Achira News Logo
Achira News
G
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 03:57 PM
সিপিআই (এম) প্রার্থী ন্যায়বিচারের দাবি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন

সিপিআই (এম) প্রার্থী ন্যায়বিচারের দাবি অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন

আমরা বিচারের দাবিতে গতকাল পর্যন্ত যেরকম রাস্তায় ছিলাম আগামীকাল থেকেও আবার সেরকম ভাবেই রাস্তাতেই থাকবো। কারণ বিচার এখনও মেলেনি। নির্বাচনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একথা জানালেন পানিহাটির সিপিআই(এম) প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত।আরও দেখুনভোটার গাইডব্রেকিং নিউজডিজিটাল সংবাদপত্র সাবস্ক্রিপশনতিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে যে অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় চলছিল তারই একটা নতুন অধ্যায় চালু হলো বিজেপির এখানে ক্ষমতায় আসীন হওয়ার ফলে। তিলোত্তমার ঘটনাগুলো পর থেকে বিচারের দাবিতে আমাদের লড়াই ছিল। সিবিআই-র কাছে যে ৫০ টা প্রশ্ন করা হয়েছিল যার সদুত্তর প্রধানমন্ত্রীও পর্যন্ত এসে দিতে পারেননি। এই কথাতেই আমরা আজও রয়েছি। আমরা বিচারের দাবিতে গতকাল পর্যন্ত যেরকম রাস্তায় ছিলাম আগামীকাল থেকেও আবার সেরকম ভাবেই রাস্তাতেই থাকবো। কারণ বিচার এখনও মেলেনি।"কলতান নিজের পরাজয় নিয়ে বলেন, "মানুষের রায়ে অবশ্যই আমরা মাথা পেতে নেব এবং বামপন্থীরা বিধানসভায় প্রবেশ করতে পারছে। বিধানসভার বাইরে ও ভিতরে যে লড়াই ছিল দুটোকে আরও এক জায়গায় জড়ো করে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের জন্য এই লড়াই আমরা চালাবো।"তৃণমূলের হেরে যাওয়া প্রসঙ্গে কলতান বলেন, "মানুষ যারাই দিয়েছে তা অবশ্যই সকলকে মেনে নিতে হবে। কিন্তু আমরা দেখতে চাই প্রধানমন্ত্রী বলে গিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় যদি ওরা আসেন, তবে অভয়ার বিচার নিয়োগ দুর্নীতি গরু, কয়লা, বালি পাচারের ফাইল খুলবে। আমরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব ফাইল খোলে কিনা। আর ফাইল যদি না খোলে, যদি সব দোষীরা শাস্তি না পায় তাহলে আমরা আবার রাস্তায় নামবো।"
11 shares
😐
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 03:42 PM
দলের পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দলের পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘আমাদের লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ছিল।’ বিধানসভা নির্বাচনে হারার পর সাংবাদিক সম্মেলন করে সাফাই দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। উল্লেখ্য নিজের রাজনৈতিক জীবনে মমতা ব্যানার্জি কখনই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেননি। মঙ্গলবার কালিঘাটে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘ইন্ডিয়া মঞ্চের অনেক নেতা আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। তারা বলেছে তারা আমাদের সাথে আছে। ইন্ডিয়া মঞ্চকে শক্তিশালী করবো। রাজ্য জুড়ে বিজেপি আমাদের ওপর অত্যাচার করছে। পুলিশ নিষ্কৃয়। আমরা ক্ষমতায় আসার পর সিপিআই(এম)’এর কোন দপ্তরে হামলা করিনি। কোন দপ্তর দখল করিনি।’উল্লেখ্য ২০১১ সালের এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর লাগাতার বামপন্থীদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। দখল করা হয়েছে একের পর এক দপ্তর দখল করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বামপন্থীদের। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে নির্লজ্জ ভাবে মিথ্যা কথা বলে গেলেন মমতা ব্যানার্জি।উল্লেখ্য মমতা ব্যানার্জি এবং তার দল নির্বাচনে হেরেছে। কিন্তু তিনি এখনও পদত্যাগ করেননি। এদিন মমতাকে তার ইস্তফা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা হারিনি, জোড় করে হারানো হয়েছে। ২০০ আসনে আমরা এগিয়ে ছিলাম। মেশিনের সমস্যা ছিল। জোড় করে হারানো হয়েছে। আমি কেন গিয়ে পদত্যাগ করবো?’একদিকে ইস্তফা না দেওয়ার কথা বলছেন তিনি আবার একই সাথে বলছেন, ‘এখন আমি মুক্ত পাখি, মানুষের হয়ে কাজ করবো।’সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘মিডিয়া সাভোটেজ করেছে। গতকাল প্রথম রাউন্ডের পর থেকে দেখাতে শুরু করেছে যে বিজেপি জিতছে। তার প্রভাব পড়েছে গণনা কেন্দ্রে এজেন্টদের ওপর।’মমতা বলেন, ‘সিআরপিএফ আমাকে গণনা কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। আমাকে শারিরীক ভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। বিজেপি গণনা কেন্দ্রের দখল নিয়ে নিয়েছিল। আমরা ফিরে আসবো। এদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আমাদের অনেক কর্মীকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বিজেপিতে যোগদান করার জন্য।’তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গঠন করবে। তারা আক্রান্ত এলাকা গুলোয় যাবে।
92 shares
😐
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 03:41 PM
ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনে শারীরিক হেনস্থা ও সি. আর. পি. এফ-এর হস্তক্ষেপের কারণে পরাজয়ের অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ভবানীপুর বিধানসভা নির্বাচনে শারীরিক হেনস্থা ও সি. আর. পি. এফ-এর হস্তক্ষেপের কারণে পরাজয়ের অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

"আমরা হারিনি, আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে"। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর মঙ্গলবার প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন করে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি এমনই অভিযোগ করেছিলেন। সেই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করলেন নির্বাচন কমিশনের দক্ষিণ কলকাতার ডিইও।ডিইও বিবৃতিতে বলেন, আজ সাংবাদিক সম্মেলন করে ভবানীপুরের বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী যে অভিযোগ জানিয়েছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী সমস্ত নিয়ম এবং বিধি মেনেই শান্তিপূর্ণ, অবাধ এবং স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা করা হয়েছে।সোমবার, ৪ মে, ফল গণনার দিন ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনা কেন্দ্র সাখওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে বিস্তর বিবাদ হয়। তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জি গণনা কেন্দ্রে যান। পরে তিনি অভিযোগ করেন যে তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। সেই সময়েই গণনা কেন্দ্রে যান বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। কিছুক্ষণ গণনা বন্ধও থাকে।তৃণমূল নেত্রী সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এদিন অভিযোগ করেন, সিআরপিএফ আমাকে গণনা কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। আমাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহও করেছে জওয়ানরা। বিজেপি গণনা কেন্দ্রের দখল নিয়ে নিয়েছিল।এই বিষয়ে ডিইও ওই বিবৃতিতে বলেন," সিসিটিভি বন্ধ ছিল না। ধাক্কা মারার যে অভিযোগ তৃণমূল প্রার্থী করেছেন তাও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলেছিলেন বলেই গণনা প্রক্রিয়াটি কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। তবে পরে নির্দেশিকা অনুসারে তাঁকে জানিয়ে ফের গণনা শুরু করা হয়।"
18 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 03:39 PM
নির্বাচনের ফলাফলের পর বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা ডুয়ার্সে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে

নির্বাচনের ফলাফলের পর বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা ডুয়ার্সে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ এলাকায় শুরু হলো চরম অরাজকতা। মঙ্গলবার নির্বাচনী ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই বানারহাট ও লাগোয়া এলাকায় দাপাদাপি শুরু করে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, স্রেফ গায়ের জোরে বানারহাট ২ নম্বর ও চামুর্চি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় দখল করে সেখানে দলীয় পতাকা লাগিয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এমনকি চামুর্চি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয় ভাঙচুর করে তাতে অগ্নিসংযোগ করারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দুপুর থেকেই বিজয়োল্লাসের নামে এলাকায় উস্কানিমূলক আচরণ শুরু করে বিজেপি কর্মীরা। চামুর্চি এলাকায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে উন্মত্ত জনতা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কার্যালয়ের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাট-আউট এবং গুরুত্বপূর্ণ দলীয় ও সরকারি নথিপত্র রাস্তায় বের করে এনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, এলাকা দখলের আস্ফালন দেখাতে ওই নীল-সাদা রঙের কার্যালয়টিকে রাতারাতি গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেয় বিজেপি সমর্থকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই ছবি শুধু চামুর্চিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ধূপগুড়ি বিধানসভা এলাকার পরিস্থিতিও যথেষ্ট উত্তপ্ত। খবর পাওয়া গেছে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও জবরদখল, তৃণমূল কার্যালয় দখল করে বিজেপির পতাকা উত্তোলন। এই নজিরবিহীন তাণ্ডব প্রসঙ্গে বিজেপির বানারহাট মন্ডল কনভেনার সুরেশ থাপা পালটা অভিযোগের সুরে জানিয়েছেন, পঞ্চায়েতে বিজেপির সদস্য থাকা সত্ত্বেও তৃণমূল তাঁদের কোণঠাসা করে রাখত। তাঁদের অভিযোগ, কোনো বোর্ড মিটিংয়ে তাঁদের ডাকা হতো না। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক স্তরের ক্ষোভের দোহাই দিয়ে এই ধরণের প্রকাশ্য গুন্ডামি ও অগ্নিসংযোগ আসলে এলাকায় আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা।বাম নেতৃত্ব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছে, এক স্বৈরাচারের জায়গা নিতে চাইছে আরেক স্বৈরাচার। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তি ফেরাতে অবিলম্বে পুলিশি হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
5 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 02:02 PM
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর বেলঘাটায় টিএমসি কর্মীকে খুনের অভিযোগ

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর বেলঘাটায় টিএমসি কর্মীকে খুনের অভিযোগ

ভোট মিটতেই বেলেঘাটায় তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগ। সোমবার ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর রাতেই বাড়ির বাইরে থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম বিশ্বজিৎ পট্টনায়েক (৪২)। এই ঘটনায় সরাসরি কারও বিরুদ্ধে আঙুল না তুললেও পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই খুন করা হয়েছে বিশ্বজিৎকে।এ বারের বিধানসভা ভোটে বেলেঘাটায় তৃণমূল জিতেছে। সদ্যজয়ী তৃণমূূল প্রার্থীর অবশ্য বক্তব্য, ‘ভোট পরবর্তী হিংসা কারা করছে? যারা ভোটের আগে উস্কানি দিয়েছে, তারাই করছে। বাড়ির একমাত্র রোজগেরে ছিলেন বিশ্বজিৎ। ওঁকে ফোন করে ডাকল কে? একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন বিশ্বজিৎ। তাঁকে ফোন করে করে ডেকে বের করল কে? পরিবার পুলিশে বয়ান দিচ্ছে। ঘটনার পুরোদস্তুর তদন্ত হওয়া উচিত।’স্থানীয় সূূত্রে দাবি, বিশ্বজিৎ খুনে ইতিমধ্যেই বেলেঘাটা থানায় অস্বাভাবিক খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, বিশ্বজিৎ সক্রিয় ভাবে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ বারের ভোটে নারকেলডাঙা এলাকার একটি বুথের দায়িত্বেও ছিলেন। সোমবার রাতে নিজের বাড়িতেই ছিলেন বিশ্বজিৎ। অভিযোগ, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি একটি ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এর পর আর তাঁর কোনও খোঁজ মেলেনি। পরে বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করে পরিবার। পরিবারের দাবি, বিশ্বজিতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। কী ভাবে তাঁর মৃত্যু হলো এবং কে বা কারা তাঁকে ফোন করে বাইরে ডেকে নিয়ে গেলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেই খবর পুলিশ সূত্রে।এই ঘটনায় বিজেপির হাত থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর দাবি, বেলেঘাটা জুড়ে পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালাচ্ছে বিজেপি। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় ছেলে ৪-৫টা। বাকিদের চেনা যাচ্ছে না। শুধু এসে গণ্ডগোল করে, হামলা করে দিয়ে চলে যাচ্ছে। বিজেপির হাই কমান্ড বলছে, যেন অশান্তি না হয়। এটা ক্যামোফ্লেজড। আসলে এটা পূর্বপরিকল্পিত। বিপুল পরিমাণ বহিরাগত ঢুকিয়ে দিয়ে এটা হচ্ছে।’ বিজেপি অবশ্য এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
28 shares
😢
A
AajKaal News
May 5, 2026, 01:52 PM
পশ্চিমবঙ্গে হিংসাঃ তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরকে দোষারোপ করছে, উত্তেজনা বাড়ছে

পশ্চিমবঙ্গে হিংসাঃ তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরকে দোষারোপ করছে, উত্তেজনা বাড়ছে

আজকাল ওয়েবডেস্ক:সোমবার ভোটের ফলাফল সামনে আসার পর থেকেই জায়গায় জায়গায় হিংসার ঘটনা ঘটেছে। তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তাতে বিজেপি কর্মীদের নামও জড়িয়েছে। এরপরই হিংসায় আমল না দিয়ে হিংসামুক্ত বাংলা গড়ে তোলা ডাক দিয়েছে বিজেপি। খোদ নরেন্দ্র মোদি এই আহ্বান জানিয়েছেন। সতর্ক করে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। বিষয়টিকে অত্যন্ত্য গুরুত্ব দিয়ে নজরে রাখছে পদ্ম শিবিরের রাজ্য নেতৃত্ব। তবে, এই হিংসায় বিজেপি নেতা, কর্মীরা জড়িত বলে মানতে রাজি নয় গেরুয়া নেতৃত্ব। উল্টে তাঁদের দাবি, তৃণমূলের লোকেরাই সহানুভূতি আদায়ে এই ধরণের হামলা, মারধর চালাচ্ছে। দখল করা ভাঙচুর করা তৃণমূলের সংস্কৃতি: সুব্রত মৈত্র দখল করা ভাঙচুর করা তৃণমূলের সংস্কৃতি: সুব্রত মৈত্র রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র তথা আইনজীবী দেবজিৎ সরকার বলেছেন, "আমরা কোনও তৃণমূল পার্টি অফিস দখল করিনি। এটা তৃণমূলের লোকেরাই করছে সহানুভূতি কুড়োতে। এরা বিজেপির পতাকা নিয়ে দুষ্কর্ম করছে। দলের রাজ্য সভাপতি স্পষ্ট জানিয়েছেন এ ধরণের কাজ দল অনুমোদন করে না। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। পরিস্কার বলছি, আমরা এ ধরণের কাজ বরদাস্ত করব না। দলের তরফে প্রশাসনকে বলা হয়েছে কড়া হাতে পদক্ষেপ করতে। এমনকি বিজেপির লোক থাকলেও পদক্ষেপ করতে হবে।" খবর, বেশ কয়েকজন তৃণমূল পৌর প্রতিনিধি, এমনকি বিধায়কও ঘোষণা করছেন তারা নাকি বিজেপি হয়ে গিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে দেবজিৎ বলেন, "যাঁরা মানুষের উপর অত্যাচার করেছেন তাঁদের বিজেপিতে ঠাঁই দেওয়া হবে না।" রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এদিন বলেছেন, "পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি বিজেপির পতাকা নিয়ে কোনও হিংসা করা চলবে না। কোনও হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। কোনও তৃণমূলের পার্টি অফিসে যদি ভাঙচুর চলে, মুখ্যমন্ত্রী বা তার পরিবারের সদস্যদের যদি কদর্য ভাষায় আক্রমণ করা হয় তাহলে আমি তাঁদের দল থেকে বরখাস্ত করব। সেই ক্ষমতা আমার দল আমাকে দিয়েছে।"
74 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 01:28 PM
তরুণ প্রার্থীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশের বাম দল

তরুণ প্রার্থীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশের বাম দল

তরুণদের হাত ধরেই রাজনৈতিক খরা কাটবে—এই আশাতেই গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে বারবার যুব প্রজন্মের উপর ভরসা রেখেছে বামেরা। দলের প্রথম সারির প্রায় সব তরুণ মুখকেই প্রার্থী করা হয়েছিল। কিন্তু ফলাফলে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন মিলল না। এবারের নির্বাচনে তথাকথিত তরুণ প্রার্থীদের কেউই বিধানসভায় পৌঁছতে পারেননি। বরং তাঁদের অনেকেই ন্যূনতম ভোট পেতেও ব্যর্থ হয়ে জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত এক-ষষ্ঠাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৬.৬৬ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। প্রার্থী হওয়ার সময় যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (বিধানসভা নির্বাচনে ১০ হাজার টাকা) জমা রাখতে হয়, তা আর ফেরত পাওয়া যায় না। তবে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার ছবির মধ্যে ব্যতিক্রম হিসেবে উঠে এসেছেন ডোমকলের মুস্তাফিজুর রানা। তিনি প্রায় ১ লক্ষ ৭ হাজার ভোট পেয়ে মোট ভোটের প্রায় ৪১ শতাংশ অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য, তিনি দলের অন্যান্য তরুণ মুখদের মতো আগে ততটা পরিচিত ছিলেন না। জলঙ্গিতে সিপিএম প্রার্থী ইয়ানুস আলি সরকার প্রায় ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। খড়গ্রামে বামপ্রার্থী ধ্রুবজ্যোতি সাহা প্রায় ৪১ হাজার ভোট পেয়েছেন। রানিনগরে জামাল হোসেন এবং করণদিঘিতে হাজি শাহাবুদ্দিন অল্প ব্যবধানে নিজেদের জামানত রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। শাহাবুদ্দিনের মোট প্রাপ্ত ভোট ৪০ হাজারের কম। হেরেছেন ৫০ হাজারের বেশি ভোটে। অন্যদিকে, পরিচিত মুখদের মধ্যে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য প্রায় ১৭.৮১ শতাংশ ভোট পেয়ে কষ্টেসৃষ্টে জামানত বাঁচিয়েছেন। উত্তরপাড়ায় মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় প্রায় ২৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তুলনামূলক ভালো লড়াই দিয়েছেন। দমদম উত্তরে দীপ্সিতা ধরও ১৭.২১ শতাংশ ভোট পেয়ে জামানত রক্ষা করেছেন। তবে পানিহাটিতে কলতান, বরানগরে সায়নদীপ মিত্র এবং রাজারহাট নিউটাউনে সপ্তর্ষি দেব—এই তরুণ প্রার্থীরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তাঁদের ভোট শতাংশ যথাক্রমে ১৩.৭৩, ১১ এবং ১২.৭৭ হওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে, রাজ্যের অধিকাংশ আসনেই বাম প্রার্থীদের একই পরিণতি হয়েছে।
68 shares
😢
A
AajKaal News
May 5, 2026, 01:24 PM
বাংলার নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর

বাংলার নির্বাচনে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ বা অপসারণের দাবি অসমের মুখ্যমন্ত্রীর

