স্নেহাশিস নিয়োগীউচ্চ মাধ্যমিকে বাংলার ছাত্রছাত্রীরা যাতে বেশি নম্বর পায়, তা নিশ্চিত করতে দু’বছর আগে সেমেস্টার সিস্টেম চালু করেছিল সংসদ। মার্চ–এপ্রিলে একাদশ শ্রেণির রেজ়াল্ট বেরনোর পরে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির পড়ুয়াদের বেশিরভাগই ফেল করেছে। ফিজি়ক্স, কেমিস্ট্রি এবং অঙ্কে সবচেয়ে খারাপ। কলকাতা থেকে কোচবিহারের সব স্কুলে এক ছবি। স্কুল কর্তৃপক্ষরা জানিয়েছেন, বিজ্ঞানের এই তিনটি বিষয়ে ‘পড়ুয়া–বান্ধব’ প্রশ্নের পরেও ২০–৪০ শতাংশ পড়ুয়ারা ফেল করেছে। পরিস্থিতি সামলাতে কোনও কোনও স্কুল সংসদের পরামর্শ মেনে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষাও নিয়েছে। আবার অনেক স্কুল অভিভাবকদের ডেকে এই মর্মে মুচলেকাও লিখিয়ে নিয়েছে, যে তাঁদের ছেলেমেয়েরা উচ্চ মাধ্যমিকে পাশ করতে মন দিয়েই পড়াশোনা করতে হবে। তবুও উদ্বেগ কমছে না স্কুল কর্তৃপক্ষের।মিত্র ইনস্টিটিউশনের (ভবানীপুর ব্রাঞ্চ) প্রধান শিক্ষক রাজা দে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘স্টুডেন্টস ফ্রেন্ডলিই প্রশ্ন করেও ফল হতাশাজনক। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক–শিক্ষিকাদের জেনারেল মিটিং ডেকে এই পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে।’ যোধপুর পার্ক বয়েজ় হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদারের দাবি, ‘সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা নিয়েই পাশ করাতে হয়েছে। কিন্তু এ ভাবে কতদিন!’ যাদবপুর বিদ্যাপীঠে গণিতের শিক্ষিকা রিনি গঙ্গোপাধ্যায়ের বলেন, ‘মাধ্যমিকের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকের গণিতের সিলেবাসের অনেক তফাত। তাও সেমেস্টার ভিত্তিক সিলেবাস ভাগ করা হয়েছে। তাতেও সুফল মিলছে না।’রাজ্যে পৌনে সাত হাজার স্কুল রয়েছে। বাংলার পড়ুয়ারা যাতে সর্বভারতীয় স্তরে বাড়তি সুযোগ পায় এবং টিচিং–লার্নিং সময়ও বাড়ে, তাই ২০২৪–এ বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস সেমেস্টারে ভাগ করে দিয়েছিল সংসদ। কিন্তু কোথায় কী! যে সব পড়ুয়া একাদশের প্রথম সেমেস্টারের যথেষ্ট নম্বর পাচ্ছে, তাদের বড় অংশও একাদশের দ্বিতীয় সেমেস্টারে গিয়ে ফেল করছে। তাই এখন স্কুলগুলিতে একাদশের দ্বিতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষার আগে প্রশ্ন নিয়ে পড়ুয়াদের টিপস দিচ্ছেন শিক্ষকরা। আবার সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা ও খাতা দেখার দায় এড়াতে প্রশ্নের মানের সঙ্গেও আপস করতে বাধ্য হচ্ছে অনেক স্কুল। তাতেও সার্বিক চিত্রে কোনও বদল নেই।বেগম রোকেয়া স্মৃতি বালিকা বিদ্যালয়ের ফিজি়ক্সের শিক্ষিকা কৃষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, এখন খুবই কম ছাত্রী স্কুলে বিজ্ঞান পড়তে আসছে। তারাও আবার ফার্স্ট লার্নার। ফিজি়ক্স–কেমিস্ট্রি দুটোতেই একাধিক ছাত্রী ফেল করেছিল। সাপ্লিমেন্টারিতে কেমিস্ট্রিতে পাশ করলেও তাদের অনেকেই ফিজি়ক্সে ফেল করেছে। তাও ক্লাসে তুলে দিতে হয়েছে। একই অবস্থা মালদার পঞ্চানন্দপুর সুকিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালের কথায়, ‘একাদশে দ্বিতীয় সেমেস্টার পরীক্ষা ও ফল প্রকাশের পরে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার নেওয়ার জন্য সময় থাকে না। তাই অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করে তাঁদের সন্তানদের মন দিয়ে লেখাপড়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, ‘শুধু পিওর সায়েন্সই নয়। অ্যাকাউন্টেন্সি, কর্মাশিয়াল ট্যাক্স এবং ফিজি়ক্স–কেমিস্ট্রির সঙ্গে যাদের গণিত ছিল, তাঁদের অনেকেরই খারাপ ফল হয়েছে। এর কারণ ক্লাস টেস্টের দিন অনেক পড়ুয়াই ইচ্ছে করে স্কুলে আসে না। বেশিরভাগ পড়ুয়াই মোবাইলে আসক্ত। এতেই পড়াশোনায় বিপর্যয় ডেকে আনছে।’ পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসুর কথায়, ‘অনেক স্কুলেই সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার প্রশ্ন ও খাতা দেখতে হবে বলে দায়িত্ব এড়াচ্ছে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা সেই সুযোগ নিচ্ছে। শিক্ষকদের নানা মতামত শুনে সংসদ সভাপতি পার্থ কর্মকার জানিয়েছেন, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরে ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে সংসদ ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ করা হবে।
সেমিস্টার পদ্ধতিতে সংস্কার সত্ত্বেও বিজ্ঞান বিষয়ে বাংলার ছাত্রছাত্রীরা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ
EI Samay•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.