মাত্র কয়েক মিনিটের আলাপ। আর তার কথায় বিশ্বাস করে জীবনের সঞ্চয় খুইয়ে বসলেন এক মহিলা। জানা গিয়েছে, সোনার কানের দুলের বিনিময়ে ৭২ হাজার টাকা— এই ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হাতছাড়া করতে চাননি হরিণঘাটার বাসিন্দা তারকদাসী মাঝি। কিন্তু সেই সুযোগই শেষ পর্যন্ত নির্মম প্রতারণায় পরিণত হল। হাবড়া স্টেশনের পথে দুই যুবকের ফাঁদে পড়ে নিজের সোনার দুল খুইয়ে সর্বস্বান্ত হলেন ওই মহিলা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তারকদাসী মাঝির বাড়ি হরিণঘাটার হাঁপানিয়া মধ্যপাড়া এলাকায়। মঙ্গলবার তিনি হাঁপানিয়া বাজার থেকে অটো করে হাবড়া বাজারের দিকে আসছিলেন। সেখান থেকে ট্রেন ধরার উদ্দেশ্যে হাবড়া স্টেশনের দিকে এগোচ্ছিলেন তিনি। অভিযোগ, স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় দুই অপরিচিত যুবক তারকদাসীর সঙ্গে আলাপ জমায়। কথোপকথনের সময় তারা খবরের কাগজে মোড়া একটি মোটা টাকার বান্ডিল দেখিয়ে তাঁকে প্রলোভন দেখায়। যুবকদের দাবি ছিল, তারকদাসীর কানে থাকা সোনার দুলের বদলে তাঁকে ৭২ হাজার টাকা দেওয়া হবে। প্রতারণার কৌশলে বিশ্বাস করে তারকদাসী ওই দুই যুবকের সঙ্গে হাবড়ার তবলা পট্টি এলাকায় যান। সেখানে পৌঁছে প্রতারকদের কথায় নিজের সোনার কানের দুল খুলে তাঁদের হাতে তুলে দেন। পরিবর্তে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় খবরের কাগজে মোড়া একটি বান্ডিল। বান্ডিলের উপরের দিকে ছিল একটি ১০০ টাকার নোট। তারকদাসী মনে করেছিলেন, পুরো বান্ডিলটাই ১০০ টাকার নোটে ভর্তি। কিন্তু তিনি গুনে দেখার আগেই দুই যুবক দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে সন্দেহ হওয়ায় বান্ডিল খুলে দেখেন তারকদাসী। তাতে উপরে একটি মাত্র ১০০ টাকার নোট, আর তার নীচে নোটের মাপে কাটা খবরের কাগজের স্তূপ। তখনই বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। তড়িঘড়ি হাবড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তারকদাসী মাঝি। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। স্টেশন সংলগ্ন এলাকা ও তবলা পট্টি এলাকার নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ফুটেজে দুই যুবককে দেখা গিয়েছে। তাঁদের চিহ্নিত করে তল্লাশি শুরু হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি সংগঠিত প্রতারণা চক্রের কাজ। সাধারণ মানুষকে সোনার গহনার বিনিময়ে মোটা টাকার লোভ দেখিয়ে ঠকানোর ঘটনা আগেও ঘটেছে। তদন্তকারীরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
সোনার কানের দুল কেলেঙ্কারিতে মহিলার জীবনের সঞ্চয় হারিয়েছে
Dainik Statesman•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Dainik Statesman
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.