হাঁড়কাপানো শীতে জানুয়ারিতে ভারতের অনেক জায়গার বাসিন্দাদের জবুথুবু অবস্থা হয়েছিল। যদিও জানুয়ারির শেষ থেকে শীত কমতে থাকে, বাড়তে থাকে তাপমাত্রা। ফেব্রুয়ারি পড়তে না পড়তে শীতপ্রিয় মানুষদের জন্য দুঃসংবাদ দিল ভারতের মৌসম ভবন (আইএমডি)। জানাল, চলতি মাসে উষ্ণতা আরও বাড়বে। শুষ্ক থাকবে আবহাওয়া! মৌসম ভবনের পূর্বাভাসে মাথায় হাত কৃষকদের। আবহাওয়ার তারতম্যে এই সময়ে ফলন হওয়া ছোলা, তেল বা গম চাষে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা। মৌসম ভবন জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে শুধু বৃষ্টি কম হবে তা-ই নয়, সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের থেকে বেশি থাকতে পারে। আইএমডি ডিরেক্টর মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেন, ‘‘সারা দেশে ফেব্রুয়ারিতে স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা বাড়বে। তার ফলে গম বা যবের মতো ফসলে সময়ের তুলনায় আগেই পাক ধরতে পারে। তাতে শস্যের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। হ্রাস হতে পারে ফলন।’’ কোথায় কোথায় বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে কম হতে পারে, তার পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি। মৃত্যুঞ্জয় জানিয়েছেন, মূলত উত্তর-পশ্চিম ভারত— পূর্ব ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা, পঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, চণ্ডীগড় এবং দিল্লিতে ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘‘ডিসেম্বর এবং জানুয়ারির বেশির ভাগ সময় পশ্চিমি ঝঞ্ঝা না-থাকায় পশ্চিম হিমালয় অঞ্চলে শুষ্ক শীতকাল দেখা যায়।’’ তিনি আরও জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের হ্রাসের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই পরিবর্তন বলে মত আইএমডি-র। মৃত্যুঞ্জয় জানান, পর পর দু’টি পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে দেশের পশ্চিম অংশে বৃষ্টিপাত হয়েছে। জানুয়ারিতে বঙ্গোপসাগরের উপর একটি নিম্নচাপ অঞ্চলের জন্য দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভিজেছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি নিয়েও সতর্ক করেছে মৌসম ভবন। মৃত্যুঞ্জয় জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারিতে দেশের বেশির ভাগ অংশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে। দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশ ছাড়া বাকি জায়গার তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে হচ্ছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রার ক্ষেত্রেও একই হেরফের দেখা যেতে পারে বলে জানাল আইএমডি। তাপমাত্রার খামখেয়ালিপনার কারণে শীতকালীন ফসলের চাষে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গম উৎপাদন হয়। শুধু গম নয়, ছোলার ফলনও হয় শীতকালেই। সাধারণ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই সব ফসল রোপণ করা হয়ে থাকে। জানুয়ারির পর থেকে ফসলে পাক ধরে। সেই সময় ঠান্ডা আবহাওয়ার প্রয়োজন হয়। মৌসম ভবনের পূর্বাভাসের পর তাই চিন্তায় কৃষকেরা। মুম্বইভিত্তিক এক বাণিজ্যিক সংস্থার আধিকারিকের কথায়, ‘‘শীতকালীন ফসলের উৎপাদনের জন্য ফেব্রুয়ারি মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা বৃদ্ধি হলে ফলন কমবে।’’
ভারতের আবহাওয়ার পূর্বাভাসঃ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শুষ্ক থাকবে, ফসলের ক্ষতি হতে পারে
Ananda Bazar•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Ananda Bazar
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.