আজকাল ওয়েবডেস্ক:তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি যদি নিজে থেকে পদত্যাগ না করেন, তবে তাঁকে বরখাস্ত করাই একমাত্র পথ- আজ এমনই কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এক সাক্ষাৎকারে হিমন্ত বলেন, "মমতা ব্যানার্জি পদত্যাগ না করলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হোক। বাংলার মানুষ অনেক দিন ওঁর শাসন সহ্য করেছেন।" টানা তিন বার ক্ষমতায় থাকার পর ৪ এপ্রিল বিজেপির কাছে হেরেছে মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূল-কংগ্রেস। কিন্তু মঙ্গলবার তিনি ইস্তফা দিতে সরাসরি অস্বীকার করায় রাজ্যে এক নজিরবিহীন জটিলতা তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে মমতা মেজাজি সুরে বলেন, "আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। ইস্তফাও দেব না।" বাংলায় বিজেপির কাছে শোচনীয় পরাজয়ের ২৪ ঘন্টা পরও মমতা ব্যানার্জি নিজের অবস্থানে অনড় রইলেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন যে, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থীরা নির্বাচনে হারেননি, বরং গেরুয়া শিবির জোর করে ইভিএম দখল করে ভোটে জিতেছে। বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মেয়াদ ৬ মে শেষ হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল সুপ্রিমো কি মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে টিকে থাকতে পারবেন? প্রবীণ আইনজীবী শেখর নাফাদে বলেছেন, তাঁর এই প্রতিরোধ বা অনড় মনোভাব কোনওই পার্থক্য তৈরি করবে না। রাজ্যপাল বিধানসভা ভেঙে দিতে পারেন এবং সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, কারণ পাঁচ বছরের সাংবিধানিক ম্যান্ডেট বা নির্ধারিত সময়সীমা ইতিমধ্যেই সমাপ্ত হয়েছে। 'ইন্ডিয়া টুডে'-র সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, পদত্যাগ না করার বিষয়ে তৃণমূল নেত্রীর এই সিদ্ধান্ত কীভাবে ভারতের সংবিধানের পরিপন্থী। ফোনে 'ইন্ডিয়া টুডে'-কে নাফাদে বলেন, "নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যদি না কোনও উপযুক্ত আদালত নির্দিষ্ট কোনও যুক্তির ভিত্তিতে এই নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করে, তবে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফলের প্রতি প্রত্যেকেই মেনে চলতে বাধ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর ওপর পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।" ওই আইনজীবী আরও জানান, যদি তিনি এই নিয়ম মেনে না চলেন, তবে সরকারের বরখাস্ত করা ছাড়া রাজ্যপালের হাতে আর কোনও বিকল্প থাকবে না। বলেন, "আর সেই পদক্ষেপটি হবে সংবিধানিক নিয়মের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।" শেখর নাফাদে অবশ্য এ-ও জানান যে, মমতা ব্যানার্জি সামনে যে কোনও উপযুক্ত মঞ্চে নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। আরেক আইনজীবী পিডিটি আচার্য অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, "বর্তমানে এমন কোনও বিধান নেই যা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বহাল থাকার অনুমতি দেয়। এমনকি তিনি যদি পদত্যাগ নাও করেন, তাতেও কিছু যায় আসে না। পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত রাজ্যপাল হয়তো তাঁকে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করতে পারতেন। কিন্তু সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনও সরকার আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না।" তিনি আরও যোগ করেন যে, মমতা ব্যানার্জি যদি এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ জানান, তবে তা করতে হবে একটি 'নির্বাচনী পিটিশন' বা মামলার মাধ্যমে, যার শুনানি হবে অনেক পরে। সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রসঙ্গে আচার্য বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তিনি হয়তো নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন; কিন্তু, "সেটি হবে সম্পূর্ণ আলাদা একটি পিটিশন। এমনকি যদি সেই পদক্ষেপ করারও হয়, তবুও তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদে বহাল থাকতে পারবেন না।"
78 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 01:23 PM
ভোট গণনার অভিযোগ'ভিত্তিহীন "বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নির্বাচন অফিস

ভোট গণনার অভিযোগ'ভিত্তিহীন "বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নির্বাচন অফিস

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা ঘিরে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করল দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর। সরকারি রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গোটা গণনা প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই ‘স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নিয়মমাফিক’ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৫৯ নম্বর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী আজ সাংবাদিক বৈঠকে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’। দপ্তরের দাবি, গণনার সময় সমস্ত নির্ধারিত নিয়ম, আইন এবং বিধি কঠোরভাবে মেনে চলা হয়েছে এবং কোথাও কোনও ধরনের গাফিলতি হয়নি। গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিসিটিভি কখনও বন্ধ করা হয়নি এবং গোটা প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে নজরদারির আওতায় ছিল। তৃণমূল প্রার্থী ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটিকেও ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রিপোর্টে স্বীকার করা হয়েছে, এক সময় গণনা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থামানো হয়েছিল। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, প্রার্থীর পক্ষ থেকেই গণনা বন্ধ রাখার দাবি ওঠে। পরে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী তাঁকে অবহিত করে পুনরায় গণনা শুরু করা হয়। এই রিপোর্ট সামনে আসার পর ভবানীপুর কেন্দ্রের গণনা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনের স্পষ্ট খণ্ডন—এই দুইয়ের মাঝে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
26 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 01:11 PM
শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যা ভবনের জন্য জাফরান রঙের দাবি বিজেপি কর্মীদের

শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যা ভবনের জন্য জাফরান রঙের দাবি বিজেপি কর্মীদের

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজয় উল্লাসে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা দাবি তুলেছেন, উত্তরকন্যার বর্তমান নীল-সাদা রং বদলে গেরুয়া রঙে রাঙানো হোক। মঙ্গলবার উত্তরকন্যার সামনে জড়ো হয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন বিজেপির কর্মীরা। স্লোগানের মাঝে তাঁদের বক্তব্য, এতদিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের দিক থেকে বঞ্চিত ছিল। নতুন সরকার গঠনের পর এই প্রশাসনিক ভবন থেকেই উন্নয়নের নতুন পথ খুলবে। তাঁদের দাবি, উত্তরবঙ্গের ৫৪টি বিধানসভার উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন উত্তরকন্যা থেকেই পরিচালিত হবে। পাশাপাশি, ভবনটির ব্যবহার আরও সক্রিয় করার কথাও বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, উত্তরকন্যা যেহেতু সরকারি অর্থে তৈরি, তাই সেটির যথাযথ ব্যবহার করা হবে। তবে কীভাবে প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হবে, তা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে ফুলবাড়ির যুব বিজেপি সভাপতি বিশ্বম্ভর সাহার অভিযোগ, এতদিন সাধারণ মানুষের জন্য উত্তরকন্যার দরজা কার্যত বন্ধই থাকত। খালি মুখ্যমন্ত্রী আসলে এটা খোলা হত। একটা সরকারি কাজ হতো না। খালি গরুপাচারের টাকা এখান থেকে ভাগ হয়ে কালীঘাটে যেত। নতুন সরকারের আমলে সেই পরিস্থিতি বদলাবে এবং এখান থেকেই মানুষের কাজকর্ম এগোবে বলে তাঁদের দাবি। উত্তরকন্যার ভবিষ্যৎ ব্যবহার ও রঙ পরিবর্তনের দাবি ঘিরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
34 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 12:55 PM
দলের পরাজয়ের পর তৃণমূল ছেড়েছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

দলের পরাজয়ের পর তৃণমূল ছেড়েছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হার স্পষ্ট হতেই পরের দিনই নিজের দায়িত্বের দপ্তর ছাড়লেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে বিধানসভায় এসে দ্রুত নিজের অফিস খালি করার নির্দেশ দেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর যাবতীয় মালপত্র দু’টি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে আচমকা বিধানসভায় হাজির হয়েছিলেন বিদায়ী স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে বিধানসভা চত্বরে জল্পনা ছড়ায়। দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা তাঁকে বিদায় জানাতে ভিড় করেন। অনেকেই তাঁর সঙ্গে ১৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেন। নিজের প্রস্থান প্রসঙ্গে বিমান বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকলে একদিন না একদিন দায়িত্ব ছাড়তেই হয়—এটাই স্বাভাবিক।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিধায়ক হিসেবে তিনি ভবিষ্যতেও বিধানসভায় আসবেন এবং সকলের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় থাকবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পরিবর্তনের সময় প্রথমবার বিধায়ক হয়ে স্পিকার পদে বসেন তিনি। এরপর ২০১৬ ও ২০২১ সালেও একই দায়িত্বে ছিলেন। এবারের নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে জয়ী হলেও দলের পরাজয়ের ফলে তাঁর স্পিকার পদে থাকা আর সম্ভব নয়—এটাই কার্যত স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
60 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 12:50 PM
দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে নথি ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দার্জিলিং সাংসদের, পাহাড়ে ক্ষমতা ধরে রাখল বিজেপি

দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে নথি ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দার্জিলিং সাংসদের, পাহাড়ে ক্ষমতা ধরে রাখল বিজেপি

পাহাড়ে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রেখেছে বিজেপি। তবে এই রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেও কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং মিরিক পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নথি নষ্ট করে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দার্জিলিঙের সাংসদ রাজু বিস্তা। এই আশঙ্কায় রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে জরুরি চিঠি লিখেছেন তিনি। সোমবার পাঠানো এই চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কেয়ারটেকার বা তদারকি প্রশাসকরা দুর্নীতির তথ্য আড়াল করতে নথিপত্র সরিয়ে ফেলতে পারেন। তাই দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন করেছেন সাংসদ। সাংসদ তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, গতকাল থেকে তিনি বিভিন্ন নাগরিক ও সংগঠনের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পেয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই তিন পুরসভায় গত কয়েক বছরে যে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, তার প্রমাণ মুছে ফেলতে তৎপর হয়েছে বর্তমান তদারকি কর্তৃপক্ষ। রাজু বিস্তার অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে এই তিনটি পুরসভায় কোনও নির্বাচন হয়নি। তৃণমূল সরকার বেআইনিভাবে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের তদারকি চেয়ারপার্সন বা প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে রেখেছে। এই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারি তহবিল ও সম্পত্তির অপব্যবহার এবং মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মুখ্যসচিবের কাছে সাংসদের আবেদন, অবিলম্বে যেন কালিম্পং, কার্শিয়াং এবং মিরিক পুরসভার সমস্ত এগজিকিউটিভ অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে প্রতিটি নথি সুরক্ষিত রাখা হয়। কোনোভাবেই যেন কোনও ফাইল বা নথিপত্র পুরসভা কার্যালয়ের বাইরে নিয়ে যেতে দেওয়া না হয়। সাংসদ রাজু বিস্তা জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজির নেতৃত্বে বিজেপি একটি দুর্নীতিমুক্ত সরকার নিশ্চিত করবে। যারা জনগণের অর্থ লুটের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। চিঠির অনুলিপি দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের জেলাশাসকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে যাতে স্থানীয় স্তরে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’ পাহাড়ের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জোটের বিপুল জয়ের পর এই পুরসভাগুলোর প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ এবং বকেয়া নির্বাচন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। রাজু বিস্তার এই চিঠি সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল।
20 shares
😢
A
AajKaal News
May 5, 2026, 12:49 PM
পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের রায়ঃ নাশকতা ও উপলব্ধির একটি জটিল বিষয়

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের রায়ঃ নাশকতা ও উপলব্ধির একটি জটিল বিষয়

আজকাল ওয়েবডেস্ক:বাংলায় বিজেপি ও তৃণমূলের আসন জয়ের পরিসংখ্যান একটি চূড়ান্ত জনাদেশের ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু গভীরভাবে দেখলে, পশ্চিমবঙ্গের রায় আরও অনেক জটিল এক বিষয় তুলে ধরেছে। যেখানে হিসেবনিকেশ আর উপলব্ধির মধ্যে আকাশপাতাল তফাৎ। এটিকে কোনও রাজনৈতিক দল বা মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে ভোট না বলে, বলা যায় যে আসল রহস্য লুকিয়ে সংখ্যার মধ্যেই। ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি ৪৫.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃণমূল ৪০.৮০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ২ কোটি ৯২ লক্ষ ২৪ হাজার ৮০৪ এবং তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ২ কোটি ৬০ লক্ষ ১৩ হাজার ৩০৭। ভোটের পার্থক্য ৩২ লক্ষের। বিজেপির প্রাপ্ত আসন ২০৭ এবং তৃণমূলের ৮০। পার্থক্য ১২৭টি আসনের। আসন পরিবর্তনের মাত্রা ভোটের ব্যবধানের মাত্রাকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গিয়েছে। ৫ শতাংশ ব্যবধান খুবই কম, যা এমন রাজনৈতিক ফলাফল এনে দেয়। তাহলে স্বাভাবিক প্রশ্ন হল– আড়ালে কী এমন ঘটল? দখল করা ভাঙচুর করা তৃণমূলের সংস্কৃতি: সুব্রত মৈত্র গোষ্ঠীকোন্দলেই হামলা, মারধর! বিস্ফোরক বিজেপি বাংলার এই ভোটে মমতার বিরুদ্ধে ভোট না হয়ে, বরং কারা আসলে ভোট দিতে পারল আর কারা পারল না— এই বিষয় দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে বলে মনে হয়। রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এই নির্বাচনের উপর একটি বড় প্রভাব ফেলেছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ২৮ লক্ষ ভোটার বিবেচনাধীন ছিলেন এবং তাঁদের ভোটাধিকারের জন্য পুনরায় আবেদন করতে হয়েছিল। এমন একটি রাজ্যে যেখানে নির্বাচনী ব্যবধান প্রায়শই খুবই সামান্য থাকে, সেখানে এটি কোনও গতানুগতিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ছিল না। এটি নাড়িয়ে দিয়েছিল প্রশাসনকে। চূড়ান্ত ভোটের ব্যবধান ৩২ লক্ষের সঙ্গে তুলনা করলে, বাদ পড়া ভোটারদের এই সংখ্যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাদ পড়া ভোটারদের একটি অংশও যদি কোনও নির্দিষ্ট দিকে ঝুঁকে থাকত, তাহলেও এলাকাভিত্তিক ফলাফলের ওপর তার পরবর্তী প্রভাব ভিন্ন বা ব্যাপক হতে পারত। ২০২১ সালের সঙ্গে তুলনা করলে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন একটা সময় তৃণমূল বিজেপির চেয়ে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটে এগিয়ে ছিল, এবং ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ১০ শতাংশ, যার ফলে তারা ১৪০টিরও বেশি আসনে এগিয়ে ছিল। ভোট ও আসনের মধ্যকার সম্পর্কটি একটি চেনা ছক অনুসরণ করছিল। ২০২৬ সালে, সেই সম্পর্কটি ব্যাহত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। ভোটের ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে, কিন্তু আসনের ব্যবধান অস্বাভাবিকভাবে বেশি রয়ে গিয়েছে। চূড়ান্ত ফলাফল শুধু ভোটারদের পছন্দই নয়, ভোটারদের উপস্থিতিকেও প্রতিফলিত করে। সেই অর্থে, বাংলার ফলাফল নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
3 shares
😢
A
AajKaal News
May 5, 2026, 12:37 PM
নির্বাচনের ফলাফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ির চারপাশে নিরাপত্তা বলয় শিথিল করা হয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ির চারপাশে নিরাপত্তা বলয় শিথিল করা হয়েছে।

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির পৈতৃক বাড়ি এখানেই। যেখানে থেকেই মমতার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। মুখ্যমন্ত্রী হলেও, এই বাড়ি ছেড়ে যাননি। এমনকী বাড়িতেও বিশেষ বদল হয়নি। তবে ছিল আঁটসাঁট নিরাপত্তা। সেই নিরাপত্তার বলয় এবার সরল। ছুড়ে ফেলে দেওয়া হোক মমতাকে: হিমন্ত হেরেও ইস্তফায় 'না' মমতার! এরপর কী হবে? ৪ মে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। ৫ মে সকালে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতা ব্যানার্জির বাড়ির সামনে থেকে সরে গেল গার্ডরেল। বলা ভাল, নিরাপত্তা বলয়ও ঢিলে হল‌। গার্ডরেল উঠে যাওয়ায়, ওই রাস্তায় এখন অবাধ যাতায়াত। ওই রাস্তায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে আর কোনও বাধা নেই আজ থেকে। যদিও মমতার বাড়ির গলির মুখে পুলিশি নিরাপত্তা বজায় রয়েছে। ২০১১ সালে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি মমতা ব্যানার্জি দখল করলেও, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে কোনও গার্ডরেল ছিল না। ২০১৬ সালের পর সেই এলাকায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়। তৃণমূল সুপ্রিমোর বাড়ির সামনেই গার্ডরেল বসানো হয়। ওই এলাকায় অবাধ যাতায়াতেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। এলাকার বাসিন্দারা পুলিশের কাছে কারণ জানিয়ে গার্ডরেল পেরোনোর অনুমতি পেতেন। বাইরের কেউ ঢুকতে চাইলে, পুলিশকে সুস্পষ্ট কারণ জানিয়ে ঢুকতে পারতেন। ভবানীপুরের 'ঘরের মেয়ে' মমতা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে হেরে গিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। যদিও মঙ্গলবার বিকেলে কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা সাফ জানিয়েছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। প্রত্যাবর্তন নয়, পরিবর্তন এল বাংলায়। মঙ্গলবারেও উদযাপন এখনও জারি। জেলায় জেলায় গেরুয়া আবির খেলা যেমন চলছে, খাস কালীঘাটেও তার অন্যথা হল না। কালীঘাটেও তুমুল উদযাপনে মেতে উঠেছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মী, সমর্থকরা। দুই শতাধিক আসনে জয়ী হওয়ার পর এবার কালীঘাটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির অফিসের পাশেই বিজেপির স্থায়ী অফিস গড়ে উঠল। সেখানেই রীতিমতো উৎসবের আমেজ। গান বাজিয়ে চলছে নাচানাচি। পাশাপাশি স্লোগানেও মেতে উঠেছে এলাকা। কালীঘাটে অভিষেকের অফিসের পাশে বিজেপির অফিসের পাশে গেরুয়া আবির খেলা চলছে। জয়ের উৎসবের উদযাপন চোখে পড়ার মতো। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিজেপির কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
88 shares
😢
A
AajKaal News
May 5, 2026, 12:16 PM
ভোট কারচুপির অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজয়ের দাবি

ভোট কারচুপির অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজয়ের দাবি

আজকাল ওয়েবডেস্ক:সোমবার বেলা গড়িয়ে তখন বিকেল, তৃণমূল সাম্রাজ্যের পতন তখন অবশ্যম্ভাবী। এই পরিস্থিতিতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল ভোট গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যান মমতা, ছিলেন সন্ধে পর্যন্ত। তার মাঝেই বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। দাবি করেন, ভোট ‘লুট’ করা হয়েছে এবং তাঁকে ‘জোর করে’ হারানো হয়েছে। মঙ্গলবার বেলাতেও একই অভিযোগে অনড় তিনি। গণনাকে কেন্দ্র করে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জির অভিযোগ 'ভিত্তিহীন' ও 'মিথ্যা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার ডিইও। এক বিবৃতিতে ডিইও জানিয়েছেন, 'আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে ১৫৯-ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থীর উত্থাপিত সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। ভারতের নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত এবং সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও প্রবিধান অনুযায়ী আবশ্যক সমস্ত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অত্যন্ত অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে।' ছুড়ে ফেলে দেওয়া হোক মমতাকে: হিমন্ত হেরেও ইস্তফায় 'না' মমতার! এরপর কী হবে? গণনার কেন্দ্রের মধ্যে তাঁকে মারধর করাও হয়েছে বলেও সাখাওয়াতে দাঁড়িয়ে অভিযোগ করেছিলেন মমতা। মঙ্গলবার তিনি বলেন, "মমতার আরও অভিযোগ জানান, ‘‌কাউন্টিং থেকে আমাকে মারতে মারতে বের করা হয়েছে। যেভাবে আমার উপর অত্যাচার হয়েছে, একজন মহিলা হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আমি ধারণা করতে পারি। প্রথমে আমার গাড়ি থামানো হয়, পরে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।" শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, "‌পেটে লাথি, পিঠে ধাক্কা মারা হয়েছে। হিস্ট্রি উইল রিপিট। উই উইল বাউন্স ব্যাক।" সেই প্রসঙ্গে ডিইও-র বিবৃতিতে উল্লেখ, 'সিসিটিভি ক্যামেরা কখনওই বন্ধ করা হয়নি; তাছাড়া তৃণমূল প্রার্থী এবং মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং নিছকই মনগড়া।' মমতা ব্যানার্জির গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এ দিন ডিইও বলেন, "গণনা প্রক্রিয়াটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল, কারণ তিনি নিজেই তা থামিয়ে দেওয়ার জন্য জোর দিয়েছিলেন; তবে পরবর্তীতে নির্দেশিকা অনুযায়ী তাঁকে অবহিত করে গণনা পুনরায় শুরু করা হয়।"
15 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 12:00 PM
বাংলায় আরএসএস-বিজেপি বাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে, বিজয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে কারচুপি করছে

বাংলায় আরএসএস-বিজেপি বাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে, বিজয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে কারচুপি করছে

