্ত্রাংশেও শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতে ইভি ব্যাটারি এবং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত লিথিয়াম, কোবাল্টের মতো কাঁচামালের উপর শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ইভির খরচ কমাতে সহায়ক হতে পারে। চামড়ার জুতো ও পোশাক রপ্তানি উৎসাহিত করতে তাদের কাঁচামাল আমদানির উপর শুল্ক কমানো হয়েছে। এর প্রভাবে দেশীয় বাজারেও দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। ‘খেলো ইন্ডিয়া’ মিশনের আওতায় ক্রীড়া সরঞ্জামেও ছাড় দেওয়ায় তা আরও সাশ্রয়ী হতে পারে। অসামরিক বিমান শিল্পে খুচরো যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কাঁচামালের উপর শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিমান সংস্থাগুলির খরচ কমাতে পারে। বাজেটে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির কথাও জানানো হয়েছে। খনিজ পদার্থ, স্ক্র্যাপ এবং মদের উপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে এই সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তামাকজাত দ্রব্য, সিগারেট ও পান মশলার উপর নতুন আবগারি শুল্ক এবং ‘পাপ কর’ আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এই পণ্যগুলির দাম বাড়ার সম্ভাবনা। বিদেশি মদের উপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার প্রভাব বাজারদরে পড়তে পারে। বিদেশ থেকে আমদানি করা বিলাসবহুল সুগন্ধি, দামি জুতো, পোশাক ও ঘড়ির উপর শুল্ক বাড়ায় এগুলিও আরও ব্যয়বহুল হতে পারে। সোনা ও রুপোর মতো মূল্যবান ধাতুর আমদানি শুল্ক পরিবর্তনের ফলে দেশীয় বাজারে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।শেয়ার বাজারে ফিউচার ও অপশন, লেনদেনে নিরাপত্তা লেনদেন কর বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধরনের লেনদেন আরও খরচসাপেক্ষ হয়ে উঠতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বাজেটে একদিকে জনস্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও বিশেষ পরিবহন খাতে স্বস্তি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে বিলাসজাত পণ্য ও ক্ষতিকারক ভোগ্যপণ্যে কর বৃদ্ধি করে রাজস্ব বাড়িয়ে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে।
ভারতের 2026-27 কেন্দ্রীয় বাজেটঃ অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ব্যয়ের চাপ হ্রাস করা
Dainik Statesman•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Dainik Statesman
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.