আজকাল ওয়েবডেস্ক:রাজ্যে গেরুয়া ঝড়। বিধানসভা নির্বাচনে পরাস্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায়, লোকমুখে উঠে এসেছেন লিওনেল মেসি। সমাজ মাধ্যমে টীপ্পনী কেটে বলা লেখা হয়েছে, 'সরকার ফেলে দিলেন মেসি।' আর মেসিকে এই দেশে আনার 'ভগীরথ' যিনি, সেই শতদ্রু দত্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন টালিগঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস হারতেই। বিজেপি-র পাপিয়া অধিকারীর কাছে হার মানতে হয় অরূপকে। সোশ্যাল মিডিয়ার স্টোরিতে অরূপ ও পাপিয়া অধিকারীর ফলাফলের ছবি পোস্ট করে শতদ্রু লিখেছেন, ''খেলা শেষ তোমার, এবার আমার শুরু।'' আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি এই রাজ্যে আসার সময়ে অরূপ বিশ্বাস ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী। ১৩ ডিসেম্বর মেসি যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। মাঠে ঢুকে পড়ে অসংখ্য লোক। মহানায়কের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন তারা। এমনকী অরূপ বিশ্বাসকেও দেখা যায় মেসির সঙ্গে ছবি তুলতে। তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও মেসির সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা যায়। পরিস্থিতি অন্যরকম হতে দেখে দ্রুত যুবভারতী ছেড়ে চলে যান এলএম ১০। মেসি যুবভারতী ছাড়তেই শুরু হয় ধ্বংসলীলা। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাঙালির বড় আপন যুবভারতী। আয়োজক শতদ্রু দত্তকে যেতে হয় জেলে। মেসি-কাণ্ডের ৩৭ দিন পরে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান শতদ্রু। সোমবার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পরে মৌনতা ভাঙেন মেসিকে আনার কারিগর। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ছবি সম্বলিত স্টোরি পোস্ট করেন তিনি। সেগুলোর মধ্যে একটি পোস্টে লেখা, ''তুমি আমাকে বলির পাঁঠা করেছো। কিন্তু ঈশ্বর রয়েছেন।'' সেই পোস্টটিতে আরও লেখা, বিশ্বাস রাখো, শেষ কথা বলবেন ঈশ্বর। আরেকটি পোস্টে দেখা যাচ্ছে সেই বিতর্কিত দিনের ছবি। যেখানে শতদ্রু লিখেছেন, ''সাদা কুর্তা পরিহিত ব্যক্তিটি হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস, যিনি তাঁর লোকজনের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য মেসিকে চাপ দিচ্ছেন। আর কালো হুডি পরা লোকটা আয়োজক যাকে দৃশ্যতই মনে হচ্ছে অসন্তুষ্ট।'' আরেকটি ছবি-সহ পোস্ট করেন শতদ্রু। সেখানে লেখা, ''কর্মা। প্রতিশোধ নেওয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই। কেবল অপেক্ষা করে থাকো। যারা একদিন তোমাকে আঘাত করেছিল, নিজেদের কাজে তারাই একদিন বিপন্ন হবে। আর তুমি যদি ভাগ্যবান হও তাহলে ঈশ্বরের দয়ায় সেই দিন তুমি দেখতে পাবে।'' মেসিকে আনার পর যেভাবে ঘটনাপ্রবাহ বয়ে গিয়েছে, তা ভোলার নয়। পুরনো ঘটনা ক্ষতবিক্ষত করে শতদ্রুকে। তাই তিনি পোস্ট করেছেন, ''ক্ষমা নাকি ভুলে যাব? আমি প্রভু যিশু নই আবার আমার অ্যালঝাইমার্সও হয়নি।'' শতদ্রু আরেকটি পোস্ট তাঁর স্টোরিতে দিয়েছেন। সেটি তাঁর সঙ্গে অন্য ব্যক্তির কথোপকথনের। সেখানে লেখা, ''আমার মতে আজ তোমার জয়ের দিন। আমিও কর্মা-তে আস্থাশীল। আমি তোমাকে ভুলিনি। পেশায় আমি জাহাজের ক্যাপ্টেন। এখন জাহাজের কাজের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল দেখছি আর তোমার কথা মনে পড়ছে। কীভাবে তোমাকে ফাঁসানো হয়েছিল? আমি আজ খুব খুশি। যেমন কর্ম, তেমন ফল। তুমি নিজেও বুঝতে পারবে না কখন তোমার দরজায় এসে কখন কড়া নেড়ে যাবে। মেসিকে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে ওভাবে অসম্মান করা....।'' মেসিকে আনার পরে যুবভারতীতে বিশৃঙ্খলা, মন্ত্রী, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মেসিকে নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া, মহানায়কের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য হ্যাংলামি, এই সব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চা হলেও শতদ্রু এতদিন নীরব ছিলেন। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ হতেই এবং অরূপ বিশ্বাস হারতেই পুরনো প্রসঙ্গ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক পোস্ট করেন।
রাজ্য নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেসির উন্মাদনার ঝড়
AajKaal News•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: AajKaal News
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.