অবশেষে বাংলার মানুষের বুকে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে থাকা চরম দুর্নীতিগ্রস্ত, তোলাবাজি, স্বৈরাচারী সরকারের অবসান হলো। সেই জায়গায় এল ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক, বিদ্বেষ-বিভাজনের এবং গণতন্ত্রহরণকারী শক্তি আরএসএস-বিজেপি। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ’র নেতৃত্বে গোটা কেন্দ্রীয় শাসক বাহিনী ক্ষমতা দখলের জন্য সব রকম আঁটঘাট বেঁধে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। একদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি-সিবিআই-কে নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল অন্যদিকে শাসক দলের স্বার্থে নগ্নভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল নির্বাচন কমিশন। বানের জলের মতো টাকা ঢালা হয়েছিল ভোট প্রচারে এবং ভোট সংগ্রহের নানা কৌশলে। সরাসরি সাম্প্রদায়িক প্রচার অগ্রাধিকার দিয়ে হিন্দুদের একজোট করার চেষ্টা হয়েছিল মুসলিমদের বিরুদ্ধে। চরম ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে ধর্মীয় বিভাজনকে বিপজ্জনক সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবার চেষ্টা হয়েছিল।একাজে তারা নিঃসন্দেহে অনেকটাই সফল। মানুষ জীবন-জীবিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলিকে পাশে সরিয়ে রেখে বিদ্বেষ-বিভাজনের সাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে আস্থা রেখেছেন হয়তো এইভাবে যে সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া জঙ্গলের থেকে আপাতত স্বস্তি দেবে বিজেপি। শেষ পর্যন্ত তাদের এই সিদ্ধান্ত তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত আগুনে ঝাঁপ দেবার শামিল হলো কিনা উত্তর মিলবে ভবিষ্যতে।তবে সরকার বদলের এই তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচনে ঘটে গেছে আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাও। বিধানসভা এবার বামশূন্য থাকছে না। শুধু তাই নয় ভোট প্রাপ্তির নিরিখেও বামেদের ভোটের হার অনেকটাই বেড়েছে। অর্থাৎ ঘুরে দাঁড়ানোর উজ্জ্বল সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে এই নির্বাচন থেকে। গত এক দশক ধরে তৃণমূল বিজেপি’র দ্বিদলীয় তত্ত্বের চাপিয়ে দেওয়া আবহে বিকল্প বাম শক্তির উত্থান সম্ভাবনাকে নির্মূল করে দেবার মরিয়া প্রয়াস চালানো হয়েছে। এই নির্বাচনে সেই বাইনারিও কার্যত ভেঙে পড়েছে।আগামীদিনে আরএসএস-বিজেপি’র সরকারের প্রতিটি জনস্বার্থ বিরোধী নীতিও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে থাকবে সিপিআই(এম ) তথা বামপন্থী মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, বাক্‌-স্বাধীনতার উপর যখনই আঘাত আসবে ঢাল হয়ে দাঁড়াবে বামশক্তি। গণতান্ত্রিক শাসন, গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হলেই প্রতিবাদ আন্দোলনে রাস্তায় নামবে বামেরা। সর্বোপরি দলিত, আদিবাসী, মহিলাদের স্বার্থ রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা নেবে। কৃষকের ফসলের দাম, কর্মহীনদের কাজ, ন্যায্য মজুরির লড়াই শুরু হবে নতুন করে। মোদী-শাহ এবং অন্য নে‍‌তারা যত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা পালিত না হলে কাঠগড়ায় তোলা হবে। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহ সামগ্রিক পণ্য মূলবৃদ্ধি ঠেকা‍‌নোর দায় যদি নতুন সরকার না নেয় সোচ্চার হবে বামপন্থীরা। ধর্মান্ধতা বিদ্বেষ-বিভাজনের আড়ালে মানুষের জীবন-জীবিকার প্রকৃত সঙ্কট চাপা দেবার ষড়যন্ত্রকেও উন্মোচিত করবে বামেরা।এতদিন বামেদের লড়াই ছিল একদিকে আদর্শহীন দুর্নীতিবাজ লুটেরাদের বিরুদ্ধে, অন্যদিকে মনুবাদী হিন্দুত্বের আদর্শে পরিচালিত সাম্প্রদায়িক, কর্পোরেট আঁতাতের লুটতরাজের বিরুদ্ধে। এবার বামেদের আসল লড়াই শুরু চরম দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিস্ত শক্তির বিরুদ্ধে।
9 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:53 AM
ভারতীয় বিধানসভা নির্বাচনঃ ডানপন্থী শক্তিগুলির সাফল্যে মিশ্র ফলাফল

ভারতীয় বিধানসভা নির্বাচনঃ ডানপন্থী শক্তিগুলির সাফল্যে মিশ্র ফলাফল

কেমন হলো চার রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলাফল? নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট হয়ে যায়, একদিকে দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িক শক্তির আগ্রাসন আরও ভয়ঙ্করভাবে যেমন থাবা বসাচ্ছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক স্তরে শাসকবিরোধী মনোভাবও নানা ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। তামিলনাডুতে ডিএমকে’র পরাজয়ে আরেক আঞ্চলিক দল টিভিকে’র উত্থানই সেকথা প্রমাণ করে। তবে ব্যতিক্রম সেখানে কেরালা। ওই রাজ্যে ১০ বছর পর পালাবদল হলেও এলডিএফ’র জায়গায় ক্ষমতায় এসেছে সেই ইউডিএফ। সাম্প্রদায়িক বিজেপি যদিও দাঁত ফোটাতে পারেনি ওই দু’রাজ্যে। আসামে বিজেপি তার ক্ষমতা ধরে রাখলো উগ্র হিন্দুত্বের প্রচার চালিয়েই। তবে তাৎপর্যপূর্ণ ফল অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের ফল। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান ঘটে কুর্সিতে বসতে চলেছে বিজেপি। তবে জয় যতটা না কৃতিত্ব বিজেপি’র, তার থেকেও তৃণমূল কংগ্রেসের অপশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধেই জনাদেশ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।আরেক একটি বিষয় উল্লেখ করা যেতে পারে, এবারের বিধানসভা ভোট হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা এবং তামিলনাডুর ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর। ওই তিন রাজ্যেই বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ যায় এসআইআর’র ফলে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৭ লক্ষ বৈধ ভোটার ভোট দিতে পারেননি এবারের নিবার্চনে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেন্সি’র খাড়া ঝুলে থাকায়। সুপ্রিম কোর্টের রায় সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন সেই বৈধ ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারেনি। পুরো বিষয়টি বিচারপতিদের উপর ন্যস্ত হওয়ায় স্বল্প সময়ে সেই ভোটারদের ‘লজিক্যাল ডিসক্রেন্সি’র গেঁরো থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতি অবশ্য কেরালা কিংবা তামিলনাডুর ক্ষেত্রে হয়নি।কেরালায় ইউডিএফ ১৪০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ৮৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। এলডিএফ পেয়েছে ৩৫টি আসন। গত ভোটে একটি আসন না পেলেও এবার তিনটে আসন জিততে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। তবে কেরালার ক্ষেত্রে এলডিএফ সরকারের পরাজয়কে সরলীকৃতভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। টানা দশ বছরের শাসনে এলডিএফ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গণবণ্টন ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা পেনশন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্য কেরালা যেখানে সরকারের প্রচেষ্টায় সম্পর্ণভাবে দারিদ্র দূরীকরণ সম্ভব হয়েছে। কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেরালার মডেল আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসিত হয়। এরই পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক আর্থিক বঞ্চনা, জিএসটি ক্ষতিপূরণে অনিয়ম, ঋণগ্রহণে বাধা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অনুদান কমিয়ে দেওয়া—রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করে। অবশ্য এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে স্থানীয় স্তরে কিছু প্রশাসনিক অসন্তোষ, বিরোধীদের অপপ্রচার এবং বিশেষ করে কেরালার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের স্বাভাবিক মানসিকতা। ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন ঘটেছে।তামিলনাডুতে ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের ধাক্কা এবং অভিনেতা বিজয়ের দু’বছর আগে তৈরি করা দল টিভিকে’র উত্থান আঞ্চলিক রাজনীতির পরিবর্তনশীল চরিত্রকেই সামনে এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে ডিএমকে এবং এডিএমকে’র মতো দুই প্রধান শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান জনমানসে বিকল্পের অনুসন্ধানকে প্রকাশ করে। চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই রাজনৈতিক শক্তি মূলত যুবসমাজের একাংশকে আকৃষ্ট করেছে, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে সরকার গড়ার মতো শক্তি অর্জন করতে পারেনি টিভিকে। একক গরিষ্ঠতা পেলেও তাদের অন্য কোনও শক্তির উপর নির্ভর করতে হবে সরকার গঠন করতে হলে। এবারের ভোটে ২৩৪ আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৭, ডিএমকে ৭৪ এবং এডিএমকে ৫২টি আসন পেয়েছে।আসামে বিজেপি’র পুনরায় জয়লাভ পুরোপুরি ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি, নাগরিকত্ব প্রশ্ন এবং আঞ্চলিক আবেগকে ব্যবহার করার ফল। রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ থাকলেও বিদ্বেষ আর ধর্মীয় উসকানি দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হলেন হিমন্তবিশ্ব। আসামে বিজেপি ১০২টি এবং কংগ্রেস ২১টি আসন পেয়েছে। গতবারের থেকেও শক্তি বাড়িয়েছে বিজেপি। একইভাবে পুদুচেরিতে এনআর কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বজায় রেখে ক্ষমতা ধরে রাখল বিজেপি।পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, বেকারত্ব, গ্রামীণ অর্থনীতির স্থবিরতা এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারের অভিযোগে জনঅসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বিপুল অর্থব্যয়, ধর্মীয় মেরুকরণ এবং লাগাতার প্রচারযুদ্ধ চালায়। নির্বাচন কমিশন সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায়। বিজেপি ২০০-র বেশি আসন পাওয়ার নেপথ্যে তৃণমূল সরকার বিরোধী তীব্র অসন্তোষই কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবুও লক্ষণীয়, এই তীব্র মেরুকরণের মাঝেও বামপন্থী শক্তির ভোট ও সংগঠনে কিছু পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।এই সমস্ত ফলাফল একত্রে বিচার করলে স্পষ্ট হয় যে দেশে একদিকে ডানপন্থী শক্তির প্রাতিষ্ঠানিক ও আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে বিরোধী শক্তিগুলির মধ্যে ঐক্যের অভাব এবং বিকল্প রাজনৈতিক বয়ানের দুর্বলতা তাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্রের পক্ষে অশনি সঙ্কেত।
18 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 11:51 AM
তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টি. ভি. কে-র শোচনীয় জয়

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে টি. ভি. কে-র শোচনীয় জয়

এ যেন ক্রিকেট ম্যাচের ক্লাইম্যাক্স। মাত্র এক রান যেমন বদলে দিতে পারে ম্যাচের রেজ়াল্ট। তেমনি মাত্র এক ভোটে বদলে গেল রাজ্যের এক মন্ত্রীর ভবিষ্যৎ। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে একের পর এক অভাবনীয় ঘটনা। ঐতিহাসিক নজির গড়ে প্রথম বার নির্বাচনে নেমেই সবচেয়ে বেশি আসনে জিতল থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেত্তরি কাজ়হাগাম’। একইসঙ্গে মাত্র এক ভোটে ডিএমকে মন্ত্রী কে আর পেরিয়াকারুপ্পানের গদি উল্টে তিরুপ্পাত্তুর বিধানসভা কেন্দ্র জিতে নিলেন TVK-র প্রার্থী শ্রীনিবাস সেতুপতি। নির্বাচনী রাজনীতির ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে ঘটেছে কি না মনে করতে পারছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।তিরুপ্পাত্তুর কেন্দ্রের এই ফলাফল ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কারণ এত কম ব্যবধানে হার বিরল ঘটনা। এই আসনে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মুখ ছিলেন পেরিয়াকারুপ্পন। বহু বছর ধরে তিরুপ্পাত্তুর কেন্দ্র থেকেই নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন তামিলাড়ুর সমবায় মন্ত্রী। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব ছিল খুবই বেশি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে তাঁকে টক্কর দেন Tamilaga Vettri Kazhagam-এর প্রার্থী, যিনি শেষ পর্যন্ত এক ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান এতটাই কম যে, পুনর্গণনার দাবি তোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।ভোটগণনার সময় নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষের আগের রাউন্ড পর্যন্ত এগিয়ে ছিলেন পেরিয়াকারুপ্পন। কিন্তু শেষ রাউন্ডে ভোটের হিসাব বদলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পিছিয়ে পড়েন। চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, গণনা শেষে TVK-র সেতুপতি ৮৩,৩৭৫ ভোট পেয়ে DMK নেতাকে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।এই ঘটনার সবচেয়ে চর্চিত দিক হলো একজন প্রবাসী ভোটারের ভূমিকা। তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা জেলার বাসিন্দা মনিকন্দন শিবানান্থম। কর্মসূত্রে থাকেন ওমানের মাসকটে। সুদূর ওমান থেকে তিনি এ বার নিজের রাজ্যে ভোট দিতে ফিরেছিলেন। সোমবার ফল বেরোনোর পর উচ্ছ্বসিত হয়ে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন তাঁর ভোটেই জিতেছেন TVK প্রার্থী শ্রীনিবাস সেতুপতি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একটি ভোট এই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। সত্যিই মনিকন্দন ওমান থেকে ফিরে সেতুপতিকে ভোট না দিলে ফল হয়তো অন্যরকম হতো। সব মিলিয়ে, তিরুপ্পত্তুর কেন্দ্রের এই ফলাফল প্রমাণ করে দিয়েছে— গণতন্ত্রে কোনও ভোটই ছোট নয়। প্রতিটি ভোটের মূল্য আছে, এবং সেই একটিমাত্র ভোটই কখনও কখনও ইতিহাস তৈরি করতে পারে।
35 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:50 AM
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এজেন্ট?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ঃ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এজেন্ট?

তিনিই ডেকে এনেছিলেন এরাজ্যে বিজেপিকে। সেই সাম্প্রদায়িক বিজেপি, আরএসএস-এর হাতে বাংলাকে তুলে দিয়ে বিদায় নিলেন রাজ্যের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।তাঁর নামের পাশে কোনও শিল্প গড়ার প্রচেষ্টাকারীর সার্টিফিকেট থাকবে না। তাঁকে কোনও বক্রেশ্বর, হলদিয়ার জন্য মনে রাখবে না আগামী। মমতা ব্যানার্জিকে রাজ্যে বিজেপি-র এজেন্ট হিসাবেই বিবেচনা করবে ইতিহাস।ইতিহাসের কী আশ্চর্য পরিহাস। কালীঘাট রোডের সেই রাস্তা, মরনাপন্ন আদি গঙ্গার উপরের ছোট ব্রিজ একই রকম আছে। মমতা ব্যানার্জির বাড়ির গলি যেখানে এসে মিশেছে কালীঘাট রোডে, তার ঠিক উলটো দিকে গুপ্তা স্টোরস। সেই পবিড়ি, সিগারেটের দোকানও কিছুটা একই রকম ছিল। দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে এক প্রৌঢ় মনে করিয়ে দিলেন প্রায় ২৬ বছর আগের এক বিকালের কথা। বললেন,‘‘সেদিন অটলবিহারী এসেছিলেন ওর(মমতা ব্যানার্জি) বাড়িতে। কত লোক। গলি, রাস্তা গিজগিজ করছে। পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। সেদিন অটলবিহারী ওদের বাড়িতে মালপোয়া খেয়েছিলেন।’’ওই প্রৌঢ়র বাড়ি পাশের গলিতে, মন্দিরের দিকে। সেদিন তিনিও প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়েছিলেন, সোমবার যেখানে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু পার্থক্য কোথায়? এখন মমতা ব্যানার্জির বাড়ির গলির মুখ ঘিরে গার্ডরেল। সোমবারও তা ছিল। গার্ডরেলের আশেপাশে কলকাতা পুলিশের কর্মীরা ছিলেন যথারীতি দায়িত্বে, পাহারায়। কিন্তু রাস্তার পাশে তৃণমূলের কোনও কর্মী ছিলেন না। গার্ডরেলের ওপারে আর পাশের পটুয়া পাড়ার গলিতে এদিক ওদিক তৃণমূলের দলের কর্মীদের ছোটখাটো জটলা ছিল। শুধু উত্তাল ছিল অনেকগুলি বাইক, গাড়ি। তাতে চড়ে অটলবিহারী বাজপেয়ীর দলের কর্মীরা ‘জয় শ্রীরাম’ বলে চিৎকার করতে করতে যাতায়াত করছিল গোপালনগর মোড় থেকে হাজরা মোড়ের দিকে। তারা আবার ফিরছিল। যে পুলিশকে মমতা ব্যানার্জি ২০১২-র বইমেলায় বলেছিলেন ‘আপনাদের চাবকানো উচিত’, তাঁরই সহকর্মীরা ঠোঁটে মৃদু হাসি ঝুলিয়ে উৎফুল্ল বিজেপি কর্মীদের যাওয়া আসা দেখছিলেন।হরিশ চ্যাটার্জি রোডের মুখে ঠায় দাঁড়ানো গাছটায় টাঙানো তৃণমূলের ফেস্টুনেই শুধু মমতা ব্যানার্জির মুখে হাসি। না, পুরোপুরি ঠিক হলো না। মমতা ব্যানার্জির বাড়ির পাশের সেই পটুয়া পাড়ার গলিতে একটু এগলেই ‘ভবানীপুর সরস্বতী স্পোর্টিং ক্লাব।’ সেই ক্লাবের পক্ষ থেকে রাস্তায় চার-পাঁচটি লম্বা গোছের প্ল্যাকার্ড ঝোলানো হয়েছিল। সেগুলি সোমবার সন্ধ্যাতেও ছিল। সেই প্ল্যাকার্ডে মমতা ব্যানার্জির হাসি হাসি মুখের ছবির নিচে লেখা ছিল ‘৪র্থ বারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য আগাম অভিনন্দন।’ ক্লাবঘরের টিভিতে চোখ রেখে দশ-বারো জন যুবক বসে ছিল ‘মিরাকল’-এর আশায়। ‘৪র্থ বারের মুখ্যমন্ত্রী’র সম্ভাবনা তখন তলিয়ে যাচ্ছিল সাখোয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের ভিতর। মমতা ছুটে গেছিলেন। হয়তো শেষ রক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তাঁর হয়তো তখনও ভরসা ছিল যে, যেভাবে নিজের উপস্থিতিতে ভবানীপুর থানা থেকে দলের কর্মীকে ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসার কিছুদিনের মধ্যে, এদিনও নিশ্চিত পরাজয় থেকে নিজেকে নিজেই কেড়ে আনবেন।কিন্তু মমতা হেরে গেলেন। ব্যর্থ মমতা হারের নিশ্চিত গতি দেখে রাত সাড়ে ৭টা নাগাদ ফিরে এলেন সেই বাড়িতে, যেখানে নাকি তাঁর মাথার দিকে শিব রয়েছেন। তিনি কত বড় হিন্দু তা প্রমাণ করতে এই দাবি তিনি করেছিলেন ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শবাহী সংবিধানকে সাক্ষী মেনে চলা বিদানসভায়।কিন্তু ‘শিব’-এর অধিকার যাদের তাঁর থেকে অনেক বেশি, তাঁদের কাছেই তাঁকে রেকর্ড হার মানতে হলো। তিনিই পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি পরপর দু’বার বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হলেন। প্রথমবার নন্দীগ্রামে, ২০২১-এ। দ্বিতীয়বার সোমবার, ভবানীপুরে। তিনিই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি উপনির্বাচন ছাড়া জিততে পারেননি। নন্দীগ্রামে হেরেছিলেন ১৯৩৬ ভোটে। ভবানীপুরে, নিজের পাড়ায় তাঁকে ১৫,১০৫ ভোটে হারিয়ে দিলেন সেই শুভেন্দু অধিকারী।কোন্‌ শুভেন্দু অধিকারী? যাঁর সঙ্গে মিলে নন্দীগ্রামে তিনি শুরু করেছিলেন সাম্প্রদায়িক খেলা। ‘সিপিএম বেছে বেছে মুসলমানদের জমি কেড়ে নিচ্ছে’, এই প্রচার শুরু ২০০৭-এর নন্দীগ্রামে। এই প্রচারের স্রষ্টা মমতা-শুভেন্দু। নন্দীগ্রামেই মাওবাদীদের সঙ্গে তৃণমূল-বিজেপি’র সরাসরি জোট। নন্দীগ্রামেই সিপিআই(এম)-কে পশ্চিমবঙ্গ থেকে উৎখাতের ‘রাস্তা কাটা’ মডেল শুরু। গত দেড় দশকে বামপন্থীদের মেরে, গ্রাম ছাড়া করে, মিথ্যা কেস দিয়ে, গ্রেপ্তার করিয়ে দুর্বল করেছে মমতা ব্যানার্জির দলবল। বামপন্থীদের দুর্বল করে বিজেপি’র রাস্তা চওড়া করেছেন মমতা ব্যানার্জি।সেই সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতেই রাজ্যকে তুলে দিয়ে বিদায় নিলেন তিনি। মমতা এখন বৃদ্ধা, শরীর খারাপ। তাঁর যাবতীয় শক্তি করায়ত্ত করে বসেছে তাঁরই ভাইপো। সেই ভাইপো এদিন বিকালেই হেস্টিংস ভবনে ঢুকতে গিয়ে তাড়া খেয়েছেন বিজেপি কর্মীদের। অশ্রাব্য গালিগালাজ পেরিয়ে যদিও বা ‘যুবরাজ’ কিছুটা ঢুকেছিলেন, কিন্তু কমিশনের আধিকারিকরা পত্রপাঠ তাঁকে প্রায় তাড়িয়ে দিয়েছেন গণনা কেন্দ্র থেকে। কারন তার সেখানে যাওয়া বেআইনি। অভিষেক সোজা তাঁর বহুমূল্যবান গাড়ি থামিয়েছেন কালীঘাট মন্দিরের গেটের উলটো দিকে বিরাট অফিসের সামনে। নেমে সোজা সেই অফিসে সেধিয়েছেন, আর বেরোননি।মমতা ব্যানার্জি এদিন নিষ্ফল আক্রোশে দাবি করেছেন যে, ১০০টি গণনা কেন্দ্র বিজেপি লুট করেছে। অথচ ১৯৯৭-এর ১৬ ডিসেম্বর এই তিনিই সাংবাদিকদের বলেছিলেন,‘‘তৃণমূল কংগ্রেসের আসল লক্ষ্য যাবতীয় সিপিআই(এম) বিরোধী শক্তিকে এক জায়গায় জড়ো করা। বাংলা বাঁচাও ফ্রন্ট খোলা হচ্ছে সেই কারনেই। সিপিআই(এম) বিরোধী সব রাজনৈতিক গোষ্ঠীকেই আমরা এই ফ্রন্টে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’’ আর সাম্প্রদায়িকতা? সেদিন সদ্য জাল ড. ডিগ্রি ঝেড়ে ফেলা মমতা ব্যানার্জি সেদিন বিজ্ঞর মতো জানিয়েছিলেন,‘‘ধর্মনিরপেক্ষতা নন-ইস্যু। বিজেপি অচ্ছুৎ নয়। এত লোক ওদের ভোট দিচ্ছে।’’আজও বিজেপি অনেক ভোট পেয়েছে। ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জি স্রেফ উড়ে গেছেন। আর? বাংলার রাজনীতিতে দিনের পর দিন বিজেপির পথে হেঁটে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’কে ‘নন-ইস্যু’ বানিয়ে দিয়ে গেলেন তিনিই।তাঁর সবচেয়ে বড় অপরাধ, যার জন্য বাংলাকে ভুগতে হবে— দায়ী থাকবেন তিনি, মমতা ব্যানার্জি এবং তাঁর নীতিহীন একদল নেতা, কর্মী।
48 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:50 AM
পাঁচ রাজ্যে বিজেপির জয় উদযাপন মোদীর

