আজকাল ওয়েবডেস্ক:রেললাইনের মাঝে শুয়ে মরণঝাঁপ! ভাইরাল হওয়ার নেশায় মত্ত এক যুবকের এই দুঃসাহসিক কীর্তিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে নেটপাড়ায়। সম্প্রতি শিউরে ওঠা সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হায়দরাবাদের পুলিশ কমিশনার ভি সি সজ্জনার। গোটা বিষয়টিকে ‘চরম বোকামি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। ভিডিওটিতে দেখা গিয়েছে, ট্রেন ধেয়ে আসার মুহূর্তে লাইনের ঠিক মাঝখানে শুয়ে পড়লেন এক যুবক। তাঁর শরীরের ওপর দিয়েই প্রবল গতিতে বেরিয়ে গেল আস্ত একটি ট্রেন। ট্রেনের চাকা আর শরীরের মধ্যে দূরত্ব ছিল যৎসামান্য। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই চরম পরিণতি হতে পারত। ট্রেনটি চলে যাওয়ার পরই ওই যুবক অক্ষত অবস্থায় উঠে দাঁড়িয়ে আবার পোজ দিতে শুরু করেন। পাশে দাঁড়িয়ে এক বন্ধু পুরো ঘটনাটি ক্যামেরাবন্দি করছিলেন। লক্ষ্য একটাই, ইন্টারনেটে রাতারাতি জনপ্রিয় হওয়া। কমিশনার সজ্জনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, এক সেকেন্ডের ভুলেও মৃত্যু হতে পারত ওই যুবকের। তথাকথিত ‘ইনফ্লুয়েন্সার’দের সতর্ক করে তিনি বলেন, “ভাইরাল হওয়ার নেশায় এই ধরনের কাজ করা বীরত্ব নয়, বরং নিছকই বোকামি। মুহূর্তের ভুলে জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে। দায়িত্বশীল হোন, বেপরোয়া হবেন না।” এই ভিডিও দেখে নেটপাড়ায় বিপুল প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কেউ কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন, কেউ বা মোবাইল ব্যবহারের আসক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের কাজ দণ্ডনীয় অপরাধ। রেল সুরক্ষা বাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন রিল বা ভিডিও তৈরির বিরুদ্ধে যেন কড়া পদক্ষেপ করা হয়। অন্যদিকে, চলন্ত ট্রেনে তরুণীকে শ্লীলতাহানি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ব্যাপক শোরগোল। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে রবিবার রাতে রীতিমত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল নাগদা স্টেশন চত্বর। জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে নামাতে হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আহমেদাবাদ থেকে এক আত্মীয়ের অস্থি বিসর্জন দিতে সপরিবারে উজ্জয়িনী যাচ্ছিলেন অভিযোগকারীরা। অভিযোগ, রাতলাম স্টেশন থেকে চার যুবক ওই কামরায় ওঠে। জানা গিয়েছে, তারা ট্রেনের ভিতরেই ধূমপান করছিল৷ এমনকী তরুণীর মুখের সামনে সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে এক তাকে উত্যক্ত করছিল। এই অশালীন ব্যবহারের প্রতিবাদ করতেই অভিযুক্তরা তরুণীর শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ। এর পরেই কামরার ভিতরে বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। যাত্রীরা ওই যুবকদের কয়েকজনকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে রেল পুলিশের হাতে তুলে দেন। কিন্তু অভিযোগ, পরে খাচরোদ স্টেশন থেকে আরও জনা ষাটেক যুবক দলবল নিয়ে ট্রেনে চড়াও হয়। তরুণীর পরিবারের দাবি, মহিলা ও শিশুদেরও বেল্ট দিয়ে বেধড়ক মারা হয়েছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নাগদা স্টেশনের বাইরে দুই পক্ষ জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উত্তেজনা চরমে পৌঁছলে আশপাশের সাতটি থানার পুলিশ এসে লাঠি উঁচিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টার পর রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ পরিস্থিতি আয়ত্তে আসে। উজ্জয়িনীর পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা জানিয়েছেন, বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভাইরাল ভিডিও খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশি টহল চলছে। বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক রং না দেওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে।
মদ্যপ ব্যক্তিকে রেললাইনে পড়ে থাকতে দেখে হায়দরাবাদ পুলিশ জনসাধারণকে সতর্ক করেছে
AajKaal News•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: AajKaal News
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.