হরমুজ় প্রণালী(Strait of Hormuz) বন্ধ। তেলের বাজারে গেল গেল রব উঠেছে। এক দিকে জোগান নেই। অন্য দিকে, লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ইরানের (Iran) তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেনআমেরিকার অর্থ সচিব স্কট বেসেন্ট(Treasury Secretary Scott Bessent)। তিনি বলেন, ‘জোগান বাড়াতে এবং দাম কমাতে ইরানের তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।’ তবে পুরোপুরি নয়, সমুদ্রে থাকা তেলের উপর থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা তোলা হতে পারে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।এ দিন Fox নিউজ়ের ‘মর্নিং উইথ মারিয়া’ শো-তে যোগ দেন স্কট। সেখানে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের তেলের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে।’ নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি করতে পারে না। অনেক তেল জাহাজে জমিয়ে রাখা হয়। পরে সেগুলো বিক্রি করার জন্য অপেক্ষা করে।আমেরিকার হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের একাধিক জাহাজে ১৪০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রয়েছে। সমুদ্রে থাকা সেই সব তেলের ট্যাঙ্কার থেকেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্কট। তিনি বলেন, ‘এর ফলে দশ দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত তেলের জোগান নিয়ে ভাবতে হবে না। তেলের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’ গত দুই সপ্তাহে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে কিছুটা সুরাহা হতে পারে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।এর আগে রাশিয়ার তেলের উপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল আমেরিকা। স্কটের কথায়, ‘তেলের জোগান ঠিক রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ আরও করা হবে।’ একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতির জন্য জমিয়ে রাখা মজুত তেলও এ বার ধীরে ধীরে ছাড়া হবে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার অর্থসচিব। তিনি বলেন, ‘এই নিয়ে G-7 দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’ তবে আমেরিকা তেলের ফিউচার মার্কেটে কোনও ভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। স্কটের কথায়, ‘আমরা শুধু বাস্তব বাজারে জোগান বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’এ দিন হোয়াইট হাউসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ়ে জাহাজ চলাচলের জন্য জাপানের নৌবাহিনীকে উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি। জাপানের অধিকাংশ তেল ওই পথেই আসে। ট্রাম্প বলেন, ‘খুব ভালো আলোচনা হয়েছে।’ জাপান তাদের রিজার্ভ থেকে আরও তেল ছাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সরবরাহ বাড়াতে এবং দাম কমাতে ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
EI Samay•

Full News
Share:
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Achira News.
Publisher: EI Samay
Want to join the conversation?
Download our mobile app to comment, share your thoughts, and interact with other readers.