পাঁচ রাজ্যে বিজেপির জয় উদযাপন মোদীর

- পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরে সোমবার যথারীতি নয়াদিল্লিতে দলের সদর দপ্তরে এসে বিজয়োল্লাসে মাতলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপি নেতা, কর্মীরা। সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ, দলের সভাপতি নীতীন নবীন সহ অন্যরা। পশ্চিমবঙ্গে জয় নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাস ছিল মোদী সহ অন্যদের। প্রধানমন্ত্রী সাদা পাঞ্জাবী এবং ধাক্কা পাড়ের কোরা ধুতি পরে ‘বাঙালি’ সেজে আসেন। দুই-একটা কথা তাঁর বহুচর্চিত বাংলাতেও বলেন। ভাষণে বাংলায় বিজেপি’র জয়কে ঐতিহাসিক, অভূতপূর্ব বলে বর্ণনা করেন। বাংলার মানুষ ভয়, তুষ্টিকরণ এবং হিংসাকে মূল থেকে উপড়ে ফেলেছেন বলে ভাষণে জানান। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি’র জয়ে শামাপ্রসাদের আত্মা শান্তি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন। কিন্তু এদিন তাঁর বক্তব্যের মূল মতাদর্শগত আক্রমণের লক্ষ্য ছিল কমিউনিস্টরাই।মোদী তাঁর ভাষণে কেরালায় সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন এলডিএফ’র পরাজয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘‘ভারতের রাজনীতিতে আজ আরও একটি পরিবর্তন হয়েছে। আজ দেশে একটিও রাজ্য নেই, যেখানে কমিউনিস্ট পার্টির সরকার আছে। একটাও নেই।’’ মোদী বলেন, ‘‘এটা শুধু একটা ক্ষমতার বদল নয়, ভাবনার বদল। এটা দেখায় বিকশিত হতে থাকা ভারত কোন দিশায় আগে চলতে চায়।’’ এখানেই না থেমে মোদী মাওবাদীদের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন এক্ষেত্রে এবং তার সঙ্গে কংগ্রেসকে জুড়েছেন। মোদী বলেছেন, মাওবাদীরা জঙ্গল থেকে শেষ হয়ে কংগ্রেসে শিকড় গাঁড়ছে। কংগ্রেসের মধ্যে আরবান নকশালদের গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।মোদী এদিন তাঁর ভাষণের অনেকটাই পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বলেছেন। কিন্তু তার মধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাদের মনোভাব। মোদী বলেছেন, আজ থেকে বাংলার ভবিষ্যতের এমন যাত্রা শুরু হলো উন্নয়ন এবং নতুন আশা পায়ে পা মিলিয়ে চলে। আমি আজ প্রতিটি বাংলাবাসীকে ভরসা দিচ্ছি তাদের উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপি দিনরাত এক করে দেবে। বাংলায় এখন মহিলাদের সম্মান মিলবে। যুবরা রোজগার পাবে। পরিযায়ী হতে হবে না এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে এদিন বাংলার সাংস্কৃতিক পরিসরেও জুড়তে চেয়েছেন। এই জয়ে নাকি বঙ্কিমচন্দ্রকে, যোগীরাজ অরবিন্দকেও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাঙলার মানুষ। এরপরে রবীন্দ্রনাথকেও টেনে এনেছেন মোদী। পঁচিশে বৈশাখ আসন্ন বলে উল্লেখ করে চিত্ত জেতা ভয় শূন্য, উচ্চ যেথা শিরের কথা টেনে বলেছেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ভয়মুক্ত বাতাবরণ তৈরি করে দেখাবে। এটা মোদীর গ্যারান্টি। তিনি স্লোগান দিয়ে বলেন, বদলা নয়, বদল হবে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে নিয়েও বক্তৃতায় মোদী বেশ কিছুক্ষণ বলেছেন। পরিচিত ঢঙেই এক্ষেত্রে নিজেদের মন মত ইতিহাস গড়ে নিয়ে বলেছেন, ড. মুখার্জি পশ্চিমবাংলাকে ভারতের অংশ বানানোর জন্য বড় লড়াই করেছিলেন। তিনি যে সশক্ত এবং সমৃদ্ধ বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, যে স্বপ্ন অনেক দশক ধরে পূরণ করার অপেক্ষা করছিলেন, আজ বাংলার জনগণ বিজেপি’র কার্যকর্তাদের সেই কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আজ থেকে একটি নতুন অধ্যায় জুড়ে গেছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হয়ে গেল। বিকাশের ভরসায় যুক্ত হয়ে গেল। মোদী এদিন দাবি করেছেন, বিরোধী দলগুলি মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে দেননি বলেই নাকি মহিলারা তাদের হারিয়ে দিয়েছেন। কেরালা, তামিলনাডু, পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, তৃণমূল সেই জন্যেই হেরেছে। এরপরে সামনে বছর একই কারণে সমাজবাদী পার্টিও হারবে।কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এদিন বলেছেন, অনুপ্রবেশকারীদের পৃষ্ঠপোষকদের যোগ্য জবাব দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। শাহ পশ্চিমবঙ্গবাসীকে প্রণাম জানিয়ে লিখেছেন, এই বিপুল জনাদেশ ভয়, তোষণ এবং অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষকদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষের জোরালো জবাব। প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি ভরসার জয় বলেও এক্সে লিখেছেন শাহ। এদিন মোদী আসার আগেই বিজয় সমাবেশে পৌঁছান অমিত শাহ। সেখানেও ভাষণে তিনি এই কথা বলেন।
98 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 11:39 AM
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেছেন।

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই আবহেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, ‘আমি ইস্তফা দেবো না। অমি হারিনি, রাজভবনে যাবো না।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোট প্রক্রিয়ায় ‘নোংরা খেলা’ হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ভোটে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি একসঙ্গে অনিয়ম করেছে। জোর করে হারানো হয়েছে, নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে ফলাফল।’ এই অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপির অত্যাচার আর সহ্য করব না। আগে যেমন রাস্তায় ছিলাম, তেমনই ফের রাস্তায় নামব।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, আগামী দিনে রাজ্যে আন্দোলনের পথেই হাঁটতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শনের জন্য ১০ সদস্যের একটি তথ্য অনুসন্ধান কমিটি গঠনের ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ‘এই কমিটিতে ৫ জন সাংসদও থাকবেন। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন।’ এদিন তিনি বিরোধী জোটের নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘সোনিয়া, রাহুল, অখিলেশ, হেমন্ত সোরেন, তেজস্বীরা ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।’ জানা গিয়েছে, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব আগামীকাল কলকাতায় এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন তাঁর লক্ষ্য পরিষ্কার। ‘আমি এখন স্বাধীন। অন্য বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে কী করব, তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছি,’— বলেন তিনি। এদিন সল্টলেকে বিজেপির পার্টি দপ্তরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফলের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা একপ্রকার স্পষ্ট।
42 shares
😢
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:33 AM
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘আমাদের লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ছিল।’ বিধানসভা নির্বাচনে হারার পর সাংবাদিক সম্মেলন করে সাফাই দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। উল্লেখ্য নিজের রাজনৈতিক জীবনে মমতা ব্যানার্জি কখনই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেননি। মঙ্গলবার কালিঘাটে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘ইন্ডিয়া মঞ্চের অনেক নেতা আমার সাথে যোগাযোগ করেছে। তারা বলেছে তারা আমাদের সাথে আছে। ইন্ডিয়া মঞ্চকে শক্তিশালী করবো। রাজ্য জুড়ে বিজেপি আমাদের ওপর অত্যাচার করছে। পুলিশ নিষ্কৃয়। আমরা ক্ষমতায় আসার পর সিপিআই(এম)’এর কোন দপ্তরে হামলা করিনি। কোন দপ্তর দখল করিনি।’উল্লেখ্য ২০১১ সালের এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর লাগাতার বামপন্থীদের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। দখল করা হয়েছে একের পর এক দপ্তর দখল করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বামপন্থীদের। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে নির্লজ্জ ভাবে মিথ্যা কথা বলে গেলেন মমতা ব্যানার্জি।উল্লেখ্য মমতা ব্যানার্জি এবং তার দল নির্বাচনে হেরেছে। কিন্তু তিনি এখনও পদত্যাগ করেননি। এদিন মমতাকে তার ইস্তফা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা হারিনি, জোড় করে হারানো হয়েছে। ২০০ আসনে আমরা এগিয়ে ছিলাম। মেশিনের সমস্যা ছিল। জোড় করে হারানো হয়েছে। আমি কেন গিয়ে পদত্যাগ করবো?’একদিকে ইস্তফা না দেওয়ার কথা বলছেন তিনি আবার একই সাথে বলছেন, ‘এখন আমি মুক্ত পাখি, মানুষের হয়ে কাজ করবো।’সংবাদমাধ্যমকে নিশানা করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘মিডিয়া সাভোটেজ করেছে। গতকাল প্রথম রাউন্ডের পর থেকে দেখাতে শুরু করেছে যে বিজেপি জিতছে। তার প্রভাব পড়েছে গণনা কেন্দ্রে এজেন্টদের ওপর।’মমতা বলেন, ‘সিআরপিএফ আমাকে গণনা কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। আমাকে শারিরীক ভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। বিজেপি গণনা কেন্দ্রের দখল নিয়ে নিয়েছিল। আমরা ফিরে আসবো। এদের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আমাদের অনেক কর্মীকে চাপ দেওয়া হচ্ছে বিজেপিতে যোগদান করার জন্য।’তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গঠন করবে। তারা আক্রান্ত এলাকা গুলোয় যাবে।
41 shares
😐
Ganashakti Patrika logo
Ganashakti Patrika
May 5, 2026, 11:31 AM
বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অমিত শাহ

বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অমিত শাহ

বিজেপির পরিষদীয় নেতা নির্বাচন বৈঠক থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তাদের সংসদীয় বৈঠকের পক্ষ থেকে অমিত শাহকে পরিষদীয় নেতা নির্বাচন বৈঠকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাথে থাকবেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি। আগামীকাল সেই বৈঠক ডাকা হতে পারে বলে সূত্রে মারফত খবর। সেই বৈঠকে থাকবেন অমিত শাহ।২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে প্রথম বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারি। ভবানীপুরে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে।বিজেপি সূত্রে খবর শুভেন্দু অধিকারিকেই পরিষদীয় নেতা হিসাবে নির্বাচন করা হবে। তারপর শুভেন্দু সহ কয়েকজন নেতা রাজভবনে গিয়ে আবেদন জানাবেন সরকার গঠনের।উল্লেখ্য দশ বছর আগে ২০১৬ সালে মুরুলীধর স্ট্রিটের বিজেপি সদর দপ্তর থেকে নারদা স্টিং অপারেশনের ভিডিও দেখানো হয়। সেখানে তোয়ালে মুড়ে শুভেন্দু অধিকারিকে টাকা নিতেও দেখা যায়। সেই সময় শুভেন্দুর বিরুদ্ধে চোর স্লোগানও দেয় বিজেপি। কিন্তু ২০২১ সালে অমিত শাহের হাত ধরেই বিজেপিতে যোগদান করেন শুভেন্দু অধিকারি।এবারের নির্বাচনী প্রচার এসে মোদী-শাহ বার বার বলেছে তৃণমূলের দুর্নীতির বিচার হবে। তাহলে এখানেই প্রশ্ন থাকছে টাকার বিনিময় পূর্ব মেদিনীপুরে চাকরি বিক্রি করা বা নারদায় টাকা নিতে দেখা যাওয়া শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কি বিচার হবে?
58 shares
😐
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 11:31 AM
পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসার বিরুদ্ধে বিজেপির হুঁশিয়ারি

পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী হিংসার বিরুদ্ধে বিজেপির হুঁশিয়ারি

রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না—এমনই কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলের কোনও কর্মী বা সমর্থক এই ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনকি দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে। রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বে এখন রয়েছেন মুখ্যসচিব। তাঁকেও এ বিষয়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ করার আর্জি জানিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মঙ্গলবার বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব বিধাননগরের দপ্তরে বৈঠকও করেছেন। হিংসা রুখতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দলের তরফে কী পদক্ষেপ করা উচিত, তা নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সোমবার রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ভোটগণনা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয়ী হয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এই ফলাফলের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে। ফলাফল ঘোষণার পরদিন সকালে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ জানান এবং বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেইসব ভোটারদের প্রতি, যাঁরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে ভোট দিয়েছেন। তবে ভোট-পরবর্তী হিংসার বিষয়ে সতর্ক থাকার আর্জিও জানিয়েছেন দলের কর্মীদের কাছে। তিনি বলেন, ‘বিজেপির পতাকা নিয়ে অনেক জায়গায় ভাঙচুর করা হচ্ছে বলে শুনেছি। এর বিরোধিতা করছি। কেউ এমন করলে আমরা তাঁকে দল থেকে বার করে দিতে বাধ্য হব।’ তবে জয় উদযাপনের মধ্যেও সংযম বজায় রাখার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জয়ের আনন্দে যেন কেউ কোনওরকম ভাঙচুর বা হিংসাত্মক কার্যকলাপে না জড়িয়ে পড়ে। তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সকলের ভাবাবেগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া, মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার কাছেও তিনি আবেদন জানিয়েছেন যাতে প্রশাসন সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনকেও বলতে চাই, কোথাও এমন কোনও হিংসার ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নিন। কারণ, এই জন্যই বাংলার মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত আমাদের অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের যে স্বপ্ন ছিল, তা পূরণ হয়েছে। এখন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দলের কর্মীদের বলতে চাই, শান্তিতে থাকুন। খুশি থাকুন। দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, পালন করুন। কিন্তু জয়ের আনন্দে কাউকে আঘাত করবেন না। কারও ভাবাবেগে আঘাত দেবেন না।’ তাঁর মতে, রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের আশায় বিজেপিকে সমর্থন করেছেন, তাই সেই আস্থার মর্যাদা রাখা দলের দায়িত্ব। মঙ্গলবার বিধাননগরে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এক বৈঠকেও ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে হিংসা প্রতিরোধ এবং শান্তি বজায় রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়, যাতে অতীতের মতো কোনও অশান্ত পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে। সব স্তরেই হিংসার বিরুদ্ধে বার্তা পাঠানো হয়েছে। রাজনীতির রং না দেখে হিংসার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আর্জি প্রশাসনের কাছে রেখেছেন শমীক। সকল রাজ্যবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি।
99 shares
😢
A
AajKaal News
May 5, 2026, 11:26 AM
কন্যা অভয়াকে ন্যায়বিচারের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের জয়

কন্যা অভয়াকে ন্যায়বিচারের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের জয়

আজকাল ওয়েবডেস্ক:আরজি কর হাসপাতালে ও মেডিক্যাল কেলেজে জুনিয়র চিকিৎসক 'অভয়া'র মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিবাদে মুখ হয়েছিল বাংলা। কিন্তু, মেলেনি সুবিচার। পরে মেয়ের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এ বিজেপি প্রার্থী হন তিনি।নির্বাচনী লড়াইয়ে পানিহাটিতে জয় পেয়েছেন 'অভয়ার মা' রত্না দেবনাথ। ২৮,৮৩৬ ভোটে তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে হারিয়েছেন রত্না। ৪ মে, রত্না দেবনাথের জীবনে এক বড় মোড়। জয়ী রত্না সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "বাংলার মেয়েরা তাঁদের জবাব দিয়ে দিয়েছেন।" নিজের এই জয়ের কৃতিত্ব তিনি বাংলার মহিলাদেরই দিয়েছেন। ছুড়ে ফেলে দেওয়া হোক মমতাকে: হিমন্ত হেরেও ইস্তফায় 'না' মমতার! এরপর কী হবে? পানিহাটি দীর্ঘকাল ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের এক শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখানে পদ্ম ফুল ফুটতেই গেরুয়া আবির উড়ল। রত্না দেবীর মনে তখন মেয়ের সুবিচার পাওয়ার আশা। "সে হাসিমুখে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল"নিজের জীবন বদলে দেওয়া সেই ভয়াবহ দিনটির কথা স্মরণ করে রত্না দেবনাথ বলেন, তাঁর মেয়ে "হাতে টিফিন নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল", কিন্তু বাড়ি ফিরেছিল ওর নিথর দেহ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, "আমি বা ও - কেউই জানতাম না যে এটাই আমাদের শেষ কথোপকথন হতে চলেছে। আমার মেয়ে ছিল ফুলের মতো। তাঁর মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও মূল্যবোধ ছিল। আরজি কর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীই ওর জীবন কেড়ে নিয়েছে।" রত্না দেবনাথের দাবি, তাঁর নিজের জীবনের চেয়ে মেয়ের জীবন ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 'অভয়ার মা' বলেন, "ও নিজের হাসপাতালেই চলতে থাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিল, ওর সেই লড়াই ছিল অনেক বেশি কঠিন।" রাজনীতির আঙিনায় রত্না দেবনাথের প্রবেশমমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁর মেয়ে 'অভয়া'-কে রক্ষা করতে পারেনি। এমন অভিযোগ রত্না দেবনাথ বারবারই করে এসেছেন। তিনি জানান, নিজের মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াই চালিয়ে যেতে এবং পানিহাটিকে 'ঘোষ পরিবার' ও তাদের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্ত রত্না দেবনাথ বলেন, "২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আমার জীবনকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী (মমতা ব্যানার্জি) আমার জীবনটা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছেন। আমি এখনও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছি; আমার মেয়ে এবং বাংলার সমস্ত মেয়েদের জন্য ন্যায়বিচার আদায়ের লড়াইয়ে নামতে আমি রাজনীতির পথ বেছে নিয়েছি।" 'অভয়ার মা' দাবি করেন, মেয়েকে হারানোর পর থেকে শোক ও প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তিনি আর নিজের চুলে চিরুনি ছোঁয়াননি। বারবারই তিনি এই প্রশ্ন তুলেছিলেন, "আমার প্রধান শত্রু মমতা ব্যানার্জি, কারণ তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আর আমার মেয়ে স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীনেই কাজ করত। মমতা ব্যানার্জি কেন আমার মেয়েকে বাঁচালেন না?" ন্যায়বিচারের আহ্বাননারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প চালু করেন। এই প্রকল্পের আওতায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী নারীদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এই প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা জমা করা হয়। তবে রত্না দেবনাথ মনে করেন, বাংলার মহিলাদের আর কেবল এই ১,৫০০ টাকার গণ্ডিতে বেঁধে রাখা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, "আমি একজন প্রতিবাদী মা মাত্র, এবং আমি ভবিষ্যতেও তেমনই থাকব। বাংলার নারীদের কেবল ১,৫০০ টাকার বিনিময়ে বেঁধে রাখা যায় না।" একদিকে রত্না নিজের জয়ের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দিয়েছেন, অন্যদিকে তিনি মমতার নাম উচ্চারণ করতেও অস্বীকার করেছেন। সাফ বলেছেন, "আমি ওই মহিলার কথা ভাবতেও চাই না।" সবশেষে, রত্না দেবনাথ তাঁর প্রয়াত মেয়ের কথা স্মরণ করেন এবং তাঁকে 'ঈশ্বরের দেওয়া এক অমূল্য হীরে' বলে বর্ণনা করেন। 'অভয়ার মা' বলেন, "এটা কেবল আমার একার ক্ষতি নয়, এটা সমগ্র সমাজের ক্ষতি। সমাজ একজন অত্যন্ত দক্ষ চিকিৎসককে হারিয়েছে। আর বাংলার মানুষ এখন ন্যায়বিচার ফিরিয়ে আনার সংকল্প গ্রহণ করেছে।"
58 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 11:22 AM
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট নিউ টাউন আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট নিউ টাউন আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ছবি স্পষ্ট। রাজারহাট নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের শেষে মাত্র ৩১৬ ভোটের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী পীযূষ কানোডিয়া। এই নাটকীয় জয়ের ফলে রাজ্যে বিজেপির মোট আসন সংখ্যা পৌঁছে গেল ২০৭-এ। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ১৮ দফা গণনা শেষে পীযূষ কানোডিয়া পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬ হাজার ৫৬৪টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা বিদায়ী বিধায়ক তাপস চ্যাটার্জি পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬ হাজার ২৪৮টি ভোট। ফলে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান দাঁড়ায় মাত্র ৩১৬ ভোটে। সূত্রের খবর, গণনার এক পর্যায়ে বিজেপি প্রার্থী প্রায় ২,৮০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। সেই সময় তাপস চ্যাটার্জি পুনর্গণনার দাবি জানান। প্রথম দফার পুনর্গণনার পর পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায় এবং তৃণমূল প্রার্থী ৩২৩ ভোটে এগিয়ে যান। এমনকি এক সময় তাঁকেই জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। তবে বিজেপির তরফে ফের পুনর্গণনার দাবি তোলা হলে চিত্র পাল্টে যায় এবং শেষ পর্যন্ত আসনটি হাতছাড়া হয় তৃণমূলের। ৪ মে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, রাজ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি দুটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া সিপিআই(এম) এবং অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট একটি করে আসন দখল করেছে। এই ফলাফল রাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১১ সাল থেকে টানা তিন দফা শাসনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গ ভেঙে প্রথমবারের মতো রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। এই বিপুল জয়ের পেছনে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে। তা নিয়েই তৈরি হয়েছিল তীব্র বিতর্ক। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল সব পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন সমীক্ষাতেও যেখানে কড়া লড়াইয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, সেখানে বিজেপির এই বিপুল জয় অনেককেই বিস্মিত করেছে।
17 shares
😐
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 11:06 AM
মমতার পদত্যাগ প্রত্যাখ্যানের পর ক্ষমতায় আসছে টিএমসি সরকার

