এই সময়:স্কুলের গাফিলতিতে পঞ্চাশেরও বেশি পরীক্ষার্থী সোমবার শুরু হওয়া এ বছরের মাধ্যমিকে বসতেই পারল না! এর ফলে তাদের এক বছর নষ্ট তো হলোই, এমনকী অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু হয়ে যাওয়ায় এ বছরের পরীক্ষায় তারা ‘অকৃতকার্য’ বলেও গণ্য হবে। সেই দাগ এড়াতে স্কুলকেই উদ্যোগী হয়ে এই কার্ড বাতিল করাতে হবে।কেন এই জটিলতা? কারণ, অ্যাডমিট কার্ড বিলির জন্য মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সময় বাড়ালেও সল্টলেকের অফিসে গিয়ে ঠিকঠাক ভাবে তা সংগ্রহ পর্যন্ত করেনি রাজ্যের ৪৫টি স্কুল। এর মধ্যে কলকাতারও দু’টি স্কুল রয়েছে। অভিযোগ, কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষক বা তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে স্কুলের সিনিয়র টিচার বা শিক্ষাকর্মীদের বদলে ভাগ্নে বা পুত্র অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করতে যান!বিষয়টি নিয়ে প্রবল ক্ষুব্ধ পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়। সোমবার তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা মিটলেই স্কুলগুলোর বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নেব। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কখনও না ঘটে।’ অতীতেও এ রকমটা ঘটেছে বলে মনে করতে পারছেন না প্রবীণ শিক্ষাকর্তারা।এ বারের পরীক্ষার জন্য গত বছরের ২–১৯ ডিসেম্বর এবং ২১–২৯ ডিসেম্বর অনলাইনে এনরোলমেন্ট ফর্ম পূরণের দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করেছিল পর্ষদ। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ লক্ষা ৭০ হাজার। বেশিরভাগ স্কুল সময়ের মধ্যে কাজ সেরেও ফেলে। কিন্তু ৯৫৪টি স্কুলের ১,৯৬৬ জন পড়ুয়ার এনরোলমেন্ট পূরণ হয়নি। এ নিয়ে প্রবল শোরগোল পড়ে যায়, তার উপরে ভোটের মুখে রাজনৈতিক চাপও তৈরি হয় বলে খবর। রাজ্য প্রশাসনের একাংশও মধ্যস্থতা করে।এই পরিস্থিতিতে বিধি শিথিল করে পরীক্ষার তিনদিন আগে অ্যাডমিট কার্ড তৈরির জন্য এনরোলমেন্ট ফর্ম পূরণের বাড়তি সুযোগ দিয়েছিল পর্ষদ। এ জন্য ২৭–২৮ জানুুয়ারি পোর্টাল খোলা হয়। তা সত্ত্বেও ৩১ জানুয়ারি সন্ধে আটটা পর্যন্ত ৮৬টি স্কুল তাদের ১০৩ জন পড়ুয়ার অ্যাডমিট কার্ড সংগ্রহ করেনি। এরপর রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি দুপুর দুটো থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ফের অ্যাডমিট বিলি করে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। তখনও ৪৫টি স্কুলের পঞ্চাশের বেশি পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট সংগ্রহ করা হয়নি। কাজেই ওই স্টুডেন্টরা সোমবার পরীক্ষায় বসতে পারেনি।এ দিন ছিল প্রথম ভাষার পরীক্ষা। ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইনসেনটিভ রিভিশন (সার) প্রক্রিয়ায় বহু শিক্ষক–শিক্ষিকা যুক্ত থাকায় নির্বিঘ্নে পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সোমবার অবশ্য কোনও সমস্যা হয়নি। পর্ষদ সভাপতি বলেন, ‘কোথাও থেকে কোনও অভিযোগ আসেনি। পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে রাজ্যের নির্বাচন কমিশনারের দপ্তরকে তিনটি চিঠি দিই। সার–এর পাশাপাশি যাতে মাধ্যমিকও সুষ্ঠু ভাবে হতে পারে, তার উপরে জোর দেওয়া হয়েছিল। সেই মতোই এ দিন নির্বিঘ্নে পরীক্ষা হয়েছে।’
মাধ্যমিক পরীক্ষার বিশৃঙ্খলাঃ বিদ্যালয়ের অবহেলায় আটকে পড়ছেন ছাত্রছাত্রীরা
EI Samay•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.