পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি ও পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত-চিন সম্পর্ক যখন সংবেদনশীল পর্যায়ে, সেই সময়ই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। অভিজ্ঞকূটনীতিক বিক্রম দোরাইস্বামীকে বেজিংয়ে ভারতের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।বর্তমানে বিক্রম দোরাইস্বামী যুক্তরাজ্যে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে কর্মরত। তিন দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই তিনি বেজিংয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। তিনি স্থলাভিষিক্ত হবেন প্রদীপ রাওয়াতের, যিনি পূর্ব লাদাখের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। দোরাইস্বামীর নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলাচ্ছে। সীমান্ত উত্তেজনা, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল— সব মিলিয়ে ভারত ও চিনের সম্পর্ক এখন এক জটিল পর্যায়ে দাঁড়িয়ে। এই পরিস্থিতিতে চিন-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কূটনীতিককে বেছে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কর্মজীবনের শুরুতেই হংকংয়ে দায়িত্ব পালন করেন দোরাইস্বামী এবং সেখানে তিনি ম্যান্ডারিন ভাষাও শেখেন। পরবর্তীতে বেজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাসেও কাজ করেছেন, যা চিন-সংক্রান্ত কূটনীতিতে তাঁকে বিশেষ দক্ষ করে তুলেছে। দোরাইস্বামীর কূটনৈতিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার হিসেবে ২০২০-২০২২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া এবং উজবেকিস্তানে রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। কূটনৈতিক দায়িত্বের বাইরে তাঁর কর্মজীবনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কাজ করা। পাশাপাশি সদর দপ্তরে সার্ক ও ইন্দো-প্যাসিফিক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। সম্প্রতি লন্ডনে দায়িত্বে থাকাকালীন ভারত-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক মজবুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন দোরাইস্বামী। বিশেষ করে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং চরমপন্থী কার্যকলাপ সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলায় তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেজিংয়ে তাঁর নিয়োগ কেবল কূটনৈতিক রদবদল নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তা। সীমান্ত ইস্যু থেকে বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই ভারত-চিন সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষায় বিক্রম দোরাইস্বামীর ভূমিকা আগামী দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
সংবেদনশীল সম্পর্কের মধ্যে চীনে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করল ভারত
Dainik Statesman•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: Dainik Statesman
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.