মমতার পদত্যাগ প্রত্যাখ্যানের পর ক্ষমতায় আসছে টিএমসি সরকার

বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। নিয়ম মতো নতুন সরকার শপথ নেবে। রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করবেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হার স্বীকার করতেও রাজি নন তিনি। স্পষ্ট বলে দিলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি।’ একই সঙ্গে তিনি এখন ‘ফ্রি বার্ড’ বলেও মুক্ত কন্ঠে ঘোষণা করে দিলেন মমতা।গতকাল অর্থাৎ সোমবার গণনা শেষের পরেই এ দিনের সাংবাদিক সম্মেলনের ঘোষণা করেছিলেন মমতা। সেই মতো বিকেল ৪টেয় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হন তিনি।বিস্তারিত আসছে...
100 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 10:50 AM
নবান্নায় সরকারি কর্মীদের দ্বারা বিজেপির নির্বাচনী বিজয় উদযাপন

নবান্নায় সরকারি কর্মীদের দ্বারা বিজেপির নির্বাচনী বিজয় উদযাপন

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক ভবন নবান্নের পরিবেশেও পরিবর্তনের বার্তা স্পষ্ট। মঙ্গলবার সরকারি কর্মীদের মুখে শোনা গেল ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান। সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিজেপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় এসেছে। এর পরদিনই নবান্নের অন্দরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকেনি উচ্ছ্বাস, কর্মীদের মধ্যে গেরুয়া আবির খেলার দৃশ্যও দেখা যায়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বহু কর্মী এই উদযাপনে অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য, এতদিন তাঁরা ভয়ের মধ্যে কাজ করতেন, কিন্তু নতুন সরকার আসায় সেই চাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে অনুভব করছেন। পাশাপাশি, নতুন প্রশাসনের কাছে তাঁদের বিভিন্ন প্রত্যাশার কথাও উঠে আসে। বিশেষ করে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র দাবি নিয়েও কর্মীদের মধ্যে আলোচনা শোনা যায়। এর আগেও, নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর কিছু সমর্থক নবান্নের বাইরে জড়ো হয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলেন এবং গেরুয়া পতাকা ওড়ান। সেই আবহই এবার প্রশাসনিক ভবনের ভিতরেও প্রতিফলিত হয়েছে। এই নির্বাচনে বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করেছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা আশির ঘরে আটকে গিয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপির সাফল্য লক্ষণীয়। এমনকি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিগুলিও এবার তাদের হাতছাড়া হয়েছে। এই ফলাফলের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে এক বড় পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
93 shares
😐
A
AajKaal News
May 5, 2026, 10:49 AM
পশ্চিমবঙ্গে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ

পশ্চিমবঙ্গে পরাজয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌‘‌আমি ভোটে হারিনি। পদত্যাগ করব না।’‌ কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠকে জোর গলায় একথা বললেন মমতা। বিধানসভা ভোটে হারের পর মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। কালীঘাটে। ছিলেন অভিষেক ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম, ডেরেক ও‘‌ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ ব্যানার্জিরা। ভবানীপুরে এবার হেরে গিয়েছেন ঘরের মেয়ে। জিতেছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। তারপর থেকেই জল্পনা এবার কী পদক্ষেপ নেবেন মমতা। তিনি লোকসভা ভোটে লড়বেন?‌ নাকি বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধিতা আরও বাড়াবেন। সেদিকেই ছিল নজর। সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতেই মমতা জানান, ‘‌একশো আসন জোর করে লুঠ করা হয়েছে। এসআইআর করে ভোটারদের নাম কাটা হয়েছে। এরকম কোনও ভোটে দেখিনি। আমি ভোটে হারিনি। কেন পদত্যাগ করব। আমরা হারিনি, তাই রাজভবন কেন যাব?‌’‌ মমতার অভিযোগ, ‘সব পরিকল্পনা করে করা হয়েছে। ভোটের আগে আধিকারিকদের বদল করা হয়েছে। ভোটের দিন দুয়েক আগেই আমাদের একাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’‌ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জানিয়ে দেন মমতা। বলেন, ‘‌ইন্ডিয়া জোটকে আরও শক্তিশালী করাই হবে লক্ষ্য। এখন আমি মুক্ত পাখি। মানুষের সেবায় কাজ করব। রাস্তায় ছিলাম। রাস্তায় থাকব।’‌ মমতা আরও অভিযোগ করেন, ‘‌উত্তর থেকে দক্ষিণে পুলিশ সক্রিয় ভূমিকাতেই ছিল না। ছিল বিজেপি গুন্ডাদের দাপট। তৃণমূল কর্মীদের উপর ক্রমাগত অত্যাচার করা হয়েছে।’‌ হারের জন্য নির্বাচন কমিশনকেও দায়ী করেছেন মমতা। মমতা জানান, ‘‌বিরোধী ঐক্য শক্তিশালী করতে বুধবার অখিলেশ আসছে। একে একে সবাই আসবে। সোনিয়াজি, রাহুলের সঙ্গে কথা হয়েছে।’‌ মমতার আরও প্রশ্ন, ‘‌এটা সিআরপিএফ না বিজেপির গুন্ডা বাহিনী। আমরা সিপিএমের কোনও পার্টি অফিস দখল করিনি। তিনদিন করে বিজেপির কেন্দ্রীয় বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। এবারের ভোটের সন্ত্রাস সমস্তকিছুকে ছাপিয়ে গেছে।’‌ মমতার আরও অভিযোগ জানান, ‘‌কাউন্টিং থেকে আমাকে মারতে মারতে বের করা হয়েছে। যেভাবে আমার উপর অত্যাচার হয়েছে, একজন মহিলা হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আমি ধারণা করতে পারি। প্রথমে আমার গাড়ি থামানো হয়, পরে বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।’‌ শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘‌পেটে লাথি, পিঠে ধাক্কা মারা হয়েছে। হিস্ট্রি উইল রিপিট। উই উইল বাউন্স ব্যাক।’‌ মমতা ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানান, ‘‌আমরা অ্যাকশন নেব, সেটা এখনই জানাচ্ছি না। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি তৈরি হবে।, যে কমিটিতে পাঁচ জন সাংসদ ছাড়াও আরও পাঁচ জন থাকবেন।’‌পাশাপাশি মা–মাটি মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মমতা। সঙ্গে জুড়েছেন, ‘‌চেয়ারকে কেয়ার করি না। চাই লেস ইম্পর্ট্যান্ট মানুষ হিসেবে থাকতে। আমাদের লড়াই বিজেপির সঙ্গে নয় ছিল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে দল।’‌
59 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 10:27 AM
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপিকে সমর্থন পশ্চিমবঙ্গের অটো রিকশা চালকদের

পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিজেপিকে সমর্থন পশ্চিমবঙ্গের অটো রিকশা চালকদের

রাজ্যে ১৫ বছর পর ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন রাজনৈতিক আবহের প্রভাব পড়েছে পরিবহন ক্ষেত্রেও। মঙ্গলবার সকালে দেখা গেল, শহরের বিভিন্ন প্রান্ত— বেহালা, ঠাকুরপুকুর, তারাতলা, রাসবিহারী, কসবা, রুবি থেকে শুরু করে উল্টোডাঙা, বাগবাজার ও বারাকপুর— প্রায় সর্বত্রই অটোর মাথায় উড়ছে গেরুয়া পতাকা। অনেক অটোচালকই নতুনভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে রাস্তায় নেমেছেন। বালিগঞ্জের একটি অটোস্ট্যান্ডে দেখা যায়, চালকেরা বিজেপির পতাকা বাঁধছেন, গেরুয়া আবির খেলছেন এবং ডিজের তালে নাচছেন। স্থানীয় এক অটোচালকের কথায়, ‘নতুন করে বিজেপি ইউনিয়ন গড়ার ডাক এসেছে, তাই আমরা একসঙ্গে যোগ দিচ্ছি।’ যদিও অনেকেই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থেকেই এই পরিবর্তন। তাঁদের অভিযোগ, আগে নির্দিষ্ট রুটে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অটো নামানো হত এবং পারমিট পেতে মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করতে হত। পাশাপাশি পুলিশের জরিমানাও বেড়েছিল, যা চালকদের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছিল। এক অটোচালকের কথায়, ‘একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের ফলই আজ সামনে এসেছে।’ অন্যদিকে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবেও অটোভাড়া বেড়েছে, যার ফলে সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দায় চাপানো নিয়েও পরিস্থিতি জটিল হয়েছিল। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রত্যাশায় অটোচালকদের একাংশ আশাবাদী। তাঁদের মতে, এবার হয়ত নীতি ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।
77 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 10:24 AM
উদয়নারায়ণপুরে বিজেপি কর্মীকে হত্যা

উদয়নারায়ণপুরে বিজেপি কর্মীকে হত্যা

উদয়নারায়ণপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর করে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম যাদব বর (৪৫)। সোমবার রাতে উদয়নারায়ণপুরের দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ মানশ্রী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ এবং শুরু হয়েছে তদন্ত। ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে বলে খবর। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপির জয়ের আনন্দে সোমবার রাতে এলাকায় কয়েকজন যুবক মিলে পিকনিক করছিলেন। সেই সময় যাদব বরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এরপরে বাড়ি ফিরে কিছুক্ষণ পর তিনি কাছেই স্নান করতে যান। অভিযোগ, সেই সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর উপর হামলা চালায়। লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, যাদব বর তাদের সমর্থক ছিলেন এবং রাজনৈতিক কারণে তাঁকে খুন করা হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের কর্মীরাই বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত হচ্ছেন, তাই এই অভিযোগ ভিত্তিহীন।
93 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 10:21 AM
নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকে গার্ড রেল সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে থেকে গার্ড রেল সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের রাস্তা থেকে সরানো হলো গার্ডরেল। মঙ্গলবার থেকে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের এই অংশেও বিনা বাধায় চলাচল করতে পারবে গাড়ি, যাতায়াত করতে পারবেন সাধারণ মানুষ। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের রাস্তায় এই গার্ডরেল বসানো ছিল। সোমবার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মমতার হার এবং রাজ্যের সিংহভাগ আসনে বিজেপির জয়জয়কারের পরের দিনই সকাল সকাল সরলো গার্ডরেল।সোমবার যে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের রাস্তায় অবাধ যাতায়াতে বাধা ছিল, এ দিন থেকে আর কোনও বাধা নেই সেখানে। যে গলি ধরেমমতার বাড়িতে যেতে হয়, কয়েক বছর ধরেই নিরাপত্তার প্রয়োজনে সেখানে গার্ডরেল বসানো ছিল। সেই গার্ডরেলের নীচে পোক্ত চাকা লাগানো। সঙ্গে একটি ধাতব ট্র্যাক বা চ্যানেলও পাতা হয়েছিল রাস্তায়। প্রয়োজন মতো গার্ডরেল টেনে সরিয়ে দেওয়া হতো। প্রয়োজন মতো তা দিয়ে রাস্তা আটকে দিতেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ বা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা।তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল ভোটে হেরে যাওয়ার পরে এ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বদল এল তৃণমূল সুপ্রিমোর নিরাপত্তা বলয়ে। এ দিন থেকেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলির মুখের সেই গার্ডরেল সরে গেল। ফলে এ বার থেকে যে কোনও গাড়ি চলাচল করতে পারবে এই রাস্তায়।
7 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 10:20 AM
তামিলনাড়ু নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন টিভিকে-র মহিলা প্রার্থীরা

তামিলনাড়ু নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন টিভিকে-র মহিলা প্রার্থীরা

তামিলনাড়ুর নির্বাচনে বাজিমাত করলেন TVK-র দুই মহিলা প্রার্থী। এম আর পল্লবী (৩৬) এবং জে কামাক্ষী (৪৪) মহিলা প্রার্থী হিসেবে জয়ের মুখ দেখেছেন চেন্নাইয়ে। তিরু ভি কা নগর কেন্দ্র থেকে ২২,৩৩৩ ভোটে জয়ী হয়েছেন পল্লবী। কামাক্ষী জয়ী হয়েছেন পল্লভরম কেন্দ্র থেকে ৫৪,৬৯৩ ভোটের ব্যবধানে। দুই মহিলা প্রার্থীই প্রথমবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।চেন্নাইয়ে মোট ৫৩ জন মহিলা প্রার্থী দাঁড়িয়েছিলেন ভোটে। যার মধ্যে ৩৩ জন রাজনৈতিক দলের এবং ২০ জন নির্দল প্রার্থী ছিলেন। তার মধ্যে ডিএমকে (DMK) ২ জন, এআইএডিএমকে (AIADMK) ৩ জন, বিজেপি (BJP) ১ জন এবং এনটিকে (NTK) ১২ জন মহিলাকে প্রার্থী করেছিল।আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা পল্লবীর জেদ ও লড়াই ভোটারদের মন জয় করে নিয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যেও তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালিয়েছেন। TVK-র যুব সম্পাদক জে কার্তিক জানিয়েছেন, প্রচারের সময়ে পল্লবী ডিহাইড্রেশনের কারণে একবার জ্ঞান হারিয়েছিলেন। ভোটাররা তাঁকে বাড়িতে বিশ্রাম নিতে বললেও তিনি দমেননি। জয়ের পরে পল্লবী জানিয়েছেন, তাঁর নির্বাচনী এলাকা পিছিয়ে পড়া। তাই তিনি মানুষের সেবায় কাজ শুরু করতে চান। অন্যদিকে বড় ব্যবধানে জিতে নজর কেড়েছেন জে কামাক্ষীও।চেন্নাইয়ের এই লড়াইয়ে বিজেপি নেত্রী তামিলিসাই সৌন্দররাজন পরাজিত হয়েছেন। এ ছাড়াও, হেরে গিয়েছেন প্রাক্তন দুই মন্ত্রী AIADMK-র গোকুলা ইন্দিরা এবং বি বলরামতি। এমনকী DMK-র দুই চিকিৎসক প্রার্থী এ পি পূর্ণিমা এবং আর এস কৃথিকা দেবীও জয়ের মুখ দেখেননি। BSP নেতা আর্মস্ট্রংয়ের স্ত্রী আইনজীবী পোরকোডি আর্মস্ট্রংও হেরে গিয়েছেন তামিলনাড়ুর নির্বাচনে।পরাজয় স্বীকার করে বিজেপি নেত্রী তামিলিসাই সৌন্দররাজন জয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই ভোট আসলে ‘বিজয় ঢেউ’ এবং DMK-র বিরুদ্ধে ক্ষোভের প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট করে আরও জানিয়েছেন, ভোটে হারলেও জনসেবা চালিয়ে যাবেন।
43 shares
😐
AajKaal News logo
AajKaal News
May 5, 2026, 09:56 AM
ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর বাংলায় তৃণমূল অফিসে হামলার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে।

ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর বাংলায় তৃণমূল অফিসে হামলার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে।

আজকাল ওয়েবডেস্ক:বঙ্গে ভোটগণনা শেষ। গণনার পর থেকেই উত্তপ্ত হল রাজ্য রাজনীতি। ৪ এপ্রিল গণনা শেষে বাংলায় রীতিমত গেরুয়া ঝড় দেখা যায়। গণনা শেষ হতেই সিউড়ির তৃণমূল কার্যালয়ে বিজেপি বাহিনীর বাইক তাণ্ডব দেখা যায়। তৃণমূলের দলীয় পতাকা খুলে নিয়ে সেখানে বিজেপির পতাকা লাগাতে দেখা যায়৷ এমনকী ছিঁড়ে ফেলা হয় কার্যালয়ের সামনে থাকা একাধিক ব্যানার। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের জয়ী প্রার্থী জগন্নাথ চ্যাটার্জি। মেসি নাকি বিজেপি এজেন্ট জয়ের হ্যাটট্রিক হল না ইন্দ্রনীলের, ধরাশায়ী তৃণমূল ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়৷ জানা গিয়েছে, এই ঘটনা ঘটামাত্র জগন্নাথ বাবুকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তীব্র বিরোধিতা করেন এই ঘটনার৷ এর পরই তৃণমূলের কার্যালয়ের সামনে লাগান বিজেপির পতাকা খুলিয়ে দেন তিনি। জগন্নাথ বাবুর স্পষ্ট কথা, "আমরা তৃণমূল নই। হঠাৎ করে কাল থেকে কয়েকজন নতুন বিজেপি হয়েছে। তারা এসব তাণ্ডব চালাচ্ছে। বীরভূমে আমরা অশান্তি চাইনা৷ যারা এসব করছে, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা করবে।" তিনি আরও জানান, " এবার আমি রাস্তায় নেমেছি। প্রশাসনকে বলেছি এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যেন এমন ব্যবস্থা নেয়, যাতে আগামী পাঁচ বছর এরা জেলে থাকে। কারোর কোনও ক্ষতি হলে আমি ব্যবস্থা করব৷ "
43 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 09:51 AM
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা জাতীয়তাবাদী স্লোগান দিয়ে বিজেপির বিজয় উদযাপন করেছেন

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীরা জাতীয়তাবাদী স্লোগান দিয়ে বিজেপির বিজয় উদযাপন করেছেন

