২০২৬-এর কেন্দ্রীয় বাজেটে আয়কর স্ল্যাবে কোনও পরিবর্তন না আনলেও করদাতাদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তিদায়ক ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তিনি জানিয়েছেন, নতুন আয়কর আইন আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং এর বিস্তারিত বিধি ও আয়কর রিটার্ন অর্থাৎ আইটিআর ফর্ম শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ এবং সহজ করে তোলা। কর ফাঁকির ক্ষেত্রে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির বদলের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এতদিন আয় গোপন বা অনিয়ম ধরা পড়লে ফৌজদারি মামলা ও কারাদণ্ডের আশঙ্কা থাকত। নতুন আইনে সেই কঠোরতা অনেকটাই শিথিল করা হচ্ছে। এখন থেকে অনিয়ম ধরা পড়লে জরিমানার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তির সুযোগ থাকবে। এই ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ কর আরোপ করে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিদেশে অঘোষিত সম্পদ থাকা করদাতাদের জন্যও একটি সুযোগ রাখা হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে তারা একটি বিশেষ ডিসক্লোজার স্কিমের আওতায় স্বেচ্ছায় নিজেদের সম্পদের বিবরণ জানাতে পারবেন। পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণ, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচে এতদিন ৬ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত টিসিএস অর্থাত (ট্যাক্স কালেক্টেড অ্যাট সোর্স) কাটা হত, যা খরচ বাড়িয়ে দিত। এবার সেই হার কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা বা ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে আর্থিক চাপ তুলনামূলকভাবে কমবে। আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রেও করদাতাদের স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় ছোটখাটো ভুল হয়ে গেলে তা সংশোধনের প্রক্রিয়া আগে বেশ জটিল ছিল। এখন সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য আরও সময় দেওয়া হবে এবং নামমাত্র ফি দিয়ে তা করা যাবে। সরকার রিটার্ন দাখিলের সময়সীমাও স্পষ্ট করা হয়েছে। আইটিআর-১ ও আইটিআর-২ এর করদাতারা ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিতে পারবেন, আর অডিটবিহীন ব্যবসা ও ট্রাস্টের ক্ষেত্রে শেষ তারিখ ৩১ আগস্ট। ছোট করদাতাদের জন্য কম বা শূন্য টিডিএস সার্টিফিকেট পাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে, ফলে কর অফিসে বারবার যেতে হবে না। এনআরআইদের কাছ থেকে সম্পত্তি কেনার ক্ষেত্রেও জটিলতা কমানো হয়েছে। এতদিন ক্রেতাদের টিডিএস কাটার জন্য আলাদা টিএএন নম্বর নিতে হত, এখন তা ছাড়াই সরাসরি টিডিএস কাটা যাবে। বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেও কিছু প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। একাধিক কোম্পানিতে বিনিয়োগকারীরা এখন ফর্ম ১৬জি ও ১৬এইচ সরাসরি সংশ্লিষ্ট সংস্থায় পাঠাতে পারবেন, ফলে প্রশাসনিক ঝামেলা কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়কর স্ল্যাব অপরিবর্তিত থাকলেও প্রক্রিয়া সরলীকরণ, শাস্তি শিথিল করা এবং বিদেশ সংক্রান্ত লেনদেনে চাপ কমানো—এই সব মিলিয়ে সরকার করদাতাদের সঙ্গে আরও আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেট 2026: আয়কর আইনে মূল পরিবর্তন
Dainik Statesman•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Dainik Statesman
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.