একটি বড় নালায় একটি শিশু পড়ে গিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছিলেন প্রশাসন ও পুলিশের কর্তারা। তিনটি আর্থ মুভার যন্ত্র এবং বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে আট ঘণ্টা ধরে চলে রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি। কিন্তু তার পরেও কোনও শিশুর হদিস মেলেনি। তবে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে নরককুণ্ড হয়ে থাকা নালাটি। আর এখানেই দানা বাঁধছে রহস্য। তা হলে কি নালা পরিষ্কারের জন্য ইচ্ছা করেই রটানো হয়েছিল শিশু পড়ে যাওরার গুজব?চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার, উত্তরপ্রদেশের মিরাটে, দিল্লি রোডের নবীন মান্ডির কাছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টিপি নগর থানা এলাকার এই বিশাল নালাটি দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনায় বুজে ছিল। পচা গন্ধে এলাকায় টেকা দায় হয়ে পড়েছিল। বারবার পুরসভাকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। কিন্তু সোমবার এক মহিলা নালায় শিশু পড়ে গিয়েছে বলে দাবি করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গিয়েছে ছবিটা।প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নালা পরিষ্কার করে তন্নতন্ন করে খোঁজা হয়। ঘটনাস্থলে হাজির হন এসপি (সিটি) আয়ুষ বিক্রম এবং নগর কমিশনার সৌরভ গাঙ্গওয়ারও। কাদায় নেমে পড়েন খোদ থানার বড়বাবু, অরুণ মিশ্র। আশেপাশের বস্তিগুলিতে মাইকিং করে জানতে চাওয়া হয়, কারও বাড়ির বাচ্চা নিখোঁজ কি না।তবে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়েও নালা থেকে কোনও প্রাণের হদিস মেলেনি। এমনকি কোনও পরিবারের পক্ষ থেকে শিশু নিখোঁজের অভিযোগে থানায় ডায়েরিও করেনি। এর পরেই সন্দেহ হয় পুলিশের। আদৌ নালায় কোনও শিশু পড়ে গিয়েছিল তো?এর পরে জানা যায়, গীতা নামে এক মহিলা মন্দিরে যাওয়ার পথে এক শিশুকে নালার ধারে বোতল কুড়োতে দেখেছিলেন। ফেরার পথে তাকে আর দেখতে না পেয়ে ওই মহিলা ধরেই নেন শিশুটি নালায় পড়ে গিয়েছে। সেই থেকেই এই হুলুস্থুল কাণ্ড। শেষ পর্যন্ত পুলিশ জানায় শিশু পড়ে যাওয়ার খবরটি একেবারেই ‘গুজব’।তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজ়েনদের একাংশ দাবি করছেন,এটি কোনও সাধারণ গুজব নয়। তাঁদের দাবি এটা ওই মহিলার নালাটি পরিষ্কার করানোর ‘মাস্টারপ্ল্যান’। তাঁদের মতে পুরসভাকে দিয়ে নালা পরিষ্কার করানোর অন্য কোনো উপায় না দেখে ওই মহিলা সম্ভবত ইচ্ছা করেই এই খবর রটিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্তক কোনও শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর না মেলায় এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। যদিও পুলিশের মতে এটা নিছক ‘ভুল বোঝাবুঝি’। ঘটনা যাই হোক,এলাকাবাসীর বক্তব্য,অন্তত নালাটা তো পরিষ্কার হলো!
রহস্যময় পরিবেশে মীরাটের একটি শিশু নালায় পড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে
EI Samay•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.