Big Breaking: রাজ্যে পালাবদলের পরেই সরকারি কর্মীদের ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান নবান্নে। মঙ্গলবার ‘ভারত মাতা কি জয়’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ স্লোগানও দিয়েছেন তাঁরা। এমনকী, এই দিন নবান্নের একাধিক সরকারি কর্মীদের হাতে গেরুয়া পতাকাও দেখা গিয়েছে।৪ মে, সোমবার রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়েছে। ম্যাজিক ফিগার পেয়ে জয়ী হয়েছে বিজেপি। তার পরে মঙ্গলবার প্রথম দিন সরকারি কর্মীরা নবান্নের নির্দিষ্ট অফিসে উপস্থিত হয়েছিলেন। এ দিন স্লোগানের সঙ্গে সরকারি কর্মীদের গেরুয়া আবির খেলতেও দেখা গিয়েছে।সরকারি কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, এত দিন তাঁদের চুপ করিয়ে রাখা হতো। ভয়ে ভয়ে কাজ করতে হতো বলেও অভিযোগ তাঁদের। এও দাবি করা হয়েছে, তাঁরা অনেক বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়াও, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে নবান্ন। তল্লাশি করে সকলকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি সরকারি কর্মীদের একাংশের।প্রসঙ্গত, বিজেপি ২০৭টি আসন পেয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে। সেখানে তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ৮০টি আসন। ফলে রাজ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করেছে বিজেপি। চলতি বছরের ৯ তারিখ অর্থাৎ ২৫ বৈশাখ, কবিগুরুর জন্মদিনের দিন শপথ নিতে চলেছে বঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। এখন এটাই দেখার কে হবেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী।
48 shares
😢
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 09:46 AM
রাজারহাটের নতুন শহর আসনে টিএমসি জয়লাভ করেছে; বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে

রাজারহাটের নতুন শহর আসনে টিএমসি জয়লাভ করেছে; বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে

রাজারহাট নিউ টাউন বিধানসভা কেন্দ্রে জিতলেন বিজেপির পীযূষ কানোরিয়া। ৩১৬ ভোটে হারলেন তৃণমূলের তাপস চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দফায় দফায় পুনর্গণনা শেষে জয়ী হলেন বিজেপির প্রার্থী। এই কেন্দ্র জেতার পরে ২৯৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয়ী হলো বিজেপি। তৃণমূল পেল ৮০টি।নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সোমবারই পেয়ে গিয়েছিল গেরুয়া শিবির। বার বার রি-কাউন্টিংয়ের দাবির জন্য আটকে ছিল একমাত্র রাজারহাট নিউ টাউন কেন্দ্রটি। মঙ্গলবার দুপুর গড়িয়ে এই কেন্দ্রের ফলাফল সামনে এল। মার্জিন খুবই সামান্য, তবে জিতল বিজেপিই।সোমবার গণনা চলাকালীনই পুনর্গণনার দাবি তুলেছিলেন বিজেপির প্রার্থী। সেই মতো রি-কাউন্ট হয়। নিয়ম মেনে প্রথমে পোস্টাল ব্যালট, পরে ইভিএম কাউন্ট শুরু হয়। মঙ্গলবার পুনর্গণনা চান তাপস চট্টোপাধ্যায়। ১৮ রাউন্ড গণনা শেষে পীযূষের প্রাপ্ত ভোট ১০৬৫৬৪। তাপস পান ১০৬২৪৮।২০১১ সালে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের সব্যসাচী দত্ত। তাপস চট্টোপাধ্যায় তখন সিপিএমে। সব্যসাচীর কাছে হেরেছিলেন তিনি। ২০১৬ সালেও এখানে সব্যসাচী জেতেন। তাপস তৃণমূলে যোগ দিলে ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জোড়াফুলের টিকিট পান তিনি, জেতেন। তবে এ বার জয় ছিনিয়ে নিল বিজেপি।
79 shares
😐
AajKaal News logo
AajKaal News
May 5, 2026, 09:21 AM
তামিলনাড়ুতে 108টি আসনে জয়ী বিজয়ের দল, জোট সরকারের দিকে নজর

তামিলনাড়ুতে 108টি আসনে জয়ী বিজয়ের দল, জোট সরকারের দিকে নজর

আজকাল ওয়েবডেস্ক:অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের দল 'তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম' (টিভিকে) তামিলনাড়ুতে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে চমকে দিয়েছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। সূত্র মারফত 'ইন্ডিয়া টুডে টিভি' জানতে পেরেছে যে, একটি জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা নিশ্চিত করতে বিজয় এখন কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং ছোট দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথা ভাবছেন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার (অর্ধেক আসনের) সীমা হলো ১১৮টি। বিজয় বিরোধী জোটের সঙ্গে হাত মেলানোর পরিকল্পনা করছেন। কংগ্রেসের পাশাপাশি তিনি 'ভিদুতলাই চিরুথাইগাল কাজাগাম' (ভিসিকে), 'ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)' (সিপিআইএম), 'ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি' (সিপিআই) এবং 'ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ' (ইউএমআইএল)-এর সঙ্গেও আলোচনা করতে পারেন। সূত্রগুলো জানিয়েছে, শীঘ্রই এই দলগুলোর কাছে আলোচনার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে। উল্লেখ্য যে, কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই, সিপিআইএম এবং আইইউএমএল—এই দলগুলো এমকে স্টালিন নেতৃত্বাধীন 'সেকুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স' (এসপিএ)-এর অংশ। গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচনে রাজ্যের মোট ২৩৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে কংগ্রেস ৫টি আসনে জয়লাভ করে; অন্যদিকে আইইউএমএল, সিপিআই, সিপিআইএম এবং ভিসিকে - প্রতিটি দল দু'টি করে আসনে জয়ী হয়। যদি কংগ্রেস এবং তার মিত্রদলগুলো টিভইকে-র সঙ্গে জোট বাঁধার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে বিজয় নেতৃত্বাধীন এই দলটি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেই পেরতেপারবে। টিভিকে, এমকে স্টালিন নেতৃত্বাধীন ডিএমকে-কে ক্ষমতাচ্যুত করেছে; ডিএমকে মাত্র ৫৯টি আসনে জয়লাভ করে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। টিভিকে-র সঙ্গে জোট বাঁধার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কংগ্রেস: টিভিকে এবং কংগ্রেসের সমন্বয়ে একটি সম্ভাব্য জোট সরকার গঠনের জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই, কংগ্রেস সাংসদ শশীকান্ত সেন্থিল 'ইন্ডিয়া টুডে টিভি'-কে জানিয়েছেন যে, তামিলনাড়ুর স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে, তাঁর দল অত্যন্ত সুচিন্তিত ও সম্মিলিতভাবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। সেন্থিল বলেন, "অনেকগুলো বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন, তবে তামিলনাড়ুর জনগণ যে সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে, তা আমাদের অবশ্যই সর্বান্তঃকরণে মেনে নিতে হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া জুড়ে কংগ্রেস তার আদর্শগত অবস্থান ও ধারাবাহিকতা অটুট রেখেছে, তাই ভবিষ্যতে যে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক না কেন, তা অবশ্যই দলের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ ও অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। টিভইকে-কে সমর্থন জানানোর বিষয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরে কোনও মতপার্থক্য বা ভিন্নমত রয়েছে কি না - এমন প্রশ্নের জবাবে সেন্থিল স্বীকার করেন যে, দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের মতামত বা দৃষ্টিভঙ্গির সহাবস্থান থাকাটা কংগ্রেসের সংস্কৃতিরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি বলেন, “আমাদের মনের কথা প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট সুযোগ ও স্বাধীনতা রয়েছে। তবে আমরা সুবিধাবাদী নই। আমরা আমাদের আদর্শ এবং জনগণের কাছে করা প্রতিশ্রুতিগুলোর প্রতি অবিচল থাকি।” টিভিকে-র সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে সেন্থিল বলেন যে, বিষয়টি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং সংসদীয় কমিটির এখতিয়ারভুক্ত। তিনি মন্তব্য করেন, “কংগ্রেস যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুক না কেন, তা তামিলনাড়ুর স্বার্থেই নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন যে, "কংগ্রেস ডিএমকে-র সঙ্গেই জোটবদ্ধ রয়েছে এবং তাদের মধ্যে কোনও ফাটলের কথা অস্বীকার করেন; পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দেন যে, অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসতে হলে তা কেবল দলের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ আলোচনার পরেই আসবে। টিভিকে-র চমক: ডিএমকে-কে হতবাক করে দিল এক ঐতিহাসিক অঘটন ঘটিয়ে, টিভইকে, ডিএমকে-কে এক চরম পরাজয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এমনকি দলের প্রধান এবং বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিনও তাঁর কোলাথুর আসনে পরাজিত হয়েছেন। এআইএডিএমকে ৪৭টি আসনে জয়লাভ করে তৃতীয় স্থানে ছিটকে পড়েছে। টিভিকে-এর এই বিজয় গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার প্রমাণ করল যে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে গেড়ে বসা দুই প্রধান দ্রাবিড় দলের (ডিএমকে ও এআইএডিএমকে) একচ্ছত্র আধিপত্য এবার চূড়ান্তভাবে ভেঙে পড়েছে। এআইএডিএম-এর জোট সঙ্গীদের মধ্যে - পত্তালি মক্কল কাচ্চি (পিএমকে) চারটি আসনে জয়লাভ করেছে; অন্যদিকে বিজেপি এবং আম্মা মক্কল মুন্নেত্র কাজাগাম (এএমএমকে) প্রত্যেকে একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। দেশিয়া মুরপোক্কু দ্রাবিড় কাজাগাম (ডিএমডিকে)-ও একটি আসনে জয়লাভ করেছে। বিজয় নিজে পেরাম্বুর এবং তিরুচিরাপল্লি পূর্ব, উভয় নির্বাচনী এলাকা থেকেই জয়লাভ করেছেন; আর টিভইকে তাদের প্রথম নির্বাচনেই প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে এক অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিজয় ঘোষণা করেছিলেন যে, তামিলনাড়ু নির্বাচনে টিভিকে এককভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং ডিএমকে, এআইএডিএমকে কিংবা বিজেপির সঙ্গে কোনও জোট গঠনের সম্ভাবনা তিনি পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছিলেন। প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিপরীতে নিজের দলকে একটি বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরে, তিনি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-কে আদর্শগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং দুর্নীতিমুক্ত শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারকে তুলে ধরেছিলেন। যদি টিভইকে সরকার গঠনে সফল হয়, তবে তা তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক অসাধারণ মাইলফলক হবে। কারণ, এই প্রথমবার তামিলনাড়ুতে এমন কোনও রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে, যা মাত্র দুই বছর আগে (২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে) তৈরি হয়েছিল।
85 shares
😐
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 08:48 AM
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল জয়ঃ কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিযুক্ত অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিপুল জয়ঃ কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক নিযুক্ত অমিত শাহ

অঙ্গ-কলিঙ্গের পরে বঙ্গ জয় সম্পন্ন। বাংলায় ২০৭ আসনে বিজেপির বিপুল জয়ের পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাঁধে বড় দায়িত্ব তুলে দিল দল। পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে শাহকে দায়িত্ব দিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী থেকে ক্যাবিনেট মন্ত্রী—সবই বাছবেন তিনি। সূত্রের খবর, তাঁর সঙ্গে থাকবেন ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিও।বিজেপির এই সিদ্ধান্তকে বেনজির বলেই ব্যাখ্যা করছে রাজনৈতিক ময়দান। রীতি ভেঙে পরিষদীয় দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী বাছতে ফের কলকাতায় আসছেন অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই ঠিক করবেন জয়ী বিধায়কদের মধ্য থেকে পরিষদীয় দলনেতা। আগামী ৯ তারিখ অর্থাৎ ২৫ বৈশাখ, কবিগুরুর জন্মদিনের দিন শপথ নিতে চলেছে বাংলার নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। তার আগেই জবাব মিলবে বাংলায় এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নের— কে হবেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? আলোচিত নামগুলি থেকেই কারও কাঁধে তুলে দেওয়া হবে দায়িত্ব নাকি বিজেপির চমকের ধারা বজায় রেখে আলোচনায় নাম না থাকা কোনও ব্যক্তির কাঁধেই দায়িত্ব তুলে দেবেন শাহ? জবাব মিলবে শীঘ্রই।প্রসঙ্গত, ২৬-এ ‘মিশন বাংলা’র পুরোভাগে সামিল ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নির্বাচন পর্বে প্রচার, স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণ ও দলীয় কর্মীদের উৎসাহিত করতে একটানা বাংলাতেই ঠাঁই নিয়েছিলেন তিনি। এই একমাসে মোট ২৯টি জনসভা ও ১১টি রোড শো করেছেন তিনি। বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ ও ‘তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট’ কর্মসূচিও আত্মপ্রকাশ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাত ধরে। বিজেপির বঙ্গ বিজয়ে শাহী পরামর্শ যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে তা সোমবারের ঐতিহাসিক রেজ়াল্টেই স্পষ্ট। তাই বাংলায় বিজেপি সরকারে নয়া অধ্যায়ের শুভারম্ভতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বর্তাল শাহের হাতেই, মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
42 shares
😐
EI Samay logo
EI Samay
May 5, 2026, 08:45 AM
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয় পেয়েছে বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয় পেয়েছে বিজেপি।

শৈবাল করএ বারের পাঁচ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা নির্বাচন হলেও কার্যত গোটা দেশই গত এক মাস ধরে পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর দিকেই তাকিয়ে ছিল। তামিলনাড়ুতে নতুন উঠে আসা বিজয়ের দল টিভিকে যে এ রকম কাঁপিয়ে দেবে, এটা যেমন অনেকেরই ভাবনার স্তরে ছিল না, তেমনই কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এ রকম আশাতীত ভালো ফলও অনেকেরই আগাম হিসেবে ঠাঁই পায়নি। বরং এই একবার অন্তত বুথ ফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোলের সঙ্গে বাস্তব মিলে যাচ্ছে। বিজেপি-র কাছে এত দিন পশ্চিমবঙ্গই ছিল শেষ প্রত্যক্ষ বাধা। ফলে, পশ্চিমবঙ্গ আবার নতুন অধ্যায়ের মুখোমুখি।২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন সরকার পরাজিত হয়েছে, তার পরিবর্তে নতুন সরকার আসবে। নির্বাচন কমিশনের এসআইআর-ধাক্কা, রাজ্যে বিবিধ দুর্নীতির সমস্যা, আর জি কর-কাণ্ডে অপরাধীদের আড়াল করার অভিযোগ এবং রাজ্যের আর্থিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংকটের মধ্যে অনেকগুলোই হয়তো এই ফলাফলের কারণ হিসেবে পরিগণিত হবে। স্বল্প পরিসরে এর ফলে যত রকম সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে, তা আলোচনা করা শক্ত, কিন্তু প্রাথমিক ভাবে যে প্রশ্নটি তাৎপর্যপূর্ণ, তা হলো— এই পরিবর্তন রাজ্যের অর্থনীতিকে কি অন্য রূপ দিতে পারে?২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতির বন্যা পশ্চিমবঙ্গে বুকে আছড়ে পড়েছে, তা আদতে কতটা বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়েই যে মূলধারার কৌতূহল থাকবে, তা তো সহজবোধ্য। এর সঙ্গে প্রশ্ন থাকবে, এর জোগান এবং বিনিয়োগের কতটা সরকারের নিজস্ব পুঁজি থেকে আসবে? এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সরকারের নিজের হাতে থাকা ব্যবস্থায় যে রকম কর্মপদ্ধতি আশা করা যায়, তার সঙ্গে বেসরকারি সংস্থার মিল সামান্যই। দক্ষিণের যে রাজ্য দু’টি ভারতে উন্নয়নের যাবতীয় নিরিখে উপরের দিকে, তাতে অধিকাংশ সময়েই ক্ষমতায় থেকেছে আঞ্চলিক দল। এবং অনেক বেসরকারি ক্ষেত্র সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও বহু সরকারি ব্যবসা সাফল্যের সঙ্গে চলেছে। কর্মবিমুখতা আর সব কিছুতেই ক্ষুদ্র দুর্নীতির সংস্কৃতি বদলে ফেলার জন্য এই রাজ্যগুলোতে পরিবর্তনের দিশারি হতে অন্য কাউকে ডাকতে হয়নি। এর মূল কারণ হলো, রাজ্য পরিচালিত প্রকল্পের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় প্রকল্প সব ক্ষেত্রেই ভালো— তা নিঃশর্ত ভাবে দাবি করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ, যে রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ গৃহীত হয়েছে, সেখানকার সমীক্ষা বলছে যে, মানুষের পকেটের টাকা আগের থেকে বেশি খরচ হচ্ছে স্বাস্থ্য খাতে। এর একটা কারণ হতে পারে যে, বিমার সুবিধে পেতে মানুষ আগের থেকে বেশি চিকিৎসা করাচ্ছে, তাই খরচ বাড়ছে। আর অন্য কারণ হলো, সীমিত সংখ্যক মানুষের জন্যে বিমার সংস্থান বলে নতুন স্বাস্থ্য-ব্যবসা সৃষ্টি হচ্ছে না কিন্তু বাড়তি চাহিদার জন্যে সবার খরচ বাড়ছে। এই খরচের ভার বর্ধিত মহিলা ভাতা পূরণ করে দিতে পারে। কিন্তু তা হলে প্রশ্ন, সঞ্চয় আর এই ভাতা উন্নয়নের কাজে খরচ হবে কী ভাবে? এ রকম উদাহরণ কম নেই। আর সরাসরি খরচের দায় নিতে না চাইলে, রাজ্য জয় করে তা বিনিয়োগকারীর হাতে তুলে দেওয়া তো নতুন নয়। এই বদান্যতার পরিবর্তে তখন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আসে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার টাকা।যদি মধ্য-আয়ের মানুষ মনে করে থাকে যে, পরিবর্তনের সঙ্গে আর্থিক বিনিয়োগের ঢেউ বয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গে, তার ভিত্তি ঠিক কী? পরিবর্তন হলে কি রাজ্যে এক লপ্তে অনেক জমি পাওয়া যাবে শিল্প করার জন্যে? রাজস্থান-গুজরাটের মতো শহর-ঘেঁষা অনুর্বর জমি যদি পশ্চিমবঙ্গে সস্তা হতো আর চাইলেই পাওয়া যেত, তা হলে এত সমস্যা হতো কি? পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা এবং জনঘনত্ব অন্য রাজ্যের তুলনায় বেশি বলে চাকরি সৃষ্টির সঙ্গে তাল রাখা সম্ভব নয়। আর্থিক উন্নতির সঙ্গে যে জন্ম হার কমার প্রবণতা থাকে, পশ্চিমবঙ্গে তার অনেকটাই নস্যাৎ করে দিচ্ছে পাশের রাজ্যগুলো থেকে আসা অদক্ষ শ্রম। পরিবর্তনের সঙ্গে জমির পরিমাণ বেড়ে যাবে না, বরং মালিকানা আর অধিগ্রহণের ধরন বদলে যেতে পারে। অন্য কোনও রাজ্যে সরকারের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে এত প্রশ্ন উঠতে দেখা যায়? পরিবর্তন আসার সঙ্গে কিন্তু এই প্রশ্নের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে যে,দিনের শেষে এই বিষয়গুলোর মীমাংসা কী ভাবে হচ্ছে।পশ্চিমবঙ্গের দুর্নীতি কমে গেলে আর্থিক ভাবে সবারই উপকার। অন্য রাজ্যেও জাতীয় কংগ্রেসের থেকে অন্য দলের হাতে ক্ষমতার পরিবর্তন কোনও না কোনও সময়ে তো ঘটেছে। ফলে পরিবর্তন দুর্নীতি কমিয়েছে কিনা, সে উদাহরণের নেহাত অভাব নেই। মধ্যপ্রদেশে ব্যাপম কেলেঙ্কারি খুব পুরোনো ঘটনা নয়। দিল্লিতে শিক্ষাজগতের চাকরি এখানকার থেকে অনেক বেশি টাকায় কিনতে হয়, সেটাও নাকি আজকাল শোনা যায়। তার কাছেই আর এক জায়গায় অদক্ষ শ্রমিকদের রোজগার নিয়ে আন্দোলন অন্য মাত্রা পায় তার আর্থিক গুরুত্ব সরিয়ে রেখে। দুর্নীতি মানে কি শুধুই তোলা নেওয়া, বা বাড়িতে টাকার পাহাড় জমিয়ে রাখা, যা চোখে পড়ে যায়? দুর্নীতির কত ধরন আছে তা সাধারণ মানুষ কি আদৌ জানতে পারে?এ সব প্রশ্নের মীমাংসা না হলেও পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ আসতেই পারে, যদি ব্যবসায়ীরা মনে করে যে সরকার আসলে ব্যবসা-দরদি এবং শ্রমিক বিরোধী।ব্যবসার ধর্মই হলো মুনাফা। কোন রাজ্যে সস্তায় উপাদান পাওয়া যাবে, আর সেই সঙ্গে সর্বাধিক মুনাফা করা যাবে, তা যদি সরকারের রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণার বশবর্তী না হয়, তা হলে বিনিয়োগ আসবে কি না, তা নির্ভর করে অন্য বিষয়ের ওপরে। যেমন, পরিবর্তন চাওয়ার দ্বিতীয় ভিত্তি হলো দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়। যে রাজ্যগুলোতে পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা হয়েছে, সেখানে যদি দুর্নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ লক্ষণীয় রকমের উন্নত না হয়ে থাকে তা হলে অন্যত্র তা ঘটবেই, এমন মনে করার কারণ কি? প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য ক্ষমতায় আসা দল কী পদ্ধতি নেবে, তার সূত্র এখন দেশে যে ব্যবস্থা রয়েছে তার সঙ্গে সমান্তরাল হবে। সে ব্যাপারে কিছু আশার সঙ্গে অনেক আশঙ্কা থেকে যাবে।কর্মজগতে কেন্দ্রীয় হারে বেতন বৃদ্ধি হবে কি না, তার নির্দিষ্ট কোনও মানদণ্ড রাজ্য স্তরে নেই। কর্মী কমিয়ে দেওয়ার প্রয়াস আছে। তার ওপরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজর দেওয়ার প্রয়াসও তেমন দেখা যায় না জাতীয় স্তরে। দেশের মধ্যে প্রায় ২৬টি রাজ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থার অন্তর্গত গবেষণা-ভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজও সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা হয়নি, কারণ মন্ত্রী মনে করেন এগুলো বেসরকারি। পরিবর্তনের ফলে আর্থিক নীতি যদি রূপান্তরিত হয় তা কি অসাম্য বাড়াবে? আর নতুন আর্থিক নীতি যদি না নেওয়া হয়, তা হলে কি প্রত্যাশা থাকবে মানুষের? এগুলো সময়ের সঙ্গে বিচার্য।লেখক সেন্টার ফর স্টাডিজ় ইন সোশ্যাল সায়েন্সেস, কলকাতায় অর্থনীতির শিক্ষক
83 shares
😢
AajKaal News logo
AajKaal News
May 5, 2026, 08:19 AM
আং-বাং-কলিঙে বিজেপির জয়, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা ঘিরে জল্পনা

