২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের বহু প্রতীক্ষিত ম্যাচ হচ্ছে না। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র ছ’দিন আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) ঘোষণা করেছে, তারা ভারতের বিরুদ্ধে নির্ধারিত ম্যাচে দল নামাবে না। PCB জানিয়েছে, পাকিস্তান সরকারের নির্দেশেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ঘোষণার পর ICC কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং গুরুতর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মনে করা হচ্ছে, PCB সিদ্ধান্ত না বদলালে ICC তাদের উপর বড় অঙ্কের জরিমানা চাপাতে পারে।ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ICC-র সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস। গত কয়েক বছর ধরে প্রতিটি ICC টুর্নামেন্টে এই ম্যাচই সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে। বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এই ম্যাচ থাকলেই ব্রডকাস্টারদের কাছ থেকে ICC মোটা অঙ্কের টাকা পায়।কিন্তু ম্যাচটি না হলে টুর্নামেন্টের প্রধান ব্রডকাস্টার জিও-হটস্টারের বড় আয় হবে না। তার সরাসরি প্রভাব পড়বে ICC-র উপর। ক্রিকবাজের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের ম্যাচ থেকে ICC প্রায় ১০০ কোটি টাকা আয় করে, আর ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে সেই অঙ্ক প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। কারণ এই ম্যাচে প্রতি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের দাম থাকে ২৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা। ফলে মোট ক্ষতি প্রায় ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে।ICC-র এত বড় ক্ষতি হলে তার প্রভাব পড়বে রেভিনিউ শেয়ারিং মডেলে। এতে BCCI, PCB-সহ সব ক্রিকেট বোর্ডের আয়ে টান পড়তে পারে। BCCI-এর ক্ষেত্রে এই ধাক্কা বড় সমস্যা নাও হতে পারে, কিন্তু PCB ও অন্যান্য বোর্ডের জন্য তা মারাত্মক হতে পারে। এমন কী ICC-র এক সূত্র জানিয়েছে, ম্যাচ বাতিল হলে ব্রডকাস্টারের ক্ষতি পোষাতে শাস্তি হিসেবে PCB-কেই দায়ী করা হতে পারে।এই ম্যাচ বাতিলের প্রভাব শুধু ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ নেই। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় নির্ধারিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে শ্রীলঙ্কার রাজধানীতে বড় অর্থনৈতিক লাভের আশা ছিল। এই ম্যাচ দেখতে হাজার হাজার সমর্থক, সংবাদমাধ্যমকর্মী ও স্পনসর আসার কথা ছিল। ফলে কলম্বোর বহু হোটেলে আগাম বুকিং হয়ে গিয়েছিল এবং হোটেলগুলো প্রায় পূর্ণ ছিল।কিন্তু ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এখন হোটেল বুকিং বাতিলের আশঙ্কা বাড়ছে। একই সঙ্গে এই ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিশেষ ভ্রমণ পরিকল্পনা করা বিমান সংস্থা, ট্যুর অপারেটর ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।সূত্রের খবর, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (SLC) পুরো বিষয়টি কড়া নজরে রেখেছে এবং প্রয়োজনে ICC-র কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বেগ জানাতে পারে। ম্যাচের সূচি বদলালে তার আর্থিক ক্ষতি ও আয়োজন সংক্রান্ত সমস্যাগুলি খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তারা।পর্দার আড়ালে আলোচনা চললেও, এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে। বিশেষ করে যে সব দেশ বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করে পর্যটন ও অর্থনীতিকে চাঙা রাখতে চায়, তাদের জন্য এই ধরনের সিদ্ধান্ত বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সরকারি হস্তক্ষেপে ভারতের বিরুদ্ধে 2026 টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়াল পাকিস্তান
EI Samay•
Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.