লিবিয়া গুলি করে হত্যা করা হল মুয়াম্মার গদ্দাফির পুত্র সইফ আল-ইসলাম গদ্দাফিকে। মঙ্গলবার লিবিয়ার উত্তরপশ্চিম প্রান্তে জিনটান শহরে বাড়িতে ঢুকে তাঁকে খুন করেন চার বন্দুকধারী। তাঁদের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি। অজ্ঞাতপরিচয় ওই বন্দুকধারীদের প্রত্যেকেরই মুখ মাস্ক দিয়ে ঢাকা ছিল। লিবিয়ার প্রয়াত প্রাক্তন শাসকের ৫৩ বছর বয়সি পুত্রের উপরে কী উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে, লিবিয়ার প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। তবে সরকারি ভাবে কোনও বিবৃতি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সইফের ফরাসি আইনজীবী মার্সেল সেসালডি এএফপি-কে জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময়ে দুপুর ২টো নাগাদ হত্যা করা হয় গদ্দাফিপুত্রকে। চার জন বন্দুকধারী তাঁর জিনটানের বাড়িতে প্রবেশ করেছিলেন বলেও জানান তিনি। সইফের অনুগামীদের দাবি, বন্দুকধারীরা বাড়িতে প্রবেশের আগে সিসি ক্যামেরা বিকল করে দিয়েছিলেন। ফলে বাড়ির ভিতরে কী হয়েছিল, তা-ও স্পষ্ট নয়। অন্য দিকে লিবিয়ার সংবাদমাধ্যমে সইফের বোন দাবি করেছেন, আলজেরিয়া সীমান্তের কাছে হত্যা করা হয়েছে তাঁকে। তবে সইফের রাজনৈতিক উপদেষ্টা-সহ বেশির ভাগ ঘনিষ্ঠেরাই দাবি করছেন, জিনতানের বাড়িতেই হামলা হয়েছে গদ্দাফিপুত্রের উপরে। লিবিয়ায় গদ্দাফির শাসনের আমল থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসাবে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল তাঁর। সইফ ওই সময়ে কোনও ঘোষিত পদে ছিলেন না। তবে পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক ফের মসৃণ করার চেষ্টায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গদ্দাফির উত্তরসূরি হিসাবেও অনেকে বিবেচনা করতেন তাঁকে। বাবার শাসনকালে সইফই ছিলেন লিবিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শক্তিধর ব্যক্তিত্ব। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালের বিদ্রোহে গদ্দাফিকে হত্যার পরে বন্দি করা হয় সইফকে। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালে ছাড়া পান তিনি। সেই থেকে জিনতানেই থাকছিলেন তিনি। ২০২১ সালে সইফ ঘোষণা করেছিলেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পদপ্রার্থী হবেন তিনি। ভোটে লড়ার ঘোষণা করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই নির্বাচন পরে অনির্দিষ্ট কালের জন্য পিছিয়ে যায়।
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির হত্যার তদন্ত করছে লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ
Ananda Bazar•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Ananda Bazar
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.