আং-বাং-কলিঙে বিজেপির জয়, মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা ঘিরে জল্পনা

আজকাল ওয়েবডেস্ক:বিজেপি জয় করে ফেলল অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ। পূরণ শাহি স্বপ্ন। এবার জল্পনা গেরুয়া শিবিরের মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে। জল্পনা মন্ত্রিসভা নিয়েও। এসবের মাঝেই সূত্রের খবর, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে ফোন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, এবং ওবিএল সন্তোষ। সূত্রের খবর আগামী সরকার গঠন নিজের কথোপকথন হয় এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। সোমবার বাংলা এবং অসমের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পরেই আজদিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি বৈঠক করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর নেতৃত্বে পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকে বসবে বিজেপি। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে মূলত মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রূপরেখা নিয়েই আলোচনা হবে। বাংলার নতুন ক্যাবিনেটে কারা জায়গা পেতে পারেন, তা নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে, বাংলার মসনদে কে বসবেন তার সিদ্ধান্তও এদিনই হওয়ার সম্ভাবনা। এরপর রাজ্য বিজেপির সল্টলেকের দপ্তরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, রাহুল সিনহা-সহ কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। ওই বৈঠকেও রাজ্যের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক মহলে। আগামী ৬ মে পর্যন্ত তৃণমূল সরকারের মেয়াদ থাকলেও তার আগেই নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যদিও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ৯ মে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই সমস্ত বিষয় নিয়েই চলছে জোর আলোচনা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে যেভাবে শুভেন্দু অধিকারী দলকে ক্ষমতায় আনার লড়াইয়ে সামনের সারিতে ছিলেন, তাতে তিনিই মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রধান দাবিদার। আজকের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা হতে পারে বলেও জল্পনা তুঙ্গে। এদিন সল্টলেকের বিজেপির সদর দপ্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
45 shares
😐
AajKaal News logo
AajKaal News
May 5, 2026, 08:13 AM
ভারতের সাধারণ নির্বাচনঃ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়কে কেন্দ্র করে

ভারতের সাধারণ নির্বাচনঃ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়কে কেন্দ্র করে

আজকাল ওয়েবডেস্ক:চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রের পাতা যেন গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে উঠেছে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের অধিকাংশ প্রতিবেদনে মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গে জয়ের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই জয় তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির রাজ্যে ১৫ বছরের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়েছে। লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক এবং ইসলামাবাদ থেকে ঢাকা, সব জায়গার সংবাদপত্র তামিল সুপারস্টার জোসেফ বিজয়কেও বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। মাত্র দুই বছর আগেই তিনি 'তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম' (টিভিকে) নামে একটি দল গঠন করেছিলেন এবং এবার রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল 'দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম' (DMK)-কে ক্ষমতাচ্যুত করেছেন। **বিবিসি**বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে মূলত বিজেপির হাতে পশ্চিমবঙ্গের মতো একটি বিরোধী-দুর্গের নিয়ন্ত্রণ চলে আসার বিষয়টির ওপরই আলোকপাত করেছে। 'মোদির বিজেপি বাংলা জয় করল', ভারতের অন্যতম কঠিন এক রাজনৈতিক রণাঙ্গন' শিরোনামের একটি নিবন্ধে এই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে যে, পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে বিজেপির বিজয় "মোদির ১২ বছরের শাসনকালের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে।" ওই নিবন্ধতে বলা হয়েছে, "এটি কেবল টানা তিন মেয়াদের একজন ক্ষমতাসীন নেত্রীর পরাজয়ই নয়, বরং পূর্ব ভারতে দলটির দীর্ঘ অভিযাত্রার এক পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তিও বটে।" **দ্য গার্ডিয়ান**অন্য একটি প্রধান ব্রিটিশ দৈনিক, 'দ্য গার্ডিয়ান'-ও বাংলার নির্বাচনের ফলাফলের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে, পশ্চিমবঙ্গ ছিল বিরোধীদের এমন এক বিরল দুর্গ, যার সমকক্ষ আর কোনও রাজ্য ছিল না এবং সারা দেশে বিজেপির ক্ষমতা সুসংহত করার প্রক্রিয়ায় এই দুর্গটিই ছিল তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। রিপোর্টে লেখা হয়েছে, 'নরেন্দ্র মোদির বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করল'—শিরোনামের ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের 'ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে এবং এটি এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়া বিরোধী শিবিরকে আরও একটি বড় ধরনের মনোবল-ভাঙা আঘাত হানবে।' **নিউ ইয়র্ক টাইমস**মার্কিন সংবাদপত্র 'নিউ ইয়র্ক টাইমস'-এর শিরোনাম ছিল 'মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা ভারতের বিরোধীদের একটি দুর্গ জয় করল'। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই নির্বাচনী পারফরম্যান্সকে 'ঐতিহাসিক' বলে অভিহিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী মোদির বিজেপি 'সোমবার এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে তাদের কয়েক দশকের দীর্ঘ প্রচারভিযানে এটি একটি বড় অগ্রগতি। তারা দেশের অন্যতম জনবহুল এই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করেছে - এমন একটি রাজ্য যেখানে এর আগে তারা কখনওই ক্ষমতার কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি।' প্রতিবেদনটিতে তামিলনাড়ুতে বিজয়ের অপ্রত্যাশিত জয়ের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। 'দিনের অন্যতম বড় চমকটি ছিল তামিলনাড়ুতে, যেখানে রাজনীতিতে নবাগত (অভিনেতা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখরের দল) রাজ্যের দু'টি প্রতিষ্ঠিত দলের যেকোনওটির চেয়েই ভাল ফলাফল করেছে।' প্রতিবেদনটিতে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে। **দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট**দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফল প্রধানমন্ত্রী মোদির 'মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং তাঁর তৃতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে' বলে আশা করা হচ্ছে। নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, "২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন তাঁর ক্ষমতাসীন দলকে সরকার গঠনের জন্য আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য করেছে। আশা করা হচ্ছে, তিনি ২০২৯ সালে রেকর্ড চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে লড়বেন।" প্রতিবেদনটিতে কেরলের পরিস্থিতির ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে। সেখানে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট সরকারকে পরাজিত করেছে এবং বামপন্থীদের সর্বশেষ অবশিষ্ট শক্ত ঘাঁটিগুলোর একটিতে তাদের শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। পাকিস্তানপাকিস্তানে, 'ডন' পত্রিকা নির্বাচনের বিষয়ে এএফপি-এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী মোদির 'জাতীয়তাবাদী দল' 'বিরোধীদের দখলে থাকা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে'র গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করেছে এবং দীর্ঘকাল ধরে তাদের প্রতিপক্ষের দখলে থাকা একটি শক্ত ঘাঁটি দখল করে নিয়েছে। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ফলাফল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে 'আরও শক্তিশালী অবস্থানে' দাঁড় করাবে, বিশেষ করে যখন তিনি ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে উচ্চ বেকারত্বের হার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অমীমাংসিত বাণিজ্য চুক্তি-সহ নানাবিধ অর্থনৈতিক ও বিদেশনীতি বিষয়ক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন। বাংলাদেশবাংলাদেশের 'ঢাকা ট্রিবিউন' পত্রিকাও এএফপি-এর সেই একই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে নির্বাচনের আরেকটি বড় চমকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে দক্ষিণের রাজ্য তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ এমকে স্ট্যালিন তাঁর আসনে এক অপরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, স্ট্যালিনের ক্ষমতাসীন দল 'দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাজাগাম' (ডিএমকে) নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও, অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা সি জোসেফ বিজয় কর্তৃক সদ্য গঠিত একটি দলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ছিল।
70 shares
😢
AajKaal News logo
AajKaal News
May 5, 2026, 06:45 AM
কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ পার্টি অফিসে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গ পার্টি অফিসে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌কলকাতার পথে রওনা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কাঁথির শান্তিকুঞ্জর বাড়ি থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কলকাতার রাজ্য পার্টি অফিসের উদ্দেশে রওনা দেন শুভেন্দু। দিল্লি যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি মুখ খুলতে চাননি। রাজ্য পার্টি অফিসে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে দেখা করবেন বলেই জানিয়েছেন। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রণাম জানিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এদিকে, শান্তিকুঞ্জ এলাকায় রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছেন শুভেন্দু। লিখেছেন, প্রণাম পশ্চিমবঙ্গবাসী।পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টিকে বিপুল সমর্থন দেওয়ার জন্য ও যশস্বী প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে ভরসা রাখার জন্য আপনাদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। দল হারল, হারলেন নিজেও, ভবানীপুরেই হার মমতার শুভেন্দু-শমীকের হাত ধরে শাহি-স্বপ্ন সফল বাংলায় এই জয় প্রত্যেক দেশপ্রেমিক রাষ্ট্রবাদীর জয়, প্রত্যেক বিজেপি কার্যকর্তার জয়।বিজেপির অঙ্গীকার এক উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। সকলকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গড়ে তুলব একটি সুস্থ, সুন্দর ও উন্নত রাজ্য। রাজ্যবাসীর সেবা করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিধানসভা নির্বাচনের এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মচারী বৃন্দ, কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জানাই বিশেষ কৃতজ্ঞতা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদিজির নেতৃত্বে এক বিকশিত ও আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলাই আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার। ভারত মাতার জয়। জয় হিন্দ। বন্দে মাতরম। এদিকে, সোমবার বাংলা এবং অসমের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পরেই আজ দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি বৈঠক করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর নেতৃত্বে পার্লামেন্টারি বোর্ডের বৈঠকে বসবে বিজেপি। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে মূলত মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার রূপরেখা নিয়েই আলোচনা হবে। বাংলার নতুন ক্যাবিনেটে কারা জায়গা পেতে পারেন, তা নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে, বাংলার মসনদে কে বসবেন তার সিদ্ধান্তও এদিনই হওয়ার সম্ভাবনা।এরপর রাজ্য বিজেপির সল্টলেকের দপ্তরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, রাহুল সিনহা–সহ কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। ওই বৈঠকেও রাজ্যের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে।
45 shares
😐
D
Dainik Statesman
May 5, 2026, 06:41 AM
ঐতিহ্যবাহী প্রশাসনিক কেন্দ্রে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

ঐতিহ্যবাহী প্রশাসনিক কেন্দ্রে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক দপ্তর কোথা থেকে চলবে, তা নিয়ে জল্পনা ক্রমেই জোরাল হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনা—নবান্ন ছেড়ে আবার ঐতিহ্যবাহী রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ থেকেই কি প্রশাসন চালাবে নতুন সরকার? সূত্রের খবর, ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার নবান্নের পরিবর্তে মহাকরণে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবুও প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল মহাকরণ। পরে নবান্ন-এ প্রশাসনিক দপ্তর স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর থেকেই নতুন ভবন থেকেই রাজ্যের শাসনকার্য পরিচালিত হয়ে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মহাকরণে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং প্রতীকী দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এর মাধ্যমে নতুন সরকার অতীতের প্রশাসনিক ঐতিহ্যের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বাস্তব দিক থেকেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মহাকরণ ভবনের সংস্কার, আধুনিক পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা—এই সব বিষয় খতিয়ে দেখে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এদিকে প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, নবান্নে ইতিমধ্যেই আধুনিক সুবিধা গড়ে উঠেছে, ফলে হঠাৎ করে স্থানান্তর সহজ হবে না। কর্মী ও দপ্তরের পুনর্বিন্যাসও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, নবান্ন থেকে মহাকরণে ফেরার সম্ভাবনা এখন রাজ্যের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহল।
82 shares
😐
E
EI Samay
May 5, 2026, 06:38 AM
উত্তরবঙ্গে একটি আসনেও জিততে পারেনি টিএমসি

উত্তরবঙ্গে একটি আসনেও জিততে পারেনি টিএমসি

এই সময়: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, কয়েকটি জেলায় খাতা খুলতে পারবে না তৃণমূল। সেই ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়ে গেল। উত্তরবঙ্গে চার জেলা দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতে কোনও আসন পায়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।জলপাইগুড়ি:লোকসভার মতো বিধানসভা ভোটেও জলপাইগুড়ি জেলা থেকে উত্তরবঙ্গের প্রচার শুরু করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নববর্ষের দিন মিছিলও করেন। কিন্তু তাতেও তৃণমূলের ভরাডুবি ঠেকানো গেল না। গত বিধানসভায় তৃণমূল জেলার সাতটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে জয়ী হলেও এ বার খালি হাতে ফিরতে হয়েছে জোড়াফুলকে। বাংলাদেশ সীমান্ত ছুঁয়ে ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত জলপাইগুড়ি জেলায় আদিবাসী, রাজবংশী, নেপালি, সাঁওতালি ও মেচ সম্প্রদায়ের বাস। মিশ্র সংস্কৃতির মানুষের কাছে কোনও আশার আলো দেখাতে না পারায় এই পরিজন বলে মনে করেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী। তাঁর সংযোজন, 'তৃণমূলের কাঠ-বালি-পাথর চুরিতে তিতিবিরক্ত মানুষ আমাদের সমর্থন করেছেন। বিজেপির নীতি ও আদর্শের কাছে ওরা পরাজিত হয়েছে।'জলপাইগুড়ি সদরে তৃণমূল যাঁকে প্রার্থী করেছিল সেই কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে ২০১৮-র পঞ্চায়েত ভোটে বুথ দখল, ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ থাকায় মানুষ ভালো চোখে নেননি। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে শিলিগুড়ির ডাকাবুকো নেতা রঞ্জন শীলশমাকে তৃণমূল প্রার্থী করলেও শালুগাড়া থেকে শক্তিগড় পর্যন্ত নেপালি ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের বিরাট ভোট রঞ্জনের দিকে যায়নি। ধূপগুড়ি, ময়নাগুড়ি, নাগরাকাটা আসনে নদী থেকে বালি-পাথর চুরির অভিযোগ বারে বারে উঠে এলেও শাসকদলের নেতারা চোখ বুজে থেকেছেন বলে অভিযোগ। সেই কারণেই দলের জেলা যুব সভাপতি রামমোহন রায় দাঁড়ালেও ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন। জীবনে কোনও দিন না-হারা বুলু চিকবরাইক মালবাজার কেন্দ্রে চা-বলয়ের সমর্থন আর পাননি। জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মহুয়া গোপ বলেন, 'খারাপ ফলের জন্য জলপাইগুড়ি জেলার আলাদা কোনও কারণ হবে, এটা মনে করি না। কেন জেলার মানুষের সমর্থন পেলাম না সামগ্রিকভাবেই পর্যালোচনা করতে হবে।'আলিপুরদুয়ার:পাঁচ বছর আগে আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি বিধানসভাতেই জিতেছিল বিজেপি। এ বারও একুশের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি ঘটল আলিপুরদুয়ারে পাঁচে পাঁচ। সঙ্গে রাজ্যেও ফুটল পদ্মফুল। গতবারের তুলনায় জয়ের ব্যবধান অনেকটাই বাড়িয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। কেন এমন ফল? বিজেপির ব্যাখ্যা, জেলায় 'এক্স-ফ্যাক্টর' পরিযায়ী শ্রমিকরা এ বার ঢেলে ভোট দিয়েছেন। এ ছাড়া চা-শ্রমিকরাও বিজেপির পাশে দাঁড়িয়েছেন।দলের রাজ্য সহ-সভাপতি দীপক বর্মনের ব্যাখ্যা, 'পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে স্থায়ী কাজ পাওয়ার আশায় আমাদের দু'হাত ভরে ভোট দিয়েছেন। তাঁদের সংখ্যাটা দেড় লক্ষেরও বেশি। চা-শ্রমিকরাও দিনের পর দিন বঞ্চিত হতে হতে তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়েছেন।'জেলায় 'হোয়াইটওয়াশ' হওয়ার পরে কার্যত স্যারেন্ডার করেছে তৃণমূল। দলের জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মার বক্তব্য, 'আলিপুরদুয়ারে অনেক উন্নয়ন করেছে রাজ্য সরকার। অথচ বিজেপির কিছু প্রতিশ্রুতির কাছে আমরা হার মানতে বাধ্য হয়েছি। যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-এর পাল্টা বিজেপির অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-এ তিন হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মোকাবিলা করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। বন্ধ ও রুগ্ন চা-বাগানের সমস্যা সম্পূর্ণ মেটানো সম্ভব হয়নি। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে বিজেপি যে ভাবে প্রচার চালিয়েছে, আমরা তার মোকাবিলা করতে পারিনি। সব মিলিয়ে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের দ্বিমুখী আক্রমণেই আমরা হেরে গিয়েছি।'দার্জিলিং ও কালিম্পং: পাহাড় হোক বা সমতল, শিকে ছিড়ল না তৃণমূলের। কেন এ রকম ফল হলো? বিশ্লেষণ করবেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে পাহাড়ের অনেক নেতা শাসকদলের প্রতি ক্ষোভের কারণ বলতে গিয়ে ন'বছর আগের কথা তুলে ধরেছেন। পৃথক রাজ্যের দাবিতে তখন উত্তাল পাহাড়। ২০১৭-র সেই আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করেছিল রাজ্য সরকার। সেই থেকেই পাহাড়ের মানুষের মধ্যে তৃণমূলের প্রতি বিতৃষ্ণার সৃষ্টি হয়। ক্ষোভ আরও বাড়ে জিটিএ-কে জিইয়ে রেখে পাহাড়ে স্বশাসন প্রক্রিয়া দমিয়ে রাখার অভিযোগ। ২০২৬-এর ভোটে সেই ক্ষোভের জ্বালা মেটাল পাহাড়। তিনটি আসনই এ বার বিজেপির দখলে গিয়েছে।দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় ২০২১-ছ'টি আসনের মধ্যে সমতলের তিনটি আসন পায় বিজেপি। পাহাড়ের তিনটি আসনের মধ্যে দু'টি যায় বিজেপি-র দখলে। কালিম্পং কংগ্রেসের পায় তৃণমূল জোট সঙ্গী প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। এ বার কালিম্পং ও বিজেপির দখল করেছে। এ দিন দুই পাহাড়ি জেলায় দলের ব্যাপক জয়ের পরে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত বলেন, 'তৃণমূল পাহাড়ের মানুষকে ঠকিয়েছে। তার সঙ্গে ভ্রষ্টাচারে জড়িয়ে গিয়েছে। তারই ফলে মানুষ এ দিন জবাব দিয়েছে।' তবে জিটিএ সভাসদ বিনয় তামাং স্পষ্ট করে বলেছেন, 'পাহাড়ের মানুষকে কোণঠাসা করে রাখার জবাব এ বার তৃণমূল পেয়ে গিয়েছে। আমাদের কোনও সমস্যারই কোনও সুরাহা হয়নি।' জিটিএ-র অন্যতম পরামর্শদাতা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার নেতা শক্তিপ্রসাদ শর্মা বলেন, 'আমরা আলোচনায় বসব। তবে একটা বিজেপি হাওয়া এ বার হয়তো ছিল। না-হলে গোটা রাজ্য জুড়ে এমন ফল কেন হবে?'তৃণমূল এ বার সমতলের তিনটি আসন পুনর্দখলের জন্য ঝাঁপিয়েছিল। শিলিগুড়িতে প্রার্থী করা হয় উত্তরবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখ তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেবকে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষই এ দিন শিলিগুড়িতে জয়ী হন। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিরেওয়াল অবশ্য দাবি করেছেন, 'বিজেপি জয়ী হয়ে নানা কথা বলতেই পারে। তবে মমতা বন্দোপাধ্যায় রাজ্যে জুড়ে উন্নয়ন করেছে। বিজেপি-র এ বার একটা হাওয়া ছিল। না-হলে গোটা রাজ্য জুড়ে আমাদের এমন ফল হতো না।' গৌতম দেব বলেন, 'অনেক কিছুই ঘটেছে গণনাকেন্দ্রে। আরও খতিয়ে দেখে মন্তব্য করব।'কোচবিহার:কোচবিহার জেলায় নয়টি আসনের মধ্য আটটিতেই পরাজিত হয়েছে তৃণমূল। একমাত্র সিতাই বিধানসভা কেন্দ্রে সঙ্গীতা রায় জয়ী হয়ে দলের মুখরক্ষা করেছেন। হারের জন্য দু'টি অন্যতম কারণ উঠে এসেছে। একটি দলের চরম গোষ্ঠী কোন্দল। অন্যটি, প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষের জেরে জেলায় একাধিক সিনিয়র নেতার বসে যাওয়া। অথচ ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিককে হারাতে দলের সব গোষ্ঠীর নেতারা এক হয়ে লড়াই করেছিলেন। শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, উদয়ন গুহ, অভিজিৎ দে ভৌমিক-সহ অন্যরা এক হয়ে মাঠে নামেন। লোকসভা ভোটে তৃণমূল জয়ী হওয়ার পরে ব্যাপক ধস নামে বিজেপির সংগঠনে। তাদের দখলে থাকা একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতে দখল করে নেয় তৃণমূল। কিন্তু এ বার বিধানসভা নির্বাচনে সেই একতা চোখে পড়েনি। বরং রবীন্দ্রনাথ, বিনয়কৃষ্ণ বর্মন, গিরীন্দ্রনাথ বর্মন, হিতেন বর্মনদের টিকিট না-দিয়ে মাথাভাঙা কেন্দ্রে সাবলু বর্মন, নাটাবাড়ি কেন্দ্রে শৈলেন বর্মা, তুফানগঞ্জ কেন্দ্রে ক্রিকেটার শিবশংকর পাল এবং শীতলখুচি কেন্দ্রে হরিহর দাসকে টিকিট দেওয়া হয়। কোচবিহার জেলার চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, 'প্রার্থী নিয়ে সকলের মনে অসন্তোষ ছিল এটা সত্যি। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নিজেই জানতাম না কে, কোথায় প্রার্থী হচ্ছেন।'মালদা: পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোটের 'মূল্য' হাড়ে হাড়ে টের পেল তৃণমূল, বিজেপি ও কংগ্রেস। হরিশ্চন্দ্রপুর, সুজাপুর, গাজোল, চাঁচল, ইংরেজবাজার, মোথাবাড়ি, হবিবপুর, মানিকচক, রতুয়া বিধানসভা থেকে বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকদের একটা অংশ কাজের সূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন। এ বার নির্বাচনের আগে তাঁরা কেরালা, তামিলনাড়ু, দিল্লি ও মহারাষ্ট্র থেকে বাড়ি ফেরেন শুধুমাত্র ভোট দিতে। মালদা জেলা তৃণমূল সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, 'খোঁজ নিয়ে জেনেছি, লক্ষাধিক পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট আমাদের হিসেব উলটপালট করে দিয়েছে। তাঁরাই ফ্যাক্টর হয়েছেন।' বিজেপির আসন চার থেকে বেড়ে এ বার ছয় হয়েছে। দলের দক্ষিণ মালদার সাংগঠনিক সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, 'অন্তত দশটি আসনে জেতার টার্গেট ছিল। রতুয়া, চাঁচল, মোথাবাড়ি ও মালতীপুর বিধানসভায় তৃণমূলে সঙ্গে জোর লড়াই হয়েছে। এ সব কেন্দ্রে পরিযায়ী শ্রমিকদের একটা বিপুল সংখ্যক ভোট রয়েছে। কিন্তু তাঁরা বিরূপ হলেন কেন, সেটা বিশ্লেষণ করতে হবে।'তথ্য: সঞ্জয় চক্রবর্তী, মিঠুন ভট্টাচার্য, দিব্যেন্দু সিনহা, বাসুদেব ভট্টাচার্য, সব্যসাচী ঘোষ, পিনাকী চক্রবর্তী চাঁদকুমার বড়াল, কৌশিক দে
52 shares
😢
E
EI Samay
May 5, 2026, 06:24 AM
2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনে কিছু আসনে বিজয়ের বিশাল ব্যবধান দেখা গেছে

