ওবেসিটি বা স্থূলতা কেবল শারীরিক সমস্যা নয়। একই সঙ্গে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও প্রভাব ফেলে। হতাশা, উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের অভাব, অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার মতোও নানা সমস্যা দেখা দেয়। তাই সময় থাকতেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন। তা ছাড়া ওজন কমানো মানেই যে বিশাল ঝক্কির ব্যাপার তা নয়। অনেক টাকা খরচ করতে হবে, জিমে যেতে হবে বা কঠিন ডায়েট করতে হবে তাও নয়। খুব সাধারণ জীবনযাত্রার মধ্যে দিয়েই ওজন ঝড়ানো সম্ভব। তাও ১০ থেকে ২০ কিলোগ্রাম। তার জন্য কাউকে প্রয়োজন হবে না। নিজেই ঠিক করতে পারেন কী ভাবে ওজন কমবে। শুধু চাই ওজন কমানোর ইচ্ছা। মানতে হবে সহজ কিছু নিয়ম...অনেকেই সারাদিনের কাজের চাপে ব্যয়াম করার সুযোগ পান না। সে ক্ষেত্রে কিন্তু ওজন কমানোর জন্য খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনাটাই একমাত্র পথ। এখানেই ভয় পেয়ে পিছিয়ে যাবেন না। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন মানেই কেবল সেদ্ধ আর শাকসব্জি খাওয়া নয়। প্রতিদিনের সাধারণ খাবার খেয়েও রোগা হওয়া সম্ভব।প্রথমেই বুঝতে হবে ক্যালোরি, প্রোটিন, ফাইবার, ফ্যাট এগুলি কী? প্রতিদিনের ডায়েটে কতটা প্রয়োজন, এই সব উপাদানের। কোনটা আপনার ওজন বৃদ্ধির জন্য দায়ী, কোনটি ওজন নিয়ন্ত্রনে আনতে সহায়ক। প্রতিদিন যে সব খাবার আপনি খান, তাতে কতটা পরিমাণে ক্যালোরি বা অনান্য উপাদান থাকে। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কোনও বিশেষজ্ঞ বা পরিচিত কারও সাহায্য নিতে পারেন।একটি বিষয়, জাঙ্ক ফুড, কাচা চিনি, অতিরিক্ত নুন ও প্রসেসড খাবার খাওয়া একদম বন্ধ করতে হবে। না হলে রোগা হওয়া সম্ভব নয়। সাধারণ সাদা ভাত বা ময়দায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি। এগুলি বদলে আনতে পারেন ব্রাউন রাইস, কিনোয়া ও মাল্টিগ্রেন আটার মতো বিকল্প। এতে পেট ভরবে, স্বাস্থ্যকর খাওয়া হবে।জলখাবার গুরুত্বপূর্ণ। কোনও অবস্থাতেই তা মিস করলে চলবে না। প্যাকেটজাত খাবারের বদলে ঘরে হালকা তেলে ভাজা মাখানা, ছোলা, বাদাম খেতে পারেন। সেদ্ধ ডিম, ওটস খেতে পারেন। পাউরুটি এড়িয়ে চলাই ভালো। চিকেন স্যালাড খেতে পারেন।ধীরে ধীরে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং শুরু করতে পারেন। অবশ্যই শরীর বুঝে। অল্প অল্প করে ফাস্টিং -এর সময় বাড়ান। প্রথমে ৬ ঘণ্টা, তার পরে ৮ ঘণ্টা, ১০ ঘণ্টা, ১৬ ঘণ্টা। খুব বেশি হলে ১৮ ঘণ্টা। তবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া ভালো। আর সুগারের রোগী হলে, এই পদ্ধতি ভুলেও মানবেন না। প্রথম দিকে কষ্ট হবে, বার বার ক্রেভিংস হবে খাওয়ার। কিন্তু সময়ের সঙ্গে অভ্যাস হয়ে যাবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যালোরির হিসাব বোঝা। ক্যালোরি ছাড়া আমরা অচল। আবার এটা বেশি হলেই যত গোলমাল। তাই একটি জিনিস সব সময় মনে রাখবেন, সারাদিনে যতটা ক্যালোরি খরচ করছেন, ক্যালোরি ইনটেক যেন সব সময় তার থেকে বেশ খানিকটা কম থাকে। তা হলেই কমবে ওজন। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার রাখা জরুরি, যাতে পেট ভরা থাকে।তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই। এই কটি নিয়ম মেনে চলতে পারলেই দেখবেন, ধীরে ধীরে কমছে ওজন। এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই নিজে তফাত বুঝতে পারবেন।
স্বাস্থ্যবান মানুষের জন্য ওজন কমানোর সহজ কৌশল
EI Samay•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.