রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি:রক্তের নতুন গ্রুপ আবিষ্কারের (New blood group discovered) সঙ্গে নাম জুড়ল শিলিগুড়ির (Siliguri)। আর তা সম্ভব হয়েছে এখানকার ভূমিকন্যা ডাঃ সৌমী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃতিত্বের জন্য। বেঙ্গালুরুর যে ল্যাবরেটরিতে এই নতুন রক্তের গ্রুপ প্রথম শনাক্ত করা হয়েছিল, সেখানকার ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের গবেষক তথা ল্যাব কনসালটেন্ট ডাঃ সৌমী। সৌমীর বাবা ডাঃ শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ও শিলিগুড়ির প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক। তিনি উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ইএনটি বিভাগে স্পেশালিস্ট মেডিকেল অফিসার হিসাবে কর্মরত। মেয়ের সাফল্যে গর্বিত শেখরবাবুও। ছোটবেলায় রায়গঞ্জের সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে পড়াশোনা করলেও, পরবর্তীতে শিলিগুড়ির ব্যাংডুবি সেনা স্কুলে শিক্ষালাভ সৌমীর। উচ্চশিক্ষা লাভের পর কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাশ করেন তিনি। এমডি করার জন্য যান বেঙ্গালুরুতে। এমডি এবং ডিএনবি পাশ করার পরে পাঁচ বছর ধরে সেখানকার রোটারি টিটিকে ব্লাড সেন্টারে ইমিউনো হেমাটোলজি কনসালটেন্ট হিসাবে কাজ করছেন সৌমী। মূলত রক্তের গ্রুপ সংক্রান্ত বিভিন্ন রোগ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করাই তাঁর কাজ। জানা গিয়েছে, কোনও ব্লাড ব্যাংকের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় থেকে অন্য যে কোনও সমস্যায় বা রক্তের গ্রুপ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, সেই রক্ত পরীক্ষার জন্য এই ব্লাড সেন্টারটিতে পাঠানো হয়। এছাড়াও রোটারি টিটিকে একটি অত্যাধুনিক ব্লাড ব্যাংক যেখানে একটি রেয়ার ডোনার রেজিস্ট্রি তৈরি করা হয়েছে, যা এই ধরনের বিরল রক্তের গ্রুপের রোগীদের সাহায্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছে। সৌমী বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ডাক্তার লতা জগন্নাথন, ডাক্তার অঙ্কিত মাথুর, এবং বিজয় রেড্ডিকে নিয়ে গঠিত অভিজ্ঞ চিকিত্সক ও টেকনিশিয়ানদের এই দলটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশ কয়েকটি বিরল রক্তের গ্রুপের রোগীদের শনাক্তকরণ ও ট্রান্সফিউশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই কেসগুলি একাধিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থাপন করা হয়েছে। সৌমী জানান, কর্ণাটকের কোলারের একটি হাসপাতালে একজন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর হৃৎপিণ্ডে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছিল। চিকিৎসক সেই রোগীর জন্য কয়েক ইউনিট রক্ত মজুত করতে বলেছিলেন। ওই রোগীর ‘ও পজিটিভ’ রক্ত ছিল। কিন্তু রোগীর রক্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে থাকা ৮-১০ জন রক্তদাতার ‘ও পজিটিভ’ রক্তের সঙ্গে ক্রস ম্যাচিং করাতে গিয়ে বিপত্তি বাধে। কোনও ‘ও পজিটিভ’ রক্তের সঙ্গেই ওই রোগীর রক্ত মিলছিল না। এরপরেই ওই হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক রোগীর রক্তের নমুনা তাঁদের ব্লাড সেন্টারে পাঠায়। নানান পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই রোগীর রক্তের সঙ্গে অন্য কোনও ও পজিটিভ রক্ত মিলছে না। ওই মহিলার শরীরে দুর্লভ কোনও রক্ত রয়েছে, তখনই সন্দেহ হয়। টিম তৈরি করে ১৫০ কিলোমিটার দূরে ওই রোগীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের আরও ২০ জনের রক্তের নমুনা নেওয়া হয়। কিন্তু ২০ জনের সঙ্গেও ওই রোগীর রক্তের নমুনা মেলেনি। তারপরেই রোগী এবং তাঁর পরিবারের মোট ২১ জনের রক্ত ইংল্যান্ডের ইন্টারন্যাশনাল ব্লাড গ্রুপ রেফারেন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। ১০ মাস পরীক্ষানিরীক্ষার পরে ওই আন্তর্জাতিক ল্যাবরেটরি জানায়, ওই মহিলার রক্তে একটি বিরল অ্যান্টিজেন রয়েছে। এটাকে ক্রোমার সিস্টেমের অ্যান্টিজেন হিসাবে ধরা হয়। যা আগে কখনও শনাক্ত করা হয়নি। সৌমী বলছেন, ‘বেঙ্গালুরুর কোনারের এই রোগীই বিশ্বের প্রথম, যাঁর শরীরে এই রক্ত পাওয়া গিয়েছে। ওই ল্যাবরেটরিতেই নতুন এই রক্তের নাম দেওয়া হয় সিআরআইবি। ক্রোমারের সিআর এবং ইন্ডিয়ার আই, বেঙ্গালুরুতেই যেহেতু প্রথম শনাক্ত হয়েছে, সে জন্য বি।’ এই নতুন অ্যান্টিজেন আবিষ্কারের পরে মে মাসে ইতালির মিলানে ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অফ ব্লাড ট্রান্সফিউশন সংস্থার কনফারেন্স হয়। সেই কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন সৌমী বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌমীর বক্তব্য, ‘সেখানে এই রক্তের আবিষ্কার সম্পর্কে সমস্ত তথ্য তুলে ধরা হয়। সমস্ত নথিপত্র দেখার পর ওই সংস্থা ৩১ মে নতুন অ্যান্টিজেন হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।’
শিলিগুড়ির বাসিন্দা ডঃ সৌমি ব্যানার্জি ব্রেকথ্রু গবেষণায় নতুন রক্তের গ্রুপ আবিষ্কার করেছেন
Uttarbanga Sambad•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Uttarbanga Sambad
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.