2026 সালের বিধানসভা নির্বাচনে কিছু আসনে বিজয়ের বিশাল ব্যবধান দেখা গেছে

এই সময়:মাত্র কয়েকশো থেকে শুরু করে পাঁচ–ছ'হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়–পরাজয় নির্ধারিত হয়েছে এমন কেন্দ্রের সংখ্যা বেশ কয়েক ডজন। তবু তার মধ্যেই বিপুল ব্যবধানে জিতলেন, এমন প্রার্থীর সংখ্যাও যথেষ্ট। তবে জয়ের ব্যবধান ৭০ হাজার ভোট বা তার বেশি— এমন প্রার্থীর সংখ্যা শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিজেপি ও তৃণমূল— দুই শিবির মিলিয়ে মাত্র দশ।এঁদের মধ্যে গেরুয়া পক্ষেরই সাতজন রয়েছেন। রাত দশটা পর্যন্ত ইলেকশন কমিশনের দেওয়া যে তথ্য সামনে এসেছে, তার ভিত্তিতে বলা যায় ২০২৬–র বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন মাটিগাড়া–নকশালবাড়ি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী আনন্দময় বর্মন। তিনি ১ লক্ষ ৪ হাজার ২৬৫ ভোটে জয়ী হয়েছেন। সেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শঙ্কর মালাকার। প্রকাশিত ফলের ভিত্তিতে বলা যায়, ৭০ হাজারের বেশি ব্যবধানে জয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি হয়েছে উত্তরবঙ্গে। ডাবগ্রাম–ফুলবাড়ি কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় জয়ী হয়েছেন ৯৭,৭১৫ ভোটে।শিলিগুড়িতে বিজেপির শঙ্কর ঘোষ ৭৩,১৯২ ভোটে, কালিয়াগঞ্জে বিজেপির প্রার্থী উৎপল ব্রহ্মচারী ৭৬, ৪২৫ ভোটে, হবিবপুরে বিজেপির জোয়েল মুর্মু ৭৮,১৮৮ ভোটে, ইংলিশবাজারে বিজেপির অম্লান ভাদুড়ি ৯৩,৭৮৯ ভোটে এবং গোয়ালপোখরে তৃণমূলের গুলাম রব্বানি ৮৩,৭৯০ ভোটে জিতে নজির গড়েছেন। কৃষ্ণনগর উত্তরে বিজেপির তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় ৭৮,৩৬১ ভোটে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্বে তৃণমূলের বাহারুল ইসলাম ৯১,৯৫৪ ভোটে এবং মেটিয়াবুরুজে তৃণমূলের আবদুল খালেক মোল্লা ৮৭ ৮৭৯ ভোটে জয়লাভ করেছেন।
52 shares
😐
D
Dainik Statesman
May 5, 2026, 06:05 AM
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপি করেছে বিজেপি, অভিযোগ শিবসেনার

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপি করেছে বিজেপি, অভিযোগ শিবসেনার

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। শিব সেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে গোষ্ঠী) তাদের মুখপত্র সামনা-য় প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে অভিযোগ তুলেছে, ‘ভোটের ফল ঠিক সেই ছকেই এসেছে, যেভাবে পরিকল্পনা করেছিল বিজেপি।’ দলটির দাবি, এই নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট ‘প্যাটার্ন’ বা ছক ব্যবহার করা হয়েছে, যা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, আসাম এবং তামিলনাড়ুতেও প্রভাব ফেলেছে। সম্পাদকীয়তে সরাসরি ‘মোদী-শাহ প্যাটার্ন’-এর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই কৌশলের মাধ্যমেই ভোটের ফল নিজেদের পক্ষে ঘোরানো হয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি-র সাম্প্রতিক সাফল্যকে ‘গেম চেঞ্জার’ বললেও, তা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হয়নি বলেই অভিযোগ তুলেছে শিব সেনা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তারা দাবি করেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে টানা তিনবার জয়ী হওয়া তৃণমূল কংগ্রেস-কে হারাতে নানা অস্বাভাবিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর ভূমিকা নিয়ে সরাসরি সন্দেহ প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে, তাঁর পদক্ষেপ বিজেপির পক্ষে সহায়ক ছিল। প্রায় ৩ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন, রাজ্যের আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া এবং ভোটার তালিকা থেকে লক্ষাধিক নাম বাদ যাওয়ার মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তামিলনাড়ুর ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশলের অভিযোগ তুলেছে শিব সেনা। তাদের দাবি, সেখানে ভোট ভাগাভাগির কৌশলে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে। ডিএমকে জোট পিছিয়ে পড়েছে, অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে তামিলাগা ভেত্রি কাজগম। এই পরিস্থিতিতে সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ভবিষ্যতে বিরোধী দলগুলির নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত কি না। তাদের বক্তব্য, গণতন্ত্রে নির্বাচন যদি স্বচ্ছ না হয়, তবে সেই ফলকে জনতার প্রকৃত রায় বলা যায় না। শুধু তাই নয়, ভোট-পরবর্তী উদ্‌যাপন নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়লেও রাজনৈতিক উৎসবে তা চাপা পড়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে দলটি। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু—এই নির্বাচনের ফল জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে শিব সেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)।
57 shares
😢
E
EI Samay
May 5, 2026, 06:02 AM
2026 সালের নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী কালিতা মাজি আউশগ্রাম আসনে জয়ী হয়েছেন।

2026 সালের নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী কালিতা মাজি আউশগ্রাম আসনে জয়ী হয়েছেন।

বিজেপির প্রার্থীতালিকায় তাঁর নাম দেখেই শুরু হয়েছিল আলোচনা। একেবারে প্রান্তিক শ্রেণি বলতে যা বোঝানো হয়, সেই শ্রেণির প্রতিনিধি তিনি। প্রচারে নজর কেড়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি। ভোটগণনার দিন শেষ হাসি তিনিই হাসলেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে আউশগ্রাম আসনে ১২৫৩৫ ভোটে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের শ্যামা প্রসন্ন লোহারকে হারালেন কলিতা মাজি। আর জয়ের পরেই ধন্যবাদ জানালেন আউশগ্রামের বাসিন্দাদের। তিনি বললেন, ‘এটা আউশগ্রামবাসীর জয়। এটা আমার একার জয় না।’বিজেপি প্রার্থী হওয়ার আগে পেশায় গৃহ পরিচারিকা ছিলেন তিনি। আউশগ্রামে জেতার পরে তিনি বললেন, ‘আমি জিতেছি,অনেক কাজ রয়েছে।’ কী কী কাজ বাকি রয়েছে, সেটাও জানালেন। গুসকরা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল দশার কথা জানিয়েছেন তিনি। সদ্য জয়ী কলিতা মাজি বললেন, ‘স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যা আছে। দমকল কেন্দ্র লাগবে। রাস্তাঘাটের সমস্যা রয়েছে। এখানে পানীয় জলের সমস্যা আছে।’ সেই কাজগুলি সবার আগে করার ইচ্ছে রয়েছে বলে জানালেন তিনি।২০২১ সালেও তাঁকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কিন্তু সে বার তিনি জিততে পারেননি। এ বার জয় এসেছে। কলিতা মাজির জবাব, ‘দল আমার উপর ভরসা রেখেছিল, আমি সম্মান ফেরাতে পেরেছি।’
91 shares
😢
AajKaal News logo
AajKaal News
May 5, 2026, 06:02 AM
তামিলনাড়ু নির্বাচনে থালাপাথি বিজয়ের দল 108টি আসনে জয়লাভ করেছে।

তামিলনাড়ু নির্বাচনে থালাপাথি বিজয়ের দল 108টি আসনে জয়লাভ করেছে।

আজকাল ওয়েবডেস্ক:নিজের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগমের সরকার গঠন নিয়ে এবার তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকরের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় চাইলেন থালাপতি বিজয়। প্রথমবার নির্বাচনে লড়েই চমকপ্রদ ফল করে ১০৮টি আসন জিতেছে তাঁর দল। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে ১০টি আসনে পিছিয়ে থাকার কারণে সরকার গঠন নিয়ে জোরদার তৎপরতা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ১০টায় বিজয় তাঁর দল টিভিকের কার্যালয়ে নবনির্বাচিত বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তামিলনাড়ুতে ইতিমধ্যেই ২৩৪টি আসনের সবকটির গণনা শেষ হয়েছে। সেখানে টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়েছে। এম কে স্ট্যালিন নেতৃত্বাধীন ডিএমকে ৫৯টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন। অন্যান্য ছোট দলগুলির মধ্যে কংগ্রেস পেয়েছে ৫টি আসন এবং পাট্টালি মাক্কাল কাছি (পিএমকে) জিতেছে ৪টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও টিভিকে-র এই ফল তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড়সড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিজয় এখন কেন্দ্রে রয়েছেন। সূত্রের খবর, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন জোগাড় করতে ইতিমধ্যেই ‘প্ল্যান বি’ সক্রিয় করেছে টিভিকে। মিত্র দলগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই বৈঠকে বসেছেন টিভিকে কর্তারা। জানা গিয়েছে, কংগ্রেস ও পিএমকে টিভিকে-নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করতে রাজি, তবে শর্ত হিসেবে তারা দুটি করে মন্ত্রিত্ব চাইছে। অন্যদিকে, বাম দলগুলি এখনও নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। এছাড়া বিদুথালাই চিরুথাইগল কাছি (ভিসিকে) এবং দেশিয়া মুরপোক্কু দ্রাবিড় কাজাগম (ডিএমডিকে)-এর মতো আঞ্চলিক দলগুলিও চূড়ান্ত পরিস্থিতি স্পষ্ট হওয়ার দিকে নজর রেখেছে। তামিলনাড়ুতে ভোটের ফল ঘোষণার পর জোট গঠনের আলোচনা তুঙ্গে ওঠায় এখন নজর রয়েছে, বিজয় আদৌ সরকার গঠন প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যা জোগাড় করে তামিলনাড়ুর পরবর্তী সরকার গঠন করতে পারেন কি না। প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতায় বিজয়ের দল 'টিভিকে' -কে ৯৮ আসনে এগিয়ে ছিল। ফলে চেন্নাইয়ের ক্ষমতার অলিন্দে আবারও জোট গঠনের গুঞ্জন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। গত কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ এবং ভেস্তে যাওয়া আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, এআইএডিএমকে ও বিজয়ের মধ্যে জোট হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের আগে এআইএডিএমকে ও বিজয়ের মধ্যে জোট গঠনের পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে নির্বাচনী ময়দানে টিভিকে-এর অভিষেক যে বিপুল সাড়া জাগিয়েছে, তা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণের প্রশ্নটিকে এখনও জোরালোভাবেই জিইয়ে রেখেছে। নেপথ্যে অবশ্য অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো সক্রিয় ছিল। সেই সময়ের আলোচনা পর্যবেক্ষণকারী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে এআইএডিএমকে বিজয়ের দল 'তামিলগা ভেত্রি কাজাগাম' -এর সঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য জোট গঠনের বিষয়ে প্রাথমিক আলাপ-আলোচনা শুরু করেছিল।
83 shares
😐
D
Dainik Statesman
May 5, 2026, 06:01 AM
রাষ্ট্রপতি মুর্মুর সঙ্গে সাংসদ রাঘব চাড্ডার বৈঠকে পঞ্জাবের রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে।

রাষ্ট্রপতি মুর্মুর সঙ্গে সাংসদ রাঘব চাড্ডার বৈঠকে পঞ্জাবের রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে।

পাঞ্জাবের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘিরে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল জাতীয় রাজনীতিতে। রাজ্যসভার সাংসদরাঘব চাড্ডামঙ্গলবার সকালেরাষ্ট্রপতি ভবন-এ পৌঁছে রাষ্ট্রপতিদ্রৌপদী মুর্মু-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সূত্রের খবর, পাঞ্জাবে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে ধরতেই এই বৈঠক। রাঘব চাড্ডা অভিযোগ করেছেন,আম আদমি পার্টিপরিচালিত পাঞ্জাব সরকার বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়া সাংসদদের লক্ষ্য করে পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। জানা গিয়েছে, আরও তিন জন রাজ্যসভার সাংসদের সঙ্গে মিলিতভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে পারেন তিনি। বিশেষ করে দলবদল করা নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তুলে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই অভিযোগ করেছেন চাড্ডা। অন্যদিকে, একই দিনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীভগবন্ত মান-এর। তিনি আবার উল্টো সুরে অভিযোগ তুলেছেন, সাম্প্রতিক দলবদল ‘অবৈধ’ এবং তা জনতার রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট সাত জন রাজ্যসভার সাংসদভারতীয় জনতা পার্টি-তে যোগ দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে আম আদমি পার্টির রাজ্যসভায় শক্তি ১০ থেকে নেমে ৩-এ দাঁড়িয়েছে, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা। এই পরিস্থিতিতে একদিকে রাঘব চাড্ডার অভিযোগ, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের পাল্টা বক্তব্য—দুই পক্ষের সংঘাত এখন রাষ্ট্রপতির দরবারে পৌঁছেছে। ফলে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও জটিল আকার নিচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
33 shares
😢
Dainik Statesman logo
Dainik Statesman
May 5, 2026, 05:54 AM
প্রশাসনিক রদবদলের মধ্যে নতুন সচিব নিয়োগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল

প্রশাসনিক রদবদলের মধ্যে নতুন সচিব নিয়োগ করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল

বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার একদিনের মধ্যেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে প্রথম বড় রদবদল হল। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালআর এন রবি-র নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেলেন আইএএস আধিকারিকসৌমিত্র মোহন। ২০০২ ব্যাচের এই আইএএস আধিকারিক গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজ্যের পরিবহণ দপ্তরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। ভোটপর্ব চলাকালীন প্রশাসনিক স্তরে একাধিক বদল হলেও তাঁকে সেই সময় সরানো হয়নি। তবে ভোট মিটতেই দ্রুত তাঁকে রাজ্যপালের সচিব পদে নিয়োগ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১২ মার্চ কলকাতার রাজভবনে শপথ নেন রাজ্যপাল আর এন রবি। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি একজন সচিব নিয়োগের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় নির্বাচন ঘোষণার কারণে বিষয়টি স্থগিত হয়ে যায়। ভোট প্রক্রিয়া শেষ হতেই অবশেষে সেই পদে নিয়োগ সম্পন্ন হল। এর আগে রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপালসি ভি আনন্দ বোস-এর আমলে আইএএস আধিকারিকনন্দিনী চক্রবর্তীএই পদে ছিলেন। যদিও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব এবং শেষপর্যন্ত মুখ্যসচিবের দায়িত্বও পালন করেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনন্দ বোস তাঁকে মুখ্য সচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেন। তারপর দীর্ঘ প্রায় তিন বছর এই পদটি কার্যত খালি ছিল। অবশেষে নতুন করে সেই পদে নিয়োগ হল সৌমিত্র মোহনের। এদিকে মঙ্গলবার সকালে রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী রবিকে নিয়েকালিঘাট কালী মন্দির-এ পুজো দেন। রাজ্যের মানুষের মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় প্রার্থনা করেন তিনি। উল্লেখ্য, সোমবার ঘোষিত নির্বাচনের ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক ক্ষমতায় বড় পরিবর্তন এসেছে।ভারতীয় জনতা পার্টিক্ষমতায় এসে দীর্ঘদিনেরতৃণমূল কংগ্রেসসরকারকে সরিয়ে দিয়েছে।
